
মিথ্যুক একটি বাংলা সাহিত্যকর্ম...
স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
মিথ্যুক একটি বাংলা সাহিত্যকর্ম গল্প বা উপন্যাস
| স্মরণজিৎ চক্রবর্তী | |
| novel |
Posted byদীপাঞ্জন 01-Dec-2025
Change color
“মিথ্যুক, তুই এক নম্বরের মিথ্যুক আর কোনওদিন আমার সঙ্গে কথা বলবি না। কোনওদিনও না। বুঝলি?” পর্ণিকা এমন চেচিয়ে কথাটা বলল যে, ক্যান্টিনের সববাই পরিষ্কার শুনতে পেল। আমি দেখলাম, একশোটা চোখ আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে সত্যি, এমন সার্টিফায়েড মিথ্যুক তো দেখা যায় না খুব একটা আমি পর্ণিকাকে বললাম, “আরে, তুই রাগ করছিস কেন?
পুরো ব্যাপারটা শোন ” “না শুনব না, কিচ্ছু শুনব না। মিথ্যেবাদী একটা জোচ্চোর আজ ঠিক দু মাস দশ দিন হল। দু মাস দশ দিন।
কই হল কিছু? এমন একটা ব্যাপারেও তুই মিথ্যে বললি? ছিঃ ।” “ছিঃ একটা জোরদার শব্দ। আট অক্ষরের গালাগালিও যে ইমপ্যাক্ট আনতে পারে না, এই ছোট্ট দেড় বা দু অক্ষর আরামসে তার দশগুণ ধাক্কা এনে দেয় আমি চারিদিক দেখে নিয়ে কাঁচুমাচু মুখ করে আরও কিছু বোঝাতে গেলাম। কিন্তু পর্ণিকা আর শুনলই না কিছু। গটগট করে বেরিয়ে গেল ক্যান্টিন থেকে৷ আমি সামনের আ্যানিমিক রোগীর মতো পাঁউরুটির টুকরো দুটোর দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। যেটুকু খিদে ছিল ঝাড় খেয়ে মিটে গিয়েছে
“কী রে? হাওয়া বেরিয়ে গেল?” সামনে থেকে ঠোঙা প্রশ্ন করল।
আমি উত্তর না দিয়ে একটা বিরক্তিকর শব্দ করলাম মুখ দিয়ে ।
এত কষ্ট করে দু মাস ধরে রেখেছিলাম মেয়েটাকে, আর এমন করে ফসকে গেল কত যে সাধ্যসাধনা করতে হয়েছে আমায় পর্ণিকার জন্য, সেটা যদি ঠোঙা বুঝত।
“তোর প্রিফ্নন্টাল কটেক্স খুব বেশি কাজ করে তাই এত ঢপ মারিস ” ঠোঙ্া তেল চপচপে চাউমিন মুখে দিয়ে নিশ্চিতভাবে বলল।
“আবার শুরু করলি?” আমার মাথা গরম হয়ে গেল,
“এমনিতেই শালা প্রেস্টিজে গ্যামাক্সিন দিয়ে গেল, তার উপর তোর সব বিষয়ে বাতোলা ভাল লাগে না কিন্তু ।”
“তবে এত ঢপ মারিস কেন, হ্যাঁ? না মারলেই তো পারিস ” ঢপ মারি কেন? না মারলেই পারি? হুঃ, বলা সোজা। কিন্তু এই পৃথিবী কি সহজ ধরনের গব্য ঘুতের শিশি নাকি যে, সোজা আঙুলে ঘি উঠবে? আঙুল বাঁকাতেই হয়। তাই ঢপটা ম্যানডেটারি এটা এক ধরনের মেকানিজমও বলা যায়। সবাই বুঝবে না।
তবে হ্যাঁ, অন্যদের চেয়ে হয়তো আমি এই মেকানিজমটা একটু বেশিই ব্যবহার করি করতেই হয়, আমার হাতে সময় কম, যা পেতে হবে তাড়াতাড়ি পেতে হবে।
ঠোঙা আবার বলল, “পর্ণিকাকে ভালবাসিস ভাল কথা। কিন্তু তা বলে ওকে ঢপ মারবি? তাও এমন একটা ব্যাপার নিয়ে? এমন করে কেউ প্রেম করে?” আমার বিরক্ত লাগল খুব। বললাম, “তোর থেকে এখন “প্রেম করার সহজ ও সৎ উপায়” শিখতে হবে নাকি? নিজের হিস্ট্রি দ্যাখ।
এই ফাস্ট ইয়ারে চারটে মেয়েকে ভাল লেগেছে তোর। তার মধ্যে কথা বলতে পেরেছিস দু জনের সঙ্গে আর নোট কপি করতে পেরেছিস একজনের আমায় তুই প্রেমের কোচিং দিচ্ছিস?”
“কোচিৎ নয়, সং হতে বলছি ” ঠোঙা শূন্য প্লেটটা ঠেলে সরিয়ে বলল, “জানবি অনেস্টি আজও বেস্ট পলিসি ।” “ব্যাংয়ের পলিসি,” আমি মুখ ঘোরালাম, “সেকেন্ড সেমের মাঝবরাবর চলে এলাম। সেই কলেজে ঢোকার পরের উইক থেকে ট্রাই করছি। হল কিছু? আর যেই দু মাস আগে ওকে ঢপটা মারলাম,
সঙ্গে সঙ্গে গলে গিয়ে আমার দিকে চলে এল। তবে?” “তাও ” ঠোষ্ঠা আরও কিছু বলত কিন্তু তার আগেই চোখ গোল করে চুপ করে গেল আচমকা ।
“কী তাও?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।
ঠোঙা ভুরু তুলে আমার পিছন দিকে ইঙ্গিত করে বলল, “এসে গিয়েছে তোর পঞ্জিকা নে সামলা।”
সর্বনাশ আমি উঠে পড়লাম। কিন্তু টেবল ছাড়ার আগেই পঞ্জিকা, মানে ইয়ে, অষ্জিকা এসে দাঁড়াল আমার সামনে । বলল, “কী হয়েছে? কী হয়েছে তোর অঙ্কুরণ? পর্ণিকা কী বলেছে তোকে?” “আমায়?” আমি হাসলাম, “কিছু না তো কী বলেছে?” অষ্জিকা বলল, “তবে যে শুনলাম, তোকে নাকি খুব বেড়েছে ” “ও কিছু না,” আমি ধুলো বাড়ার মতো পর্ণিকার কথাগুলো মনে মনে বেড়ে ফেলে বললাম, “ও আমার জন্য একটা জ্যাকেট কিনেছে। আমি নেব না বলেছি, তাই রাগ করছিল। কিছুই না।” “আবার?” ঠোঙ্া চোখ গোল গোল করে তাকাল আমার দিকে।
“কী আবার?” অঞষ্জিকা অবাক হল।
আমি বললাম, “আমার প্রিফ্নন্টাল কর্টেক্স খুব বেশি কাজ করে তো, তাই বলছে। বাই দ্য ওয়ে, একটা হেল্প করবি? সেদিন এস বি ম্যামের নোটটা কোথায় যে হারালাম আমায় তোরটা দিবি। মানে অসুবিধে না হলেই আর কী দিবি?” “তোকে দেব না?” অষ্জিকা হেসে বলল, “তোকে দেব না তো কাকে দেব দাঁড়া আমি হস্টেল থেকে নিয়ে ফিরে আসছি, কেমন?
ক্লাসে দিয়ে দেব।” অষ্জিকা চলে যেতেই ঠোষ্ঠা চোখ পাকিয়ে বলল, “আবার বুলু দিলি? এসবি র ক্লাস তো তুই আ্যাটেন্ডই করিসনি। সিনেমা দেখতে
গিয়েছিলি ইশ, এই মেয়েটা তোকে ভালবাসে, আর সেটার তুই ফায়দা তুলছিস? ওকে ভুল বোঝাচ্ছিস?” আমি বললাম, “ভুল? সে কেউ বুঝলে আমি কী করব? এই তুইও তো নিজেকে আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবিস। এতেও আমার কিছু করার আছে, বল?” “মানে?” ঠোঙ্া উঠে দাঁড়াল, “বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবিস মানে?” আমি হাসলাম, “কিপ অন গেসিং ব্রো।” ঠোষঙা দাঁত কিড়ুমিড করে বলল, “শালা, ঠিক করেছে। পর্ণিকা তোর উপর রাগ করে। দু মাস দশ দিন হয়ে গেল। তাও তুই মরলি না কেন বল তো?”
।।২ ।।
আমি মরিনি। দু মাস দশ দিন হয়ে গিয়েছে, কিন্তু কথামতো এখনও মরিনি আমি। এটাই আমার অপরাধ।