মৃত্যু রঙ্গিনী

মৃত্যু রঙ্গিনী

পাঁচকড়ি দে

মৃত্যু রঙ্গিনী

Books Pointer Iconপাঁচকড়ি দে
Books Pointer Icondetective

Change color

প্রথম পরিচ্ছেদ – ওগিলভি সাহেবের কথা

১

১৮৮০ সালে, ২রা জুলাই তারিখে রাত্রি আল্ট্রার সময়ে আমার বাহিরের ঘরে আমি বসিয়াছি। এমন সময়ে একজন সাহেব সেই কক্ষে প্রবিষ্ট হইলেন। তাঁহার পোষাক-পরিচ্ছদ ভদ্রলোকের ন্যায় বটে, কিন্তু মুখের চেহারায় তেমন ভাল লোক বলিয়া বোধ হইল না। যাহা হউক, আমি তাহাকে বসিতে বলিলাম।


তিনি বসিয়া আমার দিকে ফিরিয়া বলিলেন, “মহাশয়! আপনাকে এখনই একবার অনুগ্রহ করিয়া আলিপুরে যাইতে হইবে। আমার একজন আত্মীয় অত্যন্ত পীড়িত। বোধ হয়, আপনার সঙ্গে তাঁহার আলাপ আছে, তিনি সময়ে সময়ে আপনার নাম করিতেন বলিয়া তাঁহার স্ত্রীর অনুরোধে আমি আপনাকে ডাকিতে আসিয়াছি।”


আমি। তাঁহার নাম কি?


তিনি। ব্রজেশ্বর রায়।


আমি বলিলাম, “ওঃ! তাঁকে আমি খুব চিনি। তিনি যখন হিন্দুধর্ম্ম পরিত্যাগ করিয়া খ্রীষ্টিয়ান হয়েন, তখন একটা মহা হুলুস্থুল পড়িয়া গিয়াছিল, তাঁহার আত্মীয়গণ অত্যন্ত রুষ্ট হইয়াছিলেন। তখন আমরা উভয়েই কলেজে একসঙ্গে পড়ি। তার পর আমি ডাক্তারীর দিকে গেলাম, তিনি এম্ এ বি এল, পৰ্য্যন্ত পাশ করিলেন। তিনি উকীল হইলেন, আমি ডাক্তার হইলাম। আদালতে তাঁহার অতি সত্বরই পশার হইল। আমার ধীরে ধীরে উন্নতি হইতে লাগিল। যথেষ্ট অর্থোপার্জ্জন করিয়াও ব্রজেশ্বর রায় কৃপণতা ভুলিতে পারেন নাই। যাহা হউক, এখন তাঁহার কি হইয়াছে কি?”


তিনি। এক রকম মৃগীরোগ! কেমন করিয়া হইয়াছে, তাহা কিছুই বলিতে পারি না। তাঁহার স্ত্রী অত্যন্ত ভীতা হইয়া আপনার কাছে আমাকে পাঠাইয়া দিলেন।


আমি। এখনও অজ্ঞান অবস্থায় আছেন?


তিনি। হাঁ।


আমি। তাঁহার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হওয়াতে তিনি সম্প্রতি এক ইংরাজ-মহিলাকে বিবাহ করিয়াছিলেন, শুনিয়াছি।


তিনি। আজ্ঞে হাঁ, আমি সেই ইংরাজ-মহিলার সহোদর।


আমি। ওঃ! বটে বটে, তা’ বেশ!


এই বলিয়া আমি সেই আগন্তুকের সহিত তখনই বাহির হইয়া গেলাম।


২

আমি ব্রজেশ্বর রায়ের শ্যালকের সহিত একখানি গাড়ী করিয়া সত্বর আলিপুর অভিমুখে যাত্ৰা করিলাম। আকাশে তখন অল্প-অল্প মেঘমালার সঞ্চার হইয়াছে। বায়ু প্রভাবে তাহারা ইতস্ততঃ সঞ্চালিত হইতেছে। কোলাহল তখন একেবারেই নিস্তব্ধ হইয়াছে। কলিকাতার মধ্যে এ সময়ে ময়দানের দৃশ্য অতি সুন্দর।


ময়দান পার হইয়া যথাসময়ে আমরা ব্রজেশ্বর রায়ের বাড়ীতে উপস্থিত হইলাম।


ব্রজেশ্বর রায়ের বাড়ীতে আমি পূর্ব্বে অনেকবার গিয়াছিলাম। বাড়ীখানি পুরাতন। বালি ও চূণকাম করিয়া সম্মুখের দিক্‌টা এক প্রকার পরিষ্কার রাখা হইয়াছিল।


অন্তঃপুরে প্রবেশ করিবার জন্য আমাকে কোন সংবাদ প্রেরণ করিতে হইল না। কারণ আমার সঙ্গী ব্রজেশ্বর রায়ের শ্যালক আমাকে লইয়া একবারে উপরে উঠিলেন।


দ্বিতলে একটি সুসজ্জিত কক্ষে শুভ্র শয্যায় শায়িত আমার বন্ধুবর ব্রজেশ্বর রায়কে দেখিলাম। আমরা গৃহমধ্যে প্রবিষ্ট হইবামাত্র আমার সঙ্গী তাঁহার ভগিনীকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, “ডাক্তার ওগিলভি সাহেব আসিয়াছেন।”


সহোদরের কথা শুনিয়া ব্রজেশ্বর রায়ের নববিবাহিত ভার্য্যা আসন হইতে উত্থিতা হইয়া আমায় সম্মানের সহিত অভ্যর্থনা করিলেন। ইনি ইংরাজ-দুহিতা, আমাদের সুবিধার জন্য আমরা ইঁহাকে মিসেস রায় বলিব


মিসেস্ রায়ের বয়ঃক্রম অনুমান পঁয়ত্রিশ বৎসর হইবে। তথাপি আমরা বলিতে পারি যে, তিনি সৌন্দর্য্যশালিনী রমণী। প্রৌঢ়া হইলেও এখনও যৌবনের লাবণ্যে বঞ্চিতা হন নাই। তাঁহার মুখখানি সেরূপ চিত্তাকর্ষক না হইলেও, তাঁহার অঙ্গসৌষ্ঠব ও বর্ণ-মাধুর্য্য মনোহর ছিল। তাঁহার অঙ্গ- প্রত্যঙ্গের সামঞ্জস্য অতুলনীয়। বর্ণ রক্তাভ গোলাপ ফুলের ন্যায় অনতিকৃষ্ণ কেশদাম পৃষ্ঠোপরি আলুলায়িত।


ব্রজেশ্বর বাবুর পত্নীর কন্ঠস্বর অতি কোমল ও শ্রুতিমধুর। তাঁহার দৃষ্টি স্থির। এইরূপ সুন্দরী রমণীর বদনে যেরূপ লাবণ্য বিদ্যমান্ থাকিলে উহা মনোরম হইত, সেরূপ কোন লাবণ্য উহাতে ছিল না। বরং এই রূপরাশির ভিতর হইতে তাঁহার মুখে একটা নিদারুণ কঠোরতার চিহ্ন পরিস্ফুট রহিয়াছে বলিয়া বোধ হয়। চোখ দুটি দেখিলে বোধ হয়, যেন কিছু গৰ্ব্বিতা।


অন্যান্য দু-চারটি কথাবার্তার পর আমি রোগীকে পরীক্ষা করিলাম। তাহাতে অধিক সময় লাগিল না। আমার বিশ্বাস হইল যে, বন্ধুবর ব্রজেশ্বর রায় সাংঘাতিক পীড়ায় শয্যাগত—চেতনারহিত— অধিক দিন জীবিত থাকা সম্ভব নহে। তথাপি চিকিৎসকের কর্ত্তব্য কার্য্য বিবেচনা করিয়া, মিসেস্ রায়কে কথঞ্চিৎ উৎসাহিত করিয়া এবং সহসা কোন বিশেষ ভয়ের কারণ নাই, এইরূপ বুঝাইয়া তখনকার মত বিদায় গ্রহণ করিলাম।


মিসেস রায়ের সহোদর বলিয়া যিনি পাঠকগণের নিকট পরিচিত অর্থাৎ যিনি আমায় ডাকিয়া আনিবার জন্য আমার বাড়ীতে গিয়াছিলেন, শুনিলাম, তাঁহার নাম মিষ্টার কুক্। তিনি আমার সঙ্গে সঙ্গেই বাহিরে আসিলেন। আমাকে চিন্তাযুক্ত দেখিয়া তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “ব্যারামটা কি বড় শক্ত বোধ হইল?”


আমি উত্তরে কহিলাম, “হাঁ, শক্ত বৈকি! “


কুক্। আমার সহোদরা মিসেস রায়কে ত আপনি সে কথা কিছুই বলিলেন না, বরং আরও উৎসাহজনক বাক্যের দ্বারা প্রবোধিত করিয়া চলিয়া আসিলেন।


আমি। কোমলপ্রাণা রমণীগণের নিকটে আসন্ন বিপদের কথা বলা অযৌক্তিক ও নিষ্ঠুরতা বলিয়া বিবেচনা করি।


কুক্। মিঃ রায়ের কি বাঁচিবার আশা নাই?


আমি। আশা যে একেবারেই নাই, তাহা বলিতে পারি না, তবে আশা অতি অল্প। আমার বোধ হয়, তিনি ইহজন্মে আর কথা কহিবেন না।


কুক্‌। বলেন কি, কি সর্বনাশ! আমার ভগিনী এত সত্বরে পতিহীনা হইবেন? তবে ত এ বিষয়ে ব্রজেশ্বর রায় মহাশয়ের কন্যা মিস্ মনোমোহিনীকে টেলিগ্রাফ করা উচিত।


আমি। কেন, তিনি কোথায় আছেন?


কুক্। তাঁহার শরীর অসুস্থ হওয়ায় তিনি বোম্বে গিয়াছেন, সেখানে ব্রজেশ্বর রায় মহাশয়ের একজন সিভিলিয়ান বন্ধুর বাড়ীতে আছেন।


আমি। আমার বোধ হয়, তিনি টেলিগ্রাম পাইয়াও পিতার জীবিতাবস্থায় আসিয়া পৌঁছিতে পারিবেন না।


এইরূপ আরও দুই-চারিটি কথার পর আমি একখানা ঔষধের ব্যবস্থাপত্র লিখিয়া দিয়া চলিয়া আসিলাম।


৩

পরদিন রবিবার বেলা দশটার সময়ে আমি ব্রজেশ্বর রায় মহাশয়কে পূর্ব্ববৎ অজ্ঞান অবস্থা দেখিয়া আসিলাম। এবারও মিঃ কুক্ আমাকে উপরে লইয়া গেলেন। সেইদিন সন্ধ্যা সাতটার সময়ে একবার এবং তৎপরদিন সকালে পুনরায় দেখিতে গিয়া বুঝিলাম যে, তাঁহার জীবনের আর কিছুমাত্র আশা নাই। গত তিনদিনের মধ্যে তাঁহার একবারও চেতনা হয় নাই; চেতনা সম্পাদনের জন্য আমি অনেক চেষ্টা করিয়াছিলাম। বন্ধুবরের জীবন রক্ষার্থ অনেক চিন্তার পর সর্ব্বোৎকৃষ্ট ঔষধাদি প্রদান করিয়াছিলাম, কিন্তু কিছুতেই কোন ফল দর্শে নাই। সেবা-শুশ্রূষার কিছুমাত্র ত্রুটি হয় নাই; মিসেস রায় আহার নিদ্রা পরিত্যাগ করিয়া সর্ব্বদা স্বামীর শয্যাপার্শ্বে বসিয়া আছেন। যে প্রকার যত্ন, যে প্রকার চেষ্টা করা হইতেছে, তাহাতে তাঁহার আক্ষেপ থাকিবার কোন কারণ নাই।


সোমবার বেলা তিনটার সময়ে আমি আবার বন্ধুবরকে দেখিতে গেলাম। বাড়ীতে প্রবেশ করিবামাত্রই, ভাব-গতিক দেখিয়া আমার স্পষ্ট বোধ হইল যে, বন্ধুবর ব্রজেশ্বর রায় ইহলোক ত্যাগ করিয়াছেন। নীচের ঘরেই মিঃ কুক্ এবং মিসেস্ রায়ের সহিত আমার সাক্ষাৎ হইল।


মিসেস্ রায় আমাকে দেখিয়া অত্যন্ত ক্রন্দন করিতে লাগিলেন। মিঃ কুক্‌ বলিলেন, “ব্রজেশ্বর রায় মহাশয় প্রায় অৰ্দ্ধঘন্টাকাল ইহলোক পরিত্যাগ করিয়াছেন।”


আমি এই কথা শুনিয়া মিঃ কুকের সহিত উপরে উঠিলাম এবং মৃতদেহ দেখিয়া নীচে নামিয়া আসিলাম।


আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, “বোধ হয়, মিস্ মনোমোহিনী আসিয়া পৌঁছিতে পারেন নাই।”


মিঃ কুক্‌ অত্যন্ত দুঃখিতভাবে উত্তর করিলেন, “না। আমি আমার ভগিনীকে ত্যাগ করিয়া এক মুহূর্ত্তও বাড়ীর বাহির হইতে পারি নাই। সুতরাং টেলিগ্রাফ করা ঘটিয়া উঠে নাই।”


তাঁহার কথা শেষ হইতে-না-হইতেই একখানি গাড়ী বাড়ীর দরজায় লাগিল। সেই গাড়ী হইতে একজন নবীনা সুন্দরী অবতরণ করিলেন। দরজায় প্রবেশ করিয়াই তিনি ডাকিলেন, “বাবা! বাবা!”


কাহারও উত্তর না পাইয়া তিনি, আমরা যে কক্ষে বসিয়াছিলাম, সেই কক্ষে প্রবেশ করিলেন।


নবীনা সাদা রেশমী কাপড়ের গাউন পরিহিতা, বিবিয়ানা সাজসজ্জায় শোভিতা। সুতরাং প্রথম দর্শনে তাঁহাকে ইংরাজ-তনয়া বলিয়াই আমার বোধ হইয়াছিল; পরে বুঝিলাম, তিনিই মিস্‌ মনোমোহিনী—ব্রজেশ্বর রায়ের একমাত্র কন্যা। তাঁহার হাসি-হাসি মুখখানি, উজ্জ্বল চক্ষুদ্বয় ও মুখের ভাব দেখিয়া বোধ হয় যে, অভাগিনী এখনও কিছু বুঝিতে পারে নাই।


গাড়ীখানি দরজার কাছে আসিয়া দাঁড়াইবামাত্র আমরা সকলে আসন হইতে উত্থিত হইয়াছিলাম। এমন সময়ে মিস্ মনমোহিনী গৃহ-প্রবিষ্টা হইলেন।


মিসেস্ রায় তাঁহাকে দেখিয়াই বিস্মিতের ন্যায় বলিয়া ফেলিলেন, “এই যে মনমোহিনী এসে পড়েছে।”


মিস্ মনোমোহিনী অবাক্ হইয়া সকলের মুখের দিকে চাহিলেন। পরক্ষণেই জিজ্ঞাসা করিলেন, “বাবা কোথায়?”


“মনোমোহিনী, ইনি ডাক্তার ওগিলভি সাহেব-“


এই বলিয়া মিসেস্ রায় আর কথা কহিতে পারিলেন না, তাঁহার জিহ্বা অবশ হইয়া গেল। মনোমোহিনী তাঁহার বিমাতার এইরূপ ভাব দেখিয়া ও কথা শুনিয়া, আমার দিকে চাহিলেন, আমি ঘাড় নাড়িলাম।


“বাবার অসুখ হয় নি? কোন সাংঘাতিক পীড়া হয় নি ত?” এই কথা মিস্ মনোমোহিনী জিজ্ঞাসা করিলেন। তাঁহার হাসি-হাসি মুখের উপর যেন একটা কৃষ্ণছায়া পড়িয়া গেল। সহসা সে মূৰ্ত্তি যেন বিষাদময়ী পাষাণ-প্রতিমার ন্যায় বোধ হইতে লাগিল।


আমি বলিলাম, “আপনার পিতা অত্যন্ত অসুস্থ হইয়াছিলেন।”


এই কথা শুনিয়াই মনোমোহিনীর মুখ রক্তবর্ণ হইল। অধরোষ্ঠ কম্পিত হইতে লাগিল। তিনি তাঁহার বিমাতার দিকে সন্দিগ্ধনেত্রে চাহিয়া কহিলেন, “তবে আমায় আনিতে পাঠান হয় নাই কেন?” তাঁর পরেই আমার দিকে ফিরিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “ডাক্তার সাহেব! বাবা কতদিন অসুস্থ ছিলেন? এক সপ্তাহ পূর্ব্বে তিনি আমায় পত্র লিখেছেন, তখন তিনি ভাল ছিলেন।”


কুক্ সৌহার্দ্দ দেখাইবার জন্য বলিলেন, “আজই আমি আপনাকে টেলিগ্রাম করর্ মনে করেছিলাম, এমন সময়ে এই বিপদ ঘট্‌ট্ল—”


সহসা মনোমোহিনীর মুখভাবের আশ্চর্য্য পরিবর্তন ঘটিল। আমি আর তাঁহার মুখের দিকে চাহিয়া থাকিতে পারিলাম না।


“বিপদ্ ঘট্‌ট্ল—বিপদ্ ঘট্ল! একি কথা? বাবা কি তবে জীবিত নাই?” এই কথা বলিয়া মিস্ মনোমোহিনী আমার দিকে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “ডাক্তার সাহেব! আপনি বোধ হয়, আমার পিতার চিকিৎসা করিয়াছিলেন। আপনি আমায় বলিতে পারেন, কি কি ঘটনা ঘটিয়াছে? সত্য কথা বলুন—আর আমি ধৈর্য্যধারণ করিতে পারিতেছি না?”


এ অবস্থায় আমি কি বলিব, ভাবিয়া-চিন্তিয়া কিছুই স্থির করিতে পারিলাম না; অথচ উত্তর না দেওয়া অত্যন্ত নিষ্ঠুরতা হয়। সুতরাং অনন্যোপায় হইয়া বলিলাম, “আপনার পিতা, আমার বন্ধুবর ব্রজেশ্বর রায় মহাশয় অর্দ্ধঘন্টার কিছু পূর্ব্বে মানবলীলা সম্বরণ করিয়াছেন।”


অভাগিনী একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলিল। তাহার সর্ব্বাঙ্গ থরথর্ করিয়া কম্পিত হইতে লাগিল। মাথার টুপিটি খুলিয়া লইয়া পিয়ানোর উপরে ফেলিয়া দিলেন। কাঁদিতে কাঁদিতে বলিলেন, “চল, আমায় উপরে নিয়ে চল—”


মিসেস্ রায় কি করিবেন, কিছু স্থির করিতে পারিলেন না। তাঁহার কথা কহিবার সামর্থ্য ছিল না। আমার নিজের অবস্থা অনুভব করিয়া তাঁহার মানসিক অবস্থা স্পষ্ট বুঝিতে পারিলাম। কিয়ৎক্ষণ কেহই কোন কথা কহিতে পারিল না।


মিসেস্ রায় যখন কথঞ্চিৎ প্রকৃতিস্থ হইবার সময় পাইলেন, তখন ধীরে ধীরে মিস্ মনোমোহিনীর কাছে গিয়া সস্নেহ বচনে কহিলেন, “

**********