ইন্দ্রিয়ের ওপারে

ইন্দ্রিয়ের ওপারে

মনোজ সেন

ইন্দ্রিয়ের ওপারে

Books Pointer Iconমনোজ সেন
Books Pointer Iconshort story

Change color

এককালের বিখ্যাত উকিল চিত্তপ্রসাদ রায় অসন্তুষ্ট মুখ তুলে তাকাতে আমরা কলরব করে বলে উঠলুম, ‘অনেকদিন পরে আবার আপনাকে বিরক্ত করতে আসছি কিন্তু। রাগ করতে পারবেন না। এমন বর্ষার রাতে যদি আপনার রোমাঞ্চকর জীবনের একটা গল্পই না-শুনতে পেলুম, তাহলে এই বাদলার কোনো অর্থই হয় না।’


রায়মশাই দাবার বোর্ড সরিয়ে রেখে বললেন, ‘ভালো ক্লাবের মেম্বার হয়েছিলুম। এই বুড়ো বয়সে যে একটু নিশ্চিন্ত মনে দাবা খেলব, তারও উপায় নেই। তা ঠিক আছে, গল্প শুনবেন আপনারা বলছেন যখন তখন শোনানো যাবে। কিন্তু কীসের গল্প? আমার এই সুদীর্ঘ জীবনে যে কতরকম অভিজ্ঞতা হয়েছে, তার তো কোনো সীমা নেই। কী ধরনের অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চান, বলুন। সেরকম কিছু যদি আমার ভাণ্ডারে থাকে তো বলা যাবে।’


সমীর বলল, ‘আচ্ছা, রায়মশাই, আমরা জানি আপনার জীবনে অনেক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে কতগুলোয় আপনি খুব ভয় পেয়েছেন, কখনো-বা পাননি। কিন্তু এমনকী কোনো কিছু আপনার স্মৃতিতে আছে যা অত্যন্ত সুন্দর কিন্তু আপনাকে আতঙ্কিত করে?’


রায়মশাই তাঁর বিরলকেশ মাথাটি আস্তে আস্তে ওপর-নীচে নাড়লেন। দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে বললেন, ‘আছে। কৌশিকী কানাড়া রাগের নাম শুনেছেন? রাত্রের রাগ, আমাদের মার্গ সংগীতের মধুরতম রাগগুলির একটি। এই রাগ আমি শুনতে পারিনে, শুনলে এখনও ভয়ে আমার সর্বাঙ্গ অবশ হয়ে আসে। অবশ্য তার জন্যে কৌশিকী কানাড়া রাগটি দায়ী, তা বলা যায় না। দায়ী সেই রাগের সঙ্গে জড়িত একটা ঘটনার স্মৃতি। সেই ঘটনার কথাই আজ আপনাদের বলব।—


আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে আমাকে একবার যেতে হয়েছিল অবিভক্ত বাংলার ঢাকা জেলার মানিকগঞ্জ সাবডিভিশনের থামল নামে একটা ছোট্ট শহরে। অবশ্য শহর না-বলে থামলকে একটা বড়ো বর্ধিষ্ণু গ্রামই বলা উচিত; কিন্তু শহর বলছি এজন্যে যে ওখানে পাকা বাড়ির সংখ্যা ছিল প্রচুর, পাকা রাস্তা ছিল, দুটো স্কুল ছিল— একটা ছেলেদের, অন্যটা মেয়েদের আর ছিল একটা কলেজ। থামল রাজকলেজ। এখানেই গিয়েছিলুম আমি।


আমি তখন উঠতি উকিল। থামলের জমিদার কুলভূষণ সিংহরায় আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন একটা ছোট্ট মামলার তদারকি করবার জন্যে। তাঁর কাছে আমাকে রেফার করেছিলেন আমার সিনিয়র মৃগেন্দ্র বোস। কুলভূষণ আমি গিয়ে পৌঁছনোমাত্র খুব যত্নআত্তি করলেন। তারপর আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন রাজকলেজের টিচারস মেসে। তার একটা কারণ তাঁর গেস্ট হাউসে তখন কিছু বাইরের লোক ছিলেন, আর অন্য কারণ তিনি স্বভাবতই অল্পবয়েস বলে আমাকে স্টেটের গেস্ট হাউসের উপযুক্ত বলে বিবেচনা করেননি। তবে যেখানে ব্যবস্থা করে দিলেন, সেটা যে খারাপ তা কখনোই বলব না; বরং আমার কাছে তখন অত্যন্ত ভালো বলেই মনে হয়েছিল।


মেসবাড়িটা ছিল শাস্ত্রমতে চারতলা। তবে তার মধ্যে প্রথম দুটো তলাতেই মেম্বাররা থাকতেন। তিনতলায় ছাদের ওপর একটা ঘর ছিল আর তার ঠিক ওপরেই আর-একটা ঘর ছিল। এই চারতলার ঘরটায় আবার একটা কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হত। তিনতলার ঘরটায় আমার থাকবার ব্যবস্থা হয়েছিল।


আমি ঘর দেখে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলুম। বেশ বড়ো ঘর, তিনদিকে জানলা, কেবল উত্তর দিকটা বন্ধ, কারণ সেই দিকেই ছিল চারতলায় ওঠার সিঁড়িটা। ঘরটার পূবদিকে প্রকাণ্ড ছাদ, পশ্চিমে দিগন্তবিস্তৃত ধান খেত, তার মাঝে মাঝে ঘন গাছপালায় ঢাকা কয়েকটি গ্রাম, আর দক্ষিণে রাজকলেজের খেলার মাঠ। মাঠের ওপারে শহর। এমন একটা ঘরের কথা আপনারা কলকাতার লোক চিন্তাই করতে পারবেন না। আমি তখন যদিও কলকাতায় থাকি, কিন্তু মূলত আমি গাঁয়ের ছেলে। কাজেই, আমি যে অত্যন্ত খুশি হয়ে উঠব তাতে আর আশ্চর্য কী। কলকাতায় হাঁপিয়ে উঠেছিলুম, এখানে এসে যেন নিশ্বাস ফেলে বাঁচলুম।


মেসের ম্যানেজার সন্তোষ ঘোষাল আমাকে খুব সমাদর করে ডেকে নিলেন। সন্তোষবাবু ছিলেন রাজকলেজের দর্শনের অধ্যাপক, মধ্যবয়স্ক হাসিখুশি মানুষ। আমাকে প্রথম আলাপেই তুমি সম্বোধন করলেন। এটা সে-যুগে খুব সাধারণ ব্যাপার ছিল না, অত্যন্ত স্নেহের সম্পর্ক না-হলে চট করে একজন নবপরিচিত ব্যক্তিকে কেউ তুমি বলে সম্বোধন করত না। আসলে সন্তোষবাবু সার্থকনামা লোক ছিলেন, সকলের প্রতিই তিনি ছিলেন সন্তুষ্ট ও স্নেহসম্পৃক্ত। এমন লোকের তত্ত্বাবধানে এসে পড়ে আমিও বেশ আরামবোধ করলুম।


সন্তোষবাবু প্রথমেই আমাকে মেসবাড়িটা ঘুরিয়ে দেখালেন। প্রকাণ্ড বাড়ি, পুব-পশ্চিমে লম্বা, মাঝখান দিয়ে সিঁড়ি উঠে গেছে তিনতলা পর্যন্ত। প্রথম দুটো তলায় দক্ষিণ দিক বরাবর চওড়া বারান্দা সিঁড়ির দু-পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে, তার গায়ে পর পর ঘর। পুব দিকের উইঙের ঘরগুলো সিনিয়র প্রফেসরদের আর পশ্চিম দিকের উইংটা সদ্য পাশ করা ছোকরা লেকচারারদের। আর আমার ঘরটা কিন্তু সিঁড়ির ঘরের লাগোয়া ছিল না, ছিল ছাদের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে।


আমি সন্তোষবাবুকে জিগ্যেস করলুম, ‘ঘরটা এমনভাবে তৈরি কেন?’


সন্তোষবাবু মৃদু হাসলেন। বললেন, ‘জমিদারের খেয়াল। ওই যে চারতলার ঘরটা দেখছ, ওখানে থাকেন কুলভূষণবাবুর ছোটো ভাই রঙ্গলাল সিংহরায়। ভদ্রলোক গানপাগল মানুষ, জমিদারিতে মন নেই। রাজকলেজে শাস্ত্রীয় সংগীত শেখান আর ওই ঘরে বসে সাধনা করেন। মাথায় কিঞ্চিৎ ছিট আছে, তবে সে দেখতে গেলে তো ওঁদের সমস্ত পরিবারটিকেই ছিটগ্রস্থ বলতে হয়।’


আমি আশ্চর্য হয়ে বললুম, ‘আপনাদের কলেজে শাস্ত্রীয় সংগীত শেখার ছাত্র হয়? মানে, মফস্সল শহর বলে কথা।’


সন্তোষবাবু বললেন, ‘তা হয়। শাস্ত্রীয় সংগীতে পূববাংলায় ইন্টারেস্টের তো অভাব নেই। এদিক থেকে বেশ কিছু বড়ো বড়ো শিল্পীও তৈরি হয়েছেন। আলাউদ্দিন খাঁ সাহেবই তো পূববাংলার লোক। কাজেই কিছু জেনুইন ছাত্র কখনো কখনো জুটে যায়। আর তা ছাড়া কিছু খয়ের খাঁ আছেন, জমিদারবাবুদের খুশি করার জন্যে ছেলেকে গান শেখাতে পাঠান। তাঁদের সংখ্যাই বেশি।’


আমি বললুম, ‘বাঃ ভালোই হল। রঙ্গলালবাবুর সঙ্গে আলাপ করা যাবে। শাস্ত্রীয় সংগীতে আমারও কিছু অনুরাগ আছে।’


সন্তোষবাবু হাত নেড়ে বললেন, ‘সে হওয়ার যো নেই। আলাপ করতে চাও তো কলেজে যেতে হবে। এখানে ওনার সাধনমন্দিরে কোনো বাইরের লোকের প্রবেশ নিষেধ। কনসেনট্রেশন নষ্ট হয়ে যাবে— এই ভয়। আরে, ওই জন্যেই তো চারতলার ওই কুঠরিটা তৈরি করালেন। প্রথমে তো ও ঘরটা ছিল না। উনি আগে তোমার এই ঘরেই থাকতেন। কিন্তু, মেসের লোকেরা ছাদে এসে গল্পগুজব করত, কেউ কেউ জানলা দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারত, তাতে ওঁর খুব অসুবিধে হত। তাই এখন এমন কায়দায় ঘর করেছেন যে পাখি না-হলে কারুর পক্ষে জানলা দিয়ে উঁকি মারা সম্ভব নয় আর গভীর রাতে ওই সরু কাঠের সিঁড়ি বেয়ে ওঁর দরজায় টোকা দেওয়ার মতো মারাত্মক শখও কারুর নেই।’


‘গভীর রাতে কেন?’


‘উনি তো গভীর রাতে ঘরে অসেন। কলেজেই থাকেন রাত সাতটা-সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। তারপর বাড়ি যান, মানে জমিদার বাড়ি। সেখান থেকে খাওয়া-দাওয়া করে এখানে শুতে আসেন যখন, তখন অনেক রাত। কিন্তু মজা কী জানো, উনি যে কখন শোন, সেটা আমরা আজ পর্যন্ত বের করতে পারলুম না।’


‘তার মানে?’


‘মানে, সারা রাতের মধ্যে যখনই ঘুম ভাঙে, শুনি ওঁর ঘর থেকে কোনো-না-কোনো যন্ত্রের মৃদু সুর ভেসে আসছে। সমস্ত দরজা জানলা বন্ধ করে বাজান, যাতে কারুর বিরক্তি না-ঘটে, তবু শোনা তো যায়। তাই বলছিলুম, মাথায় ছিট আছে। কোনো সুস্থ-মস্তিষ্কের লোক দিনের-পর-দিন না ঘুমিয়ে বেঁচে থাকতে পারে? আমার তো বাপু পাক্কা আট ঘণ্টা ঘুম না-হলে পরদিন কলেজে লেকচারের বদলে শুধু হাই।’


সন্তোষবাবুর কথায় একটা কথা বুঝতে পারলুম যে একটি বিচিত্র লোকের সান্নিধ্যে আমাকে এরপর কয়েক দিন কাটাতে হবে।


প্রথম দিন অত্যন্ত ক্লান্ত ছিলুম। কাজেই বিছানায় শুতে-না-শুতেই ঘুম। ঘুম যখন ভাঙল, তখন ভোর হতে খুব বাকি নেই। আকাশ অন্ধকার বটে, কিন্তু প্রথম আলোর চরণধ্বনি শোনবার প্রত্যাশায় নিদ্রিত পৃথিবী যে আস্তে আস্তে জেগে উঠছে সেটা অনুভব করা যায়। আর তখনই শুনলুম, রঙ্গলালবাবুর ঘর থেকে ভেসে-আসা এসরাজের মৃদু গুঞ্জন। পরিচিত রাগ আশাবরী। কিন্তু কী চমৎকার হাত! দেহমন যেন এক প্রশান্ত আনন্দে ভরে গেল।


আমি বিছানা ছেড়ে উঠে আস্তে-আস্তে ছাদে চলে এলুম। পুব দিকে তখন খুব সামান্য রঙের ছোঁয়া লেগেছে। দু-একটা পাখি ডাকতে আরম্ভ করেছে। সেই নির্জন নিশাবসানের মধ্যে আশাবরীর সুরে আপ্লুত হয়ে আমি স্তম্ভিতের মতো দাঁড়িয়ে রইলুম।


যখন সুর থেমে গেল তখনও তার রেশ কাটল না। আমি যেমন দাঁড়িয়ে ছিলুম, তেমন দাঁড়িয়েই রইলুম। চমক ভাঙল কাঠের সিঁড়িতে একটি পদশব্দে। আমি মুখ তুলে রঙ্গলালবাবুকে দেখলুম।


রঙ্গলাল সার্থকনামা ব্যক্তি। অমন টকটকে গায়ের রং বাঙালির মধ্যে এর আগে বা পরে আর কখনো দেখেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু ভদ্রালোককে খুব একটা সুপুরুষ বলা চলে না। মোটামুটি রোগাই বলা চলে, মাথাজোড়া টাক, কেবল দু-কানের পাশে একগুচ্ছ করে চুল, গর্তে বসা ছোটো ছোটো চোখ, চাপা নাক আর লাল টুকটুকে মোটা মোটা ঠোঁট, দেখলে মনে হয় যেন লিপস্টিক লাগানো। এককথায় দেখলে খুশি হয়ে ওঠার মতো চেহারা নয়।


কিন্তু, সেদিন সেইসময়ে আমার ভদ্রলোকের চেহারার কথা একবারও মনে হয়নি। একটু আগেই যে অসাধারণ সুর শুনলুম, তার শিল্পীকে চোখের সামনে দেখে আমার মনে একটা গভীর শ্রদ্ধার ভাব এল। আমি দু-হাত তুলে তাঁকে নমস্কার করলুম।


কিন্তু রঙ্গলাল প্রতি-নমস্কার করা দূরস্থান, কেমন একটা অদ্ভুত ভ্রূকুটিতে আমাকে অভিষিক্ত করে তাড়াতাড়ি নীচে নেমে গেলেন। সেটা বিরক্তি না-ভয় বুঝতে পারলুম না।


একটু বেলা বাড়তে আমিও নীচে গেলুম চায়ের সন্ধানে। সেখানে সন্তোষবাবুর সঙ্গে দেখা। ওঁকে রঙ্গলালবাবুর কথা বলতেই বললেন, ‘তোমাকে তখনই বলিনি? ওঁর সঙ্গে এখানে আলাপ করার চেষ্টা বৃথা। ভদ্রলোক এমনিতেই একটু বেশি রকমের গম্ভীর। কলেজেও কথা বলেন খুব কম। কিন্তু, এ-বাড়িতে কথা একেবারেই বলেন না। তার অবশ্য কারণও আছে।’


আমি জিগ্যেস করলুম, ‘কী কারণ?’


‘কারণ দুটো। প্রথম, উনি এখানে আসেন সাধনা করতে। তখন কথা বলে নষ্ট করবার মতো সময় ওঁর থাকে না। দ্বিতীয়, এই মেসে যাঁরা আছেন, তাঁদের সংগীত সম্বন্ধে যা জ্ঞান সে সম্বন্ধে যত কম বলা যায় ততই ভালো। আর একটু বেলা বাড়ুক, সবাই যখন কুয়োতলায় স্নান করতে যাবেন, তখন তাঁদের সংগীতচর্চা একটু শুনো। মানে, শুনতে তোমাকে হবেই। আর তখনই বুঝতে পারবে, কেন রঙ্গলালবাবু এঁদের সঙ্গে কথা বলতে চান না বা কথা বলতে ভয় পান।’


পরের দিন রাত্রে হঠাৎ ঘুম ভেঙে দেখি পশ্চিমের জানলায় দ্বাদশীর চাঁদ হেলে পড়েছে। আমার সমস্ত ঘর একটা উজ্জ্বল কিন্তু বিষণ্ণ আলোয় ভরে রয়েছে। আমার মনে হল, আমার মনটাও যেন কেমন বিষণ্ণ হয়ে রয়েছে, অনেকটা একটা করুণ অথচ মধুর স্বপ্ন দেখতে দেখতে ঘুম ভেঙে গেলে যেরকম হয়। যদিও তখন চারদিক নিস্তব্ধ, তবু বুঝতে পারলুম কোনো এক অনির্বচনীয় সংগীতের মধ্যে এতক্ষণ ডুবে ছিলুম, যেটা বন্ধ হতেই আমার ঘুম ভেঙে গেছে। আমার অবচেতন মন তখন তার রেশ বহন করে চলেছে।


দীর্ঘশ্বাস ফেলে চোখ বন্ধ করেছি, ঠিক তখনই ওপরতলার জানলার ভেতর দিয়ে একটি দিলরুবার চাপা অথচ মন্দ্র ঝংকার ভেসে এল। আমি উদগ্রীব হয়ে উঠলুম। আস্তে আস্তে সেই ঝংকার রূপ নিল যোগিয়ায়। আর সে কী অপরূপ রূপ! আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে লাগলুম। বাজনা যখন থামল, তখন পশ্চিম আকাশ অন্ধকার করে চাঁদ অস্ত গিয়েছে, পুবের আকাশ নতুন দিনের সংবর্ধনার জন্যে প্রস্তুত।


আমি রোমাঞ্চিত দেহে মাতালের মতো টলতে টলতে বিছানা ছেড়ে উঠে ঘর থেকে বেরিয়ে ছাদের ওপরে এসে দাঁড়ালুম। ভোরের ঠান্ডা হাওয়ায় আমার সমস্ত শরীর যেন জুড়িয়ে গেল। আমি পশ্চিম দিকের আলসের ওপর ভর দিয়ে দূরের ধান খেতের দিকে চেয়ে রইলুম যাতে আমার পেছনে যাঁর পায়ের শব্দ সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে, তাঁর ভ্রুভঙ্গি এই ভোরের বাতাস আর যোগিয়ার রেশটুকু নষ্ট করে দিতে না-পারে। পায়ের শব্দ ছাদের ওপর এক মুহূর্ত ইতস্তত করল, তারপর নীচে নেমে গেল। বুঝলুম, রঙ্গলাল আমাকে দেখেছেন এবং বোধ হ

**********