যৌবনজ্বালা

যৌবনজ্বালা

অন্নদাশঙ্কর রায়

যৌবনজ্বালা

Books Pointer Iconঅন্নদাশঙ্কর রায়
Books Pointer Iconshort story

Posted byকাব্য রচিত31-Oct-2025

Change color

ডিনার শেষ হলে মহিলারা উঠে গেলেন বসবার ঘরে! আমার স্ত্রী চলে যাচ্ছেন দেখে অন্যমনস্কভাবে আমিও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করছি, এমন সময় পিছন থেকে আমার কোট ধরে টানলেন গৃহকর্তা ব্যারিস্টার মৌলিক। কানে কানে বললেন, ‘কথা আছে।’

আমি থমকে দাঁড়ালুম। ‘কী কথা!’

তিনি মুখ টিপে মুচকি হাসলেন। কথাটা আর কিছু নয়, এটিকেটের ভুল। বলতে হল না যে মহিলারা কিছুক্ষণ নিরালায় থাকবেন, সে-সময় পুরুষদের যাওয়া বারণ। তাঁর হাসি থেকে অনুমান করলুম কী কথা। চোরের মতো চুপি চুপি ফিরে এলুম খানা কামরায়। একটা ফাঁড়া কেটে গেল।

ইতিমধ্যে জনা চারেক অভ্যাগত মিলে জটলা শুরু করে দিয়েছিলেন। হাতে পানপাত্র, মুখে চুরুট। আমার তো ওসব চলে না, আমি এক পেয়ালা কফি হাতে ওঁদের সঙ্গে ভিড়ে গেলুম। ভিড় দেখলেই ভিড় বাড়ে। যে যার চেয়ার টেনে নিয়ে ঘিরে বসল চার ইয়ারকে। কেউ কেউ টেবিলে ঠেস দিয়ে দাঁড়াল।

প্রফেসর মণিমোহন দে বলেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার প্রদোষকুমার সেনকে, ‘তুমি অসম থেকে আসছ। তুমিই বলতে পারবে আসলে কী হয়েছিল। আমরা তো নানা মুনির নানা বয়ান শুনেছি। কেউ বলে শিকার করতে গিয়ে দৈব দুর্ঘটনা। কেউ বলে স্রেফ আত্মহত্যা।’

প্রদোষ মাথা নাড়লেন। ‘না, অ্যাক্সিডেন্ট নয়।’

সকলে বুঝতে পারল বিকল্পে কী! তবু মুখ ফুটে জিজ্ঞাসা করল বীরেশ্বর ঘোষাল—ব্যারিস্টার। ‘তা হলে কী?’

‘সুইসাইড।’

‘সুইসাইড!’ ঘোষাল উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘আমি বিশ্বাস করিনে। স্বয়ং যুধিষ্ঠির এসে হলফ করে বললেও আমি বিশ্বাস করব না যে বিশ্বজিৎদা আত্মহত্যা করেছে। বিলেতে থাকতে আমাকে রক্ষা করেছিল কে? কাকে আমি বিবেকের মতো ভয় করতুম? জিতেন্দ্রিয়, চরিত্রবান, সত্যনিষ্ঠ—’

আমি বুঝতে পেরেছিলুম যাঁর কথা হচ্ছিল তিনি আমার কলেজের বিখ্যাত খেলোয়াড় বিশ্বজিৎ সিংহরায়। বাংলার রাজপুত। ছ-ফুট লম্বা, সুশ্রী চেহারা, মুখচোরা প্রকৃতি। খুব কম ছেলের সঙ্গেই মেশেন, যাদের সঙ্গে মেশেন তারা বলে মনটা সাদা, যাদের সঙ্গে মেশেন না তারা বলে মাথাগরম। আমি ছিলুম বয়সে অনেক ছোটো, দূর থেকে দেখতুম আর শ্রদ্ধা করতুম।

‘কিন্তু কথাটা কি সত্য?’ আমি চেঁচিয়ে বললুম ঘোষালকে বাধা দিয়ে।

‘চুপ। চুপ।’ গৃহকর্তা আমার পিঠে টোকা মেরে সাবধান করে দিলেন যে, ও-ঘরে মহিলারা রয়েছেন।

ঘোষাল তখনও গজগজ করছিল। ‘কিন্তু কেন? কোন দুঃখে আত্মহত্যা করবেন বিশ্বজিৎদার মতো লোক। একটা নষ্ট মেয়েমানুষের জন্যে?’

প্রদোষ দপ করে জ্বলে উঠলেন, ‘নষ্ট মেয়েমানুষ কাকে বলছ?’

‘তুমি জান কাকে বলছি। শি ইজ এ বিচ।’

‘চুপ চুপ।’ বলে মৌলিক তার মুখ চেপে ধরলেন।

প্রদোষ বললেন, ‘যে বিচ নয় তাকে বিচ বলে ভুল করেছিল বিশ্বজিৎ। সেইজন্যে এ ট্র্যাজেডি! কিন্তু আগে দরজাগুলো ভেজিয়ে দেওয়া হোক। এসব কথা মেয়েদের জন্যে নয়।’ এই বলে প্রদোষ আরেকটা সিগার ধরালেন।

আমরা যে যার চেয়ার থেকে লাফ দিয়ে উঠে দরজাগুলো ভেজিয়ে দিয়ে এলুম। কে জানে, মেয়েরা যদি শুনতে পায় তাহলেই হয়েছে। গৃহকর্তা সবাইকে দিয়ে গেলেন যার যা অভিরুচি। আমি নিলুম আর এক পেয়ালা কফি। প্রদোষ বলতে আরম্ভ করলেন।

দুই

ঘোষালকে পাপের হাত থেকে রক্ষা করবার জন্যে ছিল বিশ্বজিৎ, কিন্তু বিশ্বজিৎকে ভ্রান্তির হাত থেকে রক্ষা করবার জন্যে ছিল না তেমন কেউ। বিশ্বজিৎ হচ্ছে সেই জাতের মানুষ যারা রামধনুর সাতটা রং দেখতে পায় না, যাদের চোখে দুটি মাত্র রং। সাদা আর কালো। মেয়েদের সে দু-ভাগে বিভক্ত করেছিল। ভালো আর মন্দ।

জান তো মেয়েরা কত বিচিত্র প্রকৃতির। কোনো দুজন মেয়ের প্রকৃতি এক নয়। এমনকী কোনো একজন মেয়ের প্রকৃতি সবসময় একরকম নয়। সকালে বিকালে শাড়ির রং বদলায় কেন জান? মনের রং বদলায়। এই আশ্চর্য প্রাণীকে নিয়ে প্রাণে বাঁচতে হলে সাত-সাতটা রঙের জন্যে চোখ থাকা চাই। যারা রংকানা তাদের উচিত নয় বেশি বয়স পর্যন্ত অবিবাহিত থাকা। বিশ্বজিতের বাবা তার বিয়ে না দিয়ে তাকে বিলেত পাঠিয়েছিলেন এই ভরসায় যে বিশ্বজিতের নীতিবোধ নির্ভরযোগ্য। তিনি জানতেন না যে ওই ধরনের পুরুষরাই মরে সকলের আগে। মেয়েদের ওরা চিনতে পারে না। ভুল করে। ভুলের মাশুল মৃত্যু।

বিশ্বজিতের ধারণা ছিল সেই মেয়েরাই ভালো যারা পুরুষদের সঙ্গে মেশে না। যারা পুরুষদের সঙ্গে মেশে তারা খারাপ। যারা যত বেশি মেশে তারা তত বেশি খারাপ। ওদের বাড়িতে ওরা কড়া পর্দা মানত। বাড়ির মেয়েদের সম্বন্ধে ওরা ছিল পুরোদস্তুর রক্ষণশীল। অথচ বাইজির নাচ না হলে ওদের বাড়ির কোনো উৎসব পূর্ণাঙ্গ হত না। সাদা আর কালো, ভালো আর মন্দ, এর বাইরে যে আর কোনো রং বা রীতি থাকতে পারে বিশ্বজিতের সে-শিক্ষা হয়নি দেশে থাকতে। বিদেশে গিয়ে হতে পারত, কিন্তু ওই যে বললুম তেমন কেউ ছিল না যে শেখাবে।

বিশ্বজিৎ পাপের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল তা ঠিক। তিন বছর বিলেতে কাটিয়েও সে মেয়েদের সঙ্গে খেলা করেনি, নাচেনি, অন্যান্য পুরুষের অসাক্ষাতে কথা বলেনি। মেয়েরা পর্দা মানে না বলে ও নিজে একপ্রকার পর্দা মানত। মেয়েদের সামনে বড়ো-একটা বেরোত না, ট্রামে-বাসে, টিউব ট্রেনে গা ঘেঁষে বসত না দাঁড়াত না। ওর জন কয়েক ভক্ত ছিল, যেমন ঘোষাল। তাদের কারও সঙ্গে তরুণী বান্ধবী দেখলে ও তাকে বয়কট করত। শেষপর্যন্ত ওর ওই একমাত্র ভক্তই অবশিষ্ট ছিল। এবং সেটিও একটি ভন্ড। মাফ কোরো ঘোষাল। নয়তো হাটে হাঁড়ি ভাঙব।

দেশে ফিরে বিশ্বজিৎ বিয়ে করলে পারত, কিন্তু ওর এক ধনুর্ভঙ্গ পণ ছিল। যতদিন-না নিজের পয়সায় মোটর কিনেছে ততদিন ও নিজেকে ওর শ্বশুরকুলের সমকক্ষ মনে করবে না। সমকক্ষ না হয়ে পাণিগ্রহণ করবে না। ও ফরেস্ট সার্ভিসে যোগ দিয়ে অসমে চাকরি নিল। চাকরির গোড়ার দিকে যে মাইনে দেয় তাতে মোটর কেনার প্রশ্ন ওঠে না। বিয়ের প্রস্তাব এলে মোটরের অভাব বলে ও সে-প্রস্তাব বানচাল করে দেয়। অবশ্য যারা মেয়ে দিতে চায় তারা মোটর দিতেও রাজি। কিন্তু তাহলে সমকক্ষতার গৌরব থাকে না।

শিকারের শখ ওর ছেলেবেলা থেকে ছিল। ফরেস্ট অফিসার হয়ে ওটা হয়ে উঠল ওর একমাত্র শখ। বনজঙ্গল পরিদর্শন করতে গিয়ে ও শিকার করে বেড়াত মাসের মধ্যে পনেরো-বিশ দিন। যতরকম বুনো জানোয়ার ওর খপ্পরে পড়ত তাদের সহজে নিস্তার ছিল না। নিজেও বিপদে পড়ত কোনো কোনো বার। ওকে দেখলে মনে হত না যে ও ঠিক সামাজিক মানুষ। অথচ লোক অতি অমায়িক। শত্রু বলতে কেউ ছিল না ওর। কাউকে মাংস, কাউকে চামড়া, কাউকে শিং উপহার দিয়ে ও সবাইকে খুশি রেখেছিল।

এমনসময় ওখানে শিকারের খোঁজে এলেন হায়দরাবাদের এক সামন্ত রাজা ও তাঁর রানি। এঁরা কিছুদিন থেকে শিলঙে বসবাস করছিলেন। ইউরোপে এঁরা পড়াশোনা করেছেন, ইউরোপের প্রাকৃতিক দৃশ্য এঁদের ভালো লাগে, সেদিক থেকে শিলং ভারতে অদ্বিতীয়। শিকার উপলক্ষ্যে এঁরা মাঝে মাঝে বনেজঙ্গলে ঘোরেন, ফরেস্ট বাংলোয় ওঠেন। ফরেস্ট অফিসারদের সাহায্য নেন। অফিসাররাও এঁদের সঙ্গ পেয়ে কৃতার্থ বোধ করেন। হায়দরাবাদের সামন্ত রাজাদের ধনের প্রসিদ্ধি আছে। অফিসারদের কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে এঁরা গলা থেকে মণিমুক্তার হার খুলে দেন। যারা নেয় না তারাও মুগ্ধ হয়ে যায়।

বিশ্বজিৎ নিল না, মুগ্ধ হল। রাজা রানি দুজনে তাকে সনির্বন্ধ নিমন্ত্রণ জানালেন, সে যেন শিলঙে তাঁদের অতিথি হয়। বিশ্বজিৎ বার কয়েক ‘না না, তা কি হয়’ ইত্যাদি বলার পর কেমন করে এক বার ‘আচ্ছা’ বলে ফেলল। লোকটা সত্যনিষ্ঠ। ‘আচ্ছা’ যখন বলেছে তখন শিলং তাকে যেতেই হবে, ছুটি তাকে নিতেই হবে, রাজরাজড়ার অতিথি তাকে হতেই হবে, যদিও সে তাঁদের সমকক্ষ নয়। ওঁরা তাকে ক্লাবে নিয়ে গিয়ে হোমরাচোমরাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন, গভর্নমেন্ট হাউসে নিয়ে গেলেন কল করতে। ওঁরা ওর পরিচয় দিলেন এই বলে যে বাঘ ভালুকের এত বড়ো শত্রু অসম প্রদেশে আর নেই। এর ফলে লাটসাহেবের প্রাইভেট সেক্রেটারি তাকে ধরে বসলেন তাঁর জন্যে যেন শিকারের আয়োজন করা হয়।

বিশ্বজিৎ যখন শিলং থেকে ফিরল তখন তার অন্তরে ঝড়ের মাতন। এক এক সময় তার মনে হচ্ছে কাজটা সে ভালো করল না। রাজঅতিথি হবার মতো যোগ্যতা তার কই! তারপরে মনে হচ্ছে, যা-ই বলো এমন সৌভাগ্য আর কোনো ফরেস্ট অফিসারের হয়নি। লাটসাহেবের প্রাইভেট সেক্রেটারিকে গোটা দুই বাঘ মারিয়ে দিতে পারলে স্বয়ং লাটসাহেব এসে হাজির হবেন। তারপরে প্রমোশন কে ঠেকায়!

প্রাইভেট সেক্রেটারি নিজে আসতে পারলেন না, এলেন তাঁর মেমসাহেব। আর কে এলেন শুনবে? রানিসাহেব। এবার রাজাসাহেব অন্য কাজে ব্যাপৃত ছিলেন। দুই ভদ্রমহিলার পার্শ্বচর হল বিশ্বজিৎ। তার মাথাটা একটু ঘুরে গেল। যদিও সে তাঁদের সমকক্ষ নয় তবু সে-ই একমাত্র অফিসার যাকে তাঁরা এই সম্মানের উপযুক্ত বিবেচনা করেছেন। বিদায়কালে দুজনেই তার আকাশস্পর্শী প্রশংসা করলেন। রানি তো সোজাসুজি বলে বসলেন, ‘আর কারও সঙ্গে শিকার করে আমি এমন আনন্দ পাইনি। যতদিন অসমে আছি ততদিন আর কারও সঙ্গে শিকার করব বলে মনে হয় না।’

এসব হল সামাজিকতার অঙ্গ। কিন্তু বিশ্বজিৎ লোকটা অসামাজিক তথা সত্যনিষ্ঠ। তাই অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করল। ও বোধহয় আশা করেছিল এরপর লাটসাহেব আসবেন অরণ্যবিহারে। সেরকম কোনো খবর কিন্তু এল না। কিছুদিন আনমনা থেকে সে একাই বেরিয়ে পড়ল সফরে। একমাস তাঁবু ঘাড়ে করে নানা দুর্গম স্থলে ঘুরল। তারপরে সদরে ফিরে অবাক হয়ে গেল যখন দেখল রানি তার জন্যে সারকিট হাউসে অপেক্ষা করছেন। এবারেও রাজা সময় পাননি। কোনো মহিলাও নেই তাঁর সঙ্গে, অবশ্য পরিচারিকা বাদে।

এ এক পরীক্ষা। বিশ্বজিৎ প্রশ্নপত্রের উত্তর খুঁজে পেল না। মাইনের টাকা তুলে, বিল মিটিয়ে, জমে ওঠা ফাইল পরিষ্কার করে দু-এক দিনের মধ্যেই আবার রওনা হল রানির সঙ্গী হয়ে। খুব যে তার ভালো লাগছিল তা নয়। একে ক্লান্ত, তার উপর সন্দিগ্ধ। যে মেয়ে পরপুরুষের সঙ্গে শিকারে যায় সে কি শুদ্ধ? সে কি নিষ্পাপ? এ কী ভীষণ পরীক্ষা তার জীবনে! এরপরে কে সহজে বিশ্বাস করবে যে সে নিজে অপাপবিদ্ধ! রানিকে ‘না’ বলার মতো মনের জোর তার ছিল না। বলতে পারল না যে পরস্ত্রীর সঙ্গে শিকার করতে যাওয়া তার বিবেকবিরুদ্ধ। কিংবা তার শরীর ভালো নেই, কোমরে ব্যথা, ডাক্তার বিশ্রাম নিতে বলেছে। অথচ সমস্তক্ষণ অশুচি বোধ করল, অপরাধী বোধ করল।

রানি বিলেতে পড়াশুনা করেছেন, পুরুষমানুষের সঙ্গে মেলামেশায় অভ্যস্ত। বিশ্বজিৎ বিলেতে ছিল শুনে তিনি ওকে নিজের সেটের একজন বলেই ধরে নিয়েছিলেন। অন্তরঙ্গতার ছলে কখনো বলেন ‘ডিয়ার’, কদাচিৎ ‘ডারলিং’। এসব মুখের কথা, মনের কথা নয়। কিন্তু বিশ্বজিতের তো অভিজ্ঞতা নেই। সে ভাবল এসব মনের কথা। রানি কি তাহলে তার প্রেমে পড়েছেন? এ কি কখনো সম্ভব? তার মতো সামান্য লোকের সঙ্গে প্রেম! ভাবনায় পড়ল বিশ্বজিৎ। ওদিকে আবার প্রেম কথাটার ওপরে তার বিরাগ ছিল। জিনিসটা ভালো নয়। যার সঙ্গে তার বিয়ে হয়নি তার সঙ্গে প্রেম তো রীতিমতো পাপ। বিশ্বজিৎকে এই পাপের হাত থেকে রক্ষা করবে কে?

একবার শিকার থেকে সে যখন ফিরল তখন তার অন্তরে সাগরমন্থনের মতো একটা ব্যাপার চলছিল। সেও প্রেমে পড়ল নাকি! পরস্ত্রীর সঙ্গে প্রেম! এর চেয়ে মরণ শ্রেয়। রানি চলে গেলেন বহুসংখ্যক জন্তুজানোয়ার মেরে। জানতে পেলেন না যে আরও একটি প্রাণীকেও মেরে রেখে গেলেন। এরকম আলোড়ন সে আর কখনো অনুভব করেনি। তার বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না যে মেয়েটা খারাপ। কিন্তু সে নিজে কোন ভালো? কী করে সে তার ভাবী বধূকে বোঝাবে যে তার হৃদয়ে লেশমাত্র অনুরাগ জন্মায়নি! নিজের ওপর তার যে অবিচল বিশ্বাস ছিল তা যেন একটু নড়ল। সে কি সত্যি সচ্চরিত্র, না সেও ডুবে ডুবে জল খায়? তার কি উচিত ছিল না রানির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছেদ করা? কিন্তু সে তা পারল কই? রানি যখন জানতে চাইলেন, ‘আবার কবে শিলং আসছেন বলুন,’ সে উত্তর দিল, ‘আপনাদের অসুবিধা হবে।’ রানি সকৌতুকে বললেন, ‘আমরা কি বাঘ ভালুক যে আপনার জ্বালায় অসম ছেড়ে পালাব? ওয়েল, ডিয়ার। ডু কাম জাস্ট ফর এ ডে!’

অগত্যা এক দিনের জন্যে বিশ্বজিতের শিলংযাত্রা। একদিনের জায়গায় তিন দিন হল, তবু কেউ তাকে ছেড়ে দেয় না। রাজা ডাকেন টেনিস খেলতে, রানি নিয়ে যান সমাজে পরিচয় করাত

**********