বিজয়িনী – মনোজ সেন

বিজয়িনী – মনোজ সেন

মনোজ সেন

বিজয়িনী – মনোজ সেন

Books Pointer Iconমনোজ সেন
Books Pointer Iconshort story

Posted byমৌ বর্মণ24-Jul-2025

Change color

বনপাহাড়ি রিফ্র্যাক্টরি ওয়ার্কস-এর মহিলামহল উদ্‌বেগ-আশঙ্কায় বিকল হয়ে পড়েছে। সত্যি বটে, বনপাহাড়ির চারদিকে প্রায় দুর্ভেদ্য জঙ্গল আর ভেতর থেকে মাঝে মাঝেই ভেসে আসে হাতির চিৎকার, বাঘের চাপা গর্জন কিংবা মুমূর্ষু হরিণের অসহায় হাহাকার। কিন্তু মহিলামহলের অশান্তির কারণ এসব কিছুই নয়। এসবে ভয় পেলে কি আর বনপাহাড়িতে চাকরি করা চলে? সকালবেলা উঠে পেছনের বাগানে যদি একটা ময়াল সাপই না-দেখা গেল বা মহুয়া খেয়ে মাতাল ভালুক যদি বসবার ঘরেই না-ঢুকে পড়বার চেষ্টা করছে জানা গেল, তাহলে আর বনপাহাড়িতে থাকার অর্থ কী? ধানবাদের হেড অফিসে গিয়ে থাকলেই হয়! বনপাহাড়ির মহিলামহল, যাঁরা ধানবাদে বদলি হয়ে যান বা সেখানেই চাকরি করেন, তাঁদের খুব তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে থাকেন। বনপাহাড়িতে থাকতে গেলে সাহস থাকা দরকার।


তা সত্ত্বেও কিন্তু আপাতত বনপাহাড়ির মহিলামহলের চিত্তে আর সুখ নেই। কারণ, না বাঘ নয়, সাপ, হাতি, ভালুক, নেকড়ে কিচ্ছু নয়। মহিলাদের হৃদয় আতঙ্কে বিকল করে দিয়েছেন একজন মহিলাই। ইনি মিস প্রহেলিকা পাল, চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট অর্ণব দাসের শালি। এখন তাঁর মেজদির আমন্ত্রণে ইনি বনপাহাড়িতে এসেছেন বিশ্রাম নিতে।


প্রহেলিকা পাল কি রাক্ষুসি-টাক্ষুসি গোছের কিছু? প্রশ্নটা নিতান্তই অবান্তর। কারণ প্রহেলিকা পালের পরিচয় দিতে যাওয়া ধৃষ্টতা। বাংলা সিনেমা যাঁরা দেখেন বা না-দেখে সিনেমা পত্রিকা পড়েন না-পড়ে চোখ খুলে রাস্তা চলতে গিয়ে দু-একটা সিনেমার বিজ্ঞাপনের দিকে তাকিয়ে ফেলেন, তাঁরা সকলেই প্রহেলিকা পালকে চেনেন। এককথায়, পশ্চিম বাংলার অন্ধ এবং কালারা ছাড়া সকলেই তার মুখশ্রীর সঙ্গে সম্যক পরিচিত। ব্রহ্মচারির পতন’ নামক সিনেমায় তিনি চিত্রাঙ্গদার ভূমিকায় প্রথম দর্শকদের সামনে আসেন এবং সেই থেকে তাঁর অব্যাহতগতি বিজয়রথের তলায় যে কত নিষ্কলুষ কঠিন ব্ৰহ্মচর্য ইত্যাদি গুঁড়িয়ে ধুলো হয়ে গেছে, তার আর ইয়ত্তা নেই। রুপোলি পর্দার প্রহেলিকা সত্যিই কুহকময়ী প্রহেলিকা। বাঘা বাঘা নায়করা তাঁর সামনে ভেড়ার মতো কিংবা ভেড়ুয়ার মতো অভিনয় করে থাকেন।


তবে, তাতে আর কী হয়েছে? সিনেমায় তো এমন কত নায়িকাই আছেন, যাঁরা নির্বিকার মুখে বেশ্যা বা নাচউলির পার্ট করে যাচ্ছেন আর বাড়িতে স্বামী-পুত্র নিয়ে সুখে সংসার চালাচ্ছেন। সিনেমার নায়িকা হলেই ভয়ানক কিছু হতে হবে— এমন তো কোনো কথা নেই।


কিন্তু প্রহেলিকা পালের কথা স্বতন্ত্র।


প্রহেলিকা পর্দায় যেমন, ব্যক্তিগত জীবনেও তেমনই। অসাধারণ রূপ আর ছলাকলায় হদ্দবোকা পুরুষমানুষদের ভুলিয়ে তাদের মোটা মাথাগুলো চিবিয়ে খেতে তাঁর মতো ওস্তাদ আর ভূভারতে দ্বিতীয় জন্মায়নি। ওঁর যাবতীয় নর্মসঙ্গীদের ধরে মনুমেন্টের তলায় দাঁড় করিয়ে দিলে নাকি অনায়াসে একটা রাজনৈতিক সভা চালিয়ে দেওয়া যায়। আর কী বিচিত্র সেই লোকারণ্য! ইংরেজিতে নাকি বলে যে— বৈচিত্র্যই হল গে জীবনের মশলা। কথাটা সত্যি হলে, সেই জনসমাগমে গিয়ে দাঁড়ালে বড়োবাজারের মশলাপট্টিতে এসে ঢুকেছি বলে মনে হবে। কে নেই তাতে? কোটিপতি ব্যবসায়ী, ভবঘুরে পকেটমার, দুর্ধর্ষ খেলোয়াড়, দমকলের ঘণ্টাবাজানেওলা, সমাজবাদী, রাজনৈতিক নেতা, কলেজের ফেল্টমারা অসামাজিক ছাত্র বাঙালি, উড়িয়া, সিন্ধি, হিন্দু বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সিক, মুসলমান, প্রোটেস্ট্যান্ট, ক্যাথলিক ইত্যাদি সকলকেই সেই ভিড়ে খুঁজে পাওয়া যাবে। স্বপ্নসম লোকযাত্রা!


এহেন প্রহেলিকা পালের সান্নিধ্যে এসে যে বনপাহাড়ির মহিলামহল বিহ্বল হয়ে পড়বেন, এতে আর আশ্চর্য কী? কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, প্রহেলিকা পাল সম্পর্কে নানা অতিরঞ্জিত সংবাদ কেউ মহিলামহলকে দিয়েছেন। মোটেই তা নয়। বনপাহাড়ির মহিলামহল কলকাতার বাইরে নিতান্ত গ্রাম্য পরিবেশে থাকলেও মোটেই বোকা বা খবর-টবর রাখেন না এমন নয়। কলকাতার যাবতীয় লেটেস্ট খবরই তাঁদের কাছে পাওয়া যাবে। এমনকী, এমন সব খবর পাওয়া যাবে, যা কলকাতার লোকেরাও ভালো করে জানে না। এই তো সেদিন, কলকাতার শ্রীরাধা গড়াই মারা গেলেন। সেই নিয়ে কলকাতায় কী হইচই। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, না তাঁকে খুন করা হয়েছে, বা তিনি আত্মহত্যা করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন, না নিহত হয়েছেন ভেবে আত্মহত্যা করে ফেলেছেন এ নিয়ে রীতিমতো মাথা কাটাকাটি শুরু হয়ে গেল। বনপাহাড়ির মহিলামহল কি তখন পিছিয়ে ছিলেন? কখনোই নয়। সেই যে তাঁদের কয়েক জনের মধ্যে বাক্যালাপ বন্ধ হয়েছে, সে অবস্থা এখনও পর্যন্ত চলছে।


কাজেই, অতিরঞ্জিত ব্যাপারে ঘাবড়াবার পাত্র মহিলামহল নন। তাঁরা ‘আহ্লাদে জগৎ’ নিয়মিত পড়ে থাকেন। সে কাগজে তো আর বাজে খবর ছাপা হতে পারে না। আর ‘আহ্লাদে জগৎ’-এর সামনে প্রহেলিকা, পেছনে প্রহেলিকা, ভেতরে প্রহেলিকা, ফুলুরি খাচ্ছেন প্রহেলিকা, গাড়ি চালাচ্ছেন প্রহেলিকা, ঘুমোচ্ছেন, নাচ্ছেন, শাড়ি ছাড়ছেন বা শাড়ি পরছেন এককথায়— বহুরূপে সম্মুখে প্রহেলিকা। আর বিশেষ ফিচার, ‘ফিসফিস’ তো প্রতি সংখ্যায় প্রহেলিকার নতুন নতুন প্রেমের ফিসি আর রোমাঞ্চকর কাহিনিতে রমরম করছে। প্রহেলিকার যাবতীয় খবর তো এখান থেকেই পাওয়া। অতএব, মহিলামহল যে ঘাবড়েছেন তার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ আছে।


তা ছাড়া, বনপাহাড়ির একটা পুরুষমানুষও কী পুরুষ, না মানুস? মহিলামহল যদি শক্ত করে ধরে না-রাখতেন, তাহলে আজ এসের কী হাঁড়ির হালই না হত! তাদের না আছে ঘটে বুদ্ধি, না আছে ট্যাকে টাকা। গিন্নিরা কোনোরকমে খাইয়ে দাইয়ে রেখেছেন, তাই। তা না-হলে কালে কাকে চিলে তুলে নিয়ে যেত। কিন্তু, সেজন্যে কী কোনো কৃতজ্ঞতা বোধ আছে? যবে থেকে প্রহেলিকা এসেছেন, তবে থেকে কী খুশি খুশি ভাব! বত্রিশপাটি দাঁত যেন বেরিয়েই আছে। অথচ বড়োসাহেবদের বাংলোগুলোর দিকে যাবার কারোর সাহস নেই, কেবল দূরে দূরে ছোঁক ছোঁক করে বেড়ানো। ব্যাচেলার ছেলেগুলো পর্যন্ত হই-হল্লা বন্ধ করে স্টাইল করে হাঁটাচলা করছে। জানে না, বাবুদের দূর থেকে দেখাচ্ছে যেন কতগুলো গোবক ডিঙি মেরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।


সেদিন বিল্ডিং ওভারসিয়ার ভূপতিবাবুর ডাক পড়েছিল ওদিকের কলোনিতে কী কাজে। ফিরে আসতে না আসতেই এদিকের সবাই মিলে ওঁকে ছেঁকে ধরল। কত ফিসফিয়া কথা, কত খুসখুস হাসি! আসলে কিন্তু সবই বাজে। ভূপতিবাবুর স্ত্রী শোভা বলল, “কিচ্ছু না, কিচ্ছু না। কিছুই দেখেনি। গিয়েছিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফিসার কার্তিক ভৌমিকের বাড়ির রান্নাঘরের ছাদের লিক সারাতে।’ অবিশ্যি কেতো ভৌমিকের বউ সঞ্চারী ভৌমিকটা এক নম্বরের নির্লজ্জ ঢলানি। কিন্তু শোভা তো তার বরকে ভালো করে চেনে, কোনোদিন বেচাল দেখলে ঝ্যাঁটাপেটা করে ভূত বের করে ছেড়ে দেবে না?


কিন্তু, সবাই তো আর সমান হয় না। দুঃখটা তো সেখানেও। ওদিকের লেডিস ক্লাব নাকি আবার ঘটা করে প্রহেলিকাকে পার্টি দিয়েছে। এর কি কোনো মানে হয়? অবশ্য, ওদের কথা আলাদা। ওদের বরেরা সব যা এক-একটি চরিত্র! ঘটে তো কারোর এতটুকুও বুদ্ধি নেই, সন্ধে হলেই খালি মদ খাও আর অন্যের বউয়ের কোমর জড়িয়ে ধরে নাচো। দেখলে অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসে! ওরা পার্টি দেবে না তো দেবে কারা? মেয়ে হয়ে যে মেয়েদের সাহায্য করতে হয়, সেকথা কি ওদের একবারও মনে আসে? যেমন ওদের বরেরা, তেমনি ওরা। এক-একটি অবতার!


জুনিয়ার চার্জহ্যান্ড যজ্ঞেশ দত্তের উনিশ বছরের সদ্য বিয়ে হওয়া বউ দোলা চোখ গোল করে বলল, জানো সরমাদি, ওই মিসেস ভাটিয়া না জিং খায়! ও নিজের চোখে দেখেছে।’


ডেসপ্যাচ ক্লার্ক সচ্চিদানন্দ করনের স্ত্রী সরমা বললেন, ‘দুর ছুঁড়ি! শুধু মিসেস ভাটিয়া কেন? মিসেস রায়, মিসেস গোয়েল, মিসেস কাঙ্গা সবাই খায়।


ইঞ্জিনিয়ারিং স্টোর্স-এর সিনিয়র স্টককিপার ব্রজগোপাল দাসের স্ত্রী মালার সঙ্গে আপাতত সরমার কথা বন্ধ। সরমা যা বলবেন, মালাকে তার প্রতিবাদ করতেই হবে। কাজেই মুখের ভেতর তিন খিলি পান চালান করে দিয়ে মালা বললেন, “সবাই মোটেই খায় না। সবাইকে খারাপ বললে নিজেকেই ছোটো করা হয়। মিসেস বালাসুব্রহ্মনিয়মের কথাই ধর না। কী নিষ্ঠাবতী মহিলা। পুজোআচ্ছা নিয়েই আছেন। এরকম ভালো লোক দেখা যায় না।’


সরমা অন্যদিকে তাকিয়ে বললেন, ‘ভালো হলেই ভালো। তা, হ্যাঁরে টিয়া, জোর গুজব শুনছি, বালসুব্রহ্মনিয়ম সাহেব নাকি প্রোডাকশন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ম্যানেজার হয়ে আসছেন? সত্যি বলেই তো মনে হয়, না রে?’ বলে চোখদুটো একবার বাঁই করে ঘুরিয়ে নিলেন।


মালা ছাড়া সবাই হেসে উঠল। আর হাসল না টিয়া। টিয়ার বর অ্যাকাউন্টসের কনফিডেনশিয়াল স্টেনো, কাজেই অনেক গোপন তথ্য তার জানা থাকে। কিন্তু, যোগ্য সহধর্মিনী টিয়া কক্ষণো মুখ খোলে না। প্রমোশন বা ডিমোশন কিছু ঘটে যাবার পর বলে, ‘আমি তো এসব অনেক আগেই জানতুম।’ বলে খুব একটা ইমপর্ট্যান্ট মুখ করে।


সরমার প্রশ্নে সেরকম একটা মুখভঙ্গি করে যেন কথাটা ঘোরাবার জন্য টিয়া বলল, ‘ওসব কথা বাদ দিন তো সরমাদি। আমরা বলে মরছি এখন নিজেদের জ্বালায়। বরং বলুন তো, এ কলোনির লেডিস ক্লাব কী ঘেন্নার কাজটাই না করল। ওরা যা ইচ্ছে থাক না, তা বলে কি লজ্জাশরমও থাকতে নেই? একটা নোংরা চরিত্রের মেয়েমানুষ, না-হয় হলই খুব নাম করা, তা বলে তাকেই আদর করে ডেকে এনে পার্টি দিয়ে ধেই ধেই করে স্বামীদের সঙ্গে নাচাতে হবে? নিজেদের স্বামীদের সামলাতে পারিস না, ঠিক আছে। সে আর আমরাই বা ক-জন পারি? কিন্তু তাই বলে নিজে সেধে নিজের স্বামীকে প্রহেলিকার কোলে তুঙ্গে দিয়ে আসব, এ যে কল্পনাই করা যায় না।’


সরমা বললেন, “তা যা বলেছিস টিয়া। সেদিন ক্ষীরোদ দত্তের বউ বাণীর সঙ্গে দেখা হল। বলল, “বি কলোনির” মহিলাসমিতিও নাকি ভীষণ মুষড়ে পড়েছে।’


পারচেস অ্যাসিস্ট্যান্ট ইন্দ্রনাথ ঘোষের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী পরমেশ্বরী বিড়বিড়িয়ে বলল, “কেন? মুষড়ে পড়বার কী আছে? সবসময় গা শুঁকোশুঁকি ওঁরা যা করেন, এঁরাও তার পোঁ ধরেন। এখন মুষড়ে পড়লেই হল? কেন? তোরাও ডবল পার্টি দে! স্বামীদের চ্যাংদোলা করে ধরে প্রহেলিকার খাটে শুইয়ে দিয়ে আয়!’


পরমেশ্বরীর কথা শুনে এত দুঃখেও সবাই হেসে উঠল।


টিয়া ভীষণ সিরিয়াস মুখ করে বলল, ‘এতে এত হাসবার কী আছে? “বি কলোনি” যতই গা শুঁকোশুঁকি করুক না কেন, ওরা তো আর “এ কলোনি”র মতো সমস্ত লজ্জাশরম খুইয়ে বসেনি।’


বোধ হয় এইখানে বনপাহাড়ি রিফ্র্যাক্টরি ওয়ার্কস-এর ভূগোলটা একটু বিশদভাবে বলা দরকার।


বি.আর. ডব্লুর চারটে কলোনি- এ, বি, সি আর ডি। এর প্রথম তিনটে ফ্যাক্টরি এলাকার ভেতরে, শেষটা বাইরে। ফ্যাক্টরিটা মাঝখানে রেখে তার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে ‘এ কলোনি’। এখানে থাকেন কোম্পানির হর্তাকর্তারা। প্রকাণ্ড জমি নিয়ে চার কামরার এক-একখানা বাংলো। বাড়ির সঙ্গে বাড়ির কর্তারা মালী, চাকর, বাবুর্চি ইত্যাদিও কোম্পানির কাছ থেকে পেয়ে থাকেন। সেইসঙ্গে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, কুকিং রেঞ্জ, সোফাসেট, দরজা-জানলার পর্দা ইত্যাদি তো আছেই। এখানে মোট আটটা বাড়ি। এ ছাড়া এই এলাকায় আছে অফিসার্স ক্লাব, সুইমিং পুল ইত্যাদি।


বি কলোনি’ কারখানার উত্তর-পশ্চিম কোণে। দুটো কলোনির মধ্যে একটা মিনি গলফ কোর্স আর একটা রাইফেল রেঞ্জ বিভাজকের কাজ করছে। এই দুই কলোনির মধ্যে তফাত অনেক। এই কলোনির বাড়িগুলো দোতলা। এক-একটা বাড়িতে দু-কামরার চারটে ফ্ল্যাট। এক-একতলায় দুটো করে। এদের বাড়ির কর্তারা পান সিলিং ফ্যান, একটা ফ্রিজ আর একটা সোফাসেট। ব্যাস! এই কলোনির এলাকা ‘এ কলোনি’র এলাকার প্রায় সমান বা সামান্য কম হলেও, এখানে বাড়ি আছে কুড়িটি। এখানকার অধিবাসীদের কোম্পানির খাতায় নাম হল মিডল ম্যানেজমেন্ট’।



কারখানার অপর গোলার্ধে ‘সি কলোনি’। গম্ভীর ‘এ’ আর নার্ভাস বি’ কলোনি থেকে অনেক দূরে। এখানে থাকেন কোম্পানির ‘সুপারভাইজারি স্টাফ’। এখানকার বাড়িগুলো একতলা লম্বাটে। প্রতি বাড়িতে এক কামরার ছ-টা করে ফ্ল্যাট। সামনে একটা বেশ বড়ো ঘর, কোম্পানির সিভিল ডিপার্টমেন্টের ড্রইংয়ে বলা হয় সিটিং কাম বেডরুম। আর তার পেছনে প্রায় সমান মাপেরই আর একটা ঘরকে দেয়াল তুলে সমান তিনভাগে ভাগ করে পর পর বাথরুম, ডাইনিং আর কিচেন করা

**********