
শুকনাঝাড়ে অর্জুন
সমরেশ মজুমদার
পরিচ্ছেদঃ ০১
তিনঘণ্টা দেরিতে দেরিতে চলছে ট্রেন, দোলগোবিন্দবাবু বললেন, এই দেরি নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই ভাই। তিনটা বেড়ে ছয় থেকে নয় ঘণ্টা হলেও যখন মেনে নেওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই তখন যতটা পারো ঘুমিয়ে নাও।
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে অঝোরে। জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে যখন অর্জুন ট্রেনে উঠেছিল, তখন টিপটিপে বৃষ্টি, সাড়ে বারোটার ট্রেন এসেছিল একটা পনেরোতে। এমন কিছু দেরি নয়। গোটা ভারতবর্ষের ম্যাপের দিকে তাকালে মনে হয়, এই যে দেশজুড়ে ট্রেন প্রায় ঠিকঠাক প্রতিদিন চলে, এটাও একটা বিস্ময়ের ব্যাপার। কত হাজার ট্রেন, কত হাজার হাজার স্টেশন, কত লক্ষ লক্ষ কর্মচারী কন্যাকুমারিকা থেকে গুয়াহাটি ট্রেনের ঘড়িটাকে সচল রেখেছেন। কিন্তু বৃষ্টিটা নামল ময়নাগুড়ি স্টেশন পার হতেই। হুড়মুড়িয়ে বৃষ্টি। ভরদুপুরেই প্রায় অন্ধকার এবং জলের দেওয়াল এমনভাবে পথ আটকাল যে ট্রেনের ড্রাইভার ট্রেন থামিয়ে দিল। হাতির পারাপার হওয়ার এলাকাটা অনেক দুরে, থেমে যাওয়ার কারণ যে বৃষ্টি তা বুঝতে অসুবিধে হল না। এই সময় সামনের আসনে বসা ভদ্রলোক হেসে বললেন, জব্বর বৃষ্টি নেমেছে। আহা!
মানুষটিকে ভাল করে দেখল অর্জুন। ফরসা, নাদুসনুদুস শরীর, গোল মুখ। দাড়ি কামানো কিন্তু স্যর আশুতোষের মতো গোঁফ, গোল গোল চশমার কাঁচের ভিতর দিয়ে হাসিহাসি চোখ, মাথার সামনের দিকে চকচকে টাক, পিছনে চুল। দেখলেই মনে এল নামটা, দোলগোবিন্দ। এই নামটা কোনও গল্পের বইতে পড়েছে সে। ভুলেই গিয়েছিল, এঁকে দেখে ভুস করে উঠে এল।
দোলগোবিন্দবাবু চোখ বন্ধ করলেন। কেউ কেউ বসেই চমৎকার ঘুমোতে পারে। ইনিও পারলেন। বাইরের মেঘ আর বৃষ্টি সময়টা বুঝতে দিচ্ছে না। হাতঘড়ি ব্যবহার বন্ধ হয়ে গিয়েছে মোবাইল কেনার পর থেকে। মাঝে ট্রেন চলেছিল ঘণ্টাখানেক। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। থেমেছে আর এগিয়েছে। এই এসি থ্রি টায়ারে যাত্রীর সংখ্যা বেশি নেই। বেশির ভাগই শুয়ে সময় কাটাচ্ছে। হঠাৎ জোর হাওয়া বইল, কারণ তার ধাক্কায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেন দুলে উঠল। তখনই চোখ খুললেন দোলগাবিন্দবাবু। বললেন ঘুমিয়ে পড়তে।
বাইরে অন্ধকার। অর্জুন বলল, এখানেই সন্ধে হয়ে গেল। সামনে অনেকগুলো নদী রয়েছে। যদি কোনও ব্রিজ ভেঙে যায় তো হয়ে গেল।
দোলগোবিন্দ হাসলেন, তুমি কী হে? ভবিষ্যৎ নিয়ে এত ভাবছ কেন? যদি এই হয়, যদি ওই হয়–! আরে বর্তমান নিয়ে একটু ভাববা।
তা হলে তো বৃষ্টির শব্দ শোনা ছাড়া কিছু করার নেই। একেই জানলার কাচ ঘষা, তার উপর বাইরের পৃথিবীটা অন্ধকারে ডুবে আছে। অর্জুন বলল।
কিন্তু দ্যাখো, এই দুর্যোগেও তোমার জামা-প্যান্ট ভেজেনি, জলের তোড়ে তুমি ভেসে যাচ্ছ না। বাইরের অনেক মানুষ কিন্তু এই মুহূর্তে তোমার মতো নিরাপদে নেই। আমি তো এইজন্যে এতক্ষণ ভগবানকে ধন্যবাদ দিচ্ছিলাম। দোলগোবিন্দবাবু বললেন।
আপনি কি এই লাইনে প্রায়ই যাতায়াত করেন? অর্জুন জিজ্ঞাসা করল।
হ্যাঁ ভাই। রেলে চাকরি করতাম। অবসর নেওয়ার পর একটা পাশ দেওয়া হয়েছে আমাকে। ভারতীয় রেলে যেখানে ইচ্ছে যেতে পারি। ভাল na লাগলেই তাই বেরিয়ে পড়ি। দোলগোবিন্দবাবু হাসলেন, কোথাও যাওয়ার প্ল্যান করে বের হই না। ট্রেনে দু-তিনদিন কাটিয়ে বাড়ি ফিরে যাই। বেশ চেঞ্জ হয়।
অর্জুন অবাক হয়ে মানুষটিকে দেখল। প্রয়োজন ছাড়াই ইনি ট্রেনে চেপে ঘুরে বেড়ান? তারপরেই মনে হল, সব মানুষের প্রয়োজনের চেহারা একরকম নাও হতে পারে। একটি বিশেষ জায়গায় থাকতে থাকতে যদি এঁর একঘেয়েমি লাগতে শুরু করে তা হলে সেটা দূর করার প্রয়োজনে উনি ট্রেনে চেপে বৈচিত্র্য আনতেই পারেন।
আপনি কি সেভাবেই এখন সফর করছেন? অর্জুন জিজ্ঞাসা করল।
সফর? বাঃ। এই শব্দটা বাঙালিরা সাধারণত ব্যবহার করে না। মাথা নাড়লেন দোলগোবিন্দ, ধরে নিতে পারো সেইরকমই। প্রতিবার যখন যাই তখন কত মানুষের সঙ্গে আলাপ হয়। একবার এক কুখ্যাত খুনির সহযাত্রী ছিলাম। কী ভাল ব্যবহার। পুলিশ যখন ট্রেনে উঠে তাকে গ্রেফতার করল তখন জানতে পারলাম সে খুনি। এই যে তোমার সঙ্গে আলাপ হল, এটাও তো পাওয়া। দোলগোবিন্দবাবু তার ঝোলা থেকে একটা কাজুবাদামের প্যাকেট বের করে এগিয়ে ধরলেন, খাও।
না-না থাক।
ও, তাও তো বটে। অপরিচিত সহযাত্রীর দেওয়া খাবার খেতে রেল থেকে নিষেধ করেছে। কত লোক সর্বস্বান্ত হয়ে গেল এইভাবে। প্যাকেট খুলে একটা বাদাম মুখে দিয়ে চিবিয়ে বললেন, এবার তুমি স্বচ্ছন্দে খেতে পারো।
অর্জুন হেসে হাত বাড়াল, দিন।
তুমি কী করো হে? কাজু চিবোতে চিবোতে জিজ্ঞাসা করলেন দোলগোবিন্দবাবু।
সত্যসন্ধান। অর্জুন জবাব দিল।
গুড, গুড, ভেরি গুড। মাথা দোলালেন দোলগোবিন্দবাবু, আমার একটা শখ আছে। বলব? বলেই ফেলি। আমি মিথ্যেসন্ধান করি।
আপনি আমাকে ভুল ভাবছেন। এটা রসিকতা নয়, সত্যসন্ধান করা আমার পেশা। বহু বছর ধরে এই কাজটা করার চেষ্টা করছি।
আমি তো একবারও ভাবিনি যে তুমি রসিকতা করছ। দোলগোবিন্দবাবু বললেন, আমি মিথ্যেসন্ধান করি কারণ একটা সত্যকে বিশ্বাস করে করে শেষপর্যন্ত তার অস্তিত্বের প্রমাণ না পেয়ে মানুষ তাকে মিথ্যে বলে ভেবে নেয়। ধরো, একজন মানুষ ভগবান আছেন বলে ভাবেন। তার উপর আস্থা রাখেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হলে চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে ভগবানকে অনেক ডাকার পর যদি দ্যাখেন বাঁচাতে পারল না তখন তাঁর মনে হয় ভগবান বলে কিছু নেই। সব মিথ্যে। কেউ যখন কোথাও ভগবানকে দেখতে পায়নি তখন তিনি নেই। আমি এই মিথ্যেটার সন্ধান করি।
খুব শান্তভাবে দোলগোবিন্দবাবু কথাগুলো বললেন।
একই কথা ভূত সম্পর্কে বলা চলে। সবাই শুনেছে কিন্তু কেউ ভূত চোখে দ্যাখেনি। তা হলে ভূত মিথ্যে। অর্জুন হাসল।
ঠিক কথা। একদম ঠিক কথা। দোলগোবিন্দবাবু মাথা নাড়লেন।
বৃষ্টির দাপট একটুও কমেনি। ট্রেন চলছে ট্রেনের মতো। ঘষা কাঁচের ভিতর থেকেও বিদ্যুতের ঝলকানি চোখে পড়ছে মাঝে মাঝেই।
অর্জুন মোবাইলে সময় দেখল, রাত ন’টা বাজে।
চার ঘণ্টা লেট। দোলগোবিন্দবাবু মনে করিয়ে দিলেন।
মাঝরাতে স্টেশনে নেমে কিছু পাওয়া যাবে কি না কে জানে!
ভাই, তুমি বড় আগাম ভাবো। যখন যা ঘটবে আজ সেইমতো চলবে। তা তুমি নিশ্চয়ই এই অঞ্চলে এর আগেও এসেছ?
না। এই প্রথম আসছি।
এ হে! প্রথম দেখার চমকটা এই বৃষ্টির জন্য পেলে না। ক’দিন থাকবে?
সেটা নির্ভর করছে পরিস্থিতির উপর। কাজ শেষ হলেই ফিরে যাব।
বেশ, আমি আর একটু ঘুমিয়ে নিই। দোলগোবিন্দবাবু আবার চোখ বন্ধ করলেন। বসে বসেই প্রায় তৎক্ষণাৎ তার ঘুম এসে গেল।
অর্জুন উঠল। এসি কামরার দরজা ঠেলে ট্রেনের দরজার কাছে এসে দেখল সেখানে কেউ নেই, দরজা দুটো খোলা, জলে ভেসে যাচ্ছে মেঝে। সে একটা দরজা বন্ধ করল। ট্রেন এখন কোন এলাকায় তা বোঝা যাচ্ছে না। কাউকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। এখন ট্রেন চলছে। বিদ্যুৎ চমকাল, বাজ পড়ল কোথাও। সেই সঙ্গে চকিত আলোয় শুধু ভেজা গাছের জঙ্গল চোখে পড়ল। ট্রেন থামল যে স্টেশনে সেখানে কোনও যাত্রী নেই, কুলির হাঁকাহাঁকিও নেই। ঝাপসা আলোয় স্টেশনের নাম পড়ল অর্জুন। এখান থেকে শুকনাঝড় কত দূরে কে জানে? দ্বিতীয় দরজা বন্ধ করল সে। ট্রেন দাঁড়িয়েই রয়েছে।
শুকনাঝাড়ে তার পোঁছোনোর কথা ছিল সন্ধের মুখে। তাকে নিয়ে যেতে লোক পাঠাবেন মঙ্গল বড়ুয়া। কাল রাতেও শেষ কথা হয়েছিল। আজ সকাল থেকে যতবার মোবাইলে ধরতে চেয়েছে, ততবারই অর্জুন শুনেছে, আউট অফ রিচ। এটা হয় যখন টাওয়ার কাজ করে না। মঙ্গল বড়ুয়া নিশ্চয়ই তাকে আসতে বলে কোনও জায়গায় চলে যাবেন না যেখানে মোবাইল কাজ করে না।
অর্জুন ফিরে এল নিজের জায়গায়। দোলগোবিন্দবাবু এখনও ঘুমোচ্ছেন। সে ডাকল, একটু শুনবেন?
কান খোলা আছে ভাই।
আমরা নসিবগুড়ি স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি। এখান থেকে শুকনাঝাড় স্টেশনের দূরত্ব কতটা হবে আন্দাজ করতে পারেন? আপনি নিশ্চয়ই এদিকে এসেছেন?
মেরে দিয়েছ ভাই। ঠিক চললে আর আধঘণ্টা। চোখ খুললেন ভদ্রলোক। তাই বলো, তুমি শুকনাঝাড়ে নামবে? ওখানকার স্টেশনমাস্টার রাতবিরেতে ঘরের বাইরে যেতে চায় না। ভিতু বললে কম বলা হয়।
স্বস্তি পেল অর্জুন, যাক, আপনি চেনেন দেখছি। এই শুকনাঝাড়ের এক ভদ্রলোক, এককালের জমিদার, মঙ্গল বড়ুয়ার নাম শুনেছেন?
স্টেশনের বাইরে কখনও যাইনি, নাম শুনব কী করে? রেলের কেউ হলে বলো, এক কথায় বলে দিতে পারব।
মাথা নাড়ল অর্জুন। এটাই স্বাভাবিক। সে জিজ্ঞাসা করল, আপনার এবারের গন্তব্য কতদূরে?
রাত এগারোটায় পৌঁছোতাম। বড় স্টেশন। তাই কিছু খেয়ে নিয়ে ফাস্ট ক্লাস ওয়েটিংরুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। সকালে উঠে চা খেয়ে ফেরার ট্রেন ধরতাম। কিন্তু আজ যা অবস্থা দেখছি, ভোরের আগে ওখানে হয়তো পৌঁছোব। সঙ্গে যে কাজুবাদাম আছে তাই দিয়ে ডিনার সারতে হবে। দোলগোবিন্দবাবু বললেন।
একটা অনুরোধ করব?
অবশ্যই।
আমার নাম অর্জুন। আপনি যদি শুকনাঝাড় স্টেশনের স্টেশনমাস্টারের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেন তা হলে আমাকে কেউ নিতে না এলেও বিপদে পড়ব না।
কীভাবে? থাকবে কোথায়? ওখানে তো কোনও ওয়েটিংরুম নেই। একটু ভাবলেন দোলগোবিন্দবাবু। আচ্ছা, দেখি, রাতটা যদি অফিসঘরেই কাটাতে দেয়।
শুকনাঝাড় স্টেশনে ট্রেনটা পৌঁছোল রাত এগারোটায়। বৃষ্টির ক্লান্তি নেই। ছোট্ট প্ল্যাটফর্মে দু’জন লোক দাঁড়িয়ে ছিল, ট্রেন থামতেই উঠে পড়ল। কাঁধে ঝোলানো চামড়ার ব্যাগটা নিয়ে দোলগোবিন্দবাবুর সঙ্গে প্ল্যাটফর্মে নেমে অর্জুন কোনও মানুষ দেখতে পেল না। অর্থাৎ কেউ আসেনি তাকে রিসিভ করতে।
কেউ আসেনি তো? আরে এই বৃষ্টিতে মানুষখেকো বাঘও রাস্তায় বের হবে না তো মানুষ আসবে। দোলগোবিন্দবাবু বলতে বলতে হাত নাড়লেন, এই যে মাস্টারমশাই, দাঁড়ান।
অর্জুন দেখল একটা লোক গার্ডের সঙ্গে কিছু কথা বলে দৌড়ে একমাত্র অফিসঘরের ভিতর ঢুকে গেল। ওরা দু’জন সেদিকে পা বাড়ালে ট্রেন দুলে উঠে চলা শুরু করল। অর্জুন চেঁচিয়ে বলল, এই রে। তাড়াতাড়ি ট্রেনে উঠুন, ছেড়ে দিয়েছে।
দোলগোবিন্দবাবু হাসলেন, দিক গে। আমি তো ট্রেনে বসে ঢুলতাম আর সকালের ট্রেন ধরে ফিরে আসতাম। তা এখান থেকেই সেই ট্রেন ধরব।
আপনার জিনিসপত্র?
এই ঝোলা ছাড়া কিছু নেওয়ার দরকার পড়ে না তো।
ট্রেন বেরিয়ে গেল। বিদ্যুৎ চমকাল এবং প্রচণ্ড শব্দে মেঘ ডাকল।
আহা। এ একেবারে প্রলয়, প্রলয় বলে মনে হচ্ছে, কী বলো?
অর্জুন লক্ষ করল প্ল্যাটফর্মের আলোগুলোও বেশ বিবর্ণ। ট্রেন চলে যেতেই কীরকম গা-ছমছমে পরিবেশ তৈরি হয়ে গিয়েছে।
অফিস ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দোলগোবিন্দবাবু গলা তুললেন, ওহে মাস্টার, দরজা খোলো।
কোনও সাড়া না পেয়ে তিনি আরও জোরে ডাকলেন, মাস্টার। আমায় দেখলেই চিনতে পারবে। দরজা খোলো।
তবু কোনও প্রতিক্রিয়া না হওয়াতে ধাক্কা দিলেন জোরে, আরে আমরা দু’জন আছি। ভুত নই। ভুতেরা দু’জনে কোথাও যায় না। খোলো।
কে? কে? ভিতর থেকে একটি শীর্ণ কণ্ঠ ভেসে এল।
আমি রিটায়ার্ড রেলওয়ে এমপ্লয়ি। কোনও ভয় নেই। দরজা খোলো।
খুব সন্তর্পণে দরজা ফাঁক করল স্টেশনমাস্টার। ভিতরে চেন লাগানো আছে যাতে বাইরের লোক জোর করে ঢুকতে না পারে। দুটো কুতকুতে চোখ খানিকটা সময় জরিপ করে বলল, আপনারা? আপনারা কি ট্রেন থেকে নেমেছেন?
আচ্ছা ভিতুর ডিম! আমাকে আগে কখনও দ্যাখেননি? দোলগোবিন্দবাবু খেঁকিয়ে উঠলেন।
হ্যাঁ। দেখেছি। আচ্ছা! এবার দরজা খুলে স্টেশনমাস্টার বলল,