
মৃত্যু যাত্ৰা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
অন্ধকার নিবিড় হলেও তবু আবছা-আবছা নজরে পড়ে ঘাটে বাঁধা ছইশূন্য ভারি খেয়া নৌকাটা। ‘ভাঙা পাড়টা খাড়া ও উঁচু, শুধু এক জায়গায় পথটা নেবে গেছে ঢালু হয়ে, এবং তার প্রান্ত থেকে জোড়া লাগানো দুটো শক্ত কাঠ নৌকার গলুইর কাছাকাছি নদীর জলে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এধারে তীরে, বুড়ো বটগাছের তলে গুটি চারেক ছনের ছোট-ছোট ঘর। তিনটিতে এখন ঝাঁপ দেয়া; শেষটির দুপাশে দেয়াল নেই। একটি ময়রার দোকান, একটি হোটেল, এবং তৃতীয়টিতে থাকে খেয়ার মালিক শুকুল কাহার। খোলা ঘরটাতে মাঝিরা ঘুমোচ্ছে। অন্ধকারে সেখানে দৃষ্টি চলে না, শুধু রাতের স্তব্ধতায় সে-অন্ধকার থেকে নাকডাকার ভারি একটানা আওয়াজ ভেসে আসছে এদিকে—যেখানে একদল মেয়ে-পুরুষ জড়োসড়ো হয়ে বসে রয়েছে নিশ্চলভাবে। তারা ঘাটে এসে পৌঁছেছে ঘণ্টাখানেক আগে। থেয়া এখন বন্ধ, ভোর না হলে তাদের পার হবার উপায় নেই। বসে থেকে-থেকে কারো চোখ ভরে উঠেছে ঘুমে, কারো চোখ অবসাদে বোজা, আর যাদের চোখ খোলা—রাতের অন্ধকারে তাদের সে-চোখের পানে তাকালে মনে হবে, মৃত্যু যেন তাকিয়ে রয়েছে কালো জীবনের পানে।
উবু-হাঁটুতে মুখ গুঁজে তিনু হয়তো ঘুমিয়ে ছিল—ওদের মধ্যে কার কচি ছেলে একটা, হঠাৎ কঁকিয়ে কেঁদে উঠল বলে সে চমকে জেগে প্রথমে ভাবল, বুঝি পাখি ডাকল – প্রভাত হল, কিন্তু পর-মুহূর্তে চারপাশের অন্ধকারের দিকে চেয়ে মনটা তার কালো হয়ে উঠল, এবং সে-কালো মনের কাছে আকাশের নিবিড় স্তব্ধতার মধ্যে শিশুর এ-কান্না বিস্ময়কর, বিচিত্ৰ লাগল তার।
শিশুর কান্না থামল। আবার নিস্তব্ধতা, এবং এ-নিস্তব্ধতার মধ্যে নদীর ছলছল আওয়াজ মুখর হয়ে উঠতে তিনু ভালো করে চোখ মেলে তাকাল বাঁধা নৌকাটার দিকে। কিন্তু নিরাশা সেখানে থমকে আছে। ওপারের দিকে সে তাকাবার চেষ্টা করল, কিন্তু সেখানেও পথশূন্য নিরাশার কালো ঘন বিস্তৃতি। অবশেষে তিনু তাকাল মাঝিদের খোলা ঘরের পানে। সেখান থেকে এখনো নাকডাকার আওয়াজ ভেসে আসছে—তেমনি ভারি ও একটানা। নিরাশা সেখানে যেন আরো দুর্বোধ্য ভাষায় কথা কইছে। নৌকার দিকে আবার তাকিয়ে তিনুর হঠাৎ মনে হল, ঘাটের কিনারে দেহ ছেড়ে এসে নৌকার প্রাণ ঘুমোচ্ছে ওই ঘরে—ওই অন্ধকারে।
পাশে বসে করিম। তিনুর সাড়া পেয়ে মুখ তুলে সে একবার গলা সাফ করলে, তারপর আকাশের পানে চেয়ে তারা লক্ষ্য করে রাত ঠাহর করবার চেষ্টা করে নিশ্চিত গলায় বললে, কমন পরীর চুলে কাঁপন লেগেছে গো—রাত পোয়ায়ে এল বলি।
তিনু কিছু বললে না। হঠাৎ কী হয়েছে তার—নদীর অপর তীর দেখবার জন্যে তার মনটা আকুল হয়ে উঠেছে। তার আশঙ্কা হচ্ছে—মহাসাগরের তীরে যেন বসে রয়েছে। পথ ভুল করে কি তারা সীমাহীন মহাসাগরের তীরে এসে বসেছে মরণের পারে যাবে বলে?
—কত বড় নদী গো? এক সময় তিনু আস্তে-আস্তে জিজ্ঞেস করল।
করিম হয়তো তন্দ্রায় ঝিমিয়ে পড়েছিল, চমকে উঠে এমনভাবে কথা কইলে—যেন সে জেগেই ছিল,
—তা ওপারে বড় গাঁ, চাল পাওয়া যাবি নেশ্চয়
তিনু নীরব হয়ে রইল।
হঠাৎ কে যেন গোঙিয়ে উঠল। কিছু দূরে মতি নাপিতের বউ কমলি বাঁকা হয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে রয়েছে। বয়স তার অল্প, আর দেহটা রুগ্ণ। ক-দিন হল মতি উধাও হয়ে গেছে গাঁ থেকে, এবং তার খোঁজে সে এদের সঙ্গ নিয়েছে। তা ছাড়া গাঁয়ে যে-রকম বীভৎস আকাল লেগেছে, সেখানে থাকলে মৃত্যু নিশ্চিত। কমলির রুগ্ণ দেহ এ-ধাক্কায় আরো নেতিয়ে পড়েছে, এবং ঘুমটা একটু পাতলা হয়ে এলে অমনি করে সে গোঙাতে থাকে। বিশ্রী সে-গোঙানোর আওয়াজ, তার বুকে যেন নোংরা কুৎসিত যত জীব বাসা বেঁধেছে—থেকে থেকে আর্তনাদ করে ওঠে।
রাত্রি এত নিস্পন্দ যে, সে-গোঙানির আওয়াজে তিনুর মনটা শিরশির করে কাঁটা দিয়ে উঠল, কিন্তু মনটাকে সে জমাট করে ভাবল, নদী শিরশির করছে—তীর ঘেঁষে নদী শিরশির করে বয়ে যাচ্ছে। পরক্ষণে আরেকটা কথা জাগল তার মনে, কিন্তু অত সন্তর্পণে কেন? যেন অন্ধকারে গা ঢাকা দিয়ে নদী পালিয়ে যাচ্ছে—তাদের ব্যর্থতার শুষ্কতীরে রেখে পালিয়ে যাচ্ছে। আর যাচ্ছে সেই দেশে—যে-দেশে নদী চওড়া হয়ে দু-তীরের মাঠভরা দিগন্তবিস্তৃত ফলন্ত ফসল ছোয়—ছোঁয় করে নিবিড় আহলাদে। নদীর ওপর নীল আকাশ আর সোনালি সূর্য ঝক্ঝক্ করে, তার টলমল জলে নানা রঙের পাল উড়িয়ে বড়-বড় ধানের নৌকা ভাসে, আর পশ্চিমা মাঝিরা ঝিমোয়—শুধু ঝিমোয় পরম সুখে। তা ছাড়া হালের মাথায় ডোরাকাটা নিশান পত্পত্ করে, আর মাঝিদের দেহাতি গান ঢেউয়ের মাথায় ভাঙে, ভাঙতে ভাঙতে ভেসে চলে দূরে…
কিন্তু এখানে অন্ধকার, মরা নদীর খোলস, আর স্তব্ধতা। অবশেষে হাঁপিয়ে উঠে তিনু শুধাল—
—ঘুমোয় পড়লি?
সশব্দে করিম জেগে উঠল। তারপর ওপারের পানে চেয়ে কিছু দেখল কি না কে জানে, কিন্তু খুশিতে উছলে উঠে বললে,
—কলমন পরী এবার গা মোড়ামুড়ি দিতে নেগেছে গো—
আবার চুপচাপ। একটু পরে কান খাড়া করে কী যেন শুনে তিনু বললে,
—নাও যায় নাকি উতি দিয়ে?
—নাও-ই বটে। একটু থেমে করিম আবার বললে, বিনেবাতিতে কেমন ভূতের মতোন চলেছে—
—তেল কুতি যে বাতি দিবে?
শুধু যে তাদের গাঁয়ে নয়, সর্বত্র আকাল ও অনটন লেগেছে—এ-কথা খেয়াল হয় না।
একটু পরে ঘরগুলোর পাশে হঠাৎ পাতা-মাড়ানো পায়ের আওয়াজ জাগল, এবং কয়েক মুহূর্ত পর একটা অস্পষ্টপ্রায় দীর্ঘকায় দেহ আড়াল থেকে বেরিয়ে এগিয়ে এসে এদের মধ্যে চুপ করে নিঃশব্দে বসে পড়ল। তিনু তাকাল সেদিকে, হাঁকল ‘কে’ বলে, কিন্তু কেউ উত্তর দিল না। তবু সে আন্দাজ করলে, আসগর বোধহয়।
—আসগর যেন কুতি গিয়েছিল—
—রেখে দেও তার কথা! তাচ্ছিল্যভরে অথচ ফিসফিসিয়ে বললে করিম।
তবু তার কথা সহজে রেখে দেয়া যায় না, কারণ বিচিত্র ছেলে এই আসগর। চেহারা তার রুক্ষ এবং স্বভাবটাও রুক্ষ। সর্বক্ষণ চোখ দুটো জ্বলে ধক্কক্ করে এবং এমন একটা অমঙ্গল তার সে-চাহনিতে যে, মানুষের ভেতরটা কেঁপে ওঠে। ঝাঁকড়া চুল নেড়ে জ্বলন্ত চোখ ঘুরিয়ে সে বলে যে, খোদাদ্রোহী ইবলিশ শয়তানের চেলা সে, তাই খোদার চেলারা সব তার আজন্ম শত্রু। মানুষের বন্ধুত্বে প্রীতিতে সে যেন মরে যায়, জীবন্ত হয়ে ওঠে শুধুমাত্র হিংস্র শত্রুতায়।
একটু থেমে করিম আবার বললে,
—ওর নাম নিলি পরে দশবার তওবা কাটতি হয়—মৌলবী সাহেব কয়েছেন।
কিন্তু এ-দুর্ভিক্ষের নির্মম ঝড়ে তার সে-জ্বলন্ত দৃষ্টি কেমন দুর্বলভাবে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে, শাণিত শত্রুতা ভাঙা-তলোয়ারের মতো পঙ্গু হয়ে উঠেছে। তাই এখন তার সান্নিধ্যে ভেতরটা তেমন কাঁটা দিয়ে ওঠে না। হয়তো খোদার গজব নাজেল হয়েছে তার ওপর এবং এবার সে ধ্বংস হবে, নিশ্চিহ্ন হবে, খোদার দুনিয়ায় লোকেরা আবার শান্তিতে বাঁচবে।
—শালার ব্যাটা এবার কুত্তার মতো লেজ গুটোয়েছে—আবার বললে করিম।
কিন্তু গতকাল সন্ধ্যায় লাল পশ্চিম দিগন্তের দিকে চেয়ে সে হিংস্রভাবে চেঁচিয়ে উঠেছিল, বলেছিল যে, তাদের খোদাও নাকি শয়তান, তবে নকল শয়তান। আর শয়তানের সঙ্গে নাকি কখনো শয়তানি চলে না। শুনে করিমের কিন্তু ভয় করেছিল : তার সে কী কথা, আর সে কী বিদ্যুৎ ঝল্কানো উদ্ধত হাসি। আশ্চর্য কিন্তু, খোদার সৃষ্টির সঙ্গে মিশে থাকে শয়তান, যাতে শয়তানকে ধ্বংস করতে গেলে খোদার সৃষ্টিও ধ্বংস হয়। ওর জন্যে কি ওরাও ধ্বংস হবে, নিশ্চিহ্ন হবে? তাহলে বাঁচবে কারা খোদার দুনিয়ায়?
এরপর অনেকক্ষণ নীরবতা জমাট হয়ে থাকল বলে তিনুর মনে হালকা কুয়াশার মতো— দূর থেকে শোনা কথার মতো তন্দ্রা নাবল, আর সে-তন্দ্রার মধ্যে ময়নার নিটোল হাসির কথা তার মনে জাগতে লাগল। ময়নার সে-হাসি যেন সাবলীল স্রোত, এবং তিনুর মন মাছরাঙা হয়ে থেকে-থেকে তাতে ডুব দিচ্ছে। ময়না প্রথমে জানতে পারে নি। কিন্তু যখন টের পেল, তখন সে রাগ করল বলে সে-স্রোত হঠাৎ জমাট বেঁধে মেঘ হয়ে গেল—কী থমথমে কালো রং তার। তিনুর অন্তর শুকিয়ে গেল ভয়ে, ভাঙা গলায় সে বলতে লাগল, রাগ করেছিস ময়না? কিন্তুক মোর যে বড্ড ক্ষিদে নেগেছে, কদ্দিন মুই পেট ভরি খাতি পাই না
তারপর তিনু কাঁদল, স্বপ্নে কাঁদল। তাতে ময়নার রাগ পড়ল কি? হয়তো। চোখ মুছে সে তাকিয়ে দেখল যে, মেঘ কেটেছে, ওধারে আলো। ওধারে, আকাশে আলো—অতি ক্ষীণ হালকা দূর পথের আলো।
প্রভাত হল।
.
মৃত্যু-যাত্রা শুরু হয়েছে। তাদের সে-যাত্রা আশায় দোলায়িত, অথচ নিরাশায় জর্জরিত। চলার পথ ধূলিধূসর, নিষ্ঠুরতায় রুক্ষ, আর যেন অন্তহীন; প্রতিটি মুহূর্ত বেরিয়ে আসছে অজানার কালো গহ্বর হতে, এবং বেরিয়ে আসছে একঘেয়ে বৈরিতায়। তবু নিঃশব্দ পথগুলো নীরবে চলছে ধ্বংসের পানে।
এ-মৃত্যু-যাত্রায়ও বাধা রয়েছে। তিনুদের দলে হাজুর বাপ ও মা নামে দুটি অতি বুড়ো-বুড়ি সঙ্গ নিয়েছিল। সেদিন দুপুরের দিকে বুড়িটা কেমন-কেমন করতে লাগল বলে ওরা থামল, থেমে প্রান্তরের শেষে একটি বিস্তৃতশাখা পল্লবঘন বৃহৎ বৃক্ষের তলে বসলে। বুড়িকে শোয়ানো হল, আর বুড়ো গিয়ে বসলে গাছের গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে, বসে চোখ বুজে নিশ্চল হয়ে রইল। তারপর শুরু হল অপেক্ষা, নির্বাক অপেক্ষা!
ওদের মধ্যে ধীরে-ধীরে অধৈর্য যখন চাপা অস্থিরতায় প্রকাশ পেতে লাগল—এমন সময় একটা কান্নার রোল উঠল মেয়েদের মধ্যে। বুড়ি মরল অবশেষে। মেয়েরা কাঁদল, আর পুরুষরা কিছু খাঁটি কিছু ভান-করা দুঃখে নীরব হয়ে রইল। তারপর এক সময়ে তিনুরা আস্তে উঠে পড়ে কাছাকাছি একটা জায়গা খুঁজে নিলে। কিন্তু খুঁড়বে কী দিয়ে?
—দা দিয়ে হবি না? হালুর মা তার ঝুলি থেকে একটা দা বের করলে।
হবে হয়তো : মাটিটা ঝুরো।
হাত ভরে মুঠো-মুঠো যখন কোপানো মাটি তুলে ফেলছে, তখন করিম একবার আড়চোখে তাকাল তিনুর পানে। হাত ভরা মাটি—হাত ভরা ভাতের মতো মাটি, অথচ ভাত নয়। তিনু একবার মুখ ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখলে করিমের পানে, দেখলে তার চোখে লালাঝরা লোলুপতা, দেখে হয়তো আহত হয়ে চোখ সরিয়ে আবার কোপাতে লাগল।
করিম লজ্জা পেল, তাই ঈষৎ দুর্বল গলায় হঠাৎ শুধাল :
—কী জায়গায় গো ওই গাঁ?
—সোনাভাঙ্গা বোধায়।
—মতিগঞ্জ কি খুব দূর হবি?
তিনু একটু ভাবল, ভেবে বললে, তা এখন রওনা দিলি পরে সন্দের পর পৌঁছন যেত— একটি মুশকিল হল! ওপরটার মাটিটা ঝুরো, কিন্তু ভেতরে শক্ত, ভাগ্যের মতো কঠিন।
—কী হবি তালে।
তিনু কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। করিমের বুকের পাঁজরের পানে একবার চেয়ে, আরেকবার ধু-ধু করা প্রান্তরের পানে চেয়ে সে ভাবল, কিন্তু উপায় খুঁজে পেল না। অবশেষে গাছের তলে বুড়োর কাছে গিয়ে দাঁড়াল, দাঁড়িয়ে ডাকলে,
—অ হাজুর বাপ্। শুনতিছ গো—হেই!
বুড়ো চোখ মেলে তাকাল একবার, কিন্তু গলা দিয়ে কোনো সাড়া এল না। এখনো তার দেহে প্রাণ-কম্পন রয়েছে বটে, তবে তার মনের মৃত্যু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।
শেষে একজন বললে গাঁয়ে যেতে, গিয়ে কারো কাছে চেয়ে একটি কোদাল নিয়ে আসতে।
—তা দিলি তো কোদাল?
কিন্তু দেবে-ই না বা কেন। প্রত্যেকের-তো মৃত্যু আছে—ধনী-দরিদ্র কেউ-তো একে এড়াতে পারবে না। ঠিক কথা। তিনু ও করিম যাবে গ্রামে। বাকি লোকদের যাবার কোনো প্রয়োজন নেই।
শেষ পর্যন্ত কিন্তু নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকা অর্ধমৃত লোকদের মধ্যে অনেকেই যাবার জন্যে গা-ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়াল : একটা তীব্র আশায় তাদের চোখ চক্চক্ করে উঠেছে।——তোরা যাবি কী কত্তি? তিনু ঝংকার দিয়ে উঠল। কোনো উত্তর এল না। যে-জন্যে তারা যাবার জন্যে উন্মুখ, তা মুখ ফুটে বলবার মতো নয়। একটু ইতস্তত করে অভুক্ত লকলকে দেহগুলো আবার হেলে পড়ে মিশে গেল মাটিতে।
প