প্যাসেফিকের ভয়ংকর দ্বীপে

প্যাসেফিকের ভয়ংকর দ্বীপে

আবুল আসাদ

প্যাসেফিকের ভয়ংকর দ্বীপে

Books Pointer Iconআবুল আসাদ
Books Pointer Iconreligious

Posted byচয়ন সরকার05-Jul-2025

Change color

ইয়াংম্যান, তুমি যা বলেছ তার সরল অর্থ হলো কোন অ্যাটল দ্বীপে বাইরে থেকে সহজে দেখা যায় না এমন কোন স্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব কি না? এর সরল উত্তর হলো, সম্ভব নয়। কারণটা দেখ, একটা অ্যাটলে কি থাকে? চারদিকের সংকীর্ণ অথবা কিছুটা প্রশস্ত ভূমি সীমানা, এই ভূমি সীমানার মাঝখানে থাকে লেগুন।লেগুনের নিচে থাকে কোরাল লাইমস্টোনের সলিড বেজ। এই বেজটা ধীরে ধীরে এখানে উঠে এসেছে সাগরের ফ্লোর থেকে। পানির নিচে অ্যাটলের এই সলিড বেজের চারিদিকের দেয়াল নানা রকমের হতে পারে। মসৃণ হতে পারে, এবড়ো-থেবড়ো হতে পারে, সূচালো অথবা ভোঁতা কোরালের ঝাড়ে পূর্ণও হতে পারে। এসব নিয়েই একটা অ্যাটল দ্বীপ। এর মধ্যে ইনডিভিজুয়াল স্থাপনা গড়ে উঠার সুযোগ কোথায়?
কথাগুলো বলছিল ইজিচেয়ারে শোয়া শুভ্র কেশ, শুভ্র ভ্রূর একজন বৃদ্ধ। মুখের চামড়াও তার অনেক কুঁচকানো। উজ্জ্বল সোনালী চেহারায় তার চোখ দু’টি খুবই সজীব ও তীক্ষ্ণ।
বৃদ্ধের নাম অধ্যাপক টেপোয়া তাতিহিতি।
তাহিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওসেনিক ল্যান্ড-সাইন্সের সাবেক অধ্যাপক। গোটা প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় এই বিষয়ে সে অদ্বিতীয় বিশেষজ্ঞ। দুনিয়াজোড়া নাম তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হওয়ার সাথে সাথে সে প্যাসিফিক আইল্যান্ড ইন্সটিটিউটের প্রধাণও ছিল।
অধ্যাপক টেপোয়া তাতিহিতি মারেভার বাবার শিক্ষক ছিল। আবার তার পারিবারিক বাড়ি “আরু”তে। এই কারণে মারেভাদের ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক আছে অধ্যাপক টেপোয়া তাতিহিতির পরিবারের সাথে।
মারেভাই আহমদ মুসাকে নিয়ে এসেছে অধ্যাপক টেপোয়া তাতিহিতির কাছে। অ্যাটল দ্বীপগুলোর কম্পোজিশন সম্পর্কে আহমদ মুসা জানতে চায়। আর জনতে চায় অ্যাটলগুলোতে কোন গোপন স্থাপনা কিভাবে গড়ে উঠতে পারে।
আহমদ মুসা তার মাল্টিওয়েভ মনিটরে পাওয়া এসএমএস মতুতুংগা দ্বীপ থেকেই এসেছে এটা নিশ্চিত হবার পর ভেবে কুল-কিনারা পাচ্চে না। ছোট এই দ্বীপের কোথা থেকে তার কাছে এসওএস বার্তা এল!চারদিকে ঘুরে সে মতুতুংগা দ্বীপটাকে দেখেছে। তাছাড়া কম্পিউটারে দ্বীপটির স্যাটেলাইট ইমেজ সে পরিক্ষা করেছে। এতে উপরের সারফেস ছাড়াও দ্বীপটির পানির তলের বেজটাকেও সে ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছে। কিন্তু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। এই অবস্থায় মারেভা তাঁকে নিয়ে এসেছে অধ্যাপক টেপোয়া তাতিহিতির কাছে।
অধ্যাপক তাতিহিতি “আরু”তে তার পৈত্রিক বাড়িতে অবসর জীবনযাপন করছে। সারা জীবন ধরে সমৃদ্ধ করে তোলা পৈত্রিক পাঠাগারে পড়াশুনা, বাড়ির চারদিকের বাগানের টুকিটাকি পরিচর্যা ও বাগানে ঘুরে বেড়িয়েই তার সময় কেটে যায়। আজ খুশি হয়েছে সে আহমদ মুসাদের পেয়ে।
অধ্যাপক টেপোয়া তাতিহিতির কথা শেষ হতেই আহমদ মুসা বলল, কিন্তু স্যার, আমি নিশ্চিত একটি অ্যাটলে গোপন স্থাপনা আছে এবং সেখানে মানুষও আছে। যদি এটা সত্য হয়, তাহলে গোপন স্থাপনা কিভাবে গড়ে উঠল?
তুমি ‘যদি’ শব্দ ব্যবহার করেছ। কিন্তু এই ‘যদি’টাকে সত্য বলে নিশ্চিত হচ্ছো কেমন করে, ইয়ংম্যান? বলল অধ্যাপক টেপোয়া তাতিহিতি।
স্যার, আমি ঐ দ্বীপের এক স্থান থেকে একটি এসওএস বার্তা পেয়েছি। আহমদ মুসা বলল।
তুমি কি করে নিশ্চিত হচ্ছো, এসওএস বার্তাটা ঐ অ্যাটল থেকেই এসেছে? বলল অধ্যাপক তাতিহিতি।
আহমদ মুসা তার অংকের বিবরণ দিয়ে বলল, আমার হিসাবে কোন ভুল হয়নি স্যার।
অধ্যাপক টেপোয়া তাতিহিতি মাথা নেড়ে বলল, ইয়াংম্যান, অংক তোমার ঠিক আছে।কিন্তু অ্যাটলে গোপন স্থাপনা কোত্থেকে আসবে, সে অংক তো মিলছে না!
আহমদ মুসা ভাবছিল। বলল, স্যার, অ্যাটলের কোরাল স্টোন বেজ যা সাগরের ফ্লোর থেকে উঠে এসেছে, তা কি সব সময় সলিড হতে বাধ্য? দেয়ালঘেরা ঘরের মত ফাঁপা হয়ে উঠতে পারে না তা? এভাবে তা কি লেগুনের ফ্লোরের নিচে কোন স্থাপনা গড়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে না?
আহমদ মুসার প্রশ্ন শুনে অধ্যাপক টেপোয়া তাতিহিতি ইজি চেয়ারে গা এলিয়ে দিল।সংগে সংগে উত্তর দিল না। তার চোখ বুজে গিয়েছিল। ভাবছিল সে।
এক সময় চোখ খুলল অধ্যাপক টেপোয়া তাতিহিতি। সোজা হয়ে বসল। তাকাল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ইয়ংম্যান, তুমি কি বলতে চাচ্ছ আমি বুঝেছি। স্রষ্টার সৃষ্টি বড় বিচিত্র।এর কতটুকু আমরা জানি। এখানে সম্ভব-অসম্ভবের সীমারেখাও টানা যায় না। অতএব, তুমি য বলছ থাকতে পারে, আবার নাও পারে। বিজ্ঞানের কথা যদি বল তাহলে বলব কোরাল স্তরের বৈচিত্রময় গঠনের ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিক মাপ-জোক থেকে পাওয়া যাবে না। এগুলো মহান স্রষ্টার ইচ্ছার সৃষ্টি।তুমি অ্যাটলের বেজে কোরাল স্টোন ওয়ালকে যেমন ফাঁপা হওয়ার কথা বলছ, তা স্রষ্টার ইচ্ছার আওতার বাইরে নয়।
বলে থামল অধ্যাপক তাতিহাতি। হঠাৎ তার মুখে ভাবনার একটা ছাপ ফুটে উঠল। তার সাথে সাথে তার ঠোঁটে দেখা গেল এক টুকরো হাসিও। তাকাল সে মারেভা মাইমিতির দিকে। বলল, মারেভা, তোমার নিশ্চয় মনে আছে জগতেশ্বরী ও প্রথম মানবী হিনা, প্রিন্স হেসানা হোসানা ও সাগর-রূপা জলকন্যা ভাইমিতি শাবানুর কাহিনী। এই কাহিনীতেই আছে প্রিন্স হেসানা হোসানার প্রতি সদয় জগতেশ্বরী হিনা পাগল প্রেমিক প্রিন্সকে তার প্রেমিকা ভাইমিতি শাবানুর সাথে দেখা করিয়েছিল পানির তলে অ্যাটলের এক প্রাসাদে। অ্যাটলের পানির তলে মানে অ্যাটলের বেজ এলাকায় যে প্রাসাদ থাকতে পারে, তাহিতি এলাকার এই কাহিনীতে তার একটা প্রমাণ পাওয়া যায়।
অধ্যাপক তাতিহিতি থামতেই আহমদ মুসা বলে উঠল, কাহিনীটা কি স্যার?
রূপকথা যেমন হয়, এ তেমনি এক কাহিনী। এটা পমারে রাজবংশের এক রাজপুত্রের কাহিনী।
বলে একটু থামে অধ্যাপক তাতিহিতি তাকাল মারেভা মাইমিতির দিকে। বলল, মারেভা, তুমি জানলে কাহিনীটা, বল।
মারেভার মুখ লাল হয়ে উঠল। এক ছোপ লজ্জা এসে ঢেকে দিল তার চোখ-মুখ। সে মুখ নিচু করল।
হাসল অধ্যাপক তাতিহিতি। বলল, ঠিক আছে, আমিই বলছি।বলে শুরু করল অধ্যাপক তাতিহিতিঃ অষ্টাদশ শতকের প্রথমার্ধে ইউরোপিয়দের আগমন শুরু হয় প্রশান্ত মহশাগরীয় অঞ্চলে। কিন্তু তার আগে কয়েক শতাব্দী ধরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপাঞ্চলে অনেক রাজবংশের উত্থান ঘটে। তাহিতিতেও এমন একটি রাজবংশ কয়েক শতাব্দী ধরে রাজত্ব করেছে। তাহিতির পমাতে রাজবংশ এদেরই উত্তরসূরি। ঐ রাজবংশের নামও এখন জানা নেই।সেই অজানা বংশের এক রাজপুত্র ছিল হেসানা হোসানা, যার অর্থ সুন্দর ও শক্তির রাজমুকুট। এই সুন্দর রাজপুত্রের শখ ছিল সাগরে ঘুরে বেড়ানো। মাঝে মাঝেই তার নিরুদ্দেশ যাত্রা হতো সাগরে। দিন, রাত, সপ্তাহ গড়িয়ে যেত সে বাড়িতে ফিরতো না। এ দ্বীপ থেকে সে দ্বীপে, এ অ্যাটল থেকে সে অ্যাটলে ঘুরে বেড়াত। তার পালতোলা সাগরজ্বয়ী সুদৃশ্য রাজকীয় বোটে একাই ঘুরে বেড়াত সে। একদিন এক জ্যোৎস্না-গলানো সুন্দর রাতে তার বোট নোঙর করা ছিল এক অ্যাটলের তীরে। বোটের ডেগে বসে সে তন্ময় হয়ে উপভোগ করছিল জ্যোৎস্নাপ্লাবিত সাগরের নিরব-নিঝুম সৌন্দর্য। এই সময় পুব সাগরের বুক থেকে উঠে আসে এক খন্ড কালচে রক্তিম মেঘ। শুরু হয় প্রবল ঘুর্ণি। সে ঘুর্ণিতে তলিয়ে যায় তার বোট। সেও ছিটকে পড়ে যেন কোথাও! নিজেকে হারিয়ে ফেলে সে। নিজেকে আবার ফিরে পেয়ে যখন সে চোখ খুলে, তখন সে দেখে সুসজ্জিত ঘরের অসম্ভব সুন্দর এক নরম বিছানায়। চোখ ঘুরাতে গিয়ে তার চোখ পড়ে পাশেই সুন্দর আসনে বসা নীল বসনা, নীল নয়না এক অপরূপ সুন্দরীর উপর। তার সাগর-নীল রাজকীয় পোষাকের উপর তার সাগর নীল দোপাট্রা মাথা থেকে কপাল পর্জন্ত নেমে এসেছে। চাঁদের মতো মুখটিই শুধু তার খোলা। চাঁদে কলংক আছে, কিন্তু তার দুধ-আলতা মুখে কোন কলংক নেই। রাজপুত্রের চোখ যেন বাঁধা পড়ে গেল তার মুখে! চোখ সরাতে পারল না রাজপূত্র। পল পল করে সময় বয়ে গেল। দৃষ্টি ক্লান্ত হয়ে পড়ল। তবু পলক পড়ে না চোখে। নিল-নয়না সুন্দরী তার চোখ সরিয়ে নিল ঠোঁটে এক টুকরো হাসি টেনে। বলল শাহজাদা আপনি এখন সুস্থ। আপনার বোটও ঠিক হয়ে গেছে। সেটাও তৈরি। আপনি ইচ্ছা করলে এখনই উঠতে পারেন।
রাজপুত্র তখনও তার চোখ সরাতে পারেনি। সুন্দরীর কথাগুলো তার কানে যেন অমৃত ঢেলে দিল! তাহিতি ভাষায় এমন শুদ্ধ, মিষ্টি উচ্চারণ আগে সে শোনেনি।
সুন্দরীর চোখ ঘুরে এল আবার রাজপুত্র হেসানা হোসানার মুখের উপর। আবার আটকা পড়ে গেল দুই জোড়া চোখ।
সুন্দরীর চোখে-মুখে ফুটে উঠল সলাজ হাসি। সে মুখ নিচু করল। বলল, তাহলে শাহজাদা, আরও একটু বিশ্রাম করুন।
উঠতে যাচ্ছিল সুন্দরী।রাজপুত্র হেসানা হোসানা বলল, আমি কোথায় রাজকন্যা?
সুন্দরী মিষ্টি হাসল। বলল, আমি রাজকন্যা নই। আমি বলতে পারেন, সাগরকন্যা। আপনি অ্যাটল রাজ্যের এক প্রাসাদে, মানে অ্যাটলের এক নিবাসে।
যাবার জন্যে উঠে দাঁড়াল সুন্দরী। রাজপুত্র হেসানা হোসানা বিছানায় উঠে বসল। বলল, আপনার নাম কি?
সুন্দরী তার নিচু মুখ না তুলেই বলল, আমি ভাইমিতি শাবানু। বলেই সুন্দরী ভাইমিতি শাবানু পা তুলল যাবার জন্যে।
রাজপুত্র নিজেকে প্রকাশ করার জন্যে মরিয়া হয়েই বলল, আমি যদি না যেতে চাই? আমি যাব না।
পেছনে না তাকিয়েই ভাইমিতি শাবানু সেই মিষ্টি হেসে বলল, অতিথিশালা তো কারো বাড়ি হয় না! এখানে অতিথিরা আসেন চলে যাবার জন্যেই। আপনিও যাবেন।
বলে চলে গিয়েছিল ভাইমিতি শাবানু।
চলেই আসতে হয় রাজপুত্র হেসানা হোসানাকে। দ্বিতীয়বার এসে ভাইমিতি শাবানু যখন রাজপুত্রের চোখে চোখ রেখে বলল, আসুন শাহজাদা। তখন কি এক অমোঘ টানেই রাজপুত্র উঠে দাঁড়াল, যেন এমন মিষ্টি ডাক উপেক্ষা করার সাধ্য তার নেই।
রাজপুত্র হেসানা হোসানা যাবার জন্যে উঠে দাঁড়ালে ভাইমিতি শাবানু বলল, শাহজাদা, এবার আপনি দুই চোখ বন্ধ করবেন। আমি আপানকে হাত ধরে নিয়ে যাব।
রেশমের নরম গলার এই মিষ্টি আদেশও রাজপুত্র সংগে সংগেই পালন করল।চোখ বন্ধ করল সে।
ধন্যবাদ! বলে ভাইমিতি শাবানু তার হাত ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে চলল।
ভাইমিতি শাভানুর স্পর্শে রাজপুত্র হেসানা হোসানার দেহের প্রতিটি পরমাণু যেন জেগে উঠল, শিহরিত হলো! কারও স্পর্শ যে এত মিষ্টি, এত মধুর হতে পারে, তা রাজপুত্রের কল্পনারও বাইরে ছিল।
রাজপুত্র হেসানা হোসানাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, কিভাবে নিয়ে যাচ্ছে, সেসব নিয়ে রাজপুত্রের কোন মাথা ব্যথা ছিল না। অন্য কিছু ভেবেই স্পর্শের অনুভূতি সে বিচ্ছিন্ন হতে চাইছিল না। তবে সে ক্রমশ উপরে উঠছিল সেটা তার পা-ই বলে দিচ্ছিল।
উপরে উঠা এক সময় শেষ হলো। তারপর আরো একটু পথ চলা।
আবার থমকে দাঁড়ানো।
ভাইমিতি শাবানুর নরম মিষ্টি গলা শুনতে পেল রাজপুত্র। বলল, একটু দাঁড়াতে হবে শাহজাদা। বিশ, ত্রিশ সেকেন্ড পরে একটা শব্দ হবে, তারপর আপনি চোখ খুলবেন।
বলে ভাইমিতি শাবানু রাজপুত্র হেসানা হোসানার হাত ছেড়ে দিল। মেয়েটি হাত ছেড়ে দেবার সাথে সাথে রাজপুত্রের মনে হলো তার দেহ জুড়ে জ্বলে থাকা উজ্জ্বল বাতি যেন নিভে গেল। সব শক্তি কেউ শুষে নেয়ার মত দেহটা তার দুর্বল হয়ে পড়ল। একটা শব্দ হলো। মিষ্টি একটা শিসের শব্দ।
চোখ খুলল। দ্রুত চোখ বুলাল চারিদেকে। মেয়েটি নেই।কেউ কোথাও নেই। চারিদিকে পানি। সে এক অ্যাটলের সরু তীরে দাঁড়িয়ে আছে। তার একপাশে সাগর, অন্য পাশে অ্যাটলের লেগুন। পাশে দক্ষিনে আর একটা অ্যাটল আছে, সেটা প্রায় পঞ্চাশ গজ দূরে। তার বোটটি হালকা দোল খাচ্ছে সাগরের পানিতে। বোটটি আগের মতোই বাঁধা অ্যাটলের তীরে। কিন্তু মেয়েটি গেল কোথায়? মাত্র বিশ-ত্রিশ সেকেন্ডের ব্যবধান, কোথায় গেল মেয়েটি? রাজপুত্রের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল! সব হারানোর হৃদয়-ভাঙ্গা অনুভূতি নিয়ে সে বসে পড়ল অ্যাটলের তীরে।
মিনিট যায়, ঘন্টা যায়, দিন যায়, রাজপুত্র সে অ্যাটলের তীর থেকে ওঠেনি। তার মুখে একটাই কথা বারবার, কোথায় গেল আমার ভাইমিতি শাবানু?
কয়েকদিন পর রাজার একটি সন্ধানী দল গিয়ে তাঁকে অ্যাটলের তীর থেকে মুমূর্ষ অবস্থায় তুলে আনে। তাকে নিয়ে আসে রাজধানী আরুতে। সে সুস্থ হয়, কিন্তু ভাইমিতি শাবানুর নাম তার মুখ থেকে যায় না। ডাক্তার-কবিরাজ ও ভূত-প্রেতের তান্ত্রিকরাও তাঁকে দেখে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। তাঁকে বুঝানো হয় ভাইমিতি অদৃশ্য জগতের সাগরকন্যা, শাবানু হতে পারে তার নাম। সে অদৃশ্য জগতের বাসিন্দা, অদৃশ্য হয়ে গেছে। তাঁকে রাজপুত্রের মতো মানুষ পাবে কি করে? কিন্তু কোন বুঝই সে নেয়নি। তার সাগরে ঘুরাঘুরি আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। রাত-বিরাত, বৃষ্টি-খরা, কোন কিছুরই তোয়াক্কা নেই, তার বোট ঘুরে বেড়ায় সাগরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত, সবখানে। চারিদিকের নিঝুম নিরবতার মাঝে ধ্বনিত তার একটি মাত্র
**********