রহস্য রোমাঞ্চ গোয়েন্দা পত্রিকার সেরা ১০০ গল্প
সম্পাদনা – অনীশ দেব
প্রথম প্রকাশ জানুয়ারি ২০০৫
প্রচ্ছদ রঞ্জন দত্ত
‘কনান ডয়াল, চেস্টারটন প্রমুখ লেখক যে সাহিত্য রচনা করতে লজ্জিত নন, তা রচনা করতে আমারও লজ্জা নেই।’
—শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
১৯৫৯ সালে নেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ‘মাসিক রোমাঞ্চ’র সম্পাদক রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেছিলেন ‘আজকাল অনেক নামকরা সাহিত্যিক দেখেছি এই (রহস্য-রোমাঞ্চ) শ্রেণীর গল্প লিখতে লজ্জা বোধ করেন।’ শরদিন্দুর উদ্ধৃতিটি তারই প্রতিক্রিয়া। সাক্ষাৎকারটি ১৯৭০ সালের নভেম্বর (কার্তিক) সংখ্যা ‘মাসিক রোমাঞ্চ’-এ প্রকাশিত হয়েছিল।
‘জাত যদি যায় যাক, তবু নির্লজ্জভাবেই স্বীকার করছি যে রহস্য-কাহিনী আমি ভালোবাসি।
আজ নয়, চিরকালই ভালোবাসি এবং শুধু ডিটেকটিভ গল্প নয়, রোমাঞ্চকর যতরকমের গল্প আছে সব কিছুরই বরাবর আমি ভক্ত। এখনও ভালো সেরকম গল্প পেলে আহার-নিদ্রা ত্যাগ করতে পারি।’
—প্রেমেন্দ্র মিত্র
১৯৫৭ সালে ‘মাসিক রোমাঞ্চ’ পত্রিকার ‘রজতজয়ন্তী সংখ্যা’য় প্রকাশিত প্রেমেন্দ্র মিত্রের ‘সাহিত্যে রোমাঞ্চ’ রচনা থেকে উদ্ধৃত।
‘What makes you think I have a choice?’
—Stephen King
(When asked by an interviewer why he writes about fear and terrible manifestations.)
from Introduction by Kirby McCauley (Ed.) in Dark Forces (Macdonald Futura Publishers, 1980).
.
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
যে-দুজনের সহযোগিতা এই বইটিকে সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করেছে তাঁরা হলেন লেখক-বন্ধু শ্রীপার্থ (আসল নাম সৌরেন দত্ত) এবং সন্তোষকুমার চট্টোপাধ্যায়। হাসিমুখে পুরোনো বহু পত্র-পত্রিকার জোগান দিয়েছেন ওঁরা। এ ছাড়া রহস্য-রোমাঞ্চ পত্রিকার কিছু পুরোনো সংখ্যা দিয়ে সাহায্য করেছেন উপেন মান্না ও স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়।
‘স্প্যান’ পত্রিকার ১৯৯৯ সালের মে-জুন সংখ্যা থেকে গ্রেগরি নেমেকের ছবির অংশ এই বইয়ে অলংকরণ হিসেবে ব্যবহার করেছি। ‘স্প্যান’ পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
বিভিন্ন ঘরোয়া বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে বহু তথ্যের জোগান দিয়েছেন ‘মাসিক রহস্য পত্রিকা’র কর্ণধার গোবিন্দলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর রাহা, অসিত মৈত্র, অশোক রায় ও ‘মাসিক রোমাঞ্চ’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের পৌত্র অভ্রদীপ চট্টোপাধ্যায়। এ ছাড়া ‘মাসিক রোমাঞ্চ’র বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য সংখ্যা অভ্রদীপের কাছ থেকে পেয়েছি।
অক্ষরবিন্যাসের কাজে দীর্ঘ সময় ধরে মুখ বুজে পরিশ্রম করেছেন প্রদ্যুৎ সাহা ও প্রণব সাহা। ওঁদের আমার ভালোবাসা জানাই। প্রুফ সংশোধনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন আরতি বসু। তাঁর সঙ্গে আছেন আরও কয়েকজন—মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায়, মোনালিসা বসাক, সায়ক দেব ও শুভাশিস ঘোষ। এঁদের সবাইকে ধন্যবাদ।
বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই প্রয়াত কমলকুমার মজুমদারের স্ত্রী দয়াময়ী মজুমদারকে। ওঁর কাছে কমলকুমারের ‘তদন্ত’ পত্রিকা সম্পর্কে কয়েকটি জরুরি তথ্য পেয়েছি। আর ধন্যবাদ জানাই স্নেহভাজন রাহুল সেনকে।
লেখকরা ও তাঁদের পরিবারবর্গ গল্প প্রকাশের অনুমতি দিয়ে আমাকে ঋণী করেছেন। ওঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ। আর বিশেষ অভিনন্দন জানাই পত্র ভারতীর কর্ণধার বন্ধুবর ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়কে। এই বই প্রযোজনার বিরল দুঃসাহস ও নিষ্ঠা বোধহয় শুধু ওঁকেই মানায়।
২২ ডিসেম্বর ২০০৪
.
রহস্যময় দিন, রোমাঞ্চকর রাত
সত্যি, সে একটা সময় ছিল বটে! ম্যাগাজিন-স্টলে গেলেই পাওয়া যেত তিন-তিনটে লোভনীয় পত্রিকা ‘মাসিক রোমাঞ্চ’, ‘মাসিক রহস্য পত্রিকা’, আর ‘মাসিক গোয়েন্দা’। কী যে এক অদ্ভুত আকর্ষণ কাজ করত আমার ভেতরে! ওই পালপ ম্যাগাজিন বা মণ্ড-পত্রিকাগুলো আমাকে নিশির ডাকের মতো টানত। মনে হত, কতক্ষণে ওগুলো হাতে পাব, রুদ্ধশ্বাসে শেষ করব গল্প-উপন্যাসগুলো!
এই যে বইটা আপনি হাতে তুলে নিয়ে এই গৌরচন্দ্রিকাটি পড়ছেন, এই বই তৈরির পিছনে রয়েছে প্রায় ন’ বছরের একরোখা চেষ্টা। আর সেই চেষ্টারও একটা কারণ আছে—যে-কারণটা বোঝাতে গেলে নিজের কথা কিছুটা বলতে হয়। আশা করি আপনি সেটা আত্মপ্রচার না ভেবে ক্ষমা করবেন। আসলে এ যেন ঠিক কোনও আপনজনকে কাছে পেয়ে মনের দরজা খুলে দেওয়া। এই যে আপনি এই বইটা হাতে নিয়ে উলটেপালটে দেখছেন, এ যেন আপনি নন—আমি। কারণ, পাঠক হিসেবে এই বইটা হাতে তুলে নিয়ে আদর করে এর প্রতিটি পৃষ্ঠা ওলটাব, এই ছিল আমার মনের সাধ—গত ন’বছর ধরে, বিশ্বাস করুন। তাই আপনাতে আর আমাতে কোনও তফাত নেই। আমার বুকের ভেতরে জমে থাকা যেসব কথা আমি বলতে চাই সে যেন আপনারই কথা—আপনি, যিনি রহস্য-রোমাঞ্চ-গোয়েন্দা কাহিনির একনিষ্ঠ পাঠক—আমারই মতো।
খুব ছোটবেলা থেকেই রহস্যকাহিনির প্রতি একটা টান টের পেতাম। সেটা বোধহয় বুদ্ধির মারপ্যাঁচে রহস্যের জট ছাড়ানোর নেশায়। তারপর যতই বয়েস বেড়েছে, এই টান বেড়েছে ততই। ছোটবেলার ‘বাজপাখি সিরিজ’ ছেড়ে ধরেছি নীহাররঞ্জন গুপ্তের কিরীটি রায়, শশধর দত্তের দস্যুমোহন, দীনেন্দ্রকুমার রায়ের রবার্ট ব্লেক। বয়েস আরও বাড়ছে—সঙ্গে-সঙ্গে চলেছে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সুখময় মুখোপাধ্যায়, নিশাচর, গজেন্দ্রকুমার মিত্রের তরুণ গুপ্ত, সমরেশ বসুর অশোক ঠাকুর, আরও কত নামী-অনামী লেখক এবং তাঁদের গোয়েন্দাদের কীর্তিকলাপ।
এসবের মাঝেই কখন যেন আর্থার কোনান ডয়েল, এলান পো, আগাথা ক্রিস্টি হাতে চলে এসেছে। ফলে নদী ছেড়ে সাগরের স্বাদ পেতে শুরু করেছি। যতই দিন যায়, রহস্য-রোমাঞ্চ-গোয়েন্দা-ভৌতিক-কল্পবিজ্ঞান কাহিনির প্রতি টান ততই বাড়তে থাকে। সেই অর্থে বিশ-বাইশ বছর বয়েসেই আমি রাশি-রাশি ‘অপাংক্তেয়’ সাহিত্য পড়ে রীতিমতো ‘নষ্ট’ হয়ে গেছি। কিন্তু আশ্চর্য, এইভাবে নিজেকে ‘নষ্ট’ করার জন্য কখনও আক্ষেপ হয়নি।
এইসব বই পড়ার সঙ্গে-সঙ্গে মণ্ড-পত্রিকাগুলোও নিয়মিত পড়ছিলাম। ডবল ডিমাই ষোলো পেজি ফর্মা, লালচে নিউজপ্রিন্ট আর ফরেন নিউজপ্রিন্ট মিলিয়ে লেটার প্রেসে ছাপা, লাইন ব্লকের হেডপিস, বাইকালার লাইন ব্লকে ছাপা প্রচ্ছদ—এই অগৌরবের সাজসজ্জা নিয়েও পত্রিকাগুলো আমাকে টানত, হাতছানি দিয়ে ডাকত। ‘মাসিক রোমাঞ্চ’-র গ্রাহকও ছিলাম টানা বেশ কয়েক বছর। মোটামুটিভাবে ১৯৬৩-৬৪ সাল থেকে (বয়েস তখন বারো-তেরো) এই পত্রিকাগুলো পড়ার সঙ্গে-সঙ্গে হানা দিতাম পুরোনো বই কিংবা ম্যাগাজিনের স্টলে। পত্রিকাগুলোর সংখ্যা জোগাড় করে নিয়ে আসতাম। এ-ছাড়া আর-একটা খনি ছিল যত পুরোনো খবরের কাগজের দোকান। সেখানে রাজ্যের পুরোনো কাগজ হাঁটকে এই সব পত্রিকা খুঁজে বের করে ওজন-দরে কিনে নিয়ে এসে পড়তাম।
এতসব কাণ্ডের মাঝে একদিন একটা ঘটনা ঘটে গেল। একটি গোয়েন্দা-কাহিনি লিখে ডাকে পাঠিয়ে দিলাম ১৬৫ কর্নওয়ালিস স্ট্রিটে (এখনকার বিধান সরণি) ‘মাসিক রহস্য পত্রিকা’র দপ্তরে। ষোলো প্লাস বয়েসে লেখা দুর্বল রচনাটি সতেরো মাইনাস বয়েসে ছাপা হয়ে গেল। সেদিন ম্যাগাজিন স্টলে দাঁড়িয়ে পত্রিকাটি হাতে নিয়ে ছাপা অক্ষরে নিজের নাম (তখন নামের বানানটা ছিল ‘অনীষ’) দেখে হাত এমনভাবে কাঁপছিল যে, নিজের লেখার একটা লাইনও পড়তে পারছিলাম না। সে-রোমাঞ্চ আজও মনে আছে।
গল্পটির নাম ছিল ‘ভারকেন্দ্র’। লালচে নিউজপ্রিন্ট কাগজে লাইন ব্লকে তৈরি একটি হেডপিস দিয়ে (শিল্পী বাদল ভট্টাচার্য) লেখাটি ছাপা হয়েছিল। আজ এই অঙ্গসজ্জার মান নগণ্য বলে মনে হলেও সেসময়ে আমার কাছে ছিল ‘দারুণ’।
তারপর দিন যায়, সম্পাদকদের আশকারায়—’রহস্য’, ‘রোমাঞ্চ’, গোয়েন্দা’—তিনটি পত্রিকাতেই লেখালিখির অভ্যেস দাঁড়িয়ে যায়। ধীরে-ধীরে নিজেকে আমি পালপ ম্যাগাজিনের লেখক বলে ভাবতে থাকি। আর একইসঙ্গে ওইসব পত্রপত্রিকার লেখা মনোযোগ দিয়ে পড়তে থাকি।
সত্তর দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত একই ধরনের আরও কয়েকটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। একটা সময়ে তো এ জাতীয় পত্রিকার সংখ্যা দশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল!
১৯৭৫ সালে টেলিভিশন ভারতে এল, আর আশির দশকের শুরুতে কলকাতায়। হয়তো টিভির জনপ্রিয়তার দৌরাত্ম্যে এই পত্রিকাগুলো স্তিমিত হতে শুরু করল। এবং আশির দশক যতই শেষের দিকে এগোতে শুরু করল, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই পত্র-পত্রিকাগুলোও এগোতে লাগল শেষের দিকে। একে-একে নিভতে-নিভতে ১৯৯০-৯১ সালে ‘ওরা’ চলে গেল—আমি একা দাঁড়িয়ে রইলাম মাঝরাস্তায়।
সেসময়ে মনের ভেতরে কী যে দুঃখ তৈরি হয়েছিল সে আমিই জানি। বেশ মনে পড়ে, আমি আশায়-আশায় থাকতাম, এই বুঝি কেউ তোড়জোড় করে আবার একটা ক্রাইম ম্যাগাজিন বের করে ফেলল। কিন্তু তা হয়নি… আজও হয়নি।
এই পত্রিকাগুলো না-থাকার দুঃখ থেকেই এই বইটা তৈরি করার কথা ভেবেছিলাম। কোনও প্রকাশকের আশ্বাস না চেয়েই শুরু করেছিলাম এই বইয়ের কাজ। তিল-তিল করে কাজ এগোচ্ছিল আর ভেতরের দুঃখটা একটু-একটু করে কমছিল। তারপর…তারপর এতদিন পরে এই বইটা তুলে দিতে পারলাম আপনার হাতে। দুঃখ থেকে তৈরি আনন্দের বই।
আপনি হয়তো জিগ্যেস করবেন, কেন ওই পালপ ম্যাগাজিনগুলো বন্ধ হয়ে গেল? কিন্তু এই প্রশ্নের চটজলদি কোনও উত্তর আমার জানা নেই। তবে এই প্রশ্নটা নিয়ে আমি ভেবেছি অনেক দিন।
উত্তরটা যে সহজে খুঁজে পাইনি তার কারণ, রহস্য-রোমাঞ্চ-গোয়েন্দা পত্র-পত্রিকাগুলো শুরু হয়েছিল দারুণভাবে। আর তাদের ঐতিহ্যও নিতান্ত ফ্যালনা নয়।
সেই কোন ১৯৩২ সালের ১ জানুয়ারি মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় ‘১২, হরিতকী বাগান লেন, কলিকাতা-৬’ (উত্তর কলকাতার মানিকতলার কাছাকাছি) থেকে প্রকাশ করেছিলেন সাপ্তাহিক ‘রোমাঞ্চ’ পত্রিকা। পত্রিকাটির নামকরণ করেছিলেন মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সাহিত্য-মজলিশে নিয়মিত হাজিরা দেওয়া সেদিনকার তরুণ কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র। ‘প্রহ্লাদ’ সবাকচিত্রের প্রচারপুস্তিকায় ‘রোমাঞ্চ’র প্রথম সংখ্যার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। ‘রোমাঞ্চ’র প্রথম সংখ্যার লেখক ছিলেন গীতিকার প্রণব রায়। লেখাটির নাম ‘ইয়াংসু হোটেলের কাণ্ড’। লেখাটি মাপে বড় হওয়ায় প্রথম সংখ্যায় এর একটি অংশ ছাপা হয়। বাকি অংশটি ‘সিঙ্গাপুর কাফে’ নাম দিয়ে প্রকাশ করা হয় দ্বিতীয় সংখ্যায়।
এইভাবে দশ বছর কেটে গেল। তার কিছুদিন পরেই মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় প্রয়াত হন। কিন্তু সাপ্তাহিক ‘রোমাঞ্চ’ থামেনি। ১৯৫২ সালে ‘রোমাঞ্চ’ রূপবদল করল সাপ্তাহিক থেকে হল মাসিক। নামী-দামি লেখকরা নিয়মিত লিখতে থাকলেন ‘মাসিক রোমাঞ্চ’-এ।
‘রোমাঞ্চ’ যখন সাপ্তাহিক থেকে মাসিক হয় তখন সম্পাদনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়। তাঁর শ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল আরও একজনের হাড়-ভাঙা খাটুনি। তিনি হলেন রঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়ের অগ্রজ অমিত চট্টোপাধ্যায়। ওঁদের ‘গোলাপ প্রিন্টিং ওয়ার্কস’ থেকে মুদ্রিত হত ‘মাসিক রোমাঞ্চ’—ওই ১২ নম্বর হরিতকী বাগান লেন থেকেই। অমিত চট্টোপাধ্যায় নিজেই মেশিন চালিয়ে ‘রোমাঞ্চ’র ফর্মা ছাপতেন। আর পাশাপাশি লিখতেন রহস্য-রোমাঞ্চ কাহিনি—স্বনামে এবং বেনামে। অনুজ রঞ্জিতও মোটেই পিছিয়ে ছিলেন না। নিজেদের পত্রিকায় লেখালিখির পাশাপাশি দিব্যি কম্পোজ করতে পারতেন। দু-ভাই যে পত্রিকাটিকে ভালোবেসে কী পরিশ্রম করতেন ভাবাই যায় না!
বিমল করের মুখে শুনেছি, তিনি আর তাঁর কবি-বন্ধু অরুণ ভট্টাচার্য মিলে একটি রহস্য জাতীয় পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন। নাম ছিল ‘বিমল করের রহস্য পত্রিকা’। সম্ভবত পত্রিকাটি ১৯৫০-৫১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। স্বল্পকালজীবী এই পত্রিকাটির কোনও সংখ্যা আমার হাতে আসেনি।
পঞ্চাশের দশকেই কোনও এক সময় কানু ঘোষের সম্পাদনায় ‘কুয়াশা’ নামে আরও একটি ক্ষণস্থায়ী পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল। এ-পত্রিকাটিও আমার কাছে অধরা থেকে গেছে।
১৯৫২ সালে সাহিত্যিক কমলকুমার মজুমদার ‘তদন্ত’ নামে একটি ‘ডিটেকটিভ সাপ্তাহিক’ বের করেন। কিন্তু সেটিও কয়েক সংখ্যার বেশি স্থায়ী হয়নি।
কমলকুমার যে ক্রাইম সাহিত্য নিয়ে ভাবতেন তার ইশারা পাওয়া যায় ‘তদন্ত’র প্রথম
