কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ ...

দুর্গাদাস লাহিড়ী

কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা (অনুবাদ : দুর্গাদাস লাহিড়ী)

Books Pointer Iconদুর্গাদাস লাহিড়ী
Books Pointer Iconreligious

Posted byমৌ বর্মণ15-Jul-2025

Change color

কৃষ্ণ যজুর্বেদ সংহিতা – পূজনীয় পণ্ডিত স্বর্গীয় দুর্গাদাস লাহিড়ী কৃত গ্রন্থ অবলম্বনে সম্পূর্ণ গ্রন্থটির সম্পাদনা ও নবরূপদাতা শ্রীদিলীপ মুখোপাধ্যায় (পৌরাণিকোত্তম) – অক্ষয় লাইব্রেরি – কলকাতা।

[সংস্কৃত অংশটুকু সম্পূর্ণ ‘প্রুফরীড’ করা হয়নি।]


যজুর্বেদ-সংহিতা

[কৃষ্ণ-যজুর্বেদ–তৈত্তিরীয়-সংহিতা।]


প্রথম কাণ্ড। প্রথম প্রপাঠক


প্রথম অনুবাক


মন্ত্র- ইষে ত্বোর্জে ত্বা। বায়বঃ হোপায়বঃ স্থ। দেবো বঃ সবিতা পাৰ্পয়তু শ্রেষ্ঠতমায় কৰ্ম্মণ আ পায়ধ্বমঘিয়া দেবভাগমূৰ্জৰ্ষতীঃ পয়স্বতীঃ প্রজাবতীরনমীবা অযক্ষ্মা মা বঃ স্তেন ঈশত মাহঘশংসা রুদ্রস্য হেতিঃ পরি বো বৃণ।। বা অস্মিন্ গোপতৌ স্যাঁত বহুীঃ। যজমানস্য পশন পাহি ॥১॥


মর্মার্থ –হে ভগবন! অভীষ্ট প্রদানের নিমিত্ত আপনাকে আহ্বান করছি। অপিচ, হে ভগবন্! শক্তি এবং প্রাণ পাবার কামনায় আপনাকে আহ্বান করছি। হে দেববৃন্দ! আপনারা বায়ুর মতো গতিবিশিষ্ট হন; তাই প্রার্থনা করি, বায়ুর ন্যায় গতিতে শীঘ্ৰ আগত হয়ে আমাদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হোন এবং আমাদের পরিত্রাণ করুন। সৎকর্মের প্রবর্তক জ্ঞানপ্রদ দেবতা, আমাদের সম্বন্ধী ভগবৎ-আরাধনা ইত্যাদি রূপ সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্কর্মে আমাদের সর্বতোভাবে পরিচালিত করুন। (আমরা যেন নিয়ত সৎকর্মে নিরত থাকি); লোকরক্ষয়িত্রী বলপ্রাণ-রূপিণী জ্ঞানপ্রদায়িকা অজরা অক্ষরা বিনাশরহিতা হে দেবিগণ! ভগবানের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত আমার পূজা (ভক্তি-ভাব) আপনারা সবরকমে পরিবর্ধিত করুন; পাপের আশ্রয়স্থানীয় ইন্দ্রিয় ইত্যাদি রূপ চৌর, আপনাদের অনুগ্রহে যেন আমাদের হিংসা করতে সমর্থ না হয়। অপিচ, হে দেবগণ! রপ্ৰকৃতিসম্পন্ন হিংসক রিপুদলের আয়ুধ আপনাদের যেন পরিহার (পরিত্যাগ করে অর্থাৎ স্পর্শ করতে না পারে। সত্যস্বরূপ বুদ্ধিসমূহ যেন আমাদের হৃদয়কে জ্ঞানের আধারে পরিণত করে আপনাদের সেখানে বহন করে আনয়নে সমর্থ হয়। অথবা, হে দেবিগণ! আপনারা জ্ঞানের আধারভূত আমাদের হৃদয়ে অবিচলিত ভাবে অবস্থান করুন এবং বহুরূপে হৃদয়ে অবিচলিত ভাবে অবস্থান করুন এবং বহুরূপে সেখানে আর্বিভূত হোন। (ভাবার্থ–আমার হৃদয়ে এমন ধী সঞ্জাত হোক, যাতে আপনারা সর্বদা সেখানে অধিষ্ঠিত থাকেন)। হে ভগব! প্রার্থনাকারী, আমার পাশবৃত্তিগুলিকে সংহার করে, পাপের কবল হতে আমাকে পরিত্রাণ করুন। (ভাবার্থ এই যে, আমার পাপপ্রবৃত্তি-সমূহকে নাশ করে আমাকে মোক্ষপথে স্থাপন করুন। ১।


[দশযাগে বিনিযুক্ত এই অনুবাকের মন্ত্র পলাশ-শাখার সম্বোধনে প্রযুক্ত বলে ভাষ্যকার সিদ্ধান্ত করেছেন। তার সিদ্ধান্তের অনুকূল প্রমাণ-পরম্পরা তিনি বৌধায়ন আপস্তম্ব প্রভৃতি সূত্র-গ্রন্থ থেকে উদ্ধার করে আপন মত প্রতিষ্ঠিত করবার প্রয়াস পেয়েছেন। শুক্লযজুর্বেদের ব্যাখ্যায় মহীধরও এই পন্থারই অনুসরণ করেছেন। মন্ত্রের সম্বোধ্য, ভাষ্যমতে, পলাশ-শাখা। পলাশ-বৃক্ষে দেবত্বের অধিষ্ঠান ব্রাহ্মণ-গ্রন্থে কথিত হয়েছে। সেখানে পলাশের উৎপত্তি সম্বন্ধে এইরকম প্রস্তাবনা দেখা যায়। যথা,-স্বর্গের তৃতীয় লোকে সোম অবস্থিত ছিল। গায়ত্রী-মন্ত্রে উক্ত সোম আহরণকালে অভিঘাত-জনিত তার একটি পর্ণ ছিন্ন হয়ে ভূতলে পতিত হয়। কেউ কেউ বলেন,-পক্ষীরূপা গায়ত্রীর একটি পক্ষ ভূতলে পতিত হয়েছিল। যাই হোক, সোমের সেই বিচ্ছিন্ন পর্ণ থেকে পলাশ-বৃক্ষের উৎপত্তি। সেই সোম-পৰ্ণই ভূতলে পলাশরূপে আর্বিভূত হয়েছিল। পণ্ডিতবর্গ প্রশ্ন তুলে বলেন,–পর্ণের বৃক্ষত্ব কিভাবে নিষ্পন্ন হয়? উত্তর–বিধাতার অচিন্ত্য-শক্তিত্ব। তার পক্ষে অসম্ভব কিছুই নেই। তারই বিচিত্র বিধানে সেই সোমপর্ণ থেকে পলাশের সৃষ্টি। জগৎ-নিম্পাদক ব্ৰহ্ম যেমন স্বতঃসিদ্ধ, যাগ-নিম্পাদক পলাশের ব্রহ্মত্বও সেইভাবে অবিসংবাদিত। এইভাবে পলাশের ব্রহ্মত্ব প্রতিপাদন করে ভাষ্যকার মন্ত্রের সম্বোধনরূপে ব্ৰহ্মত্বপ্রপাদিত পলাশকেই নির্ধারণ করে নিয়েছেন। তারপর এই মন্ত্রের ব্যাখ্যায় ভাষ্যকার যে সব পদ অধ্যাহার করেছেন, ভাষ্যের সূচনায় তার যুক্তি-পরম্পরা নির্দিষ্ট হয়েছে। ব্যাখ্যা-প্রসঙ্গে ভাষ্যকারের সেই যুক্তিগুলির সারমর্ম প্রদত্ত হলো; যথা, পলাশবৃক্ষের বহু শাখা আহরণ করবার বিধি ব্রাহ্মণে উক্ত হয়েছে। পলাশবৃক্ষের পূর্বদিকের শাখা দেবলোক সম্বন্ধী, আর পশ্চিমদিকের শাখা মনুষ্যলোকসম্বন্ধী। যজমানের জন্য অধ্বর্য উক্ত উভয়প্রকার শাখাই কামনা করবেন। ইষে ত্ব প্রভৃতি মন্ত্রে সেই পলাশশাখা ছেদনের বিধি। সুতরাং বিনিয়োগ অনুসারে ছিদ্মি ক্রিয়াপদ অধ্যাহার করতে হবে। ইট পদে অন্ন বোঝায়। অন্ন সকল প্রাণীর আকাক্ষনীয়। আবার রসরূপে বলসঞ্চার করে বলে উবল হেতু রসঃ বাক্যে উর্জ পদে বলপ্রাণয়ো অর্থ পরিগৃহীত হয়। মন্ত্রাংশের অর্থ হয়–হে পলাশশাখে! দেবগণের ভাগরূপ অধ্বর্যর জন্য তোমাকে ছেদন করছি। আবার সেই দেবতার বলপ্রদরসের নিমিত্তও তোমাকে ছেদন করি। এই মন্ত্রের দ্বারা অধ্বর্য যজমানের ভোজনের জন্য অন্ন এবং বলের জন্য রস সম্পাদন করবেন।-মন্ত্রের আমরা যে অর্থ অধ্যাহার করলাম এবং ভাষ্যের আলোচনায় যে অর্থ সিদ্ধ হয়, দুই অর্থে অশেষ পার্থক্য লক্ষিত হবে। ভাষ্যকার প্রথম ও দ্বিতীয় মন্ত্রে ছিনদ্মি (ছেদন করছি) ক্রিয়াপদ অধ্যাহার করেছেন; আমরা আহ্বায়ামি (আহ্বান করছি) ক্রিয়ার অধ্যাহারই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেছি। ভাষ্যকারের মতে, শাখা-দেবতাকে সম্বোধন করে ঐ মন্ত্র প্রযুক্ত হয়েছে। আমরা বলি, শাখাদেবতা কেন, আপন আপন ইষ্ট দেবতা-মাত্ৰকেই সম্বোধন করে ঐ মন্ত্র প্রযুক্ত হতে পারে; সকলে সকল অবস্থায় সকল দেবতার উদ্দেশ্যেই ঐ মন্ত্র উচ্চারণ করতে পারেন। ভাষ্যকার বলেন, মন্ত্রদ্বয় দশপূর্ণমাসযাগে পলাশশাখাছেদনে প্রযোজ্য। সে বিষয়ে আমরা অন্যমত খ্যাপন করছি না। তবে মন্ত্রের প্রার্থনা যে কেবল বৃষ্টির জন্য নয়, প্রার্থনা যে অভীষ্ট-পূরণের জন্য এবং প্রাণ ও শক্তি লাভের উদ্দেশ্যে, আমরা তা-ই বলছি। হিন্দুর সকল কর্মই যে ধর্মসহযুত, হিন্দুর প্রতি কমেই যে ভগবানের সম্বন্ধ সূচনা করা হয়, যজ্ঞে বৃক্ষ-শাখা-ছেদনে এই মন্ত্রের প্রয়োগ তা-ই শিক্ষা দিচ্ছে। শাখাদেবতার (শাখাধিষ্ঠাত্রী দেবতার) অনুধ্যানে বৃক্ষশাখার অভ্যন্তরে যে ভগবৎ-অধিষ্ঠান আছে, জগদীশ্বর যে সর্বব্যাপী, সেই ভাব প্রকাশ করে। বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান, বৃক্ষ ইত্যাদির সংজ্ঞা আছে প্রমাণ করে আজ গর্বোন্নত-শীর্ষ। কিন্তু শাখা দেবতার অর্চনায় এই মন্ত্র দুটির (প্রথম ও দ্বিতীয়) বিনিয়োগ, কত কাল পূর্বে হিন্দুদের যে সে জ্ঞান ছিল, তা সপ্রমাণ করছে।…যাই হোক, শাখা-দেবতার উদ্দেশ্যেই প্রযুক্ত হোক, আর নিজের ইষ্টদেবতার উদ্দেশ্যেই মন্ত্র দুটি উচ্চারিত হোক, মন্ত্রের উচ্চারণকারী সর্বতঃ আপন শ্রেয়ঃ কামনা করছেন,-মন্ত্রের এটাই তাৎপর্য। ভাষ্যকারের মতে,–তৃতীয় ও চতুর্থ মন্ত্রের লক্ষ্য–গোবস; তাদের বায়ুদেবতাক বলে কল্পনা করা হয়েছে। বায়ুদেবতাক বলে বায়ুর সাথে বৎসগণের অভেদ কল্পনা করা হয়; বৎসগণের বায়ুস্বরূপত্ব হেতু, তাদের রক্ষার জন্য অধ্বর্যগণ বৎসদের বায়ুকে সমর্পণ করছেন। এ পক্ষে ভাষ্যকার সায়ণের যুক্তি, মনুষ্যগণ গৃহ ইত্যাদি নির্মাণ করে তাতে বাস করে। গোবৎসগণ তা পারে না, অন্তরীক্ষই তাদের বাসগৃহ। অন্তরীক্ষের অধিপতি–বায়ু; বায়ু পশুদের রক্ষা করেন; সুতরাং পশুদের বায়ুরূপত্ব কল্পিত হয়। এ বিষয়ে শুক্লযজুর্বেদে ভাষ্যকার মহীধর এমন যুক্তি প্রদর্শন করেছেন; যথা,-বায়ু যেমন পাদপ্রক্ষালন ও নিষ্ঠিবন ইত্যাদি দ্বারা উপহত অপবিত্ৰকৃত ভূমিকে শুষ্ক করে পবিত্র করেন, গোবৎসও সেইরকম গোময় ইত্যাদি দান করে ভূমিকে পবিত্ৰীকৃত করে। এই কারণে বায়ুর সাথে বৎসের সাদৃশ্য সূচনা করা যায়। (দেখা যায়, মহীধরের এবং সায়ণের ভাষ্যের ভাব প্রায় একই রকম;–কেবল বাক্যবিন্যাসের পার্থক্য-মাত্র)!–পঞ্চম ও ষষ্ঠ মন্ত্রের বিষয়েও আমাদের বক্তব্য ঐরকমই। ভাষ্যে প্রকাশ,–এই মন্ত্রে গাভীদের সম্বোধন করা হয়েছে। গাভীগণই যেন যজমানকে শাতিকী গতি দান করেন। গোজাতিতে দেবতার অধিষ্ঠান আছে, অস্বীকার করি না; কিন্তু, গোজাতিকে লক্ষ্য করে, তাদের মধ্যে দেবতার কল্পনায়, এই মন্ত্র প্রযুক্ত হয়েছে বলা হোক, তাতেও আপত্তি নেই; কিন্তু বিশেষণগুলির ঐরকম ব্যাখ্যায়, অবিশ্বাসী জনের হৃদয়ে অবিশ্বাসের যে বিষবীজ উপ্ত আছে–তাতে জলসেক করা হয় মাত্র। সুতরাং এ ক্ষেত্রে সাধারণভাবে অজরা অমরা অক্ষরা দেবীগণকে (দেববিভূতি-সমূহকে) অর্চনা করা হয়েছে বললেই সব-বিষয়ে সামঞ্জস্য রক্ষিত হয়। নবম মন্ত্র–শাখা-দেবতা বিষয়ক। এখানকার প্রার্থনা (ভাষ্যকারের মতে),-হে পলাশশাখে! আপনি উন্নত প্রদেশে অবস্থিত থেকে, দেখবেন-যজমানের পশুগুলি যেন নিঃশঙ্কে অরণ্যে সঞ্চরণ করতে পারে; তাদের রক্ষা করবেন; দেখবেন,-যেন চৌর-ব্যাঘ্র ইত্যাদি তাদের অপহরণ বা হনন না করে। তারা যেন নিরুপদ্রবে সন্ধ্যাকালে পুনরায় গৃহে ফিরতে পারে। ভাষ্যকার এ সম্বন্ধে উপসংহারে বলেছেন,-শাখা যদিও অচেতন, তথাপি তদভিমানিনী দেবতার উদ্দেশে ঐ মন্ত্র প্রযুক্ত হয়েছে বলা যায়। শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিগণ শাস্ত্রদৃষ্টিবশতঃ যেমন অচেতন শালগ্রামে বিষ্ণুর সান্নিধ্য জ্ঞান করে বিষ্ণুসম্বোধনে যোড়শোপচারে তার পূজা করেন, শাখা-দেবতার সম্বোধনের বিষয়েও সেইরকম মনে করতে হবে। কোন্ দেবতার পূজার কি নিগুঢ় লক্ষ্য, সে তত্ত্ব প্রকাশ করার স্থান এখানে নয়। তবে স্থূলভাবে এই পর্যন্ত বলে রাখা যায়-স্মরণে মননে অর্চনে পূজনে, যাঁর স্মরণ, যার অর্চন, যাঁর বন্দন, যাঁর পূজন, তাতে প্রীতি আসে,তার গুণে গুণম্বিত হতে হতে তার স্বারূপ্য, তার সাযুজ্য ইত্যাদি লাভ ঘটে,-দেবতার পূজা-বন্দনা ইত্যদির এটাই মূল লক্ষ্য। শাখা-দেবতা যখন এখন বধিরতা-প্রাপ্ত হয়েছেন, অথবা আমাদের স্বর যখন তাদের কর্ণে এখন আর পৌঁছাতে সমর্থ হচ্ছে না, তখন কেন আর, কুট-কল্পনায় অর্থকে প্রচ্ছন্ন করি? অতএব আমরা সাধারণভাবেই মন্ত্রের মর্মার্থ প্রকাশ করলাম। যিনি যে দেবতার উদ্দেশ্যেই মন্ত্র প্রয়োগ করতে চান, তাতেই তিনি এ মন্ত্র প্রয়োগ করতে পারবেন। মন্ত্র বিশ্বজনীন ভাবপূর্ণ। কষ্ট-কল্পনায়, কেন তাকে একমাত্র শাখা-দেবতাতে আবদ্ধ রাখব? আমরা তাই মন্ত্রের শেষাংশের, অর্থ করতে চাই,-হে দেব! এই আমার পশুবৃত্তিগুলিকে বিনাশ করে আমায় রক্ষা (পরিত্রাণ) করুণ। ফলতঃ, মন্ত্রটি দেবতার উদ্দেশে বিনিযুক্ত বলে বোঝাই সঙ্গত। বিতর্কে প্রয়োজন নাই। আপনার অন্তরকে জিজ্ঞাসা করুন আমাদের অর্থ সঙ্গত কি না? অন্তরই সে প্রশ্নের উত্তর প্রদান করবে ] । ১।


.


দ্বিতীয় অনুবাক


মন্ত্র- যজ্ঞস্য ঘোষদসি। প্রত্যুষ্টং রক্ষঃ প্রত্যুষ্টা অরাতয়ঃ। প্রেয়মগাদ্ধিষণা বহিরচ্ছ মনুনা কৃতা স্বধয়া বিতষ্টা ত আ বহন্তি কবয়ঃ পুরস্কাদ্দেবেভ্যো জুষ্টমিহ বহিরাসদে। দেবানাং পরিষ্কৃতমসি বর্ষবৃদ্ধমসি। দেববৰ্হিৰ্মা ত্বাহমা তিৰ্য্যপর্ব তে রাধ্যাস। আচ্ছেত্তা তে মা রিষ। দেববহিঃ শতবশং বি রোহ সহস্ৰবশাঃ বি বয়ং রুহেম। পৃথিব্যাঃ সংপৃচঃ পাহি। সুসংভূতা ত্বা সং ভরাম্যদিত্যৈ রামাইসি। ইন্দ্রাণ্যৈ সংনহন। পূষা তে গ্রন্থিং গ্রপ্নাতু। স তে মাহস্থা। ইন্দ্রস্য ত্বা বাহুভ্যামুদ্যচ্ছে। বৃহম্পৰ্ম্মের্ধা হরামিব্বন্তরিক্ষান্বিহি। দেবং গমমসি। ২।


মর্মার্থ- হে ভগব আপনি সকর্ম-সমূহের নির্বাহক বা পূরক হন। (ভাবার্থ,ভগবানই সৎকর্মস্বরূপ সর্বজ্ঞেশ্বর)। অথবা হে শুদ্ধসত্ত্ব! তুমি সৎকর্মের সাধনভূত উপাদান-স্বরূপ হও। (ভাব এই যে,-হৃদয়গত শুদ্ধসত্ত্বই সকল কর্মের প্রেরক বা সম্পাদক)। হে ভগব! অথবা হে শুদ্ধসত্ত্ব! আপনার অনুগ্রহে সপ্রতিবন্ধক শত্রু (আমাদের দুর্বুদ্ধি) সর্বতোভাবে ভস্মীভূত হোক; আমাদের রিপুশত্রুগণ প্রত্যেকে বিশিষ্টরূপে দগ্ধীভূত হোক। (ভাব এই যে, হে দেব! আপনার অনুগ্রহে অথবা আপনার প্রভাবে আমাদের দুষ্টবুদ্ধি এবং রিপুশত্রুসমূহ যেন সমূলে নাশপ্রাপ্ত হয়)।


শুদ্ধসত্ত্বস্বরূপ হে ভগব! আপনি সর্বাত্মক; কৃপা করে আমাদের এই সৎকর্মে প্রকৃষ্টরূপে আগমন করুন এবং আগমন করে, সকর্মের দ্বারা উত্তপ্রাপ্ত আমাদের এই হৃদয়রূপ যজ্ঞাগারকে প্রাপ্ত হোন; আত্ম-উৎকর্ষসম্পন্ন সাধকের কৃতকর্মের দ্বারা সঞ্জাত এবং সংসারবন্ধননাশক শুদ্ধসত্ত্বের দ্ব

**********