
শেষ কথা
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
জমিদার বাড়ির গঙ্গার ঘাট। তেমন তো কেউ সরে না। সাবেক কালের বাঁধন আলগা হয়ে এসেছে। পইঠের কিছু কিছু হেলে গেছে। এইবার যে-কোনও দিন জোয়ারের গাঙ্গে গা ভাসিয়ে দেবে। সরকারি বাঁধন আইন মোতাবেক দুপাশ দিয়ে চলে গেছে। সে আরও বিপজ্জনক। ঘাটের সীমানা ছাড়িয়ে জলের তলায় কোথায় কী হয়ে আছে ওপরের কল্লোলিনী স্রোতধারা দেখে বোঝার উপায় নেই।
যতটা সম্ভব সাবধানে অমল ডান পা জলে বাড়াল। পানীচের দিকে নামছে তো নামছেই। নতুন বছর আজ শুরু হল। সাল দু-হাজার একের কোল ছেড়ে দুইতে পা রাখল। উত্তর থেকে। হাড়কাঁপানো হি হি বাতাস বয়ে আসছে। সোজা এসে হৃদয়ে ধাক্কা মারছে। ঠান্ডার অনুভূতি অমল ভুলে গেছে। দেহের সঙ্গে মনের আর যোগ নেই। কী শীত, কী গ্রীষ্ম। কোথায় হাত, কোথায় পা! একবারই কেবল মনে হল পাকি মাটি স্পর্শ করবে না। বাঁ-পা ঘাটের পইঠেতে, ডান-পা নেমে চলেছে, অতলে, এর পর দেহের ভারসাম্য রাখাই মুশকিল হবে। ভাঁটার টানে। তরতর করে বয়ে চলেছে গঙ্গা। কাঠ, কুটো, ফুল, পাতা, আবর্জনা সবই ভেসে চলেছে সাগরের দিকে। সময়ের ভাঁটিতে ভেসে চলা জীবনের মতো। আজ চলেছে কালের দিকে।
হঠাৎ পা ঠেকে গেল ভাঙা ইটের স্তূপে। শহরের সভ্য মানুষ। খালি পায়ে চলার অভ্যাস নেই। বড় সুখী পা। এবড়ো-খেবড়ো ইটের খোঁচায় মনে মনে উঃ করে উঠল। এই প্রথম বুঝল, মন দেহেই আছে। দেহবোধ অত সহজে যায় না। ক্ষণিকের তরে হয়তো যায়। ফিরে আসে আবার, বাসায় ফেরা পাখির মতো।
অমল টাল খেয়ে পড়ে যাওয়ার মতো হচ্ছিল। ঘাটের একেবারে উঁচু ধাপে উবু হয়ে বসেছিল প্রবীণ কুলপুরোহিত চন্দ্রকান্ত সরস্বতী। কুশের অঙ্গুরীয় পাকাতে পাকাতে তিনি অমলের দিকে নজর রেখেছিলেন। চিৎকার করে বললেন, সাবধান, সাবধান, তাড়াহুড়ো কোরো না। ধরে ধরে নামো, ধরে ধরে নামো। এখন কেটেকুটে যাবার খুব সম্ভাবনা।
অমল বুঝতে পারল না, কী ধরবে, কাকে ধরবে। পেছনে ভাঙা ঘাট, সামনে খরস্রোতা নদী। ডানপাশে সরকারি বাঁধন ছেড়ে বেরিয়ে আসা তারের খাঁচা। বাঁ-পাশে জমিদার বাড়ির ভেঙে পড়া পোস্তার শতটুকরো থাম। অমল এখন পুরোপুরি সচেতন। মানুষ সহজে কি মরতে চায়! একটু আগে সে অসীম শূন্যতায় কাটা ঘুড়ির মতো ভাসছিল, এখন আবার সুতো এসে গেছে হাতে। গোটাতে শুরু করেছে। জলের এই গভীরতায় উলটে পড়া মানে ভেসে চলে যাওয়া। অতি কষ্টে হেলেদুলে শরীরের ভারসাম্য কোনওক্রমে ফিরিয়ে এনে ভাবতে লাগল, কী করবে। কীভাবে নামবে জলে!
মাঝ নদী দিয়ে একটা লঞ্চ চলেছে উত্তর দিকে। হিন্দি সিনেমার গানের সুর খান খান হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বাতাসে, ভাঙা খোলামের কুচির মতো। লঞ্চের ছাদে একদল উঠতি বয়সের ছেলেমেয়ে হই হই করছে। অমল অবাক হয়ে গেল, পৃথিবী তাহলে ফুরিয়ে যায়নি। এখনও গান আছে, জীবন আছে, আনন্দ আছে। আছে নিউ ইয়ারসের পিকনিক।
জমিদার বাড়ির দারোয়ান ঘাটে এসেছিল। অমলের টালমাটাল সঙ্গিন অবস্থা দেখে উঁচু গলায় বললে, আরও ডান দিকে সরে গিয়ে নামার চেষ্টা করুন। ওখান দিয়ে পারবেন না।
অমল এখন মরিয়া। এই কসরত আর ভালো লাগছে না। বহুক্ষণ হয়ে গেল। কত জল বয়ে গেল। সাগরের দিকে। অমল ডান দিকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ঘাটের ওই দিকটা নাকি সহজ। জীবনের কোন দিকটা সহজ? পা না দিলে কি বোঝা যায়! জীবনের এতগুলো বছর পেঁজা তুলোর মতো উড়ে গেল ফুরফুর করে, কই বোঝা তো গেল না সহজ কোনটা!
অমল পা বাড়াচ্ছে, পেছন থেকে অমলের মেয়ে বললে, বাবা দাঁড়াও, আমি এসে গেছি। একা নামতে যেও না। আমি তোমার হাত ধরছি।
তির তির করে হরিণীর মতো নেমে আসছে শাড়ি পরা টুকটুকে ফরসা একটি মেয়ে। বাতাসে উড়ছে রুক্ষ ফুরফুরে চুল। অমলকে ধরার জন্যে ছুটে আসছে স্নেহের বন্ধনে। একটু আগে তার মনে হচ্ছিল, বছরের এই এমন একটা দিনে নিজের জীবনে ইতি টেনে দিলে ক্ষতি কী! সারাটা বছরের উথালপাথালে তাহলে পাড়ি দিতে হয় না। মুক্তি! মৃত্যুর চেয়ে সহজ মুক্তি আর কীসে। আসে? এই তো মাত্র দশ দিন আগে সেই সত্যের সন্ধান সে পেয়েছে। পেলে কী হবে! বন্ধন যে মুক্তির চেয়ে প্রবল। সব নৌকোই কি আর নোঙর তুলে তটের মায়া কাটিয়ে সহসা চলে যেতে পারে! তীরে তীরে বয়ে যায়। ঘাট থেকে ঘাটে। হাট থেকে হাটে। যতক্ষণ না ঝঞ্চা এসে। একেবারে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
অমলের মেয়ে সোমা বললে, বাবা, আমি আগে নামি, তারপর তুমি আমাকে ধরে নামো।
বাবা ডাক শুনে অমল নিমেষে পেছিয়ে গেল তিরিশটা বছর। হরিদ্বারের মনসা পাহাড়ের খাড়া একটা অংশে সে উঠে গিয়ে নীচের দিকে হাত বাড়িয়ে বলেছিল, বাবা, আপনি আমার হাত ধরে উঠে আসুন। বেশ সাহসের সঙ্গে নিজের ওপর আস্থা রেখেই বলেছিল।
তিনি হেসেছিলেন। হেসে বলেছিলেন, তুই পারবি না রে আমার ভার রাখতে। দেখনা আমি নিজেই উঠছি। তুই বরং নেমে এসে আমায় ঠেলে তুলতে পারিস। টেনে তোলার চেয়ে ঠেলে তোলা সহজ।
তখন অমল ছিল ছেলে, আজ সে বাবা। অমল মনে মনে বললে, সেদিন সন্দেহ করেছিলেন, ভার রাখতে পারব না, কিন্তু এগারো দিন আগে আপনাকে কাঁধে করে নিয়ে গেছি। আপনি কি বুঝতে পেরেছিলেন!
কী হল নেমে এসো। এই ঠান্ডায় তুমি দেখছি একটা শক্ত ব্যামো না ধরিয়ে ছাড়বে না।
মেয়ের কথায় অমল তিরিশ বছর পেছন থেকে আবার সামনে ফিরে এল। এক হাত দূরে গঙ্গার শীত-স্বচ্ছ জল তর তর করে বয়ে চলেছে। সোমা কায়দা করে কখন নেমে পড়েছে জলে। হাঁটু পর্যন্ত ডুবে গেছে। একটা হাত সামনে বাড়িয়ে ধরে বলছে, ঝপ করে নেমে এসো বাবা, আর দেরি কোরো না। ভীষণ ঠান্ডা জল।
নামার আগে অমল একবার পেছন ফিরে তাকাল। অমলের স্ত্রী নীপা এসে দাঁড়িয়েছে কখন। খেয়াল করেনি। পরনে সাদা লালপাড় শাড়ি। টকটকে গৌরবর্ণ শরীর অশৌচের কৃচ্ছসাধনে বেশ সাত্বিক দেখাচ্ছে। মুখে ক্লান্তির ছাপ। টানা তিন মাস দিবারাত্র রুগির পরিচয্যার পর শরীর এখনও বিশ্রাম পায়নি। দু-একবার বলেছে, কাজকর্ম চুকে যাক, তারপর একটানা তিনদিন পড়ে। ঘুমোবে। অমল জানে না সংসার তাকে সে-সুযোগ দেবে কি না! সংসার এমন এক জায়গা, যা সুখ, দুঃখ, কর্ম, অকর্ম সব গ্রাস করে নেয়। মৃত্যুর মতো অমন শান্তির মহানিদ্রা আর নেই। তিনটি মাত্র খাবির মামলা। এই তো দেখল। চোখের সামনে ভাসছে সে দৃশ্য। প্রথম খাবিতে কবজির। কাছ থেকে নাড়ি চলে গেল। দ্বিতীয় খাবিতে চলে গেল কনুইয়ের কাছ থেকে। তৃতীয় খাবিতে চোখ বিস্ফারিত স্থির। দেহ শান্ত। নিমেষে সব যন্ত্রণার অবসান। দীর্ঘ পঁচাশি বছরের কর্মকাণ্ড। তিন টুসকিতে কোথায় চলে গেল! কত কষ্টে একটা জীবন ছড়ায় আর কত সহজেই না গুটিয়ে যায়। ছাদের আলসেতে মেয়েরা যখন ভিজে কাপড় ঝোলায়, তখন কত ধীরে ধীরে, ঝেড়ে ঝেড়ে, টেনে টেনে ঝোলায়। আর শুকনো কাপড় তোলার সময় সড়াক করে একটানে তুলে নেয়। মৃত্যু হল শুকনো কাপড় তোলা।
নীপা হাত তুলে ইশারা করে জানাল, দাঁড়াও। নেমে এল ধীরে ধীরে। সোমা হাত পেছিয়ে নিল। বাবার জীবনসঙ্গিনী এসে গেছে। আর ভয় নেই। সহধর্মিণী।
নীপা বললে, তোকেই কে ধরে ঠিক নেই, তুই ধরবি এই বুড়ো মানুষটাকে?
অন্য সময় হলে অমল প্রতিবাদ করত। সে এমন কী বুড়ো। সবে কানের পাশের দু-চারটে চুলে পাক ধরেছে। আজ শুধু ফ্যালফ্যালে দুটো চোখ মেলে শুনে গেল।
নীপা অমলকে বললে, খালি পায়ে না চলে চলে পাদুটোকে এত নরম করে ফেলেছ। তা ছাড়া তুমি একটু ভীতুও আছো বাবা।
অমল এবারেও প্রতিবাদ করল না। শুনে গেল। কেমন করে বোঝাবে এদের নিজের মনের অবস্থা সাহারা মরুভূমির মতো হয়ে গেছে। যেদিকে তাকাও শুধু বালি আর বালিয়াড়ি।
নীপা খুব সাবধানে, ধরে ধরে অমলকে এক পা, এক পা করে জলে নামাল। ঠান্ডা জলের স্পর্শে গা যেন জ্বলে গেল। ভেতরটা পাঁকে একেবারে গ্যাদ গ্যাদ করছে। পায়ের হাঁটু পর্যন্ত ভড়-ভড় করে ঢুকে গেল। অন্য সময় হলে গা ঘিনঘিন করত। এখন আর সে বোধ নেই। ঘটনা তাকে ঠেলতে ঠেলতে সময় থেকে সময়ে, দিন থেকে দিনে নিয়ে চলেছে। জীবনের কী দাম! থাকলেই বাকী, গেলেই বা কী! থাকার চেয়ে যাওয়াটাই নিশ্চিন্ত। কবে কোথায় যেন পড়েছিল, তুমি জন্মেছ। মরার জন্যে।
বর্ধমান থেকে দিদি আসত তার ছেলেবেলায়, অমল জানত, এটা আসা নয়, যাওয়া। যাওয়ার জন্যেই দিদি এসেছে। হাসছে, কথা বলছে, গান গাইছে। কলকাতায় থিয়েটার দেখতে যাচ্ছে, অমল খুব একটা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করত না। জানত ধরে রাখা যাবে না। যাওয়ার দিন দিদি অমলের হাতে একটি টাকা দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরতেন। তখন অমলও কাঁদত দিদিও কাঁদতেন হাউ হাউ করে। সে এক মজার ব্যাপার। দুজনেই জানত যেতে হবে, চিরবিদায় নয়, তবু বুকটা কেমন যেন খালি হয়ে যেত।
নীপা বললে, এবার দেখছি তোমাকে নিয়ে এক বিপদ হবে। তুমি যা করছ। ঝপ করে একটা ডুব মেরে নাও, তোমাকে আমি ওপরে তুলে দিয়ে আসি। আরে বাবা কোনও মানুষই কি চিরকাল বাঁচে! বয়েস হলেই যেতে হবে। মনটাকে শক্ত করো, শক্ত করো। তোমার এখনও কত কাজ বাকি, ছেলেমেয়ের এডুকেশান, বিয়ে।
অমল আর শীর্ণ স্বার্থের কথা শুনতে চায় না। শুনে শুনে কান পচে গেছে। তাছাড়া এইবার যেন কাঁপুনি আসছে। চড়া রোদ; কিন্তু দমকা বাতাসে মনে হচ্ছে কাশীর চিনির মতো লালচে নরম। সে ঝপ ঝপ করে গোটা দুই ডুব মেরে নিল। বরফের মতো শীতল জল। দুটো কান কটকট। করতে শুরু করেছে।
নীপা বললে, আর না, আর না, এবার উঠে চলো।
অমলের হঠাৎ মনে হল, এ ভালোবাসা না স্বার্থ! সে-ই তো এখন সংসারের মাথা হল, তাকে ঘিরেই গ্রহরা ঘুরপাক খাবে। আকর্ষণ-বিকর্ষণে হাসি ফুটবে। মুখ ভার হবে। তার শরীর-স্বাস্থ্য, মন-মেজাজের জন্যে তাই কি এত উদবেগ!
ঘাটের মাথা থেকে চন্দ্রকান্ত সরস্বতী তাড়া লাগালেন, উঠে এসো, উঠে এসো। আর দেরি কোরো না। উত্তরীয়টা পরে কাপড়টা শুকিয়ে নাও। তারপর কাজে বসা যাবে।
ঘাট আর তেমন নির্জন নেই। আত্মীয়স্বজনেরা একে একে সব এসে গেছেন। এক-একজনের এক-একরকম সাজ-পোশাক। চোস্ত পাজামা, সার্জের পাঞ্জাবি, দামি শাল গায়ে দিয়েও কেউ কেউ এসেছেন। একজনের মুখে সিগারেট জ্বলছে। মেয়েরা কেউ কেউ বেশদামি শাড়ি পরেছে। বিলিতি গন্ধ ঢেলেছে গায়ে। জমিদারবাড়ির এই একান্ত, নির্জন ঘাটটির প্রশংসা করছে কেউ। কেউ বলছে পৃথিবীতে পয়সাই সব। পয়সা থাকলে মানুষ কত ভালোভাবে বাঁচতে পারে। গঙ্গার ধারে বিশাল বাগানবাড়ি। পোস্তা। ঘাট। মন্দির। মুক্ত বাতাসে ভোরে দু-চার পাক মারা মানেই। একশো বছরের পরমায়ুর গ্যারান্টি। এইসব নানা কথা অমলের কানে আসছে। খিল খিল হাসি। দু-চার কলি রবীন্দ্রসংগীত। একজনের দুঃখ আর-একজনকে স্পর্শ করে না। দুঃখ আর মেয়েদের অলঙ্কার যে এক বস্তু। সহজে অন্যের কাছে যায় না। নিভৃতে ভেলভেটের বাক্সে থাকে। গোপনে খুলে খুলে দেখতে হয়, পরতে হয়।
নীপা বললে, এ কী, গা-টা মুছলে না! নিউমোনিয়া হলে কে দেখবে! ওনার তবু তুমি ছিলে, তোমার কে আছে? কে দেখবে তোমাকে?
নীপার এই কথাটা অমলের ভীষণ ভালো লাগল। দুটো জায়গা স্পর্শ করেছে। এক, তার অহঙ্কার। সে যে খুব করেছে, বাঁচুন না বাঁচুন, সেবার ত্রুটি হয়নি, এরা বুঝেছে, জেনেছে সবাই। দ্বিতীয় তার শূন্যতা। একালের ছেলেমেয়েরা বাপকে দেখবে না, দেখে না; নীপা বুঝেছে। অমলকে তাহলে নীপাই দেখবে, যদি না সে আগে চলে যায়। বেঁচে থাকার পরিধি আজ এই মুহূর্তে সুচিহ্নিত হল। স্বামী আর স্ত্রী আর এদিকে-ওদিকে কিছু কর্তব্য, যা মানুষকে করে যেতেই হয়।
নীপা উঁচু গলায় বললে, এই চন্দ্রকান্তদা, একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না!
পাটকাটির ফেঁসে পরিষ্কার করতে করতে তিনি বললেন, কেন মা?
এই ঠান্ডায় পুরো জলটা গায়ে বসে গেল।
যাক, বসে যাক। কিছু হবে না। এখন ও তাঁরই রক্ষণাবেক্ষণে আছে। তিনিই দেখবেন। তুমি কিছু ভেবো না।
নীপা আর সোমা দুজনে দুদিক থেকে ধরে অমলের ভিজে থান রোদ আর বাতাসে শুকোতে লাগল। বাতাস লেগে কাপড়টা মাঝে মাঝে ফুলে উঠছে নৌকোর পালের মতো। সোমার হাত থেকে একবার একটা খুট ফসকে বেরি