প্রথম নারী

প্রথম নারী

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

প্রথম নারী

Books Pointer Iconসুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
Books Pointer Iconshort story

Change color


বেশি দূরে নয়, হয়তো গড়িয়া বা টালিগঞ্জ বা দমদমে কারুর বাড়িতে গেছি। সেখানে এখনও কিছু ফাঁকা জায়গা আছে, গাছপালা আছে, একটা দুটো পুকুর আছে। সেরকম জায়গায় যদি হঠাৎ খুব জোর বৃষ্টি নামে, আমি জানলার কাছে কিংবা ঢাকা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াই, চোখ ভরে। দেখি হাওয়ার ধাক্কায় গাছগুলোর এলোমেলো নাচ, আর ঘাসভরা মাঠের ওপর অবিশ্রান্ত বৃষ্টির ঝুমঝুম শব্দ শুনতে-শুনতে আমার মন খারাপ হয়ে যায়।


আমার দীর্ঘশ্বাস পড়ে, মনে পড়ে যায় অনেক দিন আগেকার এইরকম একটা বর্ষার দিনের কথা।


প্রকৃতির নিয়মে প্রত্যেক বছরই তো বর্ষা আসে। জীবনের যতগুলি বছর আমরা কাটিয়ে যাচ্ছি, ততগুলি বর্ষা ঋতু দেখে যাচ্ছি। বৃষ্টির মধ্যে কতরকম মনে রাখবার মতন ঘটনাই তো ঘটে, কিন্তু আমার শুধু বিশেষ একটা বর্ষার কথাই মনে গেঁথে আছে।



কত বয়েস হবে তখন আমার, আঠেরো কিংবা উনিশ। ভানুকাকাদের একটা বাড়ি ছিল গালুডিতে। প্রত্যেক বছরই পুজোর সময় ভানুকাকা আমাদের নিয়ে যেতে চাইতেন সেখানে। কী কারণে যেন আমাদের যাওয়া হত না। ভানুকাকার সঙ্গে আমরা কোনওদিনই গালুডি যাইনি। একবারই মাত্র গেছি গালুডিতে, তাও পুজোর সময় নয়। কেন যে গ্রীষ্মকালে ওই গরমের জায়গায় যাওয়া ঠিক হয়েছিল তা এখন মনে নেই।


ভানুকাকা আমাদের চাবি দিয়েছিলেন আর মালির নামে একটা চিঠি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাবা যেতে পারলেন না। বাবার অফিসের গোডাউনে আগুন লেগে গিয়েছিল হঠাৎ, তখন তাঁর। কলকাতা ছেড়ে যাওয়া চলে না। আমাদের টিকিট কাটা পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল। তাই ঠিক হল, মাকে নিয়ে আমরা ভাইবোনেরা চলে যাব, বাবা কয়েকদিন পরে আসবেন।


ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে থেকেই আমি হয়ে গিয়েছিলাম হেড অফ দা ফ্যামিলি। মা ও ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব আমার ওপর।


গালুডিতে ভানুকাকাদের বাড়িটা ছিল বেশ ফাঁকা জায়গায়, স্টেশন থেকে অনেকটা দূরে। ছোট দোতলা বাড়ি, সামনে-পেছনে বাগান, পাঁচিলের ওপাশে ঢেউখেলানো প্রান্তর। ওইসব জায়গায় গ্রীষ্মকালে কেউ বেড়াতে যায় না। অনেক বাড়িই তালাবন্ধ ছিল।



সারাদিন কাজ তো কিছু নেই, বাগানে খানিকটা খেলাধুলো আর নানারকম খাওয়ার চিন্তা। দুপুরে অসহ্য গরম বাতাস, বাইরে বেরুবার উপায় নেই। শত গরমে ঘুমও আসে না। রাস্তায় পোস্টম্যানের সাইকেলের ক্রিং-ক্রিং শুনলেই মনে হত, আজ কি চিঠি আসবে? কিন্তু প্রত্যেকদিন কে চিঠি লিখবে আমাদের? বাবার কাছ থেকে একখানা চিঠি এসেছিল, তাঁর আসতে আরও কয়েকদিন দেরি হবে।


বালক থেকে সাবালক পদে উত্তীর্ণ হয়েছিলুম বলে আমার সবসময় নতুন কিছু একটা করতে ইচ্ছে করত। কিন্তু গালুডির মতন নির্জন জায়গায় কী-ই বা করার থাকতে পারে। মাঝে-মাঝে ট্রেনে চেপে চলে যেতুম ঝাড়গ্রাম কিংবা ঘাটশিলা, কিছু কেনাকাটি করবার জন্য। কেনাকাটি আসল উদ্দেশ্য নয়, গালুডিতেও মোটামুটি সব জিনিস পাওয়া যায়, কিন্তু এই যে আমি যখন ইচ্ছে একা-একা ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারি সেটাই ছিল একটা উত্তেজনা ব্যাপার।


ওইরকম বয়সে বেশির ভাগ ছেলেই লাজুক হয়। আমি অচেনা লোকজনের সঙ্গে ভাব জমাতে পারতুম না কিছুতেই। গালুডির তুলনায় ঝাড়গ্রামে লোকজন অনেক বেশি, সেখানে গিয়ে ঘুরে বেড়াতাম রাস্তায়-রাস্তায়, কিন্তু কারুর সঙ্গে আলাপ হয়নি। ঘাটশিলাতেও একদিন গিয়ে দেখি সুবর্ণরেখার ধারে এক দল ছেলেমেয়ে পিকনিক করতে এসেছে ওই গরমের মধ্যে। তারা। অনেকেই আমার বয়েসি। একটা গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে আমি অনেকক্ষণ দেখছিলুম ওদের। ওরা খেলছে, হাসাহাসি করছে, নিজেরাই রান্না করছে উনুন ধরিয়ে। বারবার ইচ্ছে করছিল, ওদের দলে মিশে যাই। কিন্তু ওরা আমায় ডাকেনি, ডাকলেও বোধহয় আমি লজ্জায় ওদের সঙ্গে যোগ দিতে পারতুম না। নিজেকে দারুণ একা মনে হত।



গালুডিতে আমাদের বাড়ির কাছাকাছি দু-তিনখানা বাড়িই একেবারে ফাঁকা। সেইজন্য আমাদের খুব ডাকাতের ভয় ছিল। সন্ধ্যের পর দরজা জানলা বন্ধ করে বসে থাকতুম ভেতরে। সেইজন্যই সন্ধেগুলো আরও অসহ্য বোধ হত। আমাদের বাড়ির কেয়ারটেকারটি যেমন বুড়ো তেমন রোগা, আমরা ওর নাম দিয়েছিলুম লটপট সিং। ডাকাত কেন, সামান্য একটা চোর এলেও বোধহয় ওর কাছ থেকে কোনও সাহায্য পাওয়া যেত না।


একদিন বিকেলবেলা আমরা বাইরের বাগানে বসে চা খাচ্ছি, এমনসময় দেখলুম আমাদের গেটের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে দুজন মহিলা আর একটি বাচ্চা ছেলে।


মা জিগ্যেস করলেন, ওরা কারা?


আমি ওদের চিনি না, আগে কখনও দেখিনি। ওরা গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আমাদের দেখতে লাগল কিছুক্ষণ। তারপর গেট ঠেলে ভেতরে ঢুকল।


আমরা চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে তাকিয়ে রইলুম। এ পর্যন্ত গালুডিতে আর কেউ আমাদের বাড়ির গেট দিয়ে ঢোকেনি।



আজও আমি সেই দৃশ্যটি স্পষ্ট দেখতে পাই। একেবারে সামনে রয়েছে রত্নাদি, নীল শাড়ি পরা, বেশ লম্বা চেহারা, পিঠের ওপর চুল খোলা, তাঁর পাশে লাফাতে-লাফাতে আসছে পিকলু, তার বয়েস সাত বছর, কালো হাফ প্যান্ট আর হলদে গেঞ্জি পরেছে সে। তাদের পেছনে, একটু ব্যবধান রেখে আস্তে-আস্তে হেঁটে আসছে এলা, যেন তার ভেতরে আসবার ইচ্ছে ছিল না। এলা পরে আছে একটা হরিণ-রঙা শাড়ি। সমস্ত দৃশ্যটা আমার স্মৃতিতে যেন একটা বাঁধানো ছবি, যদিও তখন আমি তাদের নাম জানতুম না।


প্রথম মহিলাটি একেবারে কাছে এসে হাসিমুখে মাকে বললেন, মাসিমা, আমায় চিনতে পারছেন? আমি রত্না।


মা তখনও চিনতে পারেননি, কৌতূহলের সঙ্গে একটু-একটু হাসি মিশিয়ে চেয়ে রইলেন।


মহিলাটি মাকে প্রণাম করে বললেন, সেই যে গড়পারে আমরা—


মা সঙ্গে-সঙ্গে বললেন ও, তুমি রত্না! সত্যি চিনতে পারিনি প্রথমটায়, এসো, এসো!


একটুক্ষণ কথাবার্তাতেই সব বোঝা গেল।



আমরা একসময় গড়পারে একটা বাড়িতে ভাড়া থাকতুম। সে প্রায় দশ-বারো বছর আগেকার কথা। আমারই সে-বাড়িটার কথা ভালো করে মনে নেই, আমার ছোট বোন তখন জন্মায়নি। রত্নাদিরা থাকতেন পাশের ফ্ল্যাটে। আমাদের থাকার সময়েই রত্নাদিনতুন বউ হয়ে এসেছিলেন সেখানে। সেইটুকুই আমার মনে আছে যে, বিয়ের কোনও উৎসব হয়নি, খাওয়া-দাওয়াও হয়নি, তবু সে-বাড়িতে একজন নতুন বউ এসেছিল। বাড়িতে এবং পাড়াতে সেটা ছিল একটা আলোচ্য বিষয়। আমারও শিশুমনে একটা খটকা লেগেছিল।


শৈলেনদা আর রত্নাদি এক অফিসে চাকরি করতেন। একদিন সন্ধেবেলা রেজিস্ট্রি বিয়ে সেরে ওঁরা একসঙ্গে গড়পারের বাড়িতে চলে আসেন।


আমার মায়ের সঙ্গে রত্নাদির বেশ ভাব হয়ে গিয়েছিল। রত্নাদিদের নতুন সংসার সাজিয়ে দিতে মা সাহায্য করেছিলেন কিছু-কিছু। রত্নাদি সেইসব কথাই বলতে লাগলে উচ্ছ্বসিতভাবে।


রত্নাদির বিয়ের পর আমরা ওই গড়পারের বাড়িতে ছিলুম মাত্র একবছর। তারপর উঠে যাই ভবানীপুরে। রত্নাদিরাও এখন ওই বাড়িতে থাকেন না।



রত্নাদি এলার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়ে বললেন, মাসিমা, এ আমার ছোট বোন, আপনি দু একবার দেখেছেন ওকে, অবশ্য ও তখন খুবই ছোট ছিল…


মা বললেন, হ্যাঁ, একটু-একটু মনে পড়ছে, খুব দুরন্ত ছিল তখন, এখন দেখছি খুব শান্ত!


এলা শুধু শান্ত নয়, প্রায় নির্বাক বলা যায়। একবার শুধু সে মায়ের কোনও একটা প্রশ্নের উত্তরে হ্যাঁ বলেছিল, সেটা না শুনলে ওকে বোবা মনে হতেও পারত।


একটু লম্বাটে মতন মুখ এলার, শ্যামলা রং, চোখ দুটি খুব টানা-টানা। কালো আর গভীর। চোখ তুলে সে মাঝে-মাঝে মুখের দিকে তাকায়, চেয়েই থাকে, কোনও কথা বলে না।


মা রত্নাদিকে জিগ্যেস করলেন, তোমরাও এই গরমে এখানে বেড়াতে এসেছ? আমাদের তো পুজোর সময় আসার কথা ছিল, তখন হয়ে উঠল না, সেইজন্যই তো…তাও তো উনি আসতে পারলেন না…


রত্নাদি একটুক্ষণ মাটির দিকে চেয়ে রইলেন। তারপর মুখ তুলে বললেন, মাসিমা, শৈলেন খুব অসুস্থ। আর কতদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারব তা জানি না।



আমি বিষম চমকে উঠেছিলুম। কী শান্তভাবে কথাটা বলেছিলেন রত্নাদি। গলার আওয়াজে কোনওরকম দুঃখ বা উচ্ছাস নেই, যেন জীবনের অনেক ঘটনার মতন এটাও একটা সাধারণ ঘটনা। এটা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করার কোনও মানে নেই।


আমরা যে পরিবেশে মানুষ, সেখানে কোনও স্ত্রীকে প্রকাশ্যে তার স্বামীর নাম উচ্চারণ করতে শুনতুম না সেই সময়ে। কিন্তু রত্নাদি এমনভাবে শৈলেন কথাটা উচ্চারণ করলেন, যেন সেটা তাঁর কোনও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নাম।


রত্নাদির ওই কথা শুনে এলা এক দৃষ্টিতে তার দিদির দিকে তাকিয়েছিল, কোনও কথা বলেনি।


পিকলু তখন একটু দূরে আমার ছোট বোনের সঙ্গে খেলা শুরু করেছে।


শৈলেনদার যে ঠিক কী অসুখ তা বুঝলুম না। তবে শুনলুম যে উনি শুকনো জায়গায় এলে ভালো থাকেন। রত্নাদি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে এখানে একটা বাড়ি ভাড়া নিয়ে আছেন। পুরো গ্রীষ্মের তিন মাস এখানে কাটিয়ে যাবেন। ওঁরা এসেছেন দেড়মাস আগে।


মা রত্নাদিদের চা খাওয়ালেন। তারপর ওঁরা যখন বিদায় নেওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালেন, তখন মা। আমাকে বললেন, ওদের একটু এগিয়ে দিয়ে আয় তো, নীলু!



রত্নাদি হেসে বললেন, আমাদের এগিয়ে দিতে হবে না, এতদিনে আমাদের সব চেনা হয়ে গেছে।


তার পরই মন বদলে আবার বললেন, আচ্ছা এসো নীলু, আমাদের বাড়িটা চিনে যাবে। মাসিমাকে নিয়ে আসবে একদিন


বিকেল শেষ হয়ে এসেছে, পশ্চিম দিগন্তে যেখানে আকাশমিশেছে সেদিকটা লালে লাল। আমরা সেইদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। সারা পথ রত্নাদি আমার সম্পর্কে অনেক কথা জিগ্যেস করলেন। এলা তখনও কোনও কথা বলল না, মনে হয় যেন আমাদের কথা শুনছেও না। মেয়েটা লাজুক না অহংকারী?


রত্নাদিদের বাড়িটা বেশ দূরে। একটা বড় মাঠ পেরিয়ে খুব ফাঁকা জায়গায়। স্টেশন থেকে যতদূরে হয়, ততই বাড়িভাড়া কমে যায়।


সেদিন আর রত্নাদিদের বাড়ির মধ্যে যাইনি, রত্নাদিও ডাকেননি ভেতরে। হঠাৎ আকাশ অন্ধকার হয়ে এসেছিল। রত্নাদি বলেছিলেন, মাঝে-মাঝে চলে এসো, নীলু! আমরা প্রায় সব সময়েই বাড়িতে থাকি। আর হ্যাঁ, শোনো, ভালো কথা মনে পড়েছে। তুমি কি ট্রেনে চেপে ঝাড়গ্রাম যেতে পারবে?



আমি বললুম, আমি তো প্রায়ই যাই।


—একটা ওষুধ আনতে হবে, এখানে পাওয়া যাচ্ছে না, তুমি এনে দিতে পারবে?


আমি তৎক্ষণাৎ বানিয়ে বললুম, আমি তো কালকেই ঝাড়গ্রামে যাব বাজার করে আনতে।


—তাহলে তো ভালোই হল।


সেদিন ওখান থেকে ফেরার পথে আমি বেশ ভয় পেয়েছিলুম মনে আছে। অথচ ভয় পাওয়ার কোনও কারণ ছিল না, আমি তেমন একটা ভীতুও নই। এবড়ো-খেবড়ো পাথর ছড়ানো বড় মাঠটা পেরিয়ে আসবার সময় হঠাৎ সাংঘাতিক ঝড় উঠেছিল। চতুর্দিক শোঁ-শোঁ শব্দে কেঁপে উঠল। ঘূর্ণিপাক খেয়ে উড়তে লাগল ধুলো, কোনও দিকে কিছুই দেখা যায় না। আমার মনে হল, এখন ছুটতে গেলেই আমি দিক ভুল করব।


মাঠের মধ্যে ঝড় দেখে ভয় পাওয়ার ছেলে আমি নই। কিন্তু তার একটু আগেই, রত্নাদিদের বাড়ির গেট পেরুবার একটু পরেই আমার মনে হয়েছিল, আমার জীবনে এবারে একটা পরিবর্তন আসছে। আমি সাবালকদের জগতে প্রবেশ করেছি, এবার শিগগিরই এমন কিছু ঘটবে যার ফলে বদলে যাবে আমার বাকি জীবনের গতি।



এই কথা ভাবতে-ভাবতে খানিক দূর আসার পরই অকস্মাৎ ওরকম ঝড় ওঠায় আমি বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলুম। এই যে অন্ধ ঝড়, যার মধ্যে কোনও দিক বোঝা যায় না, এই কি তাহলে আমার ভবিষ্যৎ জীবনের প্রতীক?


যাই হোক, সেই সন্ধেবেলা ঠিকঠাকই বাড়ি পৌঁছেছিলুম।


রত্নাদি যদি ঝাড়গ্রাম থেকে আমাকে ওষুধ আনবার কথা না বলতেন, তাহলে হয়তো পরের দিনই আমার ও-বাড়িতে যাওয়া হত না। যদিও আমার তৃষিত মন চাইছিল মানুষের সঙ্গ, কিন্তু রত্নাদিদের বাড়িতে যাব কি যাব না তা ভেবে ভেবে মন ঠিক করতে আমার দু-তিনদিন লেগে যেত।


ওষুধ নিয়ে পৌঁছবার পর সেদিন দেখ

**********