ব্লাক ঈগলের সন্ত্রাস

ব্লাক ঈগলের সন্ত্রাস

আবুল আসাদ

ব্লাক ঈগলের সন্ত্রাস

Books Pointer Iconআবুল আসাদ
Books Pointer Iconreligious

Change color

শাহবাড়ির পাহাড়ের গোড়ায় পৌছে আহমদ মুসা ভাবল, মসৃণ রাস্তা ধরে সে গাড়ি নিয়ে শাহবাড়িতে উঠে যেতে পারে। কিন্তু উঠতে গিয়ে মনের তরফ থেকে বাধা পেল আহমদ মুসা।
সুতরাং ওঠা বাদ দিয়ে আহমদ মুসা পাহাড় ঘুরে শাহবাড়ির পেছনে চলে এল এবং প্রথমবারের মত এবারও পাহাড় বেয়ে ক্রলিং করে শাহবাড়ির পেছনের সংকীর্ণ একটা চত্বরে উঠে এল।
একটা ছোট গাছের পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিল আহমদ মুসা। তারপর বাড়ির দেয়ালের পাশ ঘেঁষে বাড়ির সামনের দিকে এগুতে লাগল। ইতিমধ্যেই কেউ এসেছে কিনা, তার অনেক খানি বোঝা যাবে সামনের দিকটা দেখলে।
বাড়ির সামনের অংশটা দেখা যাচ্ছে। আহমদ মুসা দেয়ালের যে বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে, সেটা পার হলেই গাড়ি বারান্দা দেখা যাবে।
আহমদ মুসা সোজাসুজি বাঁকটা পার না হয়ে গাড়ি বারান্দা দেখার জন্যে উঁকি দিল। দেখতে পেল গাড়ি বারান্দা জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে তিনটি গাড়ি। দুটি মাইক্রো এবং একটি জীপ।
বিস্ময় আহমদ মুসার চোখে-মুখে। এতগুলো গাড়ি নিয়ে কারা এল? ব্ল্যাক ঈগলের লোকরা কি? তাদের আসাই স্বাভাবিক। ভোর পর্যন্ত তাদের লোকরা যয়নব যোবায়দাকে ধরে নিয়ে না ফেরায় এবং সম্ভবত যোগাযোগেও ব্যর্থ হওয়ায় খারাপ কোন কিছু ঘটার আশংকায় তারা ছুটে এসেছে।
আহমদ মুসা বেশ কিছু সময় অপেক্ষা করে বুঝল গাড়িতে কোন লোক নেই। যারা এসেছে নিশ্চয় সবাই ভেতরে ঢুকেছে।
আহমদ মুসা আড়াল থেকে বেরিয়ে এল।
বাহিরটা আরেকবার দেখে ভেতরে ওদের উপর চোখ রাখার সিদ্ধান্ত নিল।
ভেতরে ঢোকার দরজা খোলা পাবে ভেবেছিল। খোলাই পেল।
ধীরে ধীরে ঘরের দরজা খুলল। দিন হলেও ভেতরটা অন্ধকার দেখল। ভেতরটা সম্পর্কে ধারণা নেয়ার জন্য একটু অপেক্ষা করতে চাইল আহমদ মুসা।
কিন্তু দরজা খুলে স্থির হয়ে দাঁড়াবার আগেই ছুটে আসা একটা কিছু তার উপর পড়ল। এর নরম স্পর্শ পাবার সাথে সাথেই আহমদ মুসার অভিজ্ঞ অনুভূতি নিশ্চিত হলো কি ঘটতে যাচ্ছে। বুঝতে পারল বর্তমান সময়ের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ভয়ংকর নরম ধাতব ফাঁস তাকে এসে ঘিরে ধরেছে।
ফাঁস আহমদ মুসাকে স্পর্শ করার সাথে সাথেই চোখের পলকে আহমদ মুসা বসে পড়ল। ঠিক যেমন মায়ের পেটে শিশু দুই হাঁটু, দুই হাত এবং মাথা এক সন্ধিস্থলে নিয়ে অবস্থান করে। এর ফলে নরম ধাতব ফাঁস প্রত্যেক অংগকে আলাদা করে আটকে ফেলে মানুষকে একেবারে নিস্ক্রিয় করে ফেলার যে কাজ করে তা করতে পারল না।
ফাঁদ তার বৈশিষ্ট্য অনুসারে নিক্ষিপ্ত হবার পর গুটিয়ে গিয়ে আহমদ মুসাকে রাগবি বলের মত রূপ দিল।
ফাঁদ যে ছুঁড়েছিল সম্ভবত সেই লোকটিই চিৎকার করে উঠল, ‘শিকার ধরে পড়েছে।’
সংগে সংগেই ছুটে এল কয়েকজন লোক। তারা ফাঁদ ধরে টেনে-হিঁচড়ে আহমদ মুসাকে ভেতরে এক তলার দরবার কক্ষে নিয়ে গেল।
আহমদ মুসা ফাঁদের মধ্যে তার দেহকে যেভাবে গুটিয়ে নিয়েছিল, তাতে তার দেহ হয় ডান ও বাম দিকে কাত হয়ে, নয়তো চিৎ হয়ে থাকছে।
দরবার কক্ষে যখন তাকে আছড়ে ফেলল তখন তার দেহটা কাত হয়ে পড়ল। একজন তার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল, ‘লাদিনো বস, হোটেল থেকে এরই ফটো পাওয়া গেছে। তার মানে এই সেদিন মেলার মাঠে আমাদের চারজন লোককে হত্যা করেছে।’ বলেই আহমদ মুসাকে কষে কয়েকটা লাথি লাগাল।
লাদিনো ব্ল্যাক ঈগলের এই দলের প্রধান। এরাই সকালে পাত্তানী সিটি থেকে শাহবাড়ি এসেছে তাদের লাপাত্তা হওয়া সাথীদের খোঁজে।
লাদিনো ছুটে এল তার সাথীর কথা শুনে। আহমদ মুসার কাছে এসে আহমদ মুসার মুখের দিকে ঝুঁকে পড়ল। দেখে সেও চিৎকার করে উঠল, ‘ঠিক, কোন সন্দেহ নেই এই শয়তানই সেই শয়তান।’
বলে সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হুকুম দিল, ‘একে ঝাড় বাতির হুকের সাথে টাঙাও। তারপর পেটাও। আজ আমাদের ৮ জন লোক গায়েব হওয়ার খবরও এই শয়তান দিতে পারবে। আমি নিশ্চিত, ঐ শয়তান আর এই শয়তান দু’জনেই আজ রাতে এখানে ছিল। যয়নবরা কোথায় এ কথাও এরাই বলতে পারবে।’
আহমদ মুসাকে টাক্সিয়ে দেয়া হয়েছে ছাদের ঝাড়বাতির হুকের সাথে। ফাঁসের গোড়াটাকে বাঁধা হয়েছে হুকের সাথে। ফাঁসের পেটে ঝুলছে আহমদ মুসা মাটি থেকে দুই ফিট উপরে।
আহমদ মুসার গুটানো দেহটা এবার ফাঁদে উপুড় হয়ে আছে। মেঝের বড় অংশই সে এখন দেখতে পাচ্ছে।
মেঝের উপর পড়ে থাকা একটা রক্তাক্ত যুবকের দেহ তার নজরে পড়ল। তেইশ চবিবশের মত বয়স হবে যুবকটির। বুঝাই যাচ্ছে তাকে নির্মমভাবে মেরেছে। আহত স্থানগুলো থেকে তখনও রক্ত ঝরছে। সম্ভবত ছেলেটিকেও সকালে এখানে ধরা হয়েছে। কিন্তু ছেলেটি কে? এখানে এসেছিল কেন?
লাদিনো নামের লোকটি এসে আহমদ মুসার পাশে দাঁড়াল। তার হাতে কালো রঙের একটি ব্যাটন। বুঝাই যাচ্ছে, শাল কাঠের ব্যাটনটি লোহার মত ভারী হবে। ব্যাটনের উপর পেরেক বসানো। পেরেকগুলো সিকি ইঞ্চির মত লম্বা। পেরেকের মাথাগুলো তীক্ষ্ণ নয়, ভোঁতা ধরনের। এ ধরনের কাঁটাওয়ালা ব্যাটন বেয়াড়া মানুষকে কথা বলাবার জন্যে নাকি খুবই উপকারী।
লাদিনো ব্যাটনটি দিয়ে ফাঁসে আবদ্ধ ঝুলন্ত আহমদ মুসাকে একটা প্রচন্ড আঘাত করে বলল, ‘শয়তানের বাচ্চা, ঐ দিকে দেখ কথা বলায় কি হাল হয়েছে। আমরা জানতে চাই গত রাতে তুই এ বাড়িতে এসেছিলি কি-না, আমাদের ৮ জন লোক কোথায় গেল এবং কোথায় গেল এ বাড়ির লোকরা?’
‘একথা তোমরা আমাকে জিজ্ঞেস করছ কেন? তোমরা তো এ বাড়িতে আমার আগে এসেছ। সব প্রশ্নের জবাব তোমাদের জানার কথা।’ বলল আহমদ মুসা।
লাদিনো তার হাতের ব্যাটন দিয়ে আহমদ মুসার দুই পাঁজরে পাগলের মত পেটাল। আহমদ মুসা দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করল অকথ্য যন্ত্রণা। সহ্যের সীমা ডিক্সিয়ে দুই চোখ ফেটেই যেন অবাধ্য অশ্রু গড়িয়ে পড়ল তার।
কিছুক্ষণ পিটিয়ে পেটানোতে ক্ষান্ত দিয়ে বলল, ‘আমার সাথে চালাকি করছিস। তুই মাঠে আমাদের ৪ জনকে মেরেছিলি, আজ রাতেই তুই-ই আমাদের ৮ জন লোককে গুম করেছিস। সরিয়েছিস যয়নবদেরকেও। তোকে মুখ খুলতেই হবে। না হলে পিটিয়েই মেরে ফেলব।’
‘যদি তোমরা নিশ্চিত হও, আমিই এজন্যে দায়ী, তাহলে ঐ ছেলেটিকে মেরেছ কেন? তার মানে আমি করেছি বলে যে কথা বলছ, সেটা তোমাদের অনুমান।’ আহমদ মুসা বলল।
‘ঐ শয়তানও জড়িত আছে। না হলে বাড়িটা পাহাড়া দেবার জন্যে সে এসেছিল কেন? সেও জানে যয়নবরা কোথায় আছে।’ বলেই লাদিনো আবার ব্যটর তুলল এবং পেটাতে শুরু করল আহমদ মুসাকে।
অন্যদিকে আরেকজন পেটাতে শুরু করল ঐ ছেলেটিকে।
সে কানফাটা চিৎকার করতে লাগল।
আহমদ মুসার পাঁজর ঝাঝরা হয়ে গেল। রক্তের স্রোত গড়িয়ে পড়তে লাগল নিচের মেঝেতে। আহমদ মুসার মুখ থেকে শব্দ বেরুচ্ছে না। কিন্তু একদিকে অসহ্য যন্ত্রণা, অন্যদিকে ছেলেটির কানফাটা চিৎকার আহমদ মুসাকে অতিষ্ঠ করে তুলল।
আহমদ মুসা মুক্ত হওয়ার কাজ আগেই শুরু করে দিয়েছিল। দু’হাত দিয়ে জামার কলার থেকে চাকু বের করে হাতে নিয়েছে এবং বের করে নিয়েছে শোল্ডার হোলষ্টার থেকে রিভলবার। যেহেতু তাকে নিয়ে ফাঁসটা মাটি থেকে দুই ফিট উপরে ছিল এবং আহমদ মুসাও যেহেতু উপুড় হয়ে ছিল। তাই তার হাতের কাজ লাদিনোরা কেউ দেখতে পেল না। এই সুযোগ গ্রহণ করেই আহমদ মুসা ফাঁস দেড়ফুট পরিমাণ কেটে ফেলল। তারপর যতটা সম্ভব ঘরটাকে দেখার চেষ্টা করল। দেখতে পেল, তাকে এবং ছেলেটিকে নির্যাতন চালানো দু’জন ছাড়া অন্য সবাই মেঝের মাঝখানে বসে আছে। শূন্য বাড়ি থেকে হাতে বহন করার মত মূল্যবান যেসব জিনিস ওরা লুট করেছে, সেগুলো তারা দেখাদেখি করছে।
আহমদ মুসা যথাসম্ভব গুটিয়ে নিয়ে দেহটাকে ছেড়ে দিল ফাঁসের কাটা অংশ দিয়ে।
আহমদ মুসা মাটিতে পড়েই চিৎ হলো। হাতে তার রিভলবার,ট্রিগারে আঙুল।
আহমদ মুসা পড়তেই টের পেয়ে গেল তার পাশে দাঁড়ানো লাদিনো। সে পকেটে হাত দিল রিভলবার বের করার জন্যে।
সে সুযোগ আহমদ মুসা তাকে দিল না। গুলী করল লাদিনোকে। দ্বিতীয় গুলী ছুঁড়ল ছেলেটিকে নির্যাতনকারী লোকটির উদ্দেশে। দ্বিতীয় গুলী করেই আহমদ মুসা শুয়ে থেকে তার পাশে পড়ে যাওয়া লাদিনোর কোমরের বেল্ট থেকে পকেট মেশিনগান বের করে নিয়ে তাক করল বসে থাকা লোকদের। ঐ লোকরা প্রথমে বিমূঢ় হয়ে পড়লেও কেউ কেউ তাদের ষ্টেনগান তুলে বসে থেকেই গুলী চালানো শুরু করেছে। একটি গুলী এসে আহমদ মুসার বাম বাহুসন্ধির পেশী উড়িয়ে দিয়ে গেল।
গোটা দেহ কেঁপে উঠল আহমদ মুসার।
আহমদ মুসার দেহ লাদিনোর লাশের আড়ালে না থাকলে এতক্ষণে ঝাঝরা হয়ে যেত।
আহমদ মুসা নিজেকে সামলে নিয়ে লাদিনোর দেহকে কাত করে নিজের দেহের সাথে হেলান দিয়ে পকেট মেশিনগানটি লাদিনোর ঘাড়ের পাশ দিয়ে গলার উপর সেট করে ওদের দিকে গুলী বৃষ্টি শুরু করল। ওদের সামনে কোন কভার ছিল না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ওদিক থেকে আসা ষ্টেনগানের গুলী বন্ধ হয়ে গেল। আরও কয়েক সেকেন্ড গুলীবৃষ্টি অব্যাহত রাখার পর গুরী বন্ধ করল আহমদ মুসা। এরপরও কিছুক্ষণ নিস্ক্রিয় পড়ে থেকে অপেক্ষা করল সে।
ওদিকের ছেলেটি উঠে দাঁড়িয়েছে। এগিয়ে এল আহমদ মুসার কাছে।
ছেলেটি আহমদ মুসাকে বন্দী করে আনা দেখেছে। তাদের আনন্দ দেখে সে বুঝেছে যে নতুন বন্দী নিশ্চয় বড় কেউ। তার উপর নির্যাতনও সে লক্ষ্য করেছে। জীবনের আশা সে ছেড়ে দিয়েছিল। চোখ বুজে অকথ্য নির্যাতনও সহ্য করছিল। কিন্তু গুলীর শব্দে সে চোখ খুলেছিল। আঁৎকে উঠেছিল নতুন বন্দীকে মেরে ফেলল এই চিন্তা করে। চোখ খুলেই সে দেখল তার পাশে দাঁড়ানো শত্রু লোকটি গুলী খেয়ে ঢলে পড়ছে। নতুন বন্দীর ওখানেও একজন লোককে গুলীবিদ্ধ হয়ে পড়ে থাকতে দেখল। পরক্ষণেই ওপাশে বসে থাকা লোকদের নতুন বন্দীর দিকে গুলীবৃষ্টি করতে লাগল। প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিল কিন্তু পরে নতুন বন্দীর দিক থেকে গুলীবৃষ্টি শুরু হলে খুশি হয় সে। গুলী বন্ধ হলে নতুন বন্দীর কোন সাড়া না পেয়ে সে উদ্বিগ্ন হয়ে ছুটে এসেছে তার দিকে।
আহমদ মুসার কাছে এসেই সে বলল, ‘স্যার আপনি ভালো তো? এ কি, আপনার বাহুতে গুলী লেগেছে স্যার!’
আহমদ মুসা উঠে বসল। গোটা দেহ তার রক্তাক্ত।
একদিকে পেরেকওয়ালা ব্যাটনের প্রহার ও বাহুতে গুলী লাগা, অন্যদিকে লাদিনোর গায়ের রক্ত তাকে ভিজিয়ে দিয়েছে।
আহমদ মুসা ছেলেটির প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উঠে বসেই বলল, ’তোমার নাম কি?’
‘ফরহাদ ফরিদ উদ্দিন।’
‘তুমি ব্যাংকক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।’
‘জি, হ্যাঁ।’
‘তুমি জাবের জহীর উদ্দিন ও যয়নব যোবায়দার বন্ধু এবং যয়নব যোবায়দার সাথে তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে তাই না?’
ছেলেটির চাইনিজ-থাই ফর্সা চেহারায় বিস্ময়, সেই সাথে লজ্জায় লাল রং দেখা গেল। বলল, ‘স্যার এতকিছু জানলেন কি করে? আপনি কে?’ সংকুচিত ভাব ছেলেটার মধ্যে প্রকট হয়ে উঠেছে।
আহমদ মুসা তার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে জিজ্ঞাসা অব্যাহত রাখল। বলল, ‘গত তিন মাস ধরে পালিয়ে আছ। এক মাস হলো যয়নবদের সাথেও কোন যোগাযোগ করনি।’
‘জি স্যার। ওদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই আমি কোন যোগাযোগ করিনি।’
‘নিরুদ্দেশের এক মাস তুমি কোথায় ছিলে?’
‘পাত্তানীর গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছি।’
‘শুধু ঘুরে বেড়ানো?’
‘আমি তাদেরকে পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন ও সংগঠিত করার চেষ্টা করেছি স্যার।’
‘পরিস্থিতিটা কি বলত? মানুষকে কি বুঝিয়েছ?’
‘পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি কনফিউজড স্যার। আমি সকলকে এই কথায় একমত করার চেষ্টা করেছি যে, পুলিশ ও সেনাসদস্যদের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে সংঘাত থেকে দূরে থাকতে হবে। সেই সাথে সন্ত্রাসের কাজ কারা করছে এ সম্পর্কে তথ্য যোগাড় করতে হবে এবং এসব তথ্য পুলিশের কাছে পৌছে দিতে হবে।’
‘ধন্যবাদ’ বলে উঠে দাঁড়াল আহমদ মুসা। বলল, ‘তুমি বুদ্ধিমান ছেলে। এই লোকগুলো তোমার সাথে কথা বলেছে। আচ্ছা বলত এরা দেশী না বিদেশী, এদের কাউকে চেন কি-না, এরা পাত্তানী কি-না কিংবা এ অঞ্চলের কি-না?’
একটু অপেক্ষা করল ফরহাদ ফরিদ উদ্দিন। তারপর বলল, ‘এখানে এই দশ জনের মধ্যে পাত্তানী কেউ নয়। আপনার পাশের যে লাশটি, এটিই শুধু বিদেশী, অন্যরা সবাই থাইল্যান্ডের অন্যান্য অঞ্চলের। এদের এতক্ষণের বিভিন্ন আলোচনা ও চেহারা ছুরত দেখে মনে হয়েছে এরা সবাই ক্রিমিনাল।’
আহমদ মুসা রিভলবার জ্যাকেটের পকেটে রেখে দিয়ে পকেট থেকে মোবাইল বের করল। কল করল ব্যাংককে পুরসাত প্রজাদিপককে। আহমদ মুসার কণ্ঠ পেয়েই ওপার থেকে পুরসাত প্রজাদিপক বলল, ‘বল বিভেন বার্গম্যান। নিশ্চয় কোন সুখবর দেবে?’
আহমদ মুসা মোবাইলের স্পীকার অন রেখেছিল। মোবাইলের কথা শুনতে পাচ্ছে ফরহাদ ফরিদ উদ্দিনও। আহমদ মুসাকে ওপার থেকে ‘বিভেন বার্গম্যান’ নামে সম্বোধন করায় অস্বস্তির একটা চিহ্ন ফুটে উঠল তার মুখে।
পুরসাত প্রজাদিপকের কথার
**********