
পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ
আহমদ ছফা
… আমাদের সঙ্গীসাথীরা যদি আমার খবর জানবার চায়
কইও না আমার বুকের ফুটোয় গুলি, দোহাই দিও না কপালের
কইও আমার বিয়া হইছে
দরিয়াপারে ঐ দুঃখের দেশে…
শাশুড়ি মা আমার চওড়া পাথররাণী
নবীন নুড়ি শালাশালি আর পাথরকালো মাটি বঁধুয়া আমার।
ডাকাতসেনার গান (এয়ুদ ১৯৭২)**
আহমদ ছফার ‘ পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’ (১৯৯৬) পড়ে আমার গ্রিকদেশের একদা ডাকাত ও এককালীন মুক্তিযোদ্ধা সেনাদের এই গানের টুকরা মনে পড়েছে। কেন পড়েছে সে ব্যাখ্যা লেখার তাগিদে এই নিবন্ধ।
আমাদের বাংলাভাষায় আঙ্গুলে গোণা যায় এমন কয়েকজন মাত্র মহান লেখক আছেন। আহমদ ছফা তাঁদের একজন। আর বর্তমান লেখকের বিচারে ‘ পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’ আহমদ ছফার মহত্তম রচনার একটি। বইটি এখনো যারা পড়েন নাই, তাদের আমন্ত্রণ জানাই আগে পড়ে এই দীন নিবন্ধ পরে পড়ার। পাছে এমন মহৎ সাহিত্যের অমর্যাদা হয় এই ভয়ে বহুদিন এ বই আলোচনার সাহস পাই নাই।
——
[* লেখাটি প্রথম আহমদ ছফা স্মৃতি বক্তৃতা আকারে পঠিত হয় ২৬ জুলাই, ২০০২ তারিখে। একই তারিখে ছাপা হয় দৈনিক যুগান্তরে এবং রাষ্ট্রসভা পত্রমালা নামক পত্রিকায় প্রথম বর্ষের প্রথম সংখ্যায়। এ লেখাটির আদি শিরোনাম ছিল : “ফাঁকানো কি জিনিস? অথবা আহমদ ছফার সুশীল সমাজ’ বিচার।”
**. … If our comrades ask you any questions about me, Don’t say I stopped a bullet, don’t say I was unlucky, Just tell them I’ve got married In the sad lands overseas… With a big flat stone for a mother-in-law New pebble brothers and the black erath for my bride.]
১
‘পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’ পড়ার কিছুদিন আগেই আমার কানে আসে এর নাম। পাঠকসমাজের গোচরার্থে জানানো হয়তো বাহুল্য নয়, এই লেখকের সাথে মহাত্মা আহমদ ছফার একটা অধীনতামূলক মিত্রতার সম্বন্ধ ছিল। অর্থাৎ তার উপদেশ আমার অমৃত হলেও আমার দেশ তিনি ইচ্ছা হয় গ্রাহ্য, বেশির ভাগ সময় অগ্রাহ্য, করতে পারতেন।
আমি তখন পৃথিবীর অন্য এক প্রদেশে। বইয়ের নাম শুনে সংশয় হল, কোন (বিদেশি) দাতা কিংবা (দেশি) মদতদাতার টাকায় লেখা কি না। এদিকে আহমদ ছফা-আপদেরই কথা– তখন দাতা জার্মানি হাইফেন মদতদাতা বাংলার ‘সম্প্রীতি’ [ওরফে বাংলা-জার্মান সম্প্রীতি] নামক এক প্রতিষ্ঠানে কর্তব্যরত ছিলেন। অনেকদিন পরে বইটি পড়ে আমার এই প্রথম সংশয় কাটে। টের পাই, নামটি প্রতারণা করেছে আমার সঙ্গে।
ফুল, গাছ বা পাখি এ বইয়ের খোসা বা জাহিরি চেহারা মাত্র, এর বাতেনি বা সারবিষয় খোদ মানুষেরই সমাজ। বিশেষ অর্থে সমাজের পদে পদে যে স্বার্থ ও শ্ৰেণীসংঘাত– যার কথা সকলেই জানেন অথচ কেউই বলেন না এখন– আহমদ ছফা তারই সরল বয়ান পেশ করেছেন পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গের ছদ্মনামে। একটি ইশারাই কারো কারো জন্যে কাফি। বইয়ের শেষ পাতায় পড়ি :
মাটির মানুষের জগতে হিংস্রতা এবং হানাহানি দেখে আকাশের পাখির জগতে আমি আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেখানেও হিংস্রতা এবং জাতিবৈরিতার প্রকোপ দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং মানুষের মত কর্তব্য পালন করার জন্য আমার মানুষের কাছে ফিরে না গিয়ে উপায় কী? আমি বৃক্ষ নই, আমি পাখি নই, মানুষ। ভাল হোক, মন্দ হোক, আনন্দের। হোক, বেদনার হোক আমাকে মানুষের মত মানুষের সমাজে মনুষ্যজীবনই যাপন করতে হবে। মনুষ্যলীলার করুণ রঙ্গভূমিতে আমাকে নেমে আসতে হবে। তথাপি আমার জীবন আমি একেবারে অর্থহীন মনে করিনে। (ছফা ১৯৯৬ : ৮০)
পাখির জগতের হিংস্রতা ও জাতিবৈরিতা কোন পদার্থ? একদিন আহমদ ছফা (কাহিনী বয়ানকারের এই নামই লেখক জারি রেখেছেন) রুটি হাতে বেরিয়ে এসেছেন এবং কাকমণ্ডলী শব্দটি উচ্চারণ করে ফেলেছেন। কাকেরা দলে দলে খেতে এল। বাকিটার বয়ান তাঁর মুখেই শোনা যাক :
আমি ছাদের ওপর তাকিয়ে দেখি, একটি দাঁড়কাক বসে আছে। আহা, বড় ভাল লাগল। শহরে কখনো দাঁড়কাক দেখেছি মনে পড়ে না। গ্রামের মানুষ শহরে এলে যেমন আড়ষ্ট হয়ে থাকে, কাকটিও তেমনি এক কোণায় জবুথবু হয়ে বসে আছে। আমি তার দিকে রুটির টুকরো ছুঁড়ে দিলাম। শহরের কাকেরা সে টুকরোগুলো তার মুখের কাছ থেকে কেড়ে নিয়ে খেয়ে ফেলল। আমার মনে বড় লাগল। এভাবেই শহরের মানুষেরা গ্রামের মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে থাকে। তার পরদিন একটার জায়গায় দুটো দাঁড়কাক এল। তারপর থেকে এখানে সেখানে নানা জায়গায় দাঁড়কাক দেখতে লাগলাম। আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগল। গ্রামে কি ভীষণ খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে, নইলে শহরে দলে দলে দাঁড়কাক এমনভাবে ছুটে আসবে কেন? নদীভাঙা মানুষ যেমন আসে, দুর্ভিক্ষের থাবা থেকে জান বাঁচানোর জন্য হাভাতে মানুষ যেমন আসে, তেমনি শহরে দলে দলে দাঁড়কাক আসছে, তার কারণ কী? (ছফা ১৯৯৬ : ৭৮-৭৯)।
একদিন আহমদ ছফা খেয়াল করলেন কাকেরা আর রুটি খাচ্ছে না। তিনি দেখলেন, সব কাক একযোগে কা কা করে তাঁর ছাদের সীমা পেরিয়ে আকাশে উড়ে উড়ে কোলাহল করতে লাগল। এত কাক নানা জায়গা থেকে এসে জুটেছে যে আমার সামনের আকাশটা যেন একটা কাকের সমুদ্র হয়ে গিয়েছে। কাহিনীকারের দোহার সুশীলের মতে কাক আসছে না কাকে কাকে জাতিসংগ্রামের কারণে। ছফার মতে আসে না অন্য কারণে, মানুষের মানে অপর দোহার ইদ্রিসের–বদকামনার দোষে। সুশীল প্রতিবাদ করে : আপনি সামনের দিকে চেয়ে দেখুন। দাঁড়কাকেরা পাতিকাকদের কিভাবে মেরে মেরে তাড়িয়ে দিচ্ছে।
আমি তাকিয়ে দেখলাম, আট দশটা দাঁড়কাক একজোট হয়ে যেখানেই পাতিকাক দেখছে খেদিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার পরদিন থেকে দেখতে থাকলাম দাঁড়কাকেরা দল বেঁধে জঙ্গি বিমানের মত বেগে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যেখানেই পাতিকাক দেখছে হামলা করছে। কাকের জগতেও হিংস্রতা এবং মস্তানি প্রবেশ করেছে। একসময় হয়তো এমনও হতে পারে দাঁড়কাকেরা এই শহর থেকে পাতিকাকদের তাড়িয়ে দেবে। (ছফা ১৯৯৬ : ৭৯-৮০)
আহমদ ছফার আবার পশ্চিমী বিনয়ও কম নয়। সাথে সাথেই তিনি তফ সীরকারের সংশয় নিয়ে বলছেনও : ব্যাপারটা কি সত্যি তাই? এখন কথা হল কাকের রাজ্যে বিপর্যয়ের যে লক্ষণগুলো আমি দেখতে পাচ্ছি, অন্যেরা কি সেভাবে দেখছে?
সকলেই দেখছে না, কিন্তু কেউ কেউ নিশ্চয়ই। আহমদ ছফার কিছু কম পাঁচ শত বছর আগে ইতালিদেশের এক কবিও এর কাছাকাছি দৃশ্য বয়ান করেছিলেন। পণ্ডিত হিসেবেই এই কবির অধিক প্রসিদ্ধি। জগদ্বিখ্যাত ‘রাজা’ গ্রন্থে নিক্কোলো মাকিয়াভেলি (১৪৬৯-১৫২৭) বয়ান করেন, প্রত্যেক দেশেই মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত : একদিকে সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে অভিজাত সম্প্রদায়।’
আজকাল বাংলাদেশে এই দোসরা পক্ষেরই নাম দাঁড়াচ্ছে সুশীল সমাজ। এদের মধ্যে যারা চতুরতর তারা হয়তো বলবেন, জাতীয় সমাজ’। দুটোরই ইংরেজি বুলি সিভিল সোসাইটি’। মাকিয়াভেল্লির মতে, সাধারণ মানুষ চায় অভিজাত সম্প্রদায়ের হাতে মার না খেতে আর তাদের কথায় উঠবস করার কবল থেকে রেহাই পেতে, ওদিকে অভিজাতরা চায় সাধারণ মানুষকে মার দিতে, আর কথায় কথায় উঠবস করাতে, এই পথেই (সুশীল ওরফে) জাতীয় রাজের উদ্ভব। কারণ সাধারণ মানুষ ও অভিজাত সম্প্রদায়ের মুখোমুখি পরস্পরবিরোধী বাসনা থেকেই নৈরাজ্য। মাকিয়াভেল্লি লিখেছেন :
রাজার শাসন কায়েম করতে পারে সাধারণ মানুষ বা অভিজাত সম্প্রদায়, যে-কোন দলই। কে করবে তা নির্ভর করে তাদের নিয়তের ওপর। অভিজাতরা যখন দেখে যে সাধারণ মানুষকে ঠেকাতে পারা যাচ্ছে না, তখন তাঁরা নিজেদেরই একজনকে সমর্থন দেয়, তাকে রাজার আসনে বসায় যেন তার ছায়ায় নিজেদের বাসনা পূরণ করতে পারে। সাধারণ মানুষও যখন দেখে অভিজাতদের সাথে পারা যাচ্ছে না, তখন তারাও কোন একটা লোকের পেছনে কাতার বাঁধে, তাঁকে রাজা বানায়, যেন তার ক্ষমতার আশ্রয়ে নিজেরা বাঁচতে পারে। (মাকিয়াভেল্লি ১৯৮৯ : ৩৯)।
আহমদ ছফা আর এক জায়গায় শুধাচ্ছেন : ‘মানুষের নিয়ম কি পাখিদের সমাজে চালু করা যায়?’ উত্তরে তাঁকে পুরাণ লিখতে হল। ছফা সাহেব কোন এক সময় একটি টিয়া পাখি পুষেছিলেন, সে পাখি বিড়ালের থাবায় একদিন মারা পড়ে। এরপর তিনি বহুদিন কোন পাখি পোষেন নাই। অনেকদিন পর তাঁর নতুন সাকরিদ সুশীলবাবু নীলক্ষেতের চিড়িয়াওয়ালার কাছ থেকে একটা ঝুঁটিশালিকের বাচ্চা কিনে নিয়ে আসে। তাদের ঘরে একটি প্লাস্টিকের খোপ খোপ ঝুড়ি ছিল। দেখতে বেশ খাঁচার মতন। ছফার বয়ানে :
পাখিটা এই ঝুড়ির স্বল্প আয়তনের মধ্যে হাঁটাচলা করতে গিয়ে বেশ কষ্ট পাচ্ছে। আধারাতে পাখিটার দিকে তাকিয়ে দেখি, পাখার মধ্যে মুখ গুঁজে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে। মনে হল পাখিটি কাঁদছে। (ছফা ১৯৯৬ : ৬৩)। একটু পরের বর্ণনায় দেখি পাখির খাঁচা পরিবর্তন ঘটেছে :
পাখিটিকে যখন বড় খাঁচায় চালান করা হল, সমস্ত পাখি ব্যক্তিত্ব নিয়ে সে লাফালাফি করতে থাকল। কখনো দাঁড়ের ওপর ওঠে, কখনো নিচে নামে। খাঁচার ফাঁক দিয়ে বিশাল আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। আসলে অন্য পাখিদের ওড়াওড়ি দেখলে খাঁচার ভেতর তার ছটফটানি বাড়তে থাকে। খাঁচার এপাশ-ওপাশে পাখায় ভর করে উড়তে গিয়ে ধাক্কা খায়। আশাভঙ্গের বেদনা এবং শারীরিক ক্লান্তি যখন তাকে কাবু করে ফেলে, সে দাঁড়ের ওপর বসে চিন্তা করে, কোথায় এসেছি। দাঁড়ের ওপর বেশিক্ষণ বসে থাকা তার পোষায় না। সে ছাতুর বাটিটাতে নিচু হয়ে ঠোকর বসাতে থাকে। দু তিনটা ঠোকর দিয়ে পানির বাটির দিকে সরে যায়। …(ছফা ১৯৯৬ : ৬৩-৬৪)
একদিন পাখিটি পালিয়ে যায়। ছফা সাহেবের ভাষায়, “আমি ভেতরে ভেতরে জানতাম, পাখি একদিন দাগা দিয়ে পালিয়ে যাবে। কারণ তার আগেই আমাদের শখের পাখিওয়ালা জানতেন :
আমাদের শালিকটি খাঁচায় অবিরাম ছুটোছুটি করে, কখনো ওপরে ওঠে, কখনো নিচে নামে, কখনো দাঁড়ে বসে ক্ষেপা চিৎকার করে, কখনো দুঃখের গান গায়, কখনো পাখা ঝাড়া দিয়ে পালকগুলো প্রসারিত করে, পাখার ভেতর ঠোঁট বুজে থাকে, হলুদ ঠোঁট খাঁচার ফাঁকে ঢুকিয়ে দিয়ে আকাশের স্বাদ গ্রহণ করতে চেষ্টা করে। পাখিটির দুঃখের এই অভিব্যক্তিগুলো আমার চোখে অত্যন্ত সুন্দর মনে হয়। তাই পাখিটিকে কিনে এনে খাঁচায় বন্দি করেছি। পাখিটির সঙ্গে জোর করে প্রণয় সম্পর্ক স্থাপন করতে গিয়ে আমার ভেতরেও একটা নাম না-জানা পাখি অবিরাম পাখা ঝাঁপটাচ্ছে। (ছফা ১৯৯৬ : ৬৫-৬৬)
একদিন ছফা দেখলেন তার শালিকটি ফিরে এসেছে, সামনের পাঁচতলা দালানের শিকের ওপর ম্লান মুখে বসে আছে :
আমার কেমন জানি বিশ্বাস হল, পাখিটি আমাকে একেবারে ভুলে যায়নি। আমি ডাকলাম, বাবু, বাবু। আমার ডাক যেই শুনেছে তক্ষুনি লম্বা উড়াল দিয়ে পাঁচতলা দালান ছাড়িয়ে, অ্যাক্যালিপ্টাসগাছের ওপর দিয়ে, ইস্কাটনের দিকে কোথায় উড়ে গেল ঠাহর করতে পারলাম না। তার পরদিন থেকে পাখিটিকে নানা জায়গায় দেখতে থাকলাম। কখনো পাঁচতলা দালানের লোহার শিকে, কখনো নোনাগাছটির মাথায়, কখনো নারকোলগাছে। একবার তো আমার জানালার পাশের আমগাছের আগডালে এসে বসেছিল। সকাল-দুপুর-বিকেল সবসময়ে দেখি পাখিটি বাড়ি পালানো ছেলের মত এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেবল আমার গলার আওয়াজটি শুনলেই দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায়। (ছফা ১৯৯৬ : ৬৭)
২
পাখি যায়, আবার আসেও। আবার ভয়ে পালায়। ভয়ের টানা ও প্রয়োজনের পোড়েন মিলে ছফার সাথে শালিকের এক নতুন সম্পর্ক বয়নের ইতিহাস আমরা সবিস্তার পড়ি। এরই মধ্যে বিপদ হয়ে নেমে আসে আর জাতের পাখি, একটি গেরোবাজ কবুতর, দুটি রাজঘুঘু, আরও কত। ছফা তাঁর এই পলাতক পাখিকে পুত্রস্বরূপ দত্তক নিয়েছেন। আর বেটা গিয়েছে পালিয়ে। কিন্তু হাজার হলেও পিতার হৃদয়ে বাবরের প্রার্থনা। তিনি পাখিটাকে যখনই ধারে কাছে কোথাও দেখেন, তার দৃষ্টিতে পড়ে মত ছোট ছোট দলা পাকিয়ে ছাদের নানা জায়গায় ছাতু ছড়িয়ে দিতে থাকলেন। ভাতও ছুঁড়ে দিলেন। সে যদি ইচ্ছে করে ছাতু খেতে পারে। আবার পছন্দ করলে ভাতও খেতে পারে। পাখি কাছে আসে, কিন্তু তার ভয় যায় নাই। ছফা বলছেন :
একদিন নটার সময় দেখলাম পাখিটি একেবারে ছাদের দেয়ালে এসে বসেছে। ইচ্ছে হলে দু’গজ নিচে নেমে খাবারে মুখ বসাতে পারে।