২১ নভেম্বর বাংলাদেশের ভূমিকম্প: কত মাত্রার ছিল ও কেমন অনুভূত হলো?

২১ নভেম্বর বাংলাদেশের ভূমিকম্প...

আমি তথ্য

২১ নভেম্বর বাংলাদেশের ভূমিকম্প: কত মাত্রার ছিল ও কেমন অনুভূত হলো?

Books Pointer Iconআমি তথ্য
Books Pointer Iconuncategorized

Posted byআমি তথ্য21-Nov-2025

Change color

২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় মাঝারি মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রাজধানী ঢাকাসহ নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের জেলাগুলোতে স্পষ্টভাবে কম্পন অনুভূত হয়। অনেকেই ঘরবাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন, স্কুল–কলেজ থেকেও শিক্ষার্থীরা ছুটে বাইরে চলে যায়।

ভূমিকম্পের মাত্রা কত ছিল?

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) জানায়, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৭ রিখটার স্কেল।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএসজিএস (USGS) আনুমানিক ৫.৫ রিখটার স্কেল উল্লেখ করেছে।

দুটি উৎসেই একথা নিশ্চিত করা হয়েছে যে ভূমিকম্পটি ছিল মাঝারি মাত্রার এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।

আঘাত অনুভূত হয় কোথায়?

এই ভূমিকম্পটি বিশেষভাবে অনুভূত হয়:

ঢাকা

নরসিংদী

গাজীপুর

নারায়ণগঞ্জ

টাঙ্গাইল

কিশোরগঞ্জের কিছু অংশ

রাজধানী ঢাকায় অনেক ভবন দুলতে দেখা যায়, ফ্যান, জানালা ও আসবাবপত্র কাঁপতে থাকে। কিছু স্থানে আতঙ্কিত মানুষ খোলা জায়গায় বেরিয়ে যান।

ক্ষয়ক্ষতি কী হয়েছে?

সরকারি হিসেবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও কিছু এলাকায়—

ভবনের সামান্য দেয়াল ফাটল

রেলিং বা প্লাস্টার পড়ে যাওয়া

আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ির কারণে কয়েকজন আহত

এমন ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে?

ঢাকায় ভূমিকম্পের সময়:

অফিস কর্মীরা ভবন ছেড়ে বাইরে বের হয়ে আসেন

স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়

অনেক আবাসিক এলাকায় মানুষ রাস্তায় জড়ো হন

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়

এই ধরনের মাঝারি মাত্রার কম্পন ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মানুষের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই ভয় সৃষ্টি করে।

ভূমিকম্পের পর করণীয়

ভূমিকম্পের পর বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেন:

✔ ভবনে ফাটল দেখা দিলে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা

✔ আফটারশকের সম্ভাবনা মাথায় রাখা

✔ লিফট ব্যবহার না করা

✔ প্রয়োজনীয় নথি ও জরুরি সামগ্রী হাতের কাছে রাখা

✔ ভবিষ্যতের জন্য একটি ‘ইমার্জেন্সি প্ল্যান’ তৈরি করা

বাংলাদেশ কেন ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা?

বাংলাদেশ তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় এখানে মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ঢাকার পুরনো ভবন ও ঘনবসতির কারণে ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই দেশজুড়ে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভূমিকম্প প্রতিরোধক নীতিমালা মানা অত্যন্ত জরুরি।

২১ নভেম্বরের ভূমিকম্প আমাদের আবারও সতর্ক করে দিল—প্রকৃতি কখনোই পূর্বাভাস দিয়ে আসে না। মাঝারি মাত্রার হলেও এই ধরনের কম্পন আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়। সচেতনতা, নিরাপদ ভবন নির্মাণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া—এ তিনটি বিষয়ই ভবিষ্যৎ বিপর্যয় কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

**********