
পিঁপড়ে পুরাণ
প্রেমেন্দ্র মিত্র
সে অনেক কাল আগের কথা।
তখন সবাই ছিল আশ্চর্য রকমের। তখন ঠিক ভোরের বেলা সূর্য উঠত ; আর এমন মজা
যে, ঠিক রাত হওয়ার আগেই সূর্য অস্ত যেত। দিনের বেলা তখন আলে৷ থাকত, আর রাত্তিরে
হত অন্ধকার।
পৃথিবীই ছিল তখন কী সুন্দর! মাটিতে নরম সবুজ ঘাস। হরেকরকম গাছে হরেকরকম
রঙের ফুল, আর রাত্তির বেলা আকাশে হাজার হাজার তারা—সে দেখতেই ছিল চমৎকার।
পাখিই ছিল তখন কতরকম! একরকম পাখি ছিল, তার নাম কাক। মিশকালো অন্ধকারের
মতো তার রং। আর তার গলার স্বর? কেউ কেউ বলে তার গলার স্বর নাকি ভালো ছিল না।
আমরা কিন্তু তা বিশ্বাস করি না। যে কোকিল আজকাল আখছার আমাদের পথেঘাটে ঘুরে
বেড়ায়, তারই যদি স্বর এত ভালো হয়, তবে না জানি কাকের স্বর কী মিষ্টি ছিল! আর এই
কোকিল নাকি সেই কাকেদের বাসাতে গলা সাধতে শিখত। সে কাক এখন আর পাওয়া যায় না,
কেউ কেউ বলে, উত্তর মেরুতে পৃথিবীর যে সবচেয়ে বড়ো চিড়িয়াখানা আছে, সেখানে নাকি
একটি কাক এখনও আছে। তার জোড়টি মরে যাওয়ায় সেটিও নাকি ভারী মনের কষ্টে
আছে—বেশিদিন আর বাঁচবে না। আরেকরকম পাখি ছিল, তার নাম চড়ুই। সে পাখি লোকের
ঘরেদোরে, কড়িকাঠের ফাটলে বাসা বাঁধত। খুদে খুদে পাখিগুলি নাকি মানুষের বসতির কাছে
নইলে থাকত না। মানুষের ফেলা-ছড়ানো খুদ-কুঁড়ো খেয়েই তারা থাকত।
তোমরা ঘোড়া বোধ হয় কেউ কেউ দেখেছ। সে ঘোড়া তখন পথেঘাটে গাড়ি টেনে
লোক বয়ে বেড়াত। কুকুর তো তখন যেখানে-সেখানে এখনকার চিতাবাঘের মতো সস্তা ছিল।
এখন যেমন লোকে চিতাবাঘ পোষে, তখন তেমনি কুকুর পুষত। আরেকরকম জানোয়ার
ছিল—তার নাম বেড়াল। সে বেড়ালের কথা আমরা বেশি কিছু জানি না। সেকালের লোকেরা
বেড়াল সম্বন্ধে বেশি কিছু লিখে যায়নি।
একটি বহু পুরোনো সেকালের পুঁথিতে বেড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয়েছে। তাতে মনে
হয়, বেড়াল খুব প্রকাণ্ড জানোয়ার ছিল। কিন্তু এত বড়ো জানোয়ার লোকে বাড়িতে কী করে
পুষত, তা আমরা এখনও বুঝতে পারিনি। সরকারি পশুশালার একজন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক বেড়াল
সম্বন্ধে গবেষণা করে একটি বই লিখেছেন। সেই বই প্রকাশিত হলে বেড়াল সম্বন্ধে অনেক
আশ্চর্য কথা জানা যাবে। আরও এমন সব অদ্ভুত জানোয়ার সেকালে ছিল, যা চোখে দেখলেও
তোমরা বিশ্বাস করতে পারবে না—–ছাগল, ভেড়া, গোরু ইত্যাদি কত নাম করব!
সবচেয়ে মজার কথা এই যে, তখনকার পিঁপড়ে নাকি খুব বড়ো হলেও মানুষের কড়ে
আঙুলের চেয়ে বড়ো হত না। সে পিঁপড়েও ছিল নানা জাতের। মানুষের ঘরেদোরে, মাঠে-গাছে
নানা রকমের পিঁপড়ে তখন গর্তের ভেতর বাসা বেঁধে থাকত। তাদের মধ্যে দু-এক জাতের
পিঁপড়ে মানুষকে কামড়ে একটু যন্ত্রণা দেওয়া ছাড়া আর কোনো ক্ষতিই করতে পারত না। দল
বেঁধে একসঙ্গে তারা তখন থেকেই থাকত বটে, কিন্তু মানুষ তখন মোটেই ভাবতে পারেনি যে,
এই পিঁপড়ের সঙ্গে পৃথিবীর অধিকার নিয়ে তাকে একদিন লড়াই করতে হবে। অনেকে তখন
পিঁপড়ের ওপর দয়া করে তাদের বস্তা বস্তা চিনি খেতে দিত।
আর-বছরে দক্ষিণ আমেরিকায় পিঁপড়েদের সঙ্গে যুদ্ধে আমরা ভয়ানকভাবে হেরে গেছি,
একথা তোমরা সকলেই নিশ্চয়ই শুনেছ। কিন্তু তোমরা শুনলে আশ্চর্য হবে যে, তখন সমস্ত
দক্ষিণ আমেরিকায় নানাজাতের মানুষের বাস ছিল। মানুষ তখন নিজেদের মধ্যে মারামারি
করতেই ব্যস্ত, পিঁপড়েরা কী করছে না করছে তা দেখবার কথা তাদের কল্পনায়ও আসেনি। খুব
বেশি পিঁপড়ের উৎপাত হলে পিঁপড়ের গর্তে খানিকটা বিযাক্ত অ্যাসিড ঢেলে দিলেই ঝঞ্ঝাট চুকে
যেত। ৭৮৯৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আমেরিকায় মানুষের বাস ছিল, জানা গেছে। তারপর থেকেই
আন্দিজ পাহাড়ের জঙ্গল থেকে এই নতুন জাতের ছ-ফুট লম্বা পিঁপড়ে বেরিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা
থেকে মানুষ তাড়াতে শুরু করে। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, এর আগে অনেক পর্যটক সমস্ত দক্ষিণ
আমেরিকার পাহাড়-জঙ্গল ঘুরে বেড়িয়েছে, কিন্তু কেউই এই পিঁপড়ের কোনো সন্ধান পায়নি।
৬৭৫৭ সালে বিখ্যাত পর্যটক তাশেষ রায় যখন দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গল ঘুরে এসে আন্দিজের
পার্বত্য প্রদেশে একরকম অদ্ভুত জানোয়ারের কথা বলেন, তখন কাগজে-কাগজে তাঁকে এমন
উপহাস-বিদ্রূপ করে যে, শেষ পর্যন্ত তাঁকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্যে চুপ
করে যেতে হয়। কিন্তু মৃত্যুর সময় তিনি তাঁর শেষ ডায়েরিতে লিখে যান, ‘আমি শপথ করে
বলে যাচ্ছি—আমি যে অদ্ভুত জানোয়ারের কথা বলেছি, তা মিথ্যে নয়, মিথ্যে নয়!’
ওই আন্দিজ় পাহাড়ের কাছেই ৬৭৬৩ সালে একদল জাপানি রুপোর খনি আবিষ্কার করে
তাতে কাজ করতে গিয়ে একেবারে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তারপর পাঁচ বছর ধরে তাদের তন্নতন্ন
করে খুঁজেও কোনো পাত্তাই পাওয়া যায়নি। তোমরা বোধ হয় জান যে, সেসময় এই ব্যাপার
নিয়ে ভয়নাক হুলস্থুল পড়ে গিয়েছিল। অশেষ রায় যখন এই এক হাজার জাপানির অন্তর্ধানের
সঙ্গে এই অদ্ভুত জানোয়ারের কোনো সংস্রব আছে বলেন, তখন লোকে তাঁকে শুধু পাগলা
গারদে পুরতে বাকি রেখেছিল। অশেষ রায় এই অদ্ভুত জানোয়ার সম্বন্ধে যেসব কথা জানান, তা
অত্যন্ত বিস্ময়জনক। সেকালের লোকেরা এই অপরূপ কাহিনিকে আজগুবি বলেছিল বলে তাদের
বেশি দোষও আমরা দিতে পারি না।
অশেষ রায় তাঁর পর্যটন থেকে ফিরে কোনো কাগজে লিখেছিলেন, ‘সেবার দক্ষিণ
আমেরিকা ভ্রমণে আমার সঙ্গী ছিলেন আমার কাফ্রি বন্ধু, পৃথিবী বিখ্যাত কীটতত্ত্ববিদ মন্ডুলা।
আগের দিন আমরা মাসোর নদীর উৎসে পৌছোই। তারপর আমাদের গন্তব্য স্থল ছিল আলাগাস হ্রদ।
‘সেদিন সন্ধেবেলা আমরা ক্লান্ত হয়ে সারাটার কাছে একটি ছোটো পাহাড়ের ওপর বিশ্রাম
করছিলাম। আমাদের চারপাশে আন্দিজের অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তাদের বিপুল দেহ নিয়ে ঘিরে
ছিল। তখনও সূর্য অস্ত যায়নি। আমাদের পশ্চিমে ঠিক আমাদের পাহাড়ের নীচের উপত্যকার
ওপর তখন অস্তগামী সূর্যের আলো এসে পড়েছে। উপত্যকাটি আয়তনে খুব ছোটো। চারধারে
পাহাড় যেন বিশাল দেওয়ালের মতো ওইটুকু জমিকে ঘিরে আছে। উপত্যকাটি আগাগোড়া
দুর্ভেদ্য জঙ্গলে আচ্ছন্ন। শুধু এক জায়গায় ছোটো একটি পার্বত্য জলাশয় দেখা যাচ্ছিল।
‘আমি তখন আমাদের ছোট্ট তাঁবুটি রাত্রের জন্যে খাটাবার বন্দোবস্ত করছি। মন্ডুলা তাঁর
সেদিনকার সংগৃহীত নতুন জাতের কীটগুলি বাক্সবন্দি করছিলেন। হঠাৎ চাপা, উত্তেজিত কণ্ঠে
মণ্ডুলা ডাকলেন, শুনুন !
‘খুঁটি পুঁততে পুঁততে চেয়ে দেখি, তিনি নিবিষ্টভাবে নীচের উপত্যকার দিকে চেয়ে আছেন।
তাঁর দৃষ্টি অনুসরণ করে কিন্তু আমি কিছুই দেখতে পেলাম না।
‘জিজ্ঞেস করলাম,—ব্যাপার কী?
‘মডুলা শুধু ইশারায় তাঁর কাছে যেতে বললেন এবং তাঁর কাছে গেলে তিনি অঙ্গুলি-নির্দেশ
করে নীচের পার্বত্য জলাশয়টি দেখিয়ে বললেন,— দেখতে পাচ্ছেন ?
‘জলাশয়ের ধারে কালো রঙের কী একটা জানোয়ারকে অস্পষ্টভাবে ঘুরতে ফিরতে দেখা
যাচ্ছিল। বললাম, ও আর কী? কোনো জানোয়ার-টানোয়ার হবে বোধ হয়।
‘মণ্ডুল৷ ঈযৎ হেসে বললেন, কোনো জানোয়ার-টানোয়ার যে হবে তা আমিও বুঝেছি,
কিন্তু কোন জানোয়ার? দক্ষিণ-আমেরিকার অত বড়ো কালো জানোয়ারের একটা নাম করুন তো
দেখি! আপনি দূরবিনটা একবার বের করুন তো!
‘সূর্য এরই মধ্যে পশ্চিমের পাহাড়ের আড়াল হয়ে গেছে। নীচে সমস্ত জলাশয়টির ধারে
একটির পর একটি করে দশটি ওই ধরনের কালো জানোয়ার এসে তখন জড়ো হয়েছে।
‘আমার হাত থেকে দূরবিনটা একরকম কেড়ে নিয়েই মডুলা চোখে লাগালেন। কিন্তু পরের
মুহূর্তেই দূরবিনটা নামিয়ে বললেন, যাঃ, সব মাটি হয়ে গেল!
‘দুর্ভাগ্যক্রমে সেইদিনই পাহাড়ে ওঠবার সময়ে কেমন করে না জানি ঠোকা লেগে
দূরবিনের কাঁচ দুটি ভেঙে গেছে।
‘সূর্যের আলো তখন বিরল হয়ে এসেছে। তবু সেই আলোতেই আমাদের খালি চোখে
আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম, গভীর অরণ্যের ভেতর থেকে প্রায় দুশো ওই অপরূপ জানোয়ার
জলাশয়ের ধারে এসে জড়ো হয়েছে। তাদের আকৃতি অদ্ভুত—সামনের ও পেছনের দুটি বড়ো-
বড়ো কালো জালা কে যেন এক-একটি খাটো কাঠিতে গেঁথে লম্বা লম্বা পায়ের ওপর সাজিয়ে
দিয়েছে। কিন্তু তাদের আকৃতি যত না অদ্ভুত, তাদের আচরণ তার চেয়েও বেশি। দলবদ্ধ হয়ে
অনেক জানোয়ার থাকে বটে, কিন্তু এমন তাপরুপ শৃঙ্খলা কোনো জানোয়ারের ভেতর আছে বলে
শুনিনি। তাদের একসারে চলা-ফেরা দাঁড়ানোর সঙ্গে একমাত্র খুব শিক্ষিত সৈন্যের কুচকাওয়াজের
তুলনা করা যায়।
‘যত তাদের গতিবিধি দেখছিলাম, দূরবিনের কাঁচ ভেঙে যাওয়ায় দুঃখ আমাদের ততই
বাড়ছিল। সন্ধের অন্ধকারে তারা শেষে একেবারে অরণ্যের সঙ্গে মিলিয়ে গেলে আমরা
বিমর্যভাবে সেদিক থেকে চোখ ফেরালাম। সেদিন রাত্রে তাঁবুতে শুয়ে শুয়ে ঘুম আমাদের
আসতে চাইছিল না। মডুলা তাঁর বিছানায় অস্থিরভাবে খানিকক্ষণ এ-পাশ ও-পাশ করে বললেন,
আচ্ছা আপনার কী মনে হয় বলুন তো? এমন আশ্চর্য জানোয়ার এতকাল কোনো পর্যটকের
চোখে পড়েনি, এটা কি বিশ্বাস করা যায়?
‘আমারও সেই কথাই মনে হচ্ছিল। তারপর কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি, মনে নেই। হঠাৎ
চমকে জেগে উঠে দেখি, মন্ডুলা উত্তেজিতভাবে আমায় ঝাঁকানি দিচ্ছেন। আমি চোখ খুলতেই
তিনি বললেন, শিগগির বাইরে এসে দেখুন!
‘তখনও ঘুমের ঘোর কাটেনি, অর্ধ-জাগ্রত অবস্থায় বাইরে গিয়ে দাঁড়ালাম।
‘মণ্ডুলা উত্তেজিতভাবে বললেন, চেয়ে দেখুন, নীচে চেয়ে দেখুন!
‘নীচে চেয়ে দেখে সত্যিই অবাক হয়ে গেলাম। অন্ধকারে সেই পার্বত্য জলাশয়ের ধারে
নানা জায়গায় অসংখ্য আলো জ্বলছে। সে-আলোয় আমাদের পাহাড় থেকে বিশেষ কিছুই দেখা
যাচ্ছিল না, শুধু অস্পষ্টভাবে ওই জানোয়ারদের নড়াচড়া এক-আধটু টের পাওয়া যাচ্ছিল। আমরা
কিন্তু মন্ত্রমুগ্ধের মতো সেইদিকে চেয়ে বসে রইলাম। এত বড়ো বিস্ময়জনক ব্যাপার বিশ্বাস
করতে যেন আমাদের সাহস হচ্ছিল না।
‘ভোর হওয়ার কিছু আগেই সমস্ত আলো নিভে গেল। আমরা কিন্তু সেখান থেকে উঠতে
পারিনি। ভোরের আলোয় ওই জলাশয়ের দিকে চেয়ে আমাদের বিস্ময়ের আর অবধি রইল না।
জলাশয়ের পশ্চিম পাড়ে প্রায় দশ বিঘা জমির জঙ্গল একেবারে সাফ হয়ে গেছে। আগের দিন
সন্ধেবেলা যে প্রকাণ্ড গাছগুলি সে স্থান অন্ধকার করে দাঁড়িয়ে ছিল তাদেঁর চিহ্ন পর্যন্তও নেই।
‘মণ্ডুলার উত্তেজনা তখনও শান্ত হয়নি। আমার হাতটা সজোরে নাড়া দিয়ে তিনি বললেন,
আমার কী মনে হয় জানেন? আমরা যে অদ্ভুত জানোয়ার দেখছি তারা কীটজাতীয় প্রাণী।
‘এবার কিন্তু আমি না হেসে পারলাম না, বললাম, কারণ আপনি কীটতত্ত্ববিদ !
‘মন্ডুলা আমার পরিহাসে কান না দিয়ে বললেন, হ্যাঁ, তাই! কীটজাতীয় ছাড়া পৃথিবীর
কোন প্রাণীর চারটের বেশি পা দেখেছেন?
‘কথাটা সত্যি। আমরা যে অদ্ভুত জানোয়ার দেখছি, তাদের পা কতগুলি তা গুনতে না
পারলেও চারের যে বেশি, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
‘মন্ডুলা বলে যাচ্ছিলেন, তা ছাড়া আকৃতির কথা মনে রাখবেন!
‘বললাম, কিন্তু এত বড়ে৷ কীট?
‘মডুলা বললেন, অসম্ভব তো নয়!
‘তারপর পুরো একটি সপ্তাহ আমরা সেই পাহাড়ে ওই অদ্ভুত প্রাণী দেখবার জন্যে তাপেক্ষা
করি, কিন্তু তার কিছু দেখবার সৌভাগ্য আমাদের হয়নি।’
অশেষ রায়ের বর্ণনা এইখানেই শেষ হয়েছে। তারপর এক হাজার বৎসর এই প্রাণীর কথা
আর কিছুই শোনা যায়নি। অশেষ রায় ও মন্ডুলার কথায় পৃথিবীর লোক হাসলেও কেউ-কেউ
যে এ-বিষয়ে অনুসন্ধান করবার জন্যে সেখানে যায়নি এমন নয়। কিন্তু আর কোনো পর্যটকের
চোখে কিছু পড়েনি। এখন আমরা অবশ্য বুঝতে পারছি যে অশেষ রায় এই পিঁপড়েদেরই
দেখেছিলেন। তাঁর বর্ণনার একটি বর্ণও মিথ্যে নয়। কিন্তু মানুষ বেশ নিশ্চিন্ত হয়েই ছিল।
এই পিঁপড়ের কথা যখন আমরা জানলাম, তখন আর সময় নেই। ৭৭৫৭ সালে একেবারে
বজ্রাঘাতের মতো আচম্বিতে মানুষকে এই পিঁপড়ের আক্রমণ অভিভূত করে দেয়। আক্রমণের
আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ একথা