সুবর্ণলতা

সুবর্ণলতা

আশাপূর্ণা দেবী

সুবর্ণলতা

Books Pointer Iconআশাপূর্ণা দেবী
Books Pointer Iconnovel

Change color

১.০১ একাল-সেকাল নিয়ে তর্ক

প্রথম পর্ব

একাল-সেকাল নিয়ে তর্ক তো চিরকালের, কিন্তু কেমন করে চিহ্নিত করা যায়। সেই কালকে? একএকটা কালের আয়ু শেষ হলেই কি এক-একবার যবনিকা পড়ে? যেমন যবনিকা পড়ে নাট্যমঞ্চে?না, যবনিকার অবকাশ কোথায়? অবিচ্ছিন্ন স্রোত। তবু একাল সেকাল, এযুগ সেযুগ বলে অভিহিতও করা হয়। সমাজ, মানুষের রীতিনীতি, চলন-বিলন, এরাই ধরে রাখে কালের এক-একটা টুকরোকে, ইতিহাস নাম দেয় অমুক যুগ, তমুক যুগ।


কিন্তু কালকে অতিক্রম করতেও থাকে বৈকি কেউ কেউ, নইলে কারা এগিয়ে দেবে সেই প্রবহমাণ ধারাকে? সে ধারা মাঝে মাঝেই স্তিমিত হয়ে যায়, নিস্তরঙ্গ হয়ে যায়। তবু এরা বর্তমানের পূজো কদাচিৎ পায়, এরা লাঞ্ছিত হয়, উপহসিত হয়, বিরক্ত-ভাজন হয়।


এদের জন্যে কাটার মুকুট।

এদের জন্যে জুতোর মালা।



০১.

তবু এরা আসে। হয়তো প্রকৃতির প্রয়োজনেই আসে। তবে কোথা থেকে যে আসবে তার নিশ্চয়তা নেই। আসে রাজরক্তের নীল আভিজাত্য থেকে, আসে বিদ্যা বৈভবের প্রতিষ্ঠিত স্তর থেকে। আসে নামগোত্রহীন মূক মানবগোষ্ঠীর মধ্য থেকে, আসে আরো ঘন অন্ধকার থেকে।


তাদের অভ্যুদয় হয়তো বা রাজপথের বিস্তৃতিতে, হয়তো বা অন্তঃপুরের সঙ্কীর্ণতায়।


কিন্তু সবাই কি সফল হয়?


সবাইয়েরই কি হাতিয়ার এক?


না।


প্রকৃতি কৃপণ, তাই কাউকে পাঠায় ধারালো তলওয়ার হাতে দিয়ে, কাউকে পাঠায় ভোঁতা বল্লম দিয়ে। তাই কেউ সফল সার্থক, কেউ অসফল ব্যৰ্থ। তবু প্ৰকৃতির রাজ্যে কোনো কিছুই হয়তো ব্যর্থ নয়। আপাত-ব্যর্থতার গ্লানি হয়তো পরবর্তীকালের জন্য সঞ্চিত করে রাখে শক্তিসাহস।



সুবৰ্ণলতা এসব কথা জানতো না। সুবৰ্ণলতা তার গৃহত্যাগিনী মার নিন্দার সম্বল নিয়ে সংসারে নেমেছিল!


তাই সে জেনেছিল সে কেবল তার অসাৰ্থক জীবনের গ্লানির বোঝা নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছে। জেনেছিল তার জন্য কারো কিছু এসে যাবে না।


সুবৰ্ণলতার মৃত্যুতে যে সুবৰ্ণলতার সতেরো বছরের আইবুড়ো মেয়ে পায়ের তলার মাটি খুঁজে পায় নি, এ খবর জেনে যায় নি সুবৰ্ণলতা। জেনে যেতে পারে নি ওই মেয়েটার কাছে সুবৰ্ণলতার মৃত্যুদিনই জন্মদিন।


দক্ষিণের এই চওড়া বারান্দাটায়, যেখানে শুয়ে থাকতো সুবৰ্ণলতা সংসার থেকে চোখ ফিরিয়ে, সেখানটা থেকে মেয়েটা যেন আর নড়তে চায় না। সুবৰ্ণলতাকে নতুন চোখে দেখতে শিখল বুঝি সে জায়গাটা শূন্য হয়ে যাবার পর। দেখতে শিখল বলেই ভাবতে শুরু করল, জীবন শুরু করবার সময়ে যদি সুবৰ্ণলতা একখানা দক্ষিণের বারান্দা পেত, হয়তো জীবনের ইতিহাস অন্য হতো সুবৰ্ণলতার।


হয়তো ওই মেয়েটার চিন্তায় কিছু সত্য ছিল, হয়তো তাই হতো। কিন্তু তা হয় নি। দক্ষিণের বারান্দার দাক্ষিণ্য জোটে নি। সুবৰ্ণলতার কপালে।


অথচ জুটলে জুটতে পারতো।


সে বাড়িখানাও তো সুবৰ্ণলতার চোখের সামনেই তৈরি হয়েছিল। ওদের পুরনো এজমালি বাড়ির অংশের দরুন টাকাটা হাতে পেতেই সুবৰ্ণলতার বুদ্ধিমান ভাসুর, দেবর, স্বামী তাড়াতাড়ি বাড়িখানা ফেদে ফেলল। বলল, টাকার পাখা আছে। ওকে পুতে ফেলাই বুদ্ধির কাজ। গলির মধ্যে, তা হোক, বড় রাস্তার মুখেই, দুবার মোড় ঘুরতে হয় না।


সেই বাড়িতেই তো ত্ৰিশটা বছর কাটিয়ে গেছে সুবৰ্ণলতা, সেখান থেকেই বার আষ্টেক আঁতুড়ে গেছে, কেন্দেছে, হোসেছে, খেটেছে, বিশ্রাম করেছে, সংসারলীলার যাবতীয় লীলাতেই অংশগ্রহণ করেছে, তবু পিঞ্জরের যন্ত্রণাবোধে অহরহই ছটুফট করেছে।


সুবৰ্ণলতার স্বামী ক্ষুব্ধ গর্জনে বলতো, যেচে দুঃখ ডেকে আনা! সেধে কষ্ট ভোগ করা! শত সুখের মধ্যিখানে রাতদিন দীর্ঘনিঃশ্বাস পড়ছে মানুষের! আর কী চাই তোমার? আর কত চাই?


সুবৰ্ণলতা বলতো, আমি তো কিছু চাই না।


তা চাইবে কেন, না বলতে যখন সব কিছু হাতের কাছে পেয়ে যাচ্ছ। তোমার অন্য জায়েদের সঙ্গে অবস্থা মিলিয়ে দেখেছি কোনোদিন?


সুবৰ্ণলতা মৃদু হেসে বলতো, দেখেছি বৈকি!


তবু রাতদিন নিঃশ্বাস! যেমন মা তেমনি ছা হবে তো!


সুবৰ্ণলতা তীব্রস্বরে বলতো, আবার?


ওর বর তখন ভয় পেয়ে বলতো, আচ্ছা বাবা আচ্ছা, আর বলবো না।


ওই তীব্রতার পিছনে যে এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার স্মৃতি। ভয় পাবে বৈকি।


কিন্তু এসব তো অনেক দিন পয়ের কথা। যখন সুবৰ্ণলতার রাগের কাছে রূপোলী তারের আভাস, যখন সুবৰ্ণলতার সেই দীর্ঘ উন্নত বাড়-বাড়ন্ত গড়নে ক্ষয় ধরেছে।


আগে যখন সুবৰ্ণলতা তার স্বামীত্যাগিনী মায়ের নিন্দনীয় ইতিহাসের সম্বল নিয়ে মাথা হেঁট করে শ্বশুর-ঘর করতে এসেছিল, যখন কোনো একটা উপলক্ষ পেলেই সুবৰ্ণলতার শাশুড়ী সুবৰ্ণলতাকে তার বিয়ের দরুন পাওয়া জরিতে জবড়াজঙ বেগুনী রঙা বেনারসী শাড়ী আর বড় বড় কলকাদার লাল মখমলের জ্যাকেট পরিয়ে সাজিয়ে ফেলত, আর বাড়িতে কেউ বেড়াতে এলেই তার সামনে সাতখানা করে নিন্দে করতো বৌয়ের আর বৌয়ের বাপের বাড়ির-তখন?


তখন এত সাহস কোথা সুবৰ্ণর? নিজের বাড়িতেই তখন আড্ডা ছিল মুক্তকেশীর, যেতে হত না কোথাও। পাড়ার সবাই আসতো মুক্তকেশীর কাছে। অলিখিত আইনে পাড়ার মহিলাকুল সবাই ছিল মুক্তকেশীর প্রজা।


বাড়িটা তিনতলা, ঘরদালানের সংখ্যা কম নয়, দুদিকে দুটো রান্নাঘর, শানবাঁধানো উঠোন, গোটা তিন-চার কল-চৌবাচ্ছা, ধর কিছু নেই কোথাও। তবে ওই পর্যন্তই। বাড়িটা যেন সাদামাটার একটা প্রতীক, না আছে শ্ৰী না আছে ছাদ, বাড়ি না বাড়ি!


বাস করতে হলে কতটুকু কি আবশ্যক, শুধু এই চিন্তাটুকু ছাড়া বাড়ি বানাবার সময় আর কোনো চিন্তা যে এদের মাথায় এসেছিল এমন প্ৰমাণ পাওয়া যায় না।


মঠ নয়, মন্দির নয়, বড়মানুষের বাগানবাড়িও নয়, গোরস্ত লোকের বসবাসের বাড়ি। তার মধ্যে শোভা সৌন্দর্য শিল্প-রুচি এ সবের সম্পর্ক কি এদের বুদ্ধির বাইরে।


সুবৰ্ণলতাকে তাই এরা পাগল বলে। বলবে না কেন? সুবৰ্ণলতা যে ওই সব অদ্ভুত জিনিসগুলো খুঁজে বেড়ায়।


খুঁজে বেড়ায় বলেই বাড়ি বানানোর মধ্যপথে পুলকিত আনন্দে বরের কাছে রোজ ধর্ণা দিয়েছে তাকে একবার দেখিয়ে আনতে বাড়িটা। তারপর নতুন সংযোজনার প্ল্যান যোগাবে সুবৰ্ণলতা।


বর অবশ্য উড়িয়ে দিত আবদারটা। সুবর্ণ বলতো, বাঃ, তোমাদের আর কি? কতক্ষণই বা বাড়িতে থাকো? খাওয়া-নাওয়া আর ঘুম, এই তো! বাড়ি ভোগ করতে তো আমরা মেয়েমানুষরাই। আমাদের মত নিয়ে করলে—


করলে আর কি? লোকে বলবে স্ত্রৈণা! তবে যেতে চাও মাকে বল গে!


মাকে যে বলতেই হবে এ সত্য জানতো বৈকি সুবৰ্ণ, তবু বরের কাছে আবদার করায় আমোদ আছে, মিষ্টত্ব আছে, আশা আছে। হ্যাঁ, ছিল বৈকি আশা। বরের উপর না হোক, নিজের ক্ষমতার উপর অনেকখানি আস্থা আর আশা ছিল তখন সুবৰ্ণলতার। তখন সুবৰ্ণলতা কানে ইয়ারিং পরতো, তিনপেড়ে ড়ুরে শাড়ি পরতো, আর অনেক কসরৎ করে কাচপোকা ধরে তাকে কেটে কেটে টিপ করতো।


ইচ্ছেটাই তখন প্ৰবল তার, সব বিষয়ে।


অতএব মুক্তকেশীকেই গিয়ে ধরলো, বাড়িটা একবার দেখতে চলুন না মা, বেশি তো দূর নয়।


মুক্তকেশী অবশ্য সে আগ্রহে জল ঢাললেন, হাঁ-হাঁ করে উঠে বললেন, শোনো কথা, এখন যাবে কি? আদিনে অক্ষণে গেলেই হল? ভিটে বলে কথা। ঠাকুরমশাই শুভদিন দেখে দেবেন, বাস্তুপূজো করে তবে তো গৃহপ্ৰবেশ!


তার্কিক-স্বভাব সুবৰ্ণলতা অবিশ্যি সঙ্গে সঙ্গেই দুম করে বলে বসেছিল, আর এই যে আপনার ছেলেরা নিত্য-দিন যাচ্ছেন, তার বেলা দোষ হয় না?


মুক্তকেশী অভ্যস্ত বিরক্তির গলায় বলেছিলেন, তক্ক করা রোগটা ছাড়ো তো বাছা, এই রোগেই আমার হাড় পুড়িয়ে খেলে তুমি। বেটা ছেলের আবার কিছুতে দোষ আছে নাকি? মেয়েমানুষকেই সব কিছু মেনে-শুনে চলতে হয়।


অতএব বাড়ি তৈরি হতে হতে আর সে বাড়িকে দেখা ঘটে ওঠে নি। সুবৰ্ণলতার, কারণ সুবৰ্ণলতা যে মেয়েমানুষ এটা তো অস্বীকার করবার নয়।


অগত্যা আবার বরকেই ধরা, সামনের দিকে একটা বারান্দা রাখতে হবে কিন্তু, ঝুলবারান্দা। যাতে রাস্তা দেখা যায়।


সুবৰ্ণলতার বর চোখ কুঁচকে বলে উঠেছিল, কেন? রাস্তার দিকে ঝোলা বারান্দার হঠাৎ কি এত দরকার পড়ল? বিকেলবেলা বাহার দিয়ে দাঁড়াবার জন্যে?


সুবৰ্ণলতা তখনও ছেলেমানুষ, তখনও ওর সন্দেহবাই বরের কুটিল কথাগুলোর অন্তর্নিহিত কদৰ্য অর্থগুলো ধরতে পারত না, তাই বলে উঠেছিল, বা রে, বাহার দেওয়া আবার কি? রাস্তার দিকে বারান্দা থাকলে রাস্তাটা কেমন দেখা যায়! ঠাকুরভাসান, মহরম, বর-কনে যাওয়া, ঘটার মড়ার হরি সংকীর্তন, কত কি দৃশ্য রাস্তায়—


বর অবশ্য এবার হেসে ফেলেছিল। ওই এক কুটিল বান্তিকগ্ৰস্ত হলেও বয়সে সে-ও ছেলেমানুষই। হেসে বলেছিল, আর কিছু না হোক, শেষেরটা একটা দ্রষ্টব্য বটে। বিশেষণটা দিয়েছ ভাল, ঘটার মড়া।


সুবৰ্ণলতা অতঃপর মুখঝামটা দিতে কসুর করে নি। বলেছিল, ভুল কি বললাম, ঘটাপটা করে মড়া নিয়ে যায় না লোকে?


তা যায় বটে।


আমাকেও তাই নিয়ে যাবে তো? আবদেরে গলায় বলে ওঠে সুবৰ্ণলতা, আমি যখন মরে যাব, ঘটা করে সংকীর্তন করে নিয়ে যাবে?


বর মাথায় হাত দিয়ে বলে, সর্বনাশ! কে আগে মরে তার ঠিক আছে? আমি তোমার থেকে কত বড়, আমিই নিৰ্ঘাত আগে মরবো–


সুবৰ্ণলতা নিশ্চিন্ত গলায় বলে, ইস। মরলেই হল আর কি? সেদিন মার সেই কালীঘাটের দৈবজ্ঞি। আমার হাত দেখে কী ঘলে গেল মনে নেই?


না, মনে নেই তো—, বর অসহিষ্ণু গলায় বলে, কী বলেছিল? আমি অমর হবো?


যদিও বৌয়ের বয়েস মাত্র চোদ এবং তার বাইশ, তত্ৰাচ অসহিষ্ণুতায় খুব একটা ঘাটতি দেখা যাচ্ছে না। অন্তত বরপক্ষে তো নয়ই।


কিন্তু কথার ভটচায সুবৰ্ণলতাকে যে এই রাত্তিরেই যত কথায় পায়, তাই সে বলে ওঠে, আহা! কলিযুগে যেন অমর বর আছে! বলেছে আমি সধবা মরবো।


বাঃ, বেড়ো! তা এই সুখবরটি দিতে বোধ হয় বেশ কিছু বাগিয়ে নিয়ে গেছে তোমার কাছ থেকে?


আমার কাছ থেকে?


সুবৰ্ণলতা আকাশ থেকে পড়ে, আমি আবার কোথায় কী পাবো? মা সবাইয়ের হাত দেখালেন, চাল দিলেন, পয়সা দিলেন, নতুন গামছা দিলেন—


না, দিনের বেলায় নয়, দিনের বেলায় ছেলেমানুষ বৌ বরের সঙ্গে গল্প জুড়বে, এমন অনাচার আর যার সংসারে হয় হোক, মুক্তকেশীর সংসারে কদাপি ঘটতে পারে না।


এ নাটক রাত্রেরাই।


প্রথম অঙ্কের প্রথম দৃশ্য।


অবশ্যই বর এই মধুর ক্ষণটুকু এমন অকারণে অপব্যয় করতে রাজী নয়, তাই ওই তুচ্ছ কথায় যবনিকা টানতে বলে ওঠে, ভালই করেছেন। ওরা সব লোক সুবিধের নয়। ওদের সন্তুষ্ট রাখাই ভাল।


এ মন্তব্যের পরই বর একটু অনুচ্চ হাসির শব্দ শুনতে পায়।


সঙ্গে সঙ্গেই কঠোর গলায় বলে ওঠে, হাসলে যে?


এমনি।


এমনি মানে? এমনি কেউ হাসে?


পাগলে হাসে।


তা তুমি কি পাগল?


ছিলাম না, তোমাদের সংসারে এসে হয়েছি–চতুর্দশী সুবৰ্ণলতা প্ৰায় পাকা গিনীদের মতই ঝঙ্কার দেয়, দেখে-শুনেই পাগল। মার কোন কাজটাই বা তোমাদের কাছে ভুল? মা যদি ওকে কিছু না দিতেন, নিৰ্ঘাত বলতে, দেন নি বেশ করেছেন, যত সব ভণ্ড!


বলা বাহুল্য সুবৰ্ণ-পতি এতে খুব প্রীত হয় না, তীব্ৰস্বরে বলে, তবে কী করা উচিত? মাকে থো করে বৌয়ের পাদোদক খাওয়া?


সুবৰ্ণলতা দুৰ্গা দুৰ্গা করে উঠে বলে, যা নয়। তাই মুখে আনা! তার মানে আমায় রাগিয়ে দিয়ে কাজটি পণ্ড করার চেষ্টা। আমি কিন্তু রাগছি না, আমি হচ্ছি। ভবি। এই তোমার গা ছয়ে প্রতিজ্ঞা করছি সামনে বারান্দা না করলে তোমাদের সে বাড়িতে যাবই না। আমি।


বর তখনকার মত বলে, আচ্ছা আচ্ছা দেখা যাবে। এখন শোও তো এসে।


অন্ধকারের আবরণ তাই রক্ষে, নইলে বরের আদরের ডাকে তরুণী পত্মীর বিরক্তি-তিক্ত মুখভঙ্গীটুকু দেখতে পেলে বোধ করি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেত বর।


তবু গলাটায় মাধুর্যের

**********