‘স্যরি ম্যাডাম। আপনাকে মুখ খুলতেই হবে, আমাদের প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে। দরকার হলে আপনাকে আমরা থানায় নেব। আপনার পেছনে যে মহিলারা দাড়িয়ে আছেন, তারা পোশাকে সিভিলিয়ান বটে, কিন্তু তারা দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসার। বাড়িটাও চারিদিক থেকে পুলিশে ঘেরা।’ বলল আহমদ মুসা।
আয়েশা আজীমা মাথা নিচু করে বসেছিল। তার মুখে কিন্তু ভয়ের চিহ্নমাত্র নেই। আহমদ মুসা শান্ত কণ্ঠের কঠোর কথাগুলো আয়েশা আজীমার চেহারায় সামান্য চাঞ্চল্যেরও সৃষ্টি করল না।
আহমদ মুসার ডান পাশের সোফায় বসেছিল তাহির তারিক, বাম পাশের আরেক সোফায় বসেছিল জেনারেল হাজী মোস্তফা কামাল।
আয়েশা আজীমা বসে ছিল সামনে একটু দূরের একটা সোফায়। মাঝখানে লাল কার্পেটে মোড়া বর্গাকৃতির ছোট্ট একটা চত্বর। তাতে শুধু একটা ‘টী’ টেবিল।
তার পরনে পাজামা ও ফুলহাতা কামিজ। কামিজের উপর একটা কুকিং অ্যাপ্রন।
আয়েশা আজীমা রান্নাঘরে ছিল। সেখানে সে যেভাবে ছিল মহিলা পুলিশ অফিসারেরা তাকে সেভাবেই ধরে নিয়ে এসেছে।
তার মাথায় একটা রুমাল বাঁধা।
বৈরুতের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতিছাত্রী ও সেরা সুন্দরী ছিল আয়েশা আজীমা। সৌদি ছাত্র শেখ বাজের মেধা ও বিত্তই সম্ভবত শেখ আয়েশা আজীমাকে আকৃষ্ট করে। আকর্ষণ শেষে প্রেম ও বিবাহে পরিণতি লাভ করে।
আয়েশা আজীমা আহমদ মুসার কথার কোন জবাব না দেয়াতে আহমদ মুসা জেনারেল তারিক ও জেনারেল হাজী মোস্তফা কামালের দিকে একবার তাকাল। তারপর মুখ ঘুরিয়ে আয়েশা আজীমাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘দেখুন, চুপ থেকে লাভ নেই। ড. শেখ বাজ হাতে-নাতে ধরা পড়েছেন। তার কাছ থেকে কোটপিনের আকারে এই শক্তিশালী ট্রান্সমিটার পাওয়া গেছে। তিনি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছেন, তার কোটপিনে যে ট্রান্সমিটার তা তিনি জানেন না। কিন্তু আইন তার এ কথা মানবে না। ধরা পড়ার পর সব অপরাধীই এমন কথা বলে। এখন আমরা জানতে চাই আপনার এ ব্যাপারে বক্তব্য কি? কারণ তিনি বলেছেন, কোটপিন আপনার সংগ্রহ করা।’
থামল আহমদ মুসা।
আয়েশা আজীমা একবার মুখ তুলে আহমদ মুসার দিকে চাইল। কোন কথা নেই তার মুখে। তবে প্রথমবারের মত তার চোখে-মুখে উদ্বেগ ফুটে উঠতে দেখা গেল।
আহমদ মুসা মুখ একটু নিচু করে ভাবল। তার ঠোঁটে ফুটে উঠল এক সূক্ষ্ণ হাসি। বলল সে, ‘তাহলে বুঝা গেল মিসেস বাজ, আপনি কিছুই জানেন না। ড. শেখ বাজই মিথ্যা কথা বলেছেন। সত্য তাহলে তার কাছেই পাওয়া যাবে। তার কাছ থেকেই সত্য এবার বের করতে হবে। সত্য বের করার কৌশল পুলিশের জানা আছে। বাবা ডেকে সব সত্য কথা বলে দেবেন তিনি। আমরা উঠছি। যতদিন না বিষয়টির সুরাহা হয় ততদিন আপনি পুলিশের কাস্টডিতে…।’
কথা শেষ করতে পারল না আহমদ মুসা। চিৎকার করা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলল আয়েশা আজীমা, ‘না, আমি সব বলব। ওর কোন দোষ নেই। ওঁর মত ভাল মানুষ কোন অপরাধ করতে পারেন না। তার কোন ক্ষতি করবেন না, তাকে আপনারা ছেড়ে দিন।’
কথাগুলো বলে থামল আয়েশা আজীমা। দু’হাতে মুখ ঢেকে সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে।
‘ওঁর কোন দোষ নেই দোষটা তাহলে কার, এটাই তো আমরা জানতে চাচ্ছি। সব বলুন আপনি আমাদের।’ বলল আহমদ মুসা।
আয়েশা আজীমা হাতের রুমাল দিয়ে চোখ মুছে বলল, ‘আমি একটা স্টেটমেন্ট করব, আপনি লিখুন।’
আহমদ মুসা তাকাল তুরস্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান জেনারেল হাজী মোস্তফা কামালের দিকে।
বুঝতে পেরে জেনারেল হাজী মোস্তফা কামাল ইশারা করে আয়েশা আজীমার পেছনে দাঁড়ানো তিন মহিলা পুলিশ অফিসারের একজনকে ডেকে বলল, ‘মিসেস বেরিল ডেডেগ্লু, আপনি ওঁর স্টেটমেন্টটা লিখুন।’
মিসেস বেরিল ডেডেগ্লু এই এলাকার একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত অফিসার।
মিসেস ডেডেগ্লু পকেট থেকে নোটশিট ও কলম বের করে আয়েশা আজীমার পাশের সোফায় বসে পড়ল। বলল, ‘ওয়েলকাম ম্যাডাম, বলুন।’
আয়েশা আজীমা মিসেস ডেডেগ্লুর কাছ থেকে নোটশীট ও কলম নিয়ে নিল এবং কয়েকটি নোটশীটের শেষ প্রান্তে নিজের নাম দস্তখত করে ওগুলো মিসেস ডেডেগ্লুর হাতে ফেরত দিল।
স্টেটমেন্ট করার আগেই স্টেটমেন্টশীটে সত্যয়নকারী দস্তখত করায় অবাকই হল আহমদ মুসা। বেরিল ডেডেগ্লুও। তার চোখেও বিস্ময়।
‘লিখুন’, বলতে শুরু করল আয়েশা আজীমা, ‘আমি আয়েশা আজীমা ওরফে আলিশা দানিয়েল স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে এই স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিচ্ছি যে, ‘আমি ওয়ান ওয়ার্ল্ড অরবিট (থ্রি জিরো) নামক সংস্থার দেয়া অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে তাদের সরবরাহ করা ‘কোটপিন’ আকারের শক্তিশালী ট্রান্সমিটার আমার স্বামীর কোটে নিয়মিত লাগিয়ে রাখার মাধ্যমে রিসার্চ সেন্টারের যাবতীয় কথোপকথন পাচার করেছি। আমার স্বামীর বিশ্বাস ও ভালোবাসা ব্যবহার করা তাঁর অজ্ঞাতে তাঁদেরই বিরুদ্ধে এ ষড়যন্ত্র করতে আমি বাধ্য হয়েছি। কেন এভাবে আমি বাধ্য হলাম, কেন আমার প্রিয়তম স্বামী ও তার প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্র করতে বাধ্য হলাম, তার পেছনে আছে আমার এক অসহায়ত্ব। সে অসহায়ত্ব হলো আমার স্বামীকে রক্ষার এক নিরুপায় ব্যবস্থা। আমি ওদের ষড়যন্ত্রের সাথী না হলে ওরা আমার স্বামীকে হত্যা করত। আমি জানি আমার স্বামীকে কেউ-ই ওদের হাত থেকে রক্ষা করতে পারত না। শুধু ‘থ্রি জিরো’ই তখন আমার শত্রু হতো না, তুরস্কের পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে আমার মত ছদ্মবেশী অনেকে আছে যারা ‘থ্রি জিরো’ অর্থাৎ ওয়ান ওয়ার্ল্ড অরবিট-এর পক্ষে কাজ করছে তারাও আমার স্বামীর হন্তায় পরিণত হতো। আমার অন্যায় হয়েছে, আমার ছদ্মবেশ সম্পর্কে আমার স্বামীকে না বলা, এমন ছদ্মবেশ নিয়ে তার মত একজন ভালো ও জাতিপ্রেমিক মানুষকে বিয়ে করাও আমার অন্যায় হয়েছিল। কিন্তু তার প্রতি আমার প্রেম আমাকে অন্ধ করেছিল। তাঁকে বিয়ে না করেও পারিনি, তাঁকে হারাবার ভয়ে আমার ছদ্মবেশ সম্পর্কেও তাঁকে বলতে আমি সাহস পাইনি।
আমি স্বীকার করছি। আমার ছদ্মবেশ ছিল পরিকল্পিত। হাজারো ইহুদী তরুণী যেভাবে তাদের নাম পরিচয় পাল্টে মুসলিম ও খ্রিস্টান সমাজে ঢুকে পড়েছে, আমি তাদেরই একজন। লেবাননের বেকা অঞ্চলের এক ইহুদী পরিবারে আমার জন্ম। স্কুল সার্টিফিকেট পর্যায় পর্যন্ত আমি ইসরাইলের তেলআবিবে পড়ি। তারপর বেকায় ফিরে আসি। বেকায়ই আমার পরিবারের পরিচিত আয়েশা আজীমার নাম পরিচয় আমাকে গ্রহণ করতে বলা হয়। তার সমস্ত শিক্ষা ডকুমেন্টও আমাকে দেওয়া হয়। এই সব ডকুমেন্টের জোরে আমি আয়েশা আজীমা রূপে বৈরুতের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাই। আমি পুরোপুরি আয়েশা আজীমা হয়ে যাই। পরে শুনেছি, স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় পাশের পর আয়েশা আজীমা নিহত হয়। কেউ আমাকে বলেনি, তবে এখনও আমি বিশ্বাস করি আমাকে আয়েশা আজীমা বানাবার জন্যেই তাঁকে হত্যা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ দিকে হঠাৎই কৃতি ছাত্র শেখ আবদুল্লাহ বিন বাজের সাথে আমার পরিচয় হয়। ভালো লেগে যায়। শুধু কৃতি ছাত্র বলে নয়, তার চরিত্রের দৃঢ়তা ও মেয়েদের প্রতি নির্মোহ ভাব আমাকে আকৃষ্ট করে বেশি। তার মত ঠাণ্ডা ছেলেকে উত্তপ্ত করতে আমার অনেক সময় লেগেছে। জার্মানিতে পিএইচডি করার সময় তার কাছ থেকে বিয়ের ইতিবাচক সাড়া আমি পাই। ইতিমধ্যে ‘থ্রি জিরো’-এর সাথে আমার পরিচয় হয়ে গেছে। পরে জেনেছি তারাই জার্মানিতে পড়ার জন্য আমার স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছে। বৈরুতে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচও আমার বাবা-মায়ের মাধ্যমে তারাই দেয় বলে জানতে পারি। শেখ আবদুল্লাহ বিন বাজের সাথে আমার সম্পর্কে ‘থ্রি জিরো’ আমাকে দারুণভাবে কনগ্রাচুলেট করে এবং বলে যে, সৌদি আরবের এমন পরিবারের ছেলে সে সৌদি আরবের বড় কোন এক দায়িত্বে যাবেই। শেখ বাজের উপর তাদের চোখ রাখাকে আমি ভাল চোখে দেখিনি, কারণ এটা আমার একান্তই প্রাইভেট ব্যাপার। কিন্তু আমার করার কিছু ছিল না। কেউ আমাকে না বলে দিলেও আমি জানতাম, আমাদের জাতীয় এই সংগঠনের কথা আমাকে মানতে হবে। পিএইচডি করার পর জার্মানির মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ বাজের চাকরি হয়ে গেল। ‘থ্রি জিরো’র লোকরা এসে আমার সাথে দেখা করল। সংবাদপত্রের বিজ্ঞপ্তির একটা কাটিং আমার হাতে তুলে দিয়ে বলল, মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ বাজের চাকরি করা যাবে না। যে কোনভাবে এই বিজ্ঞপ্তির চাকরিই যোগাড় করতে বলো। আমি বিজ্ঞপ্তি পড়ে দেখলাম, সেটা ইস্তাম্বুলের ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি সংস্থায় ‘ডাইরেক্টর অব ম্যানেজমেন্ট’ পদে নিয়োগের একটা বিজ্ঞপ্তি। আমি ওদের বললাম, এটা একটা ম্যানেজারিয়াল পদ, কিন্তু শেখ বাজের পছন্দ একাডেমিক কাজ। তারা চাপ দিয়ে বলল, না এই চাকরিই তাঁকে যোগাড় করতে হবে। তারা যুক্তি হিসেবে বলল, ওআইসির গোপন অর্থ ও তত্ত্বাবধানে এই ইনস্টিটিউট তৈরি হয়েছে। এটাকে ঘিরে নিশ্চয়ই ওআইসির এক বড় পরিকল্পনা আছে। সেখানে কি হয় এটা আমাদের জানা দরকার। সুতরাং শেখ বাজকে সেখানে ঢুকাতেই হবে। আমি পছন্দ করি বা না করি, এটা আমাকে মেনে নিতে হয়। প্রতিষ্ঠানটি ইস্তাম্বুলে এবং রিসার্চ ও টেকনোলজির সাথে জড়িত বলে এই চাকরি নেওয়ার জন্য শেখ বাজ আনন্দের সাথে রাজি হয়ে যায়। বরং আমি তার কাছ থেকে ধন্যবাদই পাই যে এমন একটা বিজ্ঞাপনের দিকে আমার নজর গেছে। ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড টেকনোলজি (আইআরটি)-তে তার চাকরি হয়ে যায়। এই পদের জন্য তার মত যোগ্য লোকই তারা খুঁজছিল। তার চাকরি হওয়ার পরই নতুন সঙ্কট আমার সামনে স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হয়। ‘থ্রি জিরো’ অনেকগুলো ‘আল্লাহ’ শব্দ অঙ্কিত অন্ধকারেও জ্বলে এমন দামি পাথরের তৈরি দেওয়াল ‘শো পিচ’ আমাকে দিয়ে বলে আইআরটির তিন ফ্লোরেই দেওয়ালের দর্শনীয় স্থানে শেখ আব্দুল্লাহর দ্বারা এগুলো লাগিয়ে দিতে। তাদের প্রস্তাবে আমি চমকে যাই। বুঝতে পারি ‘শো পিচ’ এর কভারে এগুলো নিশ্চয়ই গোয়েন্দা যন্ত্র, গোপন ক্যামেরা বা গোপন ট্রান্সমিটার হতে পারে। আমি ওদের বললাম, এটা সেট করাকে শেখ বাজ নিজেও সন্দেহের চোখে দেখতে পারে অথবা কারও সন্দেহের শিকার হতে পারে। সেসহ আমরা ধরা পড়ে যেতে পারি। আমার যাই হোক, আমার স্বামীর কোন ক্ষতি আমি করতে পারবো না। তাদের প্রস্তাব ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপরই তারা আনে ‘কোটপিন’-এর প্রস্তাব। এটাও ঝুঁকিপূর্ণ বলে আমি এই ব্যাপারে সহযোগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করি। এরপরই তারা আবির্ভূত হয় স্বমূর্তিতে। বলে যে, ‘আমি যদি প্রতিদিন স্বামীর কোটে তাদের দেওয়া কোটপিন রাখার ব্যবস্থা করতে অস্বীকার করি, তাহলে যে স্বামীকে রক্ষার ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি নিতে চাচ্ছি না, সেই স্বামীকেই আমাকে হারাতে হবে। আমি অস্বীকার করার পর একদিনও তাঁকে বাচতে দেয়া হবে না। আর আমি যদি তাদের এসব কথা আমার স্বামী, পুলিশ বা কাউকে বলি, তাহলে স্বামীর সাথে আমার মেয়েকেও শেষ করে ফেলবে ওরা। আমি নিরুপায় হয়ে যাই। আমি স্বামীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না, কিন্তু তার চেয়েও বড় হল, আমি কিছুতেই তাঁকে হারাতে চাই না, এই পর্যায়ে এসেই আমার জন্য কম ক্ষতিকর হিসেবে তাদের ‘কোটপিন’-এর প্রস্তাব গ্রহণ করি। প্রাণপ্রিয় স্বামীর সাথে এই বিশ্বাসঘাতকতা করার জন্য প্রতিপল, প্রতিক্ষণ আমি দগ্ধ হয়ে এসেছি। একটা সান্ত্বনা আমার ছিল, সেটা হল স্বামীর সাথে এই বিশ্বাসঘাতকতা করে আমি আমার স্বামীকে রক্ষা করেছি। আমার স্বামীকে দয়া করে আপনারা রক্ষা করবেন। আমিই আমার স্বামীর জন্য মুসিবত। আমি চাই এই মুসিবত থেকেও উনি মুক্তি পান। আর আমিও চাই দুঃসহ, দুর্বহ ব্ল্যাকমেইলের হাত থেকে মুক্তি।’
কান্নারুদ্ধ কণ্ঠে থামল আয়েশা আজীমা।
সংগে সংগেই আহমদ মুসার প্রশ্ন, ‘ম্যাডাম, এই দুঃসহ, দুর্বহ ব্ল্যাকমেইল যারা করতো, যারা এখানে আপনার সাথে যোগাযোগ করতো, তাদের পরিচয় সম্পর্কে দয়া করে বলুন।’
‘আমার স্টেটমেন্ট শেষ জনাব। আমার স্বামীকে দয়া করে দেখবেন।’
বলেই আয়েশা আজীমা তার বাম হাতের অনামিকার আংটির নিল পাথরটাকে কামরে ধরল।
আয়েশা আজীমাকে তার হাতের আংটি মুখে নিতে দেখেই আহমদ মুসা উঠে দাড়িয়ে তার দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল হাতটাকে ধরে ফেলার জন্যে। কিন্তু হাতটা ধরে ফেলার আগেই হাতের আংটি কামড়ে ধরেছিল আয়েশা আজীমা।
আহমদ মুসা দ্রুত হাতটা টেনে নিল আয়েশা আজীমার মুখ থেকে।
আয়েশা আজীমার মুখে এক টুকরো নির্দোষ হাসি ফুটে উঠেছিল। কিন্তু মুহূর্তেই তা কোথায় মিলিয়ে গেল। সোফার উপর এলিয়ে পড়ল আয়েশা আজীমার দেহ।
পেছনে নির্বাক দাঁড়ানো দুই পুলিশ অফিসার ও আয়েশার স্টেটমেন্ট লেখা পুলিশ অফিসারগণ। এই তিন পুলিশ অফিসার গিয়ে ধরল আয়েশা আজীমাকে। তাদের একজন বলল, ‘আমরা বুঝতেই পারিনি ইনি কি করতে

৪৬. রোমেলি দুর্গে
আবুল আসাদ
**********