
মহাকালের রথের ঘোড়া
সমরেশ বসু
শেষ রাত্রের বাতাস গায়ে লাগলেই টের পাওয়া যায়। রাত্রি শেষের বাতাসের স্পর্শের স্বাদ আলাদা। চোখ বুজে থাকলেও টের পাওয়া যায়, রাত তাড়ানো বাতাস বইছে। দিন এল। অভিজ্ঞতাটা অনেক দিনের পুরনো, আর তা থেকেই মোটামুটি এক রকম জানা হয়ে গিয়েছে। সব ঋতুতেই ভোরের দিকে রাত তাড়ানো বাতাস বহে। গরমে বর্ষায় শীতে।
ঝিমুনি বা ঘুম, রুহিতনের চোখে কোনওটাই নেমে আসেনি। কিন্তু সে চোখ দুটো বুজে ছিল। ঘুম যা হবার প্রথম রাত্রেই হয়েছিল অফিসের বেঞ্চির ওপরে।
তিন রাত্র ধরে এ রকম একটা ব্যাপার চলেছে। এ রকম বলতে এক রকম না, নানা রকম। গতকাল রাত্রে তাকে গাড়িতে তোলা হয়েছিল মধ্য রাত্রের কিছু পরেই। অথচ জানানো হয়েছিল, সকালবেলাই যাত্রা। আগের দিন রাত্রেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সকালবেলা যাত্রা।
আসল শুরুটা হয়েছিল সাত দিন আগে। আজ থেকে সাত দিন আগে, প্রথম সে জেল ওয়ার্ডারের কাছ থেকে জানতে পেরেছিল, তাকে নাকি অন্য কোনও জেলে নিয়ে যাওয়া হবে। ওয়ার্ডার কথাটা মিথ্যা বলেনি। কিন্তু কেন বলেছিল, রুহিতন তা অনুমান করেছিল। কয়েক দিন পরে। জেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই ওয়ার্ডারকে এই রকম শিখিয়ে দিয়েছিল–শেখানো মানে নির্দেশ, রুহিতনকে জানাতে হবে, সেই দিনই তাকে অন্য জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সাত দিন আগে, সকালবেলা বদলি ডিউটিতে এসে ওয়ার্ডার কথাটা তাকে যখন বলেছিল, তখন সেখানে রাত্রের বিদায়ী ওয়ার্ডার আর কয়েকজন বন্দি ছিল। বন্দিদের সকলের সঙ্গেই রুহিতনের চোখাচোখি হয়েছিল। বন্দিরা সকলেই তার জেলের বাইরের পরিচিত ছিল না, দু জন ছাড়া। কিন্তু সকলের ওপর একই শ্রেণীর অভিযোগ ছিল। খুন জখম লুট আগুন লাগানো অরাজকতা সৃষ্টি করা। এবং সর্বোপরি রাজদ্রোহিতা, বলপূর্বক রাষ্ট্রক্ষমতা দখল। সকলের উদ্দেশ্যও এক, অতএব তারা সমধর্মী। যদিও রুহিতন এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিল না সকলেই তারা সমধর্মী, সকলেরই এক উদ্দেশ্য, সকলেই দলের। কথাটা ভাবলেই দাতে দাঁত চেপে বসে। চোখের কোণে অনিবার্য সন্দেহ ধারালো হয়ে ওঠে। বুকের মধ্যে ঝলকিয়ে ওঠে ঘৃণা। কারণ অভিজ্ঞতা বড় তিক্ত। বিশ্বাসঘাতকতা আর ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ, যার কোনও বদলা নেই। পাহাড়ের জেঁকের মতোই অনেক তথাকথিত সমধর্মী ঘাসের সঙ্গে ঘাসের রঙে মিশে থাকে। খাঁটি আর ভেজালে আলাদা করা কঠিন। লাল মাটির সঙ্গে মিশে থাকা মেটে বোরার মতো। এমনকী তার আচমকা ফণাও নেই। হিসিয়ে বা উঁচিয়ে ওঠে না দুরন্ত ফণা। যে সাপগুলোকে সাহসী দর্পী মনে হয়। এই লাল মেটে সাপগুলো, বা ঘাস-রং পাহাড়ি জেঁকগুলো বাইরের থেকে আমদানি করা দালাল। কর্তৃপক্ষের পোষা, ইশারায় চলে। এরা অজানতেই ছোবল মারে।
রুহিতন সাবধান, সচেতন, তবু সবাইকেই সে বিশ্বাস করতে চায়, বন্ধুর মতো থাকতে চায়। যদিও কোনও কোনও বন্দির ক্ষেত্রে তা প্রায় অসম্ভব। সে নিরুপায়। কিন্তু সাত দিন আগে, ওয়ার্ডারের মুখে কথাটা শুনে, বন্দিদের সঙ্গে সে কেন চোখাচোখি করেছিল, অথবা অন্য বন্দিরাই বা কেন, সে কি জানত? তার এবং অন্তত কয়েকজন বন্দির চোখগুলো হঠাৎ কেমন ঝিলিক হেনে উঠেছিল। কেন? কেনই বা রুহিতনের বুকে ঢাকের বাদ্যির মতো ধকধকিয়ে উঠেছিল? কোনও দুরন্ত আশা? না, কোনও ভীষণ ভয়?
ভয়? রুহিতন কুরমি সে। এই তার নাম। নামটা নাকি তার নানা, বাবার বাবা রেখেছিল। রুহিতন। তাসের নাম। ঠাকুরদা কেন তাসের নামে নাম রেখেছিল, কে জানে? লোকটা ছিল তিন পুরুষের চা বাগানের মজুর। রুহিতন চা বাগানে ছেলেবেলায় কিছুদিন কাজ করেছিল। তার বাবাকে নিয়ে, তরাইয়ের চা বাগানে চার পুরুষ। সে পাঁচ পুরুষ। কিন্তু তার বাবা পোশপ (পশুপতি) প্রথম বাগানের কাজ ছেড়ে, আবাদের কাজে লেগেছিল। চা বাগান ছাড়িয়ে ভিতর দিকে, নদীর কিনারে। রুহিতনও আর কখনও চা বাগানে ফিরে যায়নি। সে বাবার সঙ্গে চাষ আবাদের কাজেই লেগে গিয়েছিল। চাষ-আবাদ মানেই ঘর গৃহস্থালি। চা বাগানের জীবন না! এক টুকরো জমি পোপ কুরমি কোরফা রায়ত হিসাবে। জোগাড় করতে পেরেছিল। সামান্য এক টুকরো, ভূমিহীন কৃষক নাম ঘোচাবার মতো যথেষ্ট না। জোতদারদের জমি চাষ করাই ছিল আসল কাজ। তবু চার পুরুষের সেই পরিবর্তনের মধ্যে, নিজেকে ফিরে পাবার একটা নতুনের স্বাদ আর উৎসাহ ছিল। ছিল স্থিতি আর স্থায়িত্বের একটা আশা। নেশা না, একটা তৃষ্ণা জমি-চাষ-আবাদ সম্পন্ন গৃহস্থালি। রক্তের মধ্যে এই তৃষ্ণা।
সেই জায়গাটার নাম এখন দুনিয়া জানে। যেখান থেকে রুহিতনদের বাস ছিল, নীচের দক্ষিণ-পূর্বে। তরাইয়ের মেচি নদীর বালুচর থেকে, ঝোরার গা বেয়ে উঁচুতে উঠে যাওয়া বন ঘেরা অঞ্চল। সেই. জায়গাটার মতোই, দুনিয়া এখন রুহিতন কুরমির নামটাও জানে। রুহিতন কি ভয় পেয়েছিল, ওয়ার্ডারের ইচ্ছাকৃত প্রচারে, তাকে অন্য জেলে নিয়ে যাওয়া হবে শুনে?
মরার বাড়া নাকি গালি নেই। গালি মানে ভয়। মৃত্যুভয়, শেষ ভয়। সব থেকে বড় ভয় তা-ই ওর থেকে বড় গালিই বা আর কী থাকতে পারে। মারতে হলে মরতেও হয়। প্রাণ পণ রাখা লড়াই তাকে বলে। রুহিতন মরার ভয় জলাঞ্জলি দিয়েছিল এ লড়াইয়ের শুরুতে না! ছেলেবেলায় তীর ধনুক নিয়ে যখন শিকারের খেলায় হারিয়ে যেত বনের মধ্যে, তখন থেকেই বাঁচা মরা সমান ছিল। মারা আর মরা, লড়াইয়ে এটা হল সমার্থক। মারতে হলে যেমন মরতে হয়, তেমনি মারার জন্যই বাঁচতে হয়। রুহিতন জানে। জেনেছে, মরা দেখে। বন্ধুদের মৃত্যু দেখে সে বাঁচার দরকার কেন তা জেনেছে। জেলের বাইরে মৃত্যু ছিল পায়ে পায়ে। জেলের ভিতরে ছায়ার মতো গায়ে গায়ে। ভয় আর মৃত্যু সমান। দুটোই সে জীবন থেকে খারিজ করেছে।
ভয় না, একটা তীক্ষ্ণ সন্দেহ ঝলকিয়ে উঠেছিল। তার সঙ্গে নিশ্চয়ই একটা আশা! যত সামান্য হোক, তবু অসামান্য সেই আশা। সেই আশার নাম মুক্তি। অথবা পলায়ন। অথবা একটা অপ্রত্যাশিত সুযোগ! সেই জন্যই চোখগুলো ঝিলিক হেনে উঠেছিল। আর সন্দেহের কারণ খতম। অন্য জেলে নিয়ে যাবার নাম করে, চিরদিনের জন্য লোপাট। পুলিশি খতমের এটা একটা পদ্ধতি। এক জেল থেকে আর এক জেলে নিয়ে যাওয়ার পথে, কোনও গভীর জঙ্গলে, গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে গিয়ে, অথবা কোনও খরস্রোতা নদীর পাড়ে–অন্ধকার রাত্রে, কোমরের বেল্ট থেকে খোলা চোর’-এর কয়েকটা গুডুম গুডুম শব্দ। ওরা বড় সুখী। কেউ কোনও দিন জানবে না, রুহিতন কুরমি কোন জেলে আছে। রুহিতন কুরমি কোন জেলে? রুহিতন কুরমি কোন জেলে?…একটি ঘোষণাঃ রুহিতন কুরমি পলাতক। চোখগুলো আসলে ঝিলিক হেনে উঠেছিল এই দুই কারণে। দুটি বিপরীত কারণে, আশায় আর সন্দেহে।
.
রুহিতন চোখ মেলে তাকাল। ধরা পড়ে, জেলে আসার পরেও, অনেক দিন সে ঘুমোতে পারেনি। ঘুমানো সম্ভবও ছিল না। ঘুমোতে দেওয়া হত না। জিজ্ঞাসাবাদ আর তার কায়িক পদ্ধতিগুলো এমন ছিল, ঘুম আসত না। কখনও কখনও ওরা ঘুমের ওষুধ দিলে আলাদা কথা। ইদানীং সে জেলের মধ্যে ঘুমাত। খাঁচার বাঘ যেমন পদচারণা করতে করতে এক সময় ক্লান্তিতে হাত পা ছড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। যে ঘুমে, ঘুমের সুখ নেই। নিশ্চিন্তি নেই। কারণ মেচি নদীর দূর তীরের জঙ্গল উত্তর আর দক্ষিণ আর পশ্চিমের তরাইয়ের দিগবিসারি কর্ষিত ভূমি, জঙ্গল আর ঝোরার কলকলানি অষ্টপ্রহর হাতছানি দেয়। প্রতি মুহূর্তেই দেয়। দু বার দুই জেলে মোক্ষম হাতছানির মার সামলাতে গিয়ে রক্তাক্ত অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকতে হয়েছিল। অথচ মরেনি। সেজন্য তার বন্ধুরাই সব থেকে আশ্চর্য হয়েছিল। দুবারের চেষ্টাই ছিল খুব কাঁচা, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
রুহিতন এখন চলন্ত জিপ গাড়িতে। চলন্ত গাড়িতে ঘুমোবার কোনও প্রশ্নই নেই। তবু চোখ বুজেছিল। তাকিয়ে দেখবার কিছুই ছিল না। অন্ধকারে চারটে মানুষের আর চারটে অস্পষ্ট রাইফেলের অবয়ব ছাড়া। পিছন থেকে ঘাড়ে আর কানের পিঠে ভোরের বাতাসের ছোঁয়া তাকে রাত্রি শেষের সংকেত দিল। সে চোখ খুলে তাকাল। চোখ খুলে তাকিয়ে, সামনে একটা অস্পষ্ট লাল আভা দেখতে পেল। দেখতে পেয়েই তৎক্ষণাৎ চোখ বুজল। গাড়ির পিছন দিকে তার মুখ ফেরানো৷ পিছন দিকটা তো ঢাকা। লাল আভাটা কীসের? তার ভুরু কুঁচকে উঠল। সারা মুখে ফুটল একটা কষ্টের ভাব।
সে জিপের সামনের আসনের গায়ে পিঠ রেখে বসেছে। জিপের পিছনের দুদিকে বসার জায়গার মাঝখানে, ছোট একটা কাঠের চারপায়ার ওপর তার বসবার ব্যবস্থা হয়েছে। কালো কম্বল ঢাকা পা দুটো সামনের দিকে ছড়ানো। তার গায়েও কম্বল ঢাকা ছিল। এখন কাঁধের কাছ থেকে কম্বল খানিকটা খসে পড়েছে। ঢেকে দিতে পারলে ভাল হত। কারণ তার শীত করছে। এখন ঠাণ্ডা লাগবার কথা না। ভোরের এই রাত তাড়ানো বাতাসে বরং আরাম লাগবার কথা। কিন্তু তার শীত শীত লাগছে।
আজকাল প্রায়ই এ রকম লাগে। শরীরটাও যেন গরম হয়ে থাকে। জ্বর হয় কি না সে বুঝতে পারে না। কারোকে কখনও বলেনি। সাত বছর জেলবাসের মধ্যে বছর খানেক এরকম জ্বর জ্বর ভাব লাগে মাঝে মাঝে। এমন কিছু একটা কষ্ট বা যন্ত্রণার ব্যাপার কিছু না। এ নিয়ে কারোকে কিছু বলতেও ইচ্ছা করেনি। কিন্তু এখন কাঁধে ঘাড়ে গলায় কম্বলটা জড়িয়ে নিতে ইচ্ছা করছে। চলন্ত গাড়ির বাতাসে শীতটা কেমন কাটার মতো ফুটছে। অথচ উপায় নেই। তার হাতে আর পায়ে লোহার বেড়ি পরানো। পায়ের বেড়ির সঙ্গে হাতের বেড়ি জোড়া। এ অবস্থায় হাঁটু মোড়া যায় না। কুঁচকির নীচে থেকে পরানো লোহার বলয়ের সঙ্গে, দুই পায়ে ফ্রেমের মতো করে বেড়ি পরানো। দু হাতে পরানো হ্যান্ডকাফ তার সঙ্গেই আটকানো।
রুহিতনকে অবিশ্যি জেলে এ রকম বেড়ি পরিয়ে রাখা হয় না। কখনও রাখা হয়নি, তা না। দু বার পালাতে ব্যর্থ হয়ে, তাকে জেলের মধ্যেই এরকম ডান্ডাবেড়ি পরতে হয়েছিল। স্বাভাবিক চলাফেরা বন্ধ ছিল। এখন বেড়ি পরানোটা সাময়িক। তিন দিন আগেই পরানো হয়েছে। এটা ওদের ভয় আর সাবধানতা। পিছনে চারজন রাইফেলধারী তার দু পাশে। সামনে তিনজনই সশস্ত্র। ড্রাইভার, আর দুজন অফিসার। এক জেল থেকে আর এক জেলে পৌঁছুবার পথে, রুহিতন কুরমি যেন পালাবার কোনও চেষ্টা না করতে পারে, সেইজন্য এই বেড়ি। রুহিতন জানে, জীবিত পালানোর থেকে তার মৃতদেহও যেন সরকারে জমা পড়ে। তা হলেও এদের ক্ষমা আছে। না হলে এদের ক্ষমা নেই। যারা তাকে তিন রাত্র ধরে বিভিন্ন সময়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে চলেছে। রুহিতন আরও জানে, পিছনে আর একটা গাড়ি আসছে। সামনের সমস্ত থানায় খবর দেওয়া আছে।
এই মুহূর্তে তিন রাত্রের কথাটাই শেষ না। রুহিতনের কাছে সবই অনিশ্চিত। আদৌ তাকে কোনও জেলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, অথবা এই রকম আরও রাত্র সামনে আসবে, আর তারপরে এক জায়গায় হঠাৎ হয়তো গাড়ি দাঁড়াবে, আর তাকে নামিয়ে নেওয়া হবে, আর তারপরেই–তারপরেই…।
রুহিতন প্রস্তুত সেই সময় ও মুহূর্তের জন্য। কারণ সেই সময় ও মুহূর্তটি কেবল ওদেরই সুযোগ না। অপ্রত্যাশিত সুযোগ এনে দিতে পারে রুহিতনকেও। যদিও হিসাবে ঠিক সাতটা রাইফেল আর পিস্তল ওদের কাছে আছে। তবে রুহিতন একটা ব্যাপার বুঝতে পারছে। প্রতি মুহূর্তে কালভার্ট, ঘন ঘন দীর্ঘ সেতু আর উঁচু-নিচু রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলছে না। সমস্ত রাস্তাই প্রায় সমতল। এত লম্বা সমতল রাস্তা কোথায় চলে গিয়েছে?
আজ থেকে সাত দিন আগে, ওয়ার্ডার দিয়ে তাকে অন্য জেলে নিয়ে যাবার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু দু দিন কোনও সংবাদ আসেনি। জেল কর্তৃপক্ষ তাকে কিছু বলেনি। কিন্তু তারা বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিল। তারা জানত, ওয়ার্ডারের কথা মিথ্যা হলেও, নিশ্চয়ই সেই প্রচারের মধ্যে কোনও উদ্দেশ্য আছে। বিনা মতলবে ওরা কখনও মুখ খোলে না, কোনও কথা বলে না। তারপরেই, আজ থেকে পাঁচ দিন আগে হঠাৎ সন্ধ্যাবেলায় তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সকলের সামনেই জানানো হয়েছিল তাকে অন্য জেলে নিয়ে যাওয়া হবে। রুহিতন ভেবেছিল, সেই রাত্রেই তাকে নিয়ে যাওয়া হবে। হয়নি। বরং অফিসে রাত্রি ন’টা পর্যন্ত সশস্ত্র প্রহরায় রেখে, সেই জেলেরই অন্য এক অংশে একটি নির্জন সেলে তাকে রাখা হয়েছিল। দুই রাত্র আর পুরো একটা দিন তাকে সেই পাঁচিল ঘেরা নির্জন এলাকার সেলে বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। বাইরে গিয়ে তাকে কোনও পাইখানা ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। সেলের মধ্যেই লোহার চারপায়া লাগানো কমোড (ওটাকে যে কমোড বলে, রুহিতন প্রথম গ্রেপ্তারের পরেই অভিজ্ঞতাতেই জেনেছিল।) দিয়েছিল। চান করার কোনও সুযোগ দেয়নি। খাবার দেওয়া হয়েছিল সেলের মধ্যেই।
নির্জনে পাশাপাশি স