প্রেয়সী

প্রেয়সী

নিমাই ভট্টাচার্য

প্রেয়সী

Books Pointer Iconনিমাই ভট্টাচার্য
Books Pointer Iconnovel

Posted byশেষ পৃষ্ঠা13-Feb-2025

Change color

ভারতী দেবী প্রায় ছুটতে ছুটতে ঘরে ঢুকেই খুশির হাসি হেসে বলেন, জানিস শিবানী, আজ নির্মলাদির ওখানে একটা দারুণ ব্যাপার ঘটেছে?

দারুণ ব্যাপার মানে সারাদিন খুব ভাল কাটিয়েছিস তো?

হ্যাঁ, সারাদিন খুব আনন্দে কাটিয়েছি।

নিমালাদির অনেক বন্ধু এসেছিল?

না, না, শুধু জন কয়েক পুরনো ছাত্রী এসেছিল।…

হঠাৎ পুরনো ছাত্রীরা এলো কেন?

নির্মলাদি ইউনিভার্সিটিতে প্রফেসর হয়ে যাচ্ছে, তাই ওরা ওকে ফেলিসিটেড করতে এসেছিল।

ভাল।

ভারতী দেবী হাসতে হাসতেই বলেন, ভাল মানে দারুণ ভাল ব্যাপার করেছিল। মেয়েরা। ওরাই বাড়ি থেকে নানা রকম খাবার-দাবার এনেছিল, নির্মলাদিকে খুব সুন্দর একটা বালুচরী শাড়ি ছাড়াও নির্মলাদির স্বামীর জন্য ফিনলের ধুতি-গরদের পাঞ্জাবি আর চন্দন কাঠের সুন্দর লাঠি দিয়েছে।

বাঃ।

শিবানী দেবী একটু হেসে বলেন, মেয়েরা তো ভালই উপহার দিয়েছে।

মেয়েরা আরো অনেক কাণ্ড করেছে।

আবার কি করলো?

আবৃত্তি, ক্যারিকেচার আর…

ক্যারিকেচার?

হ্যাঁ, হ্যাঁ, ক্যারিকেচার।

ভারতী দেবী মুহূর্তের জন্য থেমে বলেন, ক্যারিকেচার করলো নির্মলাদিকে নিয়েই।

সেকি?

একটা মেয়ে দেখালো, উনি কি করে ক্লাসে পড়ান আর অন্য একটি মেয়ে দখালো, কলেজের করিডর দিয়ে যাতায়াতের সময় নির্মলাদি কি করে ছাত্রী আর অধ্যাপিকাঁদের সঙ্গে…

আচ্ছা!

তাই দেখে নির্মলাদি, ওর স্বামী আর আমরা হাসতে হাসতে পাগল হবার উপক্রম।

ভারতী দেবী একটু থেমে চাপা হাসি হেসে বলেন, এই সব ছাড়াও আরো একটা দারুণ কাণ্ড হয়েছে।

কি আবার দারুণ কাণ্ড ঘটলো?

তোকে কি বলব শিবানী, নির্মলাদির এক পুরনো ছাত্রীকে দেখে আমি চোখের পলক ফেলতে পারি না।

মেয়েটি বুঝি খুব সুন্দরী?

মেয়েটির রঙ খুব ফর্সা না, একটু চাপা কিন্তু তুই বিশ্বাস কর, ওকে দেখে মনে হলো যেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা নিজের হাতে খোদাই করে ওকে তৈরি করেছেন।

খুব সুন্দর গড়ন বুঝি?

ওর চোখ-মুখ-নাক আর সুন্দর গড়ন দেখে আমি অবাক হয়ে গেছি।

শিবানী দেবী একটু হাসেন।

ভারতী দেবী একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, তুই বিশ্বাস কর,একে অত সুন্দর দেখতে, তার উপর ওর গান শুনে একেবারে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেছি।

উনি না থেমেই বলেন, ওকে আমি কিছুতেই হাত ছাড়া করব না।

শিবানী দেবী চাপা হাসি হেসে বলেন, তুই মনে মনে ঠিক করেও ফেলেছিস ওর সঙ্গে বাবাই-এর বিয়ে দিবি?

মেয়েটি যদি তোরও পছন্দ হয়, তাহলে নিশ্চয়ই…

মেয়েটির নাম কি?

দুর্বা।

বাঃ! বেশ সুন্দর নাম।

ভারতী দেবী থামতে পারে না। বলেন, বল, তুই কবে দুর্বাকে দেখতে যাবি?

তুই ওর বাবার নাম, ঠিকানা…

সব লিখে নিয়েছি। তুই বললেই আমি ওদের বাড়ি টেলিফোন করব। বলব, গান শুনতে আসছি।

তুই বোধহয় তোর মনের কথা মেয়েটিকে বলেই দিয়েছিস, তাই না?

না, না, তাই কি বলতে পারি? তোর পছন্দ হবার পরই বলব।

শুধু তোর-আমার পছন্দ হলেই তো হলো না মেয়েটিকে দেখে দাদারও তো পছন্দ হওয়া চাই।

ভারতী দেবী একটু হেসে বলেন, আমি যদি বলি, আমাদের কাজের মেয়েটাকে শিবানীর পছন্দ হয়েছে, তাহলেও আমার ভোলানাথ স্বামী বলবে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, খুব ভাল কথা। সরলা মেয়েটি সত্যি খুব ভদ্র সভ্য। সরলাকে বিয়ে করে বাবাই ঠিক সুখী…।

শিবানী দেবী আর হাসি চেপে রাখতে পারেন না। বলেন, তুই দাদাকে কি ভাবিস বলতো?

কি আবার ভাবব? ভাবি, আমার ভোলানাথকে তুই বা আমি যা বলব, উনি বিন্দুমাত্র চিন্তা-ভাবনা না করেই মত দেবে। কোন ব্যাপারেই ও সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

বাজে বকিস না।

শিবানী দেবী না থেমেই বলেন, দাদা তো সংসারের ব্যাপারে তোর উপরই সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন বলে কোন ব্যাপারেই নাক গলান না।

সেটা কি খুব বাহাদুরীর ব্যাপার?

একশ বার বাহাদুরীর ব্যাপার। স্ত্রীরা যত শিক্ষিতা, যত বুদ্ধিমতীই হোক, তাদের উপর ক’জন স্বামী আস্থা রাখে? সংসারের সব ব্যাপারে নাক না গলালে পুরুষরা স্বামীত্ব ফলাবে কী করে?

তুই তো দাদার ঢোল বাজাবিই।

বাজাবই তো।

শিবানী দেবী ওর একটা হাত ধরে বলেন, দাদার মত স্বামী পেয়েছিস বলেই। তুই এতগুলো বছর কেমন হাসি মুখে কাটিয়ে দিলি বলতো!

ভারতী দেবী উঠে দাঁড়িয়ে বলেন,আর বসব না। এখনও আমি বাড়িতে ঢুকিনি।

সেকি?

.

ক’দিন ধরেই কলেজ যাতায়াতের পথে ভারতী সব সময় একই কথা বলেন শিবানীকে।

বিশ্বাস কর শিবানী, আজকাল সব সময় শুধু দুর্বার কথাই মনে হয়। খুব ইচ্ছে করে ওকে দেখতে, ওর গান শুনতে।

এত যখন ইচ্ছে করছে, তখন ওকে ফোন করছিস না কেন?

ভাবছি, এত তাড়াতাড়ি কি ফোন করা ঠিক হবে?

হ্যাঁ, আরো কয়েকটা দিন যাক, তারপর ফোন করিস।<

**********