পরাজয়

পরাজয়

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

পরাজয়

Books Pointer Iconসৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
Books Pointer Iconshort story

Posted byকাব্য রচিত07-Oct-2025

Change color

দূরে যেখানে ধলেশ্বরীর সাথে এই রাঙাধারের ঢালা এক হয়ে মিশেছে, সে-সঙ্গমস্থানের বিস্তীর্ণ জলরাশি হঠাৎ ঝলমল করে উঠল : মেঘের ফাঁকে সকালবেলার সূর্যালোক ঝলকে পড়েছে সেখানে। এবং ঠিক সেই মুহূর্তে ক্ষুদ্র কোটরগত অথচ উজ্জ্বল চোখ দুটি দূরে নিবদ্ধ করে মজনু ঠোঁটের প্রান্তে একটু হাসল, তারপর সবল হাতে লগি দিয়ে তীর হতে গভীর জলে নৌকা ঠেলে সে বলে উঠল :


—হেই গো, মোদের নাও ভাসল।


মাথায় তার জড়ানো লাল গামছা, সাদার ওপরে নীল চেকের আধময়লা লুঙ্গিটি কোঁচামেরে পরা, এবং দেহের বাকি সমস্ত অংশ অনাবৃত। লগি ছেড়ে হাল ধরে বাইতে শুরু করলে তার সুগঠিত পেশিবহুল কঠিন-কালো দেহের প্রত্যেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চঞ্চল হয়ে উঠল, যেন তার সমগ্র দেহ উল্লাসে ঝলমল করে উঠল ওই রৌদ্রকরোজ্জ্বল বিস্তৃত জলরাশির মতো।


ছইয়ের ভেতর থেকে কালু কথা কয়ে উঠল :


—তার নাও তো ভাসল, মোর কল্কেয় আগুন ধরে কই?


মজনু উত্তর দিলে না। ওপাশ দিয়ে হলদে রঙের তালি-দেয়া ছোট পাল উড়িয়ে একটা নৌকা যাচ্ছিল; তার হালের কাছে উবু হয়ে বসে রয়েছে কুঁজোমতো একটি বুড়ো মাঝি, তাকে উদ্দেশ করে ঘাড় হেলিয়ে মজনু চিৎকার করে প্রশ্ন করলে :


—কই যায় গো তোমার নাও, অ কেতাঘাটের মাঝি?


বুড়ো তার পানে তাকাল না, শুধু একটু নড়ে বসে গলা উঁচিয়ে জবাব দিলে :


—মামুদপুর।


আড়চোখে সে-নৌকার ছইয়ের ভেতরে তাকাল মজনু : কাঁচা সোনার মতো রঙের কে এক মেয়ে বসে রয়েছে সেখানে। মুখে তার ঘোমটা নেই, পরনে কালো শাড়ি।



নৌকাটি তখন দূরে চলে গেছে, হলদে রঙের পালের তালিগুলো আর নজরে পড়ে না, কালুকে মজনু আস্তে বললে,


—একটা সোনা-মুখ দেখলাম।


—জলকন্যা দেখলা নাকি?


পুব থেকে হাওয়া বইছে, নদীর জলে তাই মৃদু ঢেউ, আর অস্পষ্ট কলকল আওয়াজ। ওধারে আকাশটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, নীল স্বচ্ছ আকাশে পরিপূর্ণ রোদ ঝলমল করছে, আর তারই ছটা লেগেছে অদূরে কাশের বনে। মৃদু হাওয়ায় দুলছে কাশবন, তার ডগাগুলো চিকচিক করছে। নৌকা যখন রাঙাধারের ঢালা থেকে বেরিয়ে ধলেশ্বরীর মাঝামাঝি এসে পড়ল তখন স্রোতের ধারে নৌকা দুলে উঠল। তাছাড়া নৌকা চলছে ঈষৎ কোনাকুনি ভাবে। স্রোতের অনুকূলে ওদিক হতে একটা দৈত্যের মতো গোপালপুরী নৌকা আসছে, পালের রং তার সাদা। পেছনে মাচার ওপর লাল ডোরাকাটা নিশানার তলে বসে রয়েছে নেড়া হিন্দুস্থানি মাঝি, তাছাড়া বাইরে কেউ নেই। মাঝির পানে চেয়ে মজনু হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠল,


—হেইগো, বাঁয়ে বাঁয়ে।



নৌকা না তো, সত্যিই যেন দৈত্য। তাছাড়া পেতলে বাঁধানো গলুইর পানে তাকালে কিছু শ্রদ্ধাও হয়, আর মনে পড়ে কবে একবার সে দেখেছিল এক মাড়োয়ারী ব্যবসায়ীকে, যার সামনের দুটো দাঁত ছিল সোনায় বাঁধা।


—অ কালু, হুক্কার পানি কদ্দূর গো? একবার বার হয়ে আস দেখি, নায়ে জবর টান ধরছে।


হুক্কার গুড়গুড় আওয়াজ হঠাৎ থেমে গেল, ছইয়ের গর্ত দিয়ে সশব্দে নদীতে থুতু ফেলে লোকটি বলে উঠল :


—পানিটা কেমুন বোদা-বোদা, গলায় ধরল না।


একটু পরে ছইয়ের পেছন দিয়ে বেরিয়ে এল কালু, হাতে তার হুঁকা। সেটি মজনুর হাতে দিয়ে সে চলে গেল সামনে। দাঁড় বাইতে হবে।


সূর্য তখন অনেকটা উঠে পড়েছে। যেখানে তারা এসে পৌছল সেটা নদীর তীর নয়, নদীর মাঝখানে জলে ডোবা বিস্তীর্ণ চর। ওপাশে ছমিরের মাচাটা নজরে পড়ে, নিচে বাঁধা ছোট ডিঙিটার কিছু অংশও দেখা যাচ্ছে। ছমির তাহলে মাচাতেই রয়েছে। এধারে ধান নেই, শুধু জলের ওপর মাথা উঁচু করে রয়েছে দীর্ঘ ধারালো ছন ও ভাতসোলা। গলুইতে বসে রয়েছে বলে কালুর পিঠ ছড়ে যেতে লাগল ছনের ধারে। জলে ভারি গন্ধ, আর চারধারে কেমন ভাপসা গরম, যেন ওপরে অত বড় বিস্তৃত অনন্ত আকাশ নেই, স্থানটা দেয়ালে আর ছাতে ঘেরা।



উঠে দাঁড়িয়ে কালু লগি টেনে নিল, তারপর কয়েকবার লগি ঠেলে অদূরে মাচাটার পানে চেয়ে চেঁচিয়ে উঠল :


—কই গো ছমির মিঞার বউ, বার হইয়া দেখ দেখিন্‌ আইছে কে।


কোনো উত্তর এল না সেখান থেকে। অল্পক্ষণ অপেক্ষা করে কালু হাসল, ঈষৎ ঝুঁকে লগিটা সম্পূর্ণ ঠেলে আবার বললে :


—বউয়ের না হয় লজ্জা হইছে, তোমার মুখে রা নাই ক্যান্ ছমির মিঞা?


—মোরা রাজপুত্তুর গো, এবার মজনুর কৌতুকোচ্ছল গলার আওয়াজ শোনা গেল, সাত-সমুদ্দুরের পার হইতে আসতাছি রাজকইন্যারে দেখবার লাইগা


কাছাকাছি গেলে স্পষ্ট দেখা গেল, মাচার মাঝখানের একমাত্র দরজার সামনে দুই হাঁটু উঁচু করে বসে ছমিরের বউ কুলসুম স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। নিচে নৌকা বেঁধে ওরা দুজন যখন ওপরে উঠে এল, তখনো সে নড়ল না। মাচার কোণে অন্ধকার, সে-অন্ধকারে খড়ের বিছনায় ছমির গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। মজনু সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকাল কুলসুমের পানে, তার মুখে ঘোমটা নেই, স্থির চোখে অদ্ভুত স্তব্ধতা। কালো-কালো ডাগর চোখের ছায়ায় ওর মুখটি ভারি স্নিগ্ধ ও কোমল দেখায় বলে মজনু বলে যে, সে কোন অচিন দেশের রাজকন্যা, যার রূপ নীল আকাশের পরীর মতো, চুল মেঘের মতো, আর দেহের রং সোনার মতো। কিন্তু সে-চোখে কী স্তব্ধতা এখন। তবু কৌতুক বোধ করল সে। মাথাটা একটু হেলিয়ে কিছু আড়চোখে কুলসুমের পানে তাকিয়ে এবার সে হাসল, নিচু গলায় সঙ্গোপনে বললে :



—অমন থির হইয়া বইসা ক্যান্ গো রাজকইন্যা, ছোট্ট নাকের ছোট্ট নথটাও যে নড়তাছে না। দুই জনে বুঝি খুব হইছে একচোট?


এবার কুলসুমের স্থির স্তব্ধ চোখ একটু নড়ে উঠল, সে মুখ ফিরিয়ে কয়েক মুহূৰ্ত ভাষাশূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মজনুর পানে, তারপর ঝরা শুকনো পাতার মতো অস্পষ্ট শুষ্ককণ্ঠে বলে উঠল :


—কাটি ঘায়ে মরছে সে।


মজনু স্তম্ভিত হয়ে গেল। ওধারে বেড়া ঘেঁষে বসে কালু একটা বিড়ি ধরিয়েছে, এ-আকস্মিক সংবাদে সে-ও হঠাৎ থ হয়ে গেল। সে সামনে ঝুঁকে এল, আর নিচের ঠোঁটটা পড়ল ঝুলে।


ছমিরের দেহ নিশ্চল ও কাঠ-কাঠ। কোণটা অন্ধকার হলেও এবার তার দেহটা বিবর্ণ ও নীল দেখাল। অতি ধীরে হামাগুড়ি দিয়ে মজনু এগিয়ে গেল সে মৃতদেহের কাছে, কয়েক মুহূর্ত নির্বাক থেকে রুদ্ধ অস্পষ্টকণ্ঠে বললে :



—কী সাপ গো? দেখছিলা?


একটু নড়ে বসে কুলসুম শুধু মাথা নাড়ল : সে দেখে নি। মজনু ফিরে তাকাল কুলসুমের পানে, তারপর চেয়ে চেয়ে দেখতে লাগল বিচিত্রভাবে-স্তব্ধ তার কোমল-কচি মুখটি, শেষে একটা দীর্ঘশ্বাস চাপতে গিয়ে তার চোখ হঠাৎ সজল হয়ে উঠল।


চরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তটা অপেক্ষাকৃত উঁচু বলে সে-স্থানটা তেমন জলে ডোবা নয়, কিন্তু অত্যন্ত নরম। সেখানে মাচা বাঁধলে কেমন হয়—তাই ছমির দেখতে গিয়েছিল গতকাল। তখন সন্ধ্যা লেগেছে, নদীর নিস্তরঙ্গ প্রশান্ত বুকে রক্তাভা, আর ওপারের তীররেখা আবছা হয়ে উঠেছে। ডাঙাটা দেখে ছমির ফিরে আসছিল, সাঁঝের ম্লান আলোয় হঠাৎ তাকে সাপে কাটল প্রথমে ভেবেছিল ঢেঁাড়া, মাচায় ফিরতে না ফিরতে তার মুখ দিয়ে উঠল ফেনা, আর দেহ এল অবশ হয়ে। চরের দক্ষিণে ছেরাদের মাচায় আলো মিটমিট করছিল, কিন্তু এ-মাচা আর সে-মাচায় দূরত্ব-তো কম নয়, তাই কুলসুমের ক্ষীণকণ্ঠের আপ্রাণ চিৎকারও ব্যর্থ হল, সে-মাচা থেকে কোনো সাড়া এল না বা কেউ এল না ডিঙি বেয়ে। মাঝরাতে ছমির মারা গেল।



—কিন্তুক এত বেলা তক তুই কোন আশায় বইসা রইছস্ কুলসুম? ক্ষণকাল কুলসুম হয়তো কোনো উত্তর পেল না, তারপর বললে :


—আইতা, তোমরা আইতা। একটু থেমে আবার বললে, কিন্তুক বেলার কথা কি মোর খেয়াল আছিল?


তারপর ওরা নীরব হয়ে রইল। দুঃখী ও গরিব বলে তাদের কাছে মৃত্যু তত অস্বাভাবিক, মর্মান্তিক ও দুঃখজনক নয়; তাদের জীবন মর্মবিলাসে ও সুখের মোলায়েম সুবেদী আবরণে ঘেরা নয় বলে মৃত্যুকে তারা বড় করে দেখে না, বরঞ্চ সেটা যেন তাদের কাছে মুক্তি, অর্থশূন্য একটানা নিষ্ফল শ্রমের অবসান। তাছাড়া ওদের ব্যথার ভাষাও সংকীর্ণ ও সংক্ষিপ্ত বলে ওরা নীরব হয়েই রইল, এবং এত নীরব হয়ে রইল যে মনে হল মৃত ছমির আবার অস্তিত্ব লাভ করছে, আর জীবনের শেষে যে-অনন্ত অজ্ঞাত রহস্য, সে-রহস্যের স্পর্শে তার প্রাণশূন্য নিশ্চল দেহ। ঘরে স্তব্ধ হাওয়ার মাঝে একটা অস্পষ্ট বিচিত্র অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে।


কিন্তু অনেকক্ষণ পর কুলসুম হঠাৎ কথা কইল। তবে তার কণ্ঠ শোনাল হাওয়ার মতো :



—কলা গাছের ভেলা কইরা অরে তোমরা ভাসাইয়া দেও, আর আমি যামু লগে। বেহুলার কাহিনী কুলসুমের মনের প্রান্তে তুলোর মতো, হালকা সাদা মেঘের মতো নিঃশব্দে উদয় হয়েছে। বেহুলার মতো মৃত স্বামীর দেহ নিয়ে ভেলায় ভেসে সেও যাবে। কিন্তু কোথায়? বেহুলা কোন এক অজ্ঞাত স্থানে গিয়েছিল এবং তার মনস্কামনা সার্থক হয়েছিল এ-কথা সে জানে, কিন্তু তার পথ-তো কুলসুমের জানা নেই। তাই মেঘটা যেমনি ভেসে এল, কথার হাওয়ায় তেমনি আবার মিলিয়ে গেল তার মনের আকাশ হতে। শূন্যতা ও স্তব্ধতা আবার ঘন হয়ে উঠল কুলসুমের দেহ ও চোখে।


.


ওরা ছমিরের দেহ নিয়ে গাঁয়ে ফিরে যাবে। ওদিকে রোদ খরখর করছে, নদীর বিস্তৃত বুক ঝকঝক করছে : সেদিকে তাকানো যায় না। কিন্তু হঠাৎ দিগন্তরেখা পেরিয়ে মেঘ জাগতে লাগল, এবং তারই ছায়ায় নদীর সে-প্রান্ত উঠল ধূসর হয়ে। এধারে এখনো শান্তি আর নীরবতা : নদীর জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে একটা মাছরাঙা উড়ে আসছে এদিকে, আর আকাশে ঘুরে-ঘুরে উড়ছে শঙ্খচিল।


বিড়িতে শেষ টান দিয়ে একগাল ধোঁয়া ছেড়ে কালু বাইরে তাকাল, তারপর নিচের ফাঁক দিয়ে থুতু ফেলে একবার আড়চোখে তাকাল কুলসুমের পানে। চেয়ে কী যেন হল হঠাৎ— তার চোখে ঘোলাটে ছোঁয়া লাগল, এমন বিস্তীর্ণ জনশূন্যতার মধ্যে কুলসুমের কোমল সুঠাম দেহটি তার কাছে কেমন-কেমন ঠেকল। আরেকবার সে থুতু ফেলল, নিচের দিকে আরেকটু ঝুঁকে আবার সে তাকাল তার পানে।



কোনো কথা নেই, মজনু একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললে, মাথা হতে লাল গামছাটা খুলে একবার মুখটা মুছলে। কেমন ভাপসা গরম : নিচে জলে স্রোত নেই বলে যেন হাওয়ায়ও স্রোত নেই। মজনু ঈষৎ অস্বস্তি বোধ করলে, গা ঝাড়া দিয়ে উঠে হঠাৎ বললে,–নেও, বেবস্থা কইরা ফেলি। অমন কইরা বইসা থাকার কোনো ফায়দা নাই গো রাজকইন্যা।


রাজকন্যা বলেই মজনুর মনে হঠাৎ খচ্ করে উঠল, অন্তরটা এল আর্দ্র হয়ে, কুলসুমের স্থির নথের পানে চেয়ে আবার তার চোখ সজল হয়ে উঠল। কিন্তু কুলসুমের যেন কী হয়েছে। দুই হাঁটু উঁচু করে বসে রৌদ্রোজ্জ্বল দিগন্তের পানে চেয়ে সে যেন অবিরাম স্বপ্ন দেখছে : তার ডাগর টানা চোখ স্বপ্নাবিষ্ট। থেকে-থেকে ঈষৎ নড়ে-চড়ে সে যে কথা কয়ে উঠছে তাতে মনে হচ্ছে গুম-হয়ে-থাকা হাওয়া যেন গুমট ভেঙে বইছে, আর স্বপ্ন দেখার ফাঁকে সে স্বপ্নের কথা কয়ে উঠছে। দূর নীল আকাশে উড়ন্ত শঙ্খচিলটার মতো তার মনের মধ্যে স্বপ্ন কেবলি ঘুরে-ঘুরে উড়ছে, অতি মন্থর নিঃশব্দ তার গতি।


মজনুর মনে-ও অবসাদ নাবছে যেন, তাই আবার সে বললে,–নেও, ওঠ, বেলার খেয়াল নাই?


কালু এবার কথা কইল। অনেকক্ষণ নীরব হয়ে ছিল বলে বলার আগে সে একবার কেশে নিল, তারপর নিষ্প্রভ চোখে চেয়ে বললে :



—আগে কুলসুমেরে কিছু খাইবার দেও। অর্ ভুক লাগছে না বুঝি?


ঠিক বলেছে কালু, কুলসুমের নিশ্চয় খুব ক্ষিধে পেয়েছে। নদী পাড়ি দিতে সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়বে, রাঙাধারের ঢালায় সূর্য অস্ত যাবে, আর গাঁয়ে পৌঁছতে পৌঁছতে সেই রাত— অতক্ষণ কি কুলসুম অনাহারে থাকতে পারবে?


কালু নেবে গেল নিচে তাদের নৌকায়, খানিক পরে আবার উঠে এল সামান্য চিঁড়া ও গুড় নিয়ে।


ঘুম হতে কুলসুম যেন জেগে উঠল, কালুর কথায় তার হাতের পানে চেয়ে বললে :


-–তোমরাই খাও গো।


—কস্ কী? আমরা খামু ক্যান্? দ্যাখ, কাল রাইত থিকা

**********