১৭. ভাঙা আয়নার রহস্য

১৭. ভাঙা আয়নার রহস্য

অনিল ভৌমিক

১৭. ভাঙা আয়নার রহস্য

Books Pointer Iconঅনিল ভৌমিক
Books Pointer Iconthriller

Posted byরিয়া দাস03-Jul-2025

Change color

ফ্রান্সিসদের জাহাজ চলেছে। বাতাসের তেমন জোর নেই। পালগুলো প্রায় নেতিয়ে পড়ছে। মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া ছুটে আসছে। তখনই পালগুলো ফুলে উঠেছে। পরক্ষণেই আগের মতো।

বেশি কিছুক্ষণের আগে পশ্চিম দিগন্তে গভীর কমলা রঙের সূর্য অস্ত গেছে। আকাশে লাল আলো ছিল ছড়িয়ে। এখন সব অন্ধকার। আকাশে ভাঙা চাঁদ। জ্যোৎস্না খুব উজ্জ্বল নয়।

তীরভূমির কাছ দিয়ে জাহাজ চলেছে। ভাইকিংরা ডেক-এর এখানে-ওখানে শুয়ে। বসে ছিলে। জাহাজের গতি বেশ কমে গেছে। হ্যারি ডেক-এ উঠে এলো। দেখল জাহাজের শ্লথগতি। ও সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামল। চলল ফ্রান্সিসের কেবিনঘরের দিকে। কেবিন ঘরের সামনে এসে হ্যারি দরজায় টোকা দিল। মারিয়া দরজা খুলে দাঁড়াল। বলল–কী ব্যাপার হ্যারি!

সমস্যায় পড়েছি। ফ্রান্সিস ডাকল–হ্যারি ভেতরে এসো। হ্যারি কেবিন ঘরে ঢুকল। বলল-বাতাস একেবারে পড়ে গেছে। সব পাল নেতিয়ে পড়েছে। জাহাজের গতি কমে গেছে। কী করবে বলো।

–আমি বিকেলে ডেক-এ গিয়েছিলাম। দেখেছি সব। হাওয়ার গতি না বেড়ে ওঠা পর্যন্ত এভাবেই যেতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।

–থাক না। বন্ধুরা একটু হাত-পা ছড়িয়ে বসুক। গল্পটল্প করুক। গভীর রাতের দিকে দেখো বাতাসের গতি বাড়বে। অনেকবারই এমন হতে দেখেছি। ফ্রান্সিস বলল।

– দাঁড় টানলে জাহাজের গতি বাড়তো। হ্যারি বলল।

–তাহলে দেখা যাক। হ্যারি বলল। ও ডাক-এ উঠে এলো। মাস্তুলে ঠেসান দিয়ে বসল। অপেক্ষা করতে লাগল কখন বাতাসের বেগ বাড়ে।

মাস্তুলের মাথায় বসেছিল নজরদার পেড্রো। চাঁদের আলো খুব উজ্জ্বল নয়। তাই পেড্রোকে চোখ কুঁচকে চারদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে হচ্ছিল।

হঠাৎ দেখল তীরভূমি দিয়ে মশাল হাতে কারা ছুটে আসছে। পেড্রো চোখ কুঁচকে স্থির তাকিয়ে রইল কিন্তু চাঁদের অস্পষ্ট আলোয় ঠিক বুঝল না ওরা কারা।

পেড্রো গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব তীরভূমি দিয়ে একদল লোক ছুটে আসছে আমাদের জাহাজের দিকে। ফ্রান্সিসকে খবর দাও।

হঠাৎ তখনই মেঘ সরে গেল। চাঁদের আলো অনেকটা স্পষ্ট হল। পেড্রো দেখল। যারা মশাল হাতে ছুটে আসছে তারা সংখ্যায় পাঁচজন। সবাই সশস্ত্র যোদ্ধ।

ততক্ষণে ফ্রান্সিসদের কাছে খবর পৌঁছে গেছে। ফ্রান্সিস ও মরিয়া জাহাজের ডেক এ উঠে এলো। রেলিং ধরে তাকিয়ে রইল। সত্যি পাঁচজন সশস্ত্র সৈন্য আসছে। হাত নেড়ে কী বলছে। ওদের কথা ক্ষীণভাবে শোনা গেল। হ্যারি বলল–ফ্রান্সিস ওরা পোর্তুগীজ ভাষায় কথা বলছে। জাহাজ থামাতে বলছে। কী করবে?

–তাই ভাবছি। তবে এটা বোঝা গেল যে আমরা পোর্তুগালে এসেছি। ফ্রন্সিসদের ঘিরে ভাইকিংরা দাঁড়িয়ে ছিল। শাঙ্কো বলল

–ফ্রান্সিস মাত্র তো পাঁচজন। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা ওদের হারিয়ে দিতে পারবো। ..

না শাঙ্কো–আমি লড়াই চাই না। ফ্রান্সিস বলল।

হ্যারি বলল–এক কাজ করো–ওদের জাহাজে উঠতে দাও। ওরা কী বলতে চায় শুনি। তারপর যা করার করবো।

–বেশ–ফ্লেজারকে বলো জাহাজ তীরভূমিতে নিতে। পাটাতনও পেতে দাও।

ফ্লেজার ফ্রান্সিসদের নির্দেশমতো জাহাজ তীরে ভেড়াল। পাটাতন ফেলা হল। সৈন্যরা পাটাতন দিয়ে জাহাজে উঠল। তার আগে বালিয়াড়িতে ওর মশাল পুঁতে রাখল।

পাঁচজন জাহাজে উঠতে ফ্রান্সিস এগিয়ে গেল। হ্যারিও সঙ্গে গেল। ওদের মধ্যে একজন সর্দার গোছের লোক ভাঙা ভাঙা পোর্তুগীজ ভাষায় বলল- তোমরা কারা? এখানে এসেছো কেন? তোমাদের দেখেই বুঝতে পারছি তোমরা বিদেশি। তোমাদের দেশ কেথায়?

একগাদা প্রশ্নের উত্তরে হ্যারি বলল–আমরা জাতিতে ভাইকিং। পশ্চিমে য়ুরোপের সমুদ্রতীরে আমাদের দেশ।

-তোমরা জলদস্যু হতে পারো। হ্যারি ক্রুদ্ধস্বরে বলল–কী দেখে আমাদের জলদস্যু বলে সন্দেহ করছো?

–তোমরা এতজন জোয়ান। একসঙ্গে জাহাজে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জাহাজ লুঠ করা তোমাদের পক্ষে খুবই সহজ কাজ। লোকটা বলল।

তখনই মারিয়া ফ্রান্সিসদের কাছে এসে দাঁড়াল।হ্যারি আঙ্গুল তুলে মারিয়াকে দেখিয়ে বলল–ইনি আমাদের দেশের রাজকুমারী। কোনো দেশের রাজকুমারী জলদস্যুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ায় শুনেছো কখনো?

–না–এরকম শুনিনি। লোকটা বলল।

তবে? হ্যারি বলল।

–তাহলে তোমরা রানি উরাকার গুপ্তচর।

–রানি উরাকার নাম আমরা জন্মেও শুনিনি। তাছাড়া তোমাদের রাজা-রানির কোনো ব্যাপারে আমরা নেই। আমরা দেশে দেশে দ্বীপে দ্বীপে ঘুরে বেড়াই। সবার সঙ্গে সহৃদয় সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করি। যদি কোথাও গুপ্তধনের সংবাদ পাই আমরা বুদ্ধিখাঁটিয়ে তা উদ্ধার করি। তারপর সেখানকার শাসককে দিয়ে দিই। ফ্রান্সিস বলল।

–তোমরা তাতে ভাগ বসাও। সর্দারটা বলল।

-না। একটা তামার মুদ্রাও আমরা নিই নি। হ্যারি বলল।

সর্দার গোছের লোকটা দাঁত বের করে হেসে সঙ্গীদের দিকে তাকাল। সঙ্গীরাও হাসল। লোকটা বলল–তোমরা কত কষ্টে গুপ্তধন উদ্ধার করো আর তার এককণাও নাও না–এটা বিশ্বাস হচ্ছে না।

–খুবই স্বাভাবিক। আমরা চোর ডাকাত জোচ্চোরদেরই বেশি দেখি। মানুষ যে অন্যরকমও হয়–মানুষ যে সৎও হয়, হৃদয়বানও হয়, সত্যবাদীও হয় এটা আমরা সহজে বিশ্বাস করতে পারি না। হ্যারি বলল।

যাকগে। তোমাদের বন্দি করা হল। সর্দার বলল।

–কেন? আমরা তো কোনো অপরাধ করিনি। হ্যারি বলল।

–সেসব বুঝি না। সর্দার বলল।

আমরা দেশে ফিরে যাচ্ছি। আমাদের বাধা দিও না। ফ্রান্সিস বলল।

–তোমরা কি আমাদের সঙ্গে লড়াই করবে? সর্দার বলল।

–না। লড়াই মৃত্যু রক্তপাত এসব আমরা চাই না। হ্যারি বলল।

কাপুরুষ। সর্দার বলল।

শাঙ্কো এগিয়ে এসে নিজেদের দেশের ভাষায় বলল–ফ্রান্সিস আমরা বিনাযুদ্ধে এভাবে বন্দি হবো না। আমরা লড়াই করবো। অন্য ভাইকিং বন্ধুরা চিৎকার করে উঠল– ও-হো-হো।

সৈন্য কজন একটু ঘাবড়াল।

ফ্রান্সিস বলল–ভাইসব। শান্ত হও। সময় সুযোগমতো লড়াই করবো। এখানে ধারেকাছে সেনানিবেস থাকা অসম্ভব নয়। একবার লড়াইয়ে নামলে এরা দু-একজন মারা য়াবে দু-একজন পালাবে। সেনানিবাসে এই সংবাদ পৌঁছেলে কত না সৈন্য ছুটে আসবে কে জানে। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল–দেখো-বাতাস পড়ে গেছে। শুধু দাঁড় বেয়ে আমরা বেশিদূর যেতে পারবো না। ধরা পড়ে যাবো। তখন লড়াই মানেই আমাদের মৃত্যু। কাজেই আগে সব শুনি। হ্যারি ওদের কাছে শোনো তো এখানকার রাজা কে? রানি উরাকা কে? কী জন্যে ওরা আমাদের রানি উরাকার গুপ্তচর বলে ভাবছে?

হ্যারি জিজ্ঞেস করল–তোমাদের রাজার নাম কী?

–মহামান্য গঞ্জালেস। সর্দার বলল।

–রানি উরাকা কোথাকার রানি? হ্যারি জানতে চাইল।

আমরা যেখানে আছি এটা রানি উরাকার দেশের সীমা। এখান থেকে কিছু দূরে গেল রানি উরাকার দুর্গ দেখতে পাবে। যান তো–এসব বলে কী হবে। তোমার সব জেনেই এখানে এসেছো। রানি উরাকা তোমাদের পাঠিয়েছে। মহামান্য গঞ্জালেসের সৈন্যসংখ্যা কত? তার সেনানিবাস কোথায়? এসব খবর সংগ্রহের জন্যেই তোমাদের পাঠানো হয়েছে। এখন ধরা পড়ে অন্যরকম কথা বলছো যেন কিছুই জানো না। সর্দার বলল।

–আমরা আগেও বলেছি এখনও বলছি–রানি উরাকার নামও আমরা কোনোদিন শুনিনি। তোমাদের কাছেই প্রথম শুনলাম। ফ্রান্সিস বলল।

–যাক গে–তোমাদের বন্দি করা হল। সর্দার বলল।

ওদিকে শাঙ্কো বিস্কোরা দল বাঁধল। অস্ত্রঘর থেকে তলোয়ার সকলের অলক্ষ্যে এনে সিঁড়িঘরের পেছনে এসে দাঁড়াল। সৈন্যরা যখন ফ্রান্সিসদের বন্দি করতে এগিয়েএলো তখন শাঙ্কোরা সৈন্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। অতর্কিত এই আক্রমণে সৈন্যরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরেই ওরা কোমরের অসিকোষ থেকে তলোয়ার বের করল। ততক্ষণে দুজন সৈন্য শাঙ্কোদের তলোয়ারের মার খেয়ে ডেক-এ পড়ে গেছে। শুরু হল তলোয়ারের লড়াই। রাজা গঞ্জালেসের সৈন্যরা এলো উষ্ণীষ পরা। ভাইকিংদের তো সেসব নেই। সামনাসামনিই লড়াই চলল। কিছুক্ষণ লড়াই করেই সৈন্যরা বুঝল শাঙ্কোরা তলোয়ার চালাতে কত দক্ষ।

ফ্রান্সিস আর হ্যারি বাধা দেবার সময় পেল না। এখন দুজনেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লড়াই দেখতে লাগল। ফ্রান্সিস বলল হ্যারি–আমরা বিপদে পড়লাম। শাঙ্কোরা মাথা গরম করে আমাদের বিপদ ডেকে আনলো। দুজন ভাইকিং আহত হয়ে ডেক-এ পড়ে গেল।

ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব লড়াই করো না। লড়াই বন্ধ করো। নইলে আমরা বিপদে পড়বো। এখনও কেউ মারা যায় নি। আর কিছুক্ষণ লড়াই চালালে। উভয়পক্ষের কেউ না কেউ মারা যাবে। তার আগে লড়াই থামাও।

ভাইকিংরা লড়াই থামাল। সবাই অস্ত্র ত্যাগ করল। সৈন্যরাও অস্ত্র নামাল। সবাই হাঁপাচ্ছে তখন। শাঙ্কোরা রাজা গঞ্জালেসের দুজন সৈন্যকে রেলিংয়ের ওপর দিয়ে জলে ছুঁড়ে ফেলল।

আহত সৈন্যদের নিয়ে রাজা গঞ্জালেসের সৈন্যরা জাহাজের পাটাতন দিয়ে তীরে নেমে এলো। জলে যে দুজন সৈন্যকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল তারাও দলের সঙ্গে জুটল। সর্দার গোছের সৈন্যটি তলোয়ার উঁচিয়ে বলল– এর ফল তোমাদের ভুগতে হবে।

তীরের বালিয়াড়ি পার হয়ে ঘাসের প্রান্তর পেরিয়ে ওরা দক্ষিনমুখো চলল। তখনই সূর্য উঠল। রোদ ছড়াল সমুদ্রে ফ্রান্সিসদের জাহাজ তীরভূমির গাছ গাছালির মাথায় সবুজ প্রান্তরে। দেখা গেল দূরে সৈন্যরা যচ্ছে। শাঙ্কো বলল- ফ্রান্সিস তুমি বলাতেই আমরা অস্ত্র ত্যাগ করলাম। আর কিছুক্ষণ সময় পেলে ওদের হারিয়ে দিতে পারতাম।

তা পারতে। লড়াইয়ের সময় মাথা উত্তেজিত থাকে। দু-একজন সৈন্য নিশ্চয়ই মারা পড়ত। আমাদের অপরাধ বেশি হত। ওরা আমাদের বন্দি করতে এসেছিল। আমাদের ওরা আক্রমণ করেনি।

হ্যারি বলল–যা হবার হয়ে গেছে। এখন ফ্রান্সিস কী করবেন?

–এক্ষুণি নোঙর তোলো। জাহাজ ছাড়ো। দাঁড় টানো। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমদের এ তল্লাট ছেড়ে পালাতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।

ভাইকিংরা কাজে নেমে পড়ল। জাহাজের গুটিয়ে রাখা পালগুলো খুলে দিল। পালগুলো অল্প ফুলে উঠল। কারণ বাতাস এসে গেছে। নোঙর তোলা হল। একজন দাঁড়ঘরে চলে গেল। দাঁড়টানা শুরু হল। জাহাজ চলল।

মাস্তলের মাথায় বসা নজরদার পেড্রো গলা চড়িয়ে বলল–ফ্রান্সিস, ঘোড়ায় চড়ে কারা আসছে, ধুলো উড়িয়ে খুব দ্রুত আসছে।

–দক্ষিন দিক থেকে তাই না? ফ্রান্সিস বলল।

–হ্যাঁ। পেড্রো বলল।

–এখন কী করবে ফ্রান্সিস? হ্যারি বলল।

–ধরা দেব। উপায় নেই। ফ্রান্সিস বলল।

— একবারে লড়াই না করে? হ্যারি বলল।

–এখন তো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। দেখো–কত সৈন্য আসছে। ঘোড়ায় চড়ে আসছে মাত্র কয়েকজন। পেছনে তাকিয়ে দেখো। পদাতিক সৈন্য কত! ফ্রান্সিস বলল।

–আবার বন্দিজীবন। হ্যারি বলল।

–বন্দিদশা মেনে নেব। সময় সুযোগমতো পালাবো। এছাড়া কোনো উপায় নেই। ফ্রান্সিস বলল।

অল্পক্ষণের মধ্যেই অশ্বারোহীরা কাছে এসে পড়ল। তাদের গলায় বর্মে উষ্ণীষে রোদ পড়েছে। চক্ করছে।

অশ্বারোহীরা তীরের কাছে নামল। একজন দীর্ঘদেহী যোদ্ধা ঘোড়া থেকে নেমে এগিয়ে এলো বালিয়াড়িতে। গলা চড়িয়ে বলল–জাহাজ থামাও।

–আমরা জাহাজ থামিয়েছি। নোঙর ফেলেছি। হ্যারি গলা চড়িয়ে বলল।

–পাটাতন ফেলো। শাঙ্কোরা পাটাতন পেতে দিল। দীর্ঘদেহী পাটাতনের ওপর দিয়ে হেঁটে জাহাজে উঠল। চারদিকে তাকিয়ে ভাইকিংদের দেখল। তারপর বলল –তোমরা বলছো তোমরা ভাইকিং। দেশ ঘুরতে বেরিয়েছে। কিন্ত আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে না।

–কী করলে তবে বুঝবেন যে আমাদের বিশ্বাস করা চলে? হ্যারি বলল।

–সেসব পরে হবে। আমি এই দেশের সেনাপতি। মহামান্য রাজা গঞ্জালেস আসছেন। তিনি কী বলেন শোনো।

তখন দেখা গেল দাড়ি গোঁফওয়ালা একজন মোটা লোক ঘোড়া থেকে নামলেন। তীরের দিকে এগিয়ে এলেন। বালিয়াড়িতে নামলেন। কোনো কথা না বলে পাতা পাটাতন দিয়ে হেঁটে জাহাজে উঠে এলেন। তার পরনে কালো জোব্বামতো পোশাক। তাতে রুপোলি সুতোর সূক্ষ্ম কারুকাজ। মাথায় ঢেউ-খেলানো সোনার রাজমুকুষ্ট।সকালের আলোয় ঝিকিয়ে উঠছে। কোমরে চামড়ার মোটা ফেট্রি। তাতে হাতির দাঁতের বাঁটওয়ালা তলোয়ার ঝুলছে। গঞ্জালেস জাহাজে উঠে তাকিয়ে তাকিয়ে জাহাজটা দেখলেন। ভাইকিংদের দেখলেন। একবার জোরে কাশলেন। তারপর বেশ ভারী গলায় বললেন- তোমরা আমার সৈন্যদের আহত করছে। আমার একজন সৈন্যও যদি মারা যেত তোমাদের সবকটাকে তাহলে কেটে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতাম। তোমরা নিজেদের ভাইকিং বলে পরিচয় দিয়েছে। পোশাক নয় তোমাদের চেহারা দেখে বুঝতে পারছি তোমরা বিদেশি। তোমরা ভাইকিং। কিন্তু গঞ্জালেস থামলেন। তারপর বলতে লাগলেন–এখন এখানে যুদ্ধের তোড়জোড় চলছে। রানি উরাকা আমাদের দেশ আক্রম

**********