শিকার

শিকার

মনোজ সেন

শিকার

Books Pointer Iconমনোজ সেন
Books Pointer Iconshort story

Posted byচয়ন সরকার24-Jul-2025

Change color

আমি ঘরে ঢুকতেই বুঝতে পারলুম কিছু একটা হয়েছে। সবার মুখ থমথম করছে, বড়োবাবুর তো বিশেষ করে। কী হল রে, বাবা! আমি কি কোনো অপরাধ করলুম? এমন জরুরি তলব, আর এখানে এসে এই অবস্থা! দরজার পাশেই কার্তিক দাঁড়িয়েছিল। জিগ্যেস করলুম, ‘কী হয়েছে রে, কেতো?’

কার্তিক বলল, ‘বড়োবাবু ডেকেছে। যা বলবার উনিই বলবেন।’ তারপর গলা চড়িয়ে বলল, ‘বড়োবাবু, বিদ্যেসাগর এসেছে।’


এখানে আমাকে সবাই বিদ্যেসাগর বলে ডাকে, কারণ আমি অপরাধের মধ্যে এম এ-টা পাশ করে বসে আছি। বাকি সবাই তো নাম সই করতে গেলে তিনটে কলম ভেঙে-টেঙে একাকার করে। অবশ্য, বড়োবাবু ছাড়া। তাঁর কথা আলাদা। দেবতা বলে যদি কেউ থাকে তো এই বড়োবাবু। এঁর সঠিক নাম কী, কোথায় থাকেন তা আমরা কেউ-ই জানি না। আমাদের জানবার কথাও নয়। তবে যেখানেই থাকুন, সেটা যে স্বর্গ তাতে সন্দেহ নেই। দেবতাদের তো অসংখ্য নাম থাকে, এঁরও আছে। এসব নিয়ে মাথা আমরা ঘামাইনে, ঘামালে মাথাটা খোয়া যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে এটুকু জানি, এরকম মানুষ ভু-ভারতে আর নেই। আমাদের সবাইকে উনি কেবল জীবন দিয়েছেন বললে কম বলা হয়, বলা উচিত বাঁচার মতো করে বাঁচতে শিখিয়েছেন।


এই তো আমি বি এ পাশ করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলুম। একটা কুলির কাজ পেলে বর্তে যাই, তা-ও জুটছিল না। বিধবা মা আর ছোটো বোনটাকে নিয়ে গড়পারের ভাড়া বাড়ি থেকে উৎখাত হয়ে ভাসতে ভাসতে শেষপর্যন্ত রাসবিহারীর ফুটপাথে। চোখের সামনে তখন অনন্ত অন্ধকার। সংসারটা, ভালো বাংলায় যাকে বলে, ক্লেদাক্ত পঙ্কিলে ডুবে যাচ্ছে। তখন গিয়েছিলুম লেক গার্ডেন্স লেভেল ক্রসিং-এ রেলে মাথা দিতে। এই কার্তিক আর দেবেন আমায় তুলে এনেছিল। বড়োবাবু আশ্রয় দিয়েছিলেন। সে আজ বছরছয়েক আগেকার কথা। বোনের ভালো বিয়ে দিলুম। মা মারা গেলে ধুমধাম করে শ্রাদ্ধ করলুম। এখন ভাবছি, সল্টলেকে জমি কিনে একটা বাড়ি করব। তাই বলছিলুম, বড়োবাবু মানুষ নন, দেবতা। দেবতা।


কার্তিকের গলা শুনে বড়োবাবু ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকালেন। বললেন, ‘কে রে, পূর্ণেন্দু? এদিকে আয়। খবর শুনেছিস?’


বড়োবাবুর গলা শুনে বুঝলুম যে আমি কোনো দোষ করিনি। বাব্বা, বাঁচলুম! যা ভয় পেয়েছিলুম। হাত কচলাতে কচলাতে বললুম, ‘আজ্ঞে না-তো। কী খবর বড়োবাবু?’


বড়োবাবু ঘরের একপাশে একটা গোলটেবিলের ওপাশে বসেছিলেন। বাকি সবাই দাঁড়িয়েছিল। ওঁর সামনে বসা! টেবিলের ওপর একগ্লাস নিট হুইস্কি আর একটা বোতল রাখা ছিল। বড়োবাবু এক চুমুক খেয়ে বললেন, ‘হায়দার মরে গেছে।’


হায়দার! আমরা যাকে গোরিলা বলে ডাকতুম! সে কী? সে ছিল বড়োবাবুর পার্সোনাল বডিগার্ড। আমি ক্ষীণ কণ্ঠে জিগ্যেস করলুম, ‘কী হয়েছিল?’


‘বদন ঘোষ রোডের একটা বাড়ির ছাদ থেকে কেউ ওকে ঠেলে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিল। ঘাড় মটকে মরে গেছে। আর ঠেলে ফেলাই বা বলি কী করে? ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল। রাস্তার ঠিক মাঝখানে লাশ পড়েছিল।’


‘কী সর্বনাশ! ও ওখানে কী করছিল?’


‘পরে বলছি। আচ্ছা, তোমরা এবার যাও। আমি পূর্ণেন্দুর সঙ্গে কিছু কথা বলব।’


বড়োবাবুর আদেশ শুনে সবাই নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। দাঁড়িয়ে রইলুম শুধু আমি। বড়োবাবু এক হাত তুলে চোখের কালো চশমটা ঠিক করে নিলেন। উনি চব্বিশ ঘণ্টা কালো চশমা পরে থাকেন। কেন, কে জানে! শুনেছি ওঁর একটা চোখ নাকি পাথরের। হতেও পারে। সে খবরে আমাদের কী দরকার? বড়োবাবু সম্পর্কে বেশি কৌতূহল একদম ভালো জিনিস নয়।


বড়োবাবু বললেন, ‘বদন ঘোষ রোড তুই চিনিস? ভাবানীপুরে? সে যাক গে, না চিনলে চিনিয়ে দেওয়া যাবে-খন। ওখানে রাজমোহন সিংহরায়দের বাড়ি আছে। পুরোনো দিনের জমিদারবাড়ির মতন। বাড়ির ভেতর মন্দির-টন্দির আছে। রোজ পুজোআচ্চা হয়। হায়দারকে ওখানেই পাঠিয়েছিলুম। কী যে হল! সে যাক গে! এবার কাজের কথা বলি। মন দিয়ে শুনবি।


বদন ঘোষ রোডের বাড়িটাকে লোকে বলে রাজমোহনের রাজবাড়ি। রাজমোহনের বিহারে না কোথায় মস্ত জমিদারি ছিল। ভদ্রলোক প্রায় এক-শো বছর আগে এই বাড়িটা বানিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে, ওঁর ছেলেপুলেরা কলকাতাতেই থাকতেন, এখান থেকেই জমিদারি চালাতেন। প্রচুর পয়সা ছিল একসময়। প্রচুর ফূর্তিফার্তাও করে নিয়েছেন। সে যাক গে। ওসব কোনো কাজের কথা নয়।


এখন এই বাড়ির মালিক একটা মেয়ে। তার নাম তিলোত্তমা রায়চৌধুরি। এ হচ্ছে এখন সিংহরায়দের শেষ বংশধর। ওর ভাই রত্নাকর সিংহরায় বছরখানেক হল মরে গেছে। সে বিয়ে-থা করেনি, ছেলেপুলে নেই। কাজেই এখন সব সম্পত্তির মালিকানা বর্তেছে এই তিলোত্তমার ওপর। ওর বাবা রমাকান্ত অনেকদিন আগেই গেছে।


মেয়েটি বিধবা। বিয়ে হয়েছিল বছরদশেক আগে কোনো এক রায়চৌধুরির সঙ্গে। একটা বাচ্চা হয়েছিল। সেটা বছরতিনেক বয়েসে মারা যায়। তার পরের বছর রায়চৌধুরিও মারা যায়। তখন মেয়েটি বাপের বাড়ি চলে আসে। এখানে এসে কেবল পুজোআচ্চা ধর্মকর্ম নিয়েই আছে। এটা, তা প্রায়, গত পাঁচ বছর ধরে চলছে।


সিংহরায়দের টাকাপয়সা এখন আর তেমন কিছু নেই। ফোঁপরা হয়ে গেছে। কিন্তু ঠাঁট এখনও বজায় আছে। আর এটা চালিয়ে যাচ্ছে ওদের ম্যানেজার দুর্গাশংকর উপাধ্যায়। নামে হিন্দুস্থানি, বাঙালি হয়ে গেছে। বুড়ো হাড়বজ্জাত, ঘুঘু নাম্বার ওয়ান। ঘুস খায় না, মেয়েছেলের লোভ নেই, মাল খায় না— একেবারে থার্ড ক্লাস। আমি লোকটাকে বাজানোর জন্যে বছরদুয়েক আগে জীতেনকে পাঠিয়েছিলুম। তুই তো জীতেনকে জানিস, কথা বলায় এক্সপার্ট। ইচ্ছে করলে আইনস্টাইনকেও বুঝিয়ে আসতে পারে যে সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠে। সেই জীতেন মুখ খুলতে-না-খুলতেই সেই হারাজমজাদা বুড়ো একেবারে পুলিশে ফোন করে দিয়ে বসে আছে! জীতেন কোনোরকমে ওখান থেকে কেটে বেরিয়ে এসে বাঁচে।


এখন তোর মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে সিংহরায়রা যদি ফোঁপরাই হয়ে গিয়ে থাকবে, তাহলে ওদিকে আমার নজর কেন? তার কারণ আছে। ওদের একটা জিনিস আছে যেটা বলা যায় অমূল্য। সেটা ওদের গৃহদেবতা একটা বিষ্ণুমূর্তি। এই মূর্তিটা থাকে বাড়ির ভেতরে, কখনো বাইরে আসে না। বাইরের মন্দিরের যে বিষ্ণুমূর্তি সেটা এই মূর্তিটার হুবহু নকল। কিন্তু নকলই। বাইরেরটা পাথরের, আসলটা অষ্টধাতুর। বাইরের মূর্তিটার যেসব গয়নাগাঁটি আছে সেগুলো সব ঝুটো, আসলটার যে কী তার আর বলে দিতে হয় না। তার চেয়েও বড়ো হচ্ছে, মূর্তিটার বুকে একটা প্রকাণ্ড পদ্মরাগমণি ফিট করা আছে, সেটাকে বলে কৌস্তভমণি। আমার নজর এই মূর্তিটার দিকে। আখতারুজ্জুমান এই খবরটা দিয়েছিল বছরতিনেক আগে। সেই সময় রত্নাকর সিংহরায় নাকি গোপনে এক জার্মান সাহেবের সঙ্গে দর কষাকষি করছিল ওটা বেচে দেওয়ার জন্যে। সেটা আখতার জানতে পারে। তখন সে আমার কাছে আসে। আজ রত্নাকর বা আখতার কেউ-ই বেঁচে নেই। আমি ছাড়া এটার খবর আর বোধ হয় কেউ জানেও না। তবে আমার বিশ্বাস মূর্তিটা বের করে দিতে পারলে ঘরে বিশ লাখ টাকা উঠবে। মিনিমাম। চেপেচুপে ধরতে পারলে চল্লিশ পর্যন্ত উঠতে পারে।


আমি হায়দারকে পাঠিয়েছিলুম মালটা ওঠানোর জন্যে। ও-বাড়ির একটা ঠিকে ঝি-কে তুলে এনে কড়কাতেই সে বলে দিলে যে মাল কোথায় আছে। দোতলার ওপর কর্তামশাই-এর ঘর, সেখানে দেওয়ালের মধ্যে গাঁথা সিন্দুকের মতো মন্দির। বন্ধ করলে সিন্দুক, খুললে মন্দির। সেখানেই গৃহদেবতার অবস্থান। তুই তো জানিস, হায়দার ছিল কলকাতা কেন সারা দেশের পয়লা নম্বরের গব্বাবাজ, যাকে ইংরেজিতে বলে ক্যাট-বার্গলার। অত বড়ো শরীরটা নিয়ে যেকোনো বাড়ির খাড়া দেওয়াল বেয়ে টিকটিকির মতো উঠে যেতে পারত, দশতলার ওপরে কার্নিস বেয়ে হাঁটাচলা করত যেন ময়দানে হাওয়া খাচ্ছে। তার পক্ষে দোতলার ওপরে একটা ঘরে ঢুকে ঘুমের ওষুধ স্প্রে করে একটা সিন্দুক ভেঙে মাল বের করে আনা কোনো ব্যাপারই ছিল না। অথচ কীসের থেকে কী হয়ে গেল! ও-বাড়ির যে তিনটে দারোয়ান আছে তাদের সাধ্যি নেই হায়দারকে কাবু করে। তার মানে, অনেকগুলো লোক ওখানে হায়দারের জন্যে অপেক্ষা করছিল। ও ঢুকতেই সবাই মিলে ওকে কবজা করে ছাদে নিয়ে গিয়ে নীচে ছুড়ে দেয়। কিন্তু প্রশ্ন হল— লোকগুলো জানল কী করে যে সেইদিনই হায়দার যাবে?’


আমি ভয়ে ভয়ে বললুম, ‘ঠিকে ঝি-টা…’


বড়োবাবু হাত নেড়ে বললেন, ‘না, না, সেটাকে তো মেরে লেকের জলে ফেলে দিয়েছিলুম। ওসব সাক্ষী রাখতে আছে কখনো? খবর অন্য কেউ দিয়েছে। সে যাক গে, সে ব্যাপারে তোর মাথা ঘামানোর দরকার নেই। এখন তোকে কী করতে হবে বলি, শোন। তানুক কাকে বলে জানিস?’


আমি মিনমিন করে বললুম, ‘আজ্ঞে, সুন্দরী তরুণী বিধবা।’


‘হ্যাঁ। তোকে সেই তানুক পটাতে হবে। এই কর্মে তুই এক্সপার্ট। যেখানে যতবার তোকে মেয়েছেলে জপাতে পাঠিয়েছি ততবার তুই সাকসেসফুল। তোর ওই ফিলমস্টার মার্কা চেহারা আর সাহিত্য-টাহিত্য নিয়ে কবি কবি কথাবার্তা যে এমন কাজে লাগবে, কে ভেবেছিল। সে যাক গে। এখন ওই তিলোত্তমাকে গাঁথা দরকার। কারণ, কর্তামশাই-এর ঘরে এখন তিলোত্তমা শোয়, একা। আর ওই সিন্দুকের চাবি থাকে তিলোত্তমার আঁচলে। ওই ঘরে নানা জায়গায়, খাটের পাশে, টেবিলের নীচে, আলমারির কোণায়, সুইচবোর্ডের পেছনে অ্যালার্ম বেলের সুইচ রাখা আছে। এক সেকেন্ড সময় পেলেও ওই সুইচ টিপে দেওয়া সম্ভব। কাজেই তিলোত্তমাকে একেবারে পেড়ে ফেলতে না-পারলে চাবিটা হস্তগত করা কঠিন হবে। তা ছাড়া, আর একবার একটা গব্বাবাজ পাঠাব, তারও উপায় নেই। ওই শালা উপাধ্যায় সব ক-টা জানলার বাইরে বিচ্ছিরি গ্রিল লাগিয়েছে আর এমনভাবে আলো লাগিয়েছে যে ওই ঘরের জানলা দুটোর ওপর গ্রিল ভাঙার কলম নিয়ে বসলে তাকে সবাই দেখতে পাবে। আসল কথা, চাবিটা পেতে হলে ঘরের ভেতরে ঢুকতে হবে এবং তিলোত্তমাকে অসহায় করে ফেলতে হবে। এখন এটাই হল তোর টাক্স। এবার বল, কোনো প্রশ্ন আছে?’


আমি বললুম, ‘তিলোত্তমার বয়েস কত?’


‘সাতাশ-আঠাশ।’


‘কত বছর বয়সে বিয়ে হয়েছিল?’


‘আঠারো বছরে। স্বামী মারা যায় বাইশ বছরে।’


‘স্বামী কীরকম লোক ছিল?’


‘শুনেছি এক নম্বরের দুশ্চরিত্র লোক ছিল। নেশাভাং, মেয়েমানুষ— সব দোষই ছিল।’


‘মূর্তিটা কত বড়ো?’


‘খুব বড়ো কিছু নয়। ফুটখানেক উঁচু হবে। একাই নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবি।’


‘কতদিন সময় দেবেন?’


‘তা নে না তুই যত সময় দরকার। আমার কোনো তাড়া নেই।’


আমি চুপ করে আছি দেখে বড়োবাবু বললেন, ‘ব্যাস? আর কোনো প্রশ্ন নেই?’


আমি মাথা নাড়লুম। বললুম, ‘না।’


‘তুই একটা কথা খেয়াল করেছিস? এই মেয়েটা কিন্তু ভীষণ ভক্তিমতী, ধর্মপরায়ণ আর শুচিবায়ুগ্রস্ত।’


‘তাতে কিছু যায় আসে না। ওসব বাইরের স্নায়বিক বিকার, ভেতরে সব সমান। এতদিনে এটুকু জ্ঞান আমার হয়েছে যে দুনিয়ায় এমন মেয়ে নেই যে প্রলোভন প্রতিরোধ করতে পারে। কেউ হয়তো বেশিদিন আটকে রাখতে পারে, কেউ কম দিন। কিন্তু শেষপর্যন্ত লোভের কাছে নিজেকে বিকিয়ে দিতে হবেই।’


বড়োবাবু দুটো সোনা-বাঁধানো দাঁত বের করে একটা নিঃশব্দ হাসি হাসতে হাসতে বললেন, ‘পাজি ছেলে! যা, তৈরি হতে শুরু কর।’


তৈরি হতে মাসচারেক সময় লাগল। প্রথমে প্ল্যানটা ঠিক করা হল। তিলোত্তমা দুঃখী মানুষ, কতটুকুই বা সুখের মুখ দেখেছে। অতএব, আর-একজন দুঃখী লোকের প্রতি তার সহানুভূতি চট করে জাগবে, এটাই স্বাভাবিক। এবার সেই সহানুভূতির রাস্তা ধরে তার কাছে এগোতে হবে। আস্তে আস্তে, দুঃখী দুঃখী ভাবে, ভবিষ্যতের সুখের একটা আবছা ছবি আঁকতে-আঁকতে। ধীরে ধীরে সেই অলীক ছবিটাকে একটা সত্যিকারের রূপ দিতে হবে।


অতএব, প্রথমেই চুল আর দাড়ি কাটা বন্ধ করে দেওয়া গেল। যখন সেগুলো বেশ বড়ো হয়ে উঠল, তখন রোজ শ্যাম্পু করে করে যতদূর সম্ভব রুক্ষ-রুক্ষ করে তোলা হল। মাসদুয়েক খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হল। কাজ শুরু করার দু-দিন আগে থেকে কুমোরবাড়ির মাটি ঘষে-ঘষে চুল দাড়ি এলোমেলো উস্কোখুস্কো করে ফেলা হল। তারপর ছেঁড়া প্যান্ট আর শার্ট জোগাড় হল।


আম

**********