
ডিটেকটিভ নোংরা পরির কংকাল
মলয় রায়চৌধুরী
অলৌকিক প্রেম ও নৃশংস হত্যার রহস্যোপন্যাস
১. পলাতকার উড়াল
১. পলাতকার উড়াল
তারিখটা আজও মনে আছে : পয়লা সেপ্টেম্বর ।
মেট্রো রেল স্টেশানের চত্বরে দাঁড়িয়ে, মোবাইলটা পকেটে আছে কিনা চেক করছি, একজন তরুণী খপ করে বাঁ হাত ধরে বলে উঠল, ‘চলুন পালাই’ । খপ, এই শব্দটাই মাথায় এলো , অব্যর্থ শব্দ । ডেস্কটপের কি-বোর্ড পর্যন্ত শব্দটাকে নতুন মানে দিয়ে ফেলছে , স্পষ্ট অনুভব করছি । মুখে বললে অশ্লীল শোনাবে এই খপ শব্দটা ; কিন্তু হাত ধরার প্রক্রিয়ায় তো ওই আধ্যাত্মিক ইন্দ্রজাল লুকিয়ে ছিল । ইঁটের তলাকার ঘাসের মতন, রহস্যময় ।
‘চলুন পালাই’ কথাটার জন্যে নয় , বা, ডান হাতের কব্জিতে শক্ত মুঠোয় ধরার, ধরে থাকার কারণে , আমার মুখমন্ডলে যে ভাব ছড়িয়ে পড়েছিল, তা ভয়, ভীতি, অতিপরিচিত ভীতি, রক্তশূন্যতা, অথচ অজানা আশঙ্কা, বিপদের পূর্বাভাস না অন্য কিছু , তা স্মৃতিতে আর ফিরিয়ে আনতে পারছি না যদিও । ব্রহ্মাণ্ড নিশ্চই ভয় থেকে সৃষ্টি হয়েছিল । শব্দহীন, বর্ণহীন, গন্ধহীন, বাতাসের স্পর্শহীন, স্বাদবস্তুহীন পূঞ্জীভূত ভয় , সীমাহীন অন্ধকারে শূন্যবিন্দুতে ঘন হয়ে ওঠার ভয় । স্টেশানের বাইরে দাঁড়িয়ে আমি নিজেকে আবিষ্কার করলুম সেই শূন্যবিন্দুতে । হঠাৎ । আচমকা, এক নিঃশব্দ হিমশীতল বিস্ফোরণ । পয়লা সেপ্টেম্বর ।
তরুণী ফোটোক্রোমেটিক চশমায় , কাচের নিচের দিকটা ফিকে বলে গভীর চোখ দুটোয় প্রশ্নময়তার ঝিলিক । মাথাভরা কোঁকড়ানো চুল । আমার চেয়ে চার-পাঁচ ইঞ্চ ছোট ; দামি ব্র্যান্ডেড ফেডেড জিনসের ওপর সিল্কের ঢিলেঢালা টপ । আমার চেয়ে এক পোঁচ কম ফর্সা , কানে ছোট-ছোট হীরের তারা, ডান হাতে পুরুষালি ঘড়ি, বিদেশি দামি ঘড়ি — ওই হাতেই লুকিয়ে ছিল খপ শব্দটা । পাতলা ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপ্সটিক ছাপিয়ে শ্লেষের মৃদু হাসি, বলল, কী হল ? লেট আস রান অ্যাওয়ে, চলুন পালাই ।
বিন্যস্ত, মনস্হিতিকে শান্ত করতে , স্বাভাবিকভাবে, সময় লাগছিল । আমার প্রতিক্রিয়া উপভোগ করছিল স্মার্ট তরুণী । স্পষ্ট করে বলল, দেখুন, কত কাওয়ার্ড আপনি । নিজের কাওয়ার্ডাইসের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না বুঝি ? প্রতিদিন তো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেন আমায় । সারাদিনে বেশ কয়েকবার কাছাকাছি ঘোরাফেরা করেন , বুঝতে পারি কথা বলার সুযোগ খুঁজছেন ; এখন কী হল !
সম্বিত ফিরে পেতে যতক্ষণ । আমাদের ডিপার্টমেন্টের মায়া পাল । কয়েক মাস হল এই বিভাগে জয়েন করেছে । অফিসে তো ইংরেজিতে ছাড়া কথা বলে না , কনভেন্ট স্কুলের ইংরেজি । ওদের সেকশানে গেলে ফিরে-ফিরে চোখ চলে যেত তরুণীটির দিকে । চার্মিং । সুন্দরী না হয়েও আকর্ষণীয়া । হাঁটার, কথা কইবার ঢঙে গর্ব ছলকায় , সম্ভবত উচ্চশিক্ষায় ভালো ফলাফল করার, অঢেল মাইনে পাবার, গোমর , তখন ভাবতুম । মানুষের ভেতরের আলোর খবর সেসময়ে আমার জানা ছিল না । শুনেছিলুম, নানা চাকরি বদল করার অভ্যাস আছে তরুণীটির , একটি থেকে আরেকটিতে লাফিয়ে-লাফিয়ে বর্তমানে বছরখানেক আমাদের অফিসে । প্রতিষ্ঠান হিসাবে অফিস জিনিসটার আর গুরুত্ব নেই । চাকুরিজীবি নিজেই নিজের ব্র্যান্ড । তা সে যে সংস্হায় কাজ করছে সেটি যতই বিখ্যাত হোক ।
আমি জীবনে ওই একটি চাকরিই করেছি , এ ছাড়া কী করব জানি না বলে চাকরি করা শুরু করেছিলুম । বাপ-ঠাকুর্দা যা ছেড়ে গেছে তা যথেষ্ট । বিয়ে-করা, সংসার পাতা ইত্যাদি সম্পর্কে আমার কমিটমেন্ট ভীতি ছিল । আমি জানতুম যে আমি পলিগ্যামাস । একজন নারীর বাঁধনে নিজেকে আটকে ফেলার আশঙ্কায় প্রেমে পড়ার ব্যাপারটা চিরকাল এড়িয়ে গেছি । আকর্ষিত হয়েছি, কিন্তু গড়াতে দিইনি বেশিদিন । কলগার্লদের তাই আমার ভালো লাগত ; কল গার্ল বলতে আমি আমাদের দেশের বেশ্যালয়ের বেশ্যাদের কথা বলছি না । আমাদের দেশের কথাটা এইজন্যে মনে এলো যে পৃথিবীতে আমাদের দেশের বেশ্যালয়গুলোর মতন ্রকম নংরা পরিবেশ বোধহয় আর কোনো দেশে নেই । শহরের সবচেয়ে উপেক্ষিত পাড়াটি তাদের জন্য বরাদ্দ ; ভারতবর্ষে ।
আমি নিজেকে বলতে শুনলুম, আপনি ঠিক কী বলতে চাইছেন, মানে আপনার কথার আড়ালে কী লুকিয়ে রেখেছেন, ডেসিফার করতে পারছি না । এমনিতেই আমার গলা শুকিয়ে জল বা কোল্ড ড্রিংক্সের চাহিদায় তখন । তার ওপর যারা আসপাশ দিয়ে যাতায়াত করছে তারা যাতে কথপোকথন শুনতে না পায় তাই স্তিমিত কন্ঠস্বরে উচ্চারিত হয়েছিল আমার বোকামি ।
কোনোই হেঁয়ালি করিনি আমি ; জাস্ট লেট আস গেট লস্ট । এবার বুঝতে পেরেছেন ? আমি বলছি, চলুন পালাই, আমাদের এই চেনাজানা ম্যাডনেসের বাইরে পালাই, এমন পরিবেশে যেখানে আধুনিক জগত অনুপস্হিত, যেখানে ভিড় একদম নেই, মানুষ দেখতে পাওয়া যায় না সচরাচর, চেঁচামেচি নেই , আওয়াজ নেই, মানুষের গ্ল্যান্ডের দুর্গন্ধ নেই । অ্যাম আই ক্লিয়ার নাও ? আমার হাতের কব্জি ধরে রেখেই বলছিল মায়া । মনে হয়নি কখনও, ও এরকম চিন্তাকে প্রশ্রয় দিতে পারে, ওকে দেখে কখনও মনে হয়নি যে ও মহানগরীর বিতৃষ্ণায় আক্রান্ত ।
আজ বুঝতে পারি, মহানগরীয় বিতৃষ্ণা নয়, অন্য এক অজানার সন্ধান করেছিল মায়া পাল, যা জানতে পারা আমার ক্ষমতা ওজ্ঞানের বাইরে । আজও জানি না তা কী ।
একজন তরুণী তার সঙ্গে কোথাও উধাও হয়ে যেতে বলছে । কলকাতা শহরে, সকাল নটায়, অফিস যাত্রার দৈনিক ব্যস্ততার মাঝে এরকম একটা অ্যাবসার্ড প্রস্তাব দিয়ে বসল । ঠাট্টা-ইয়ার্কি নাকি হিউমিলিয়েট করার উদ্দেশ্যে, তা স্পষ্ট করার জন্যে বললুম, অকারণে অপমান করবেন না প্লিজ, তরুণীরাই আমার দিকে তাকান, তাকিয়ে থাকেন, কেউ-কেউ কথা বলতে চান, কিন্তু আমি কখনই কাউকে ডিমিন করি না, আমি প্রেমে পড়া ব্যাপারটাও ঠিক অনুমোদন করি না , তা ঘটে বলে তো মনে হয় না ।
হাত ধরে রেখেই মায়া বলেছিল, স্ট্রেঞ্জ, গলার টোন থেকে ধরতে পারছেন না যে আমি সিরিয়াস ? আমি বলছি, চলুন, সব কিছু পেছনে ফেলে চলে যাই কোথাও ; আমরা পরস্পরের সঙ্গে সেরকম পরিচিত নই, সেটা একটা প্লাস পয়েন্ট । কিছুটা তো চিনি একজন আরেকজনকে । বিকেল পর্যন্ত আমরা পরস্পরের পরিচিত হয়ে উঠব । পালাতে হলে এভাবেই পালাতে হয় , হঠাৎ । হঠাৎ একদিন কাউকে না জানিয়ে , এক পোশাকে, পরিচিত জগত থেকে ফ্রিক-আউট করে যাওয়া , বিকামিঙ আননোন, অ্যাননিমাস, ফরগটন । প্রেমে পড়ার কথা তো আসছে না । কী ? ভাবছেন, আমার মাথা খারাপ ? মেন্টাল কেস ? তাহলে এরকম চাকরি পেতাম নাকি ? কত স্মার্ট ক্যান্ডিডেট তো ছিল , তা থেকে মাত্র আমি সেলেক্ট হয়েছিলাম , আপনি তা জানেন নিশ্চই ? এই ধরণের চাকরি আমি চাইলেই পেতে পারি । ভাববার সময় নেবেন না । আমিও ঠিক এক্ষুনি ভাবলাম , পালানো যাক । কাউকে বলি, চলুন পালাই , আপনাকেই সামনে পেলুম । ভাবতে চেষ্টা করবেন না । অত্যধিন চিন্তা মানুষকে দুশ্চরিত্র করে । ও , আমার মুখ দেখতে পাচ্ছেন না ? চশমা খুলে মায়া বলল, নিন, চলুন পালাই, আই অ্যাম ডেড সিরিয়াস ।
আমার মুখ দিয়ে আমতা-আমতা কন্ঠস্বরে বেরিয়েছিল, আমি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি বক্তা হিসাবে গণিত সম্পর্কে বক্তৃতা দিতে যাচ্ছি ।
ফরগেট ইট, বলেছিল মায়া, জানি আপনি গণিত বিশেষজ্ঞ । ওসব ভুলে যান । গণিত কাজে লাগে না , ইংরেজিরও প্রয়োজন নেই , এরকম জনহীন অঞ্চলে চলে যেতে চাই । তাড়াতাড়ি করুন । আমার কাছে এটিএম কার্ড, ক্রেডিট কার্ড আছে ; আপনার কাছেও আছে নিশ্চই । চলুন, যতটা পারা যায় তুলে নিই , তারপর নিরুদ্দেশের পথে ওগুলোর আর প্রয়োজন হবে না ।
মায়ার পরিবারে কে-কে আছে জানি না , কখনও জানিনি, জানতে চাইনি । আমার তো মা-বাবা মারা যাবার পর কেউ নেই , কেউই নেই । বিশাল বাঙলোবাড়িতে আমি একা । দাদুর বাবার ঘর, দাদুর ঘর, বাবার ঘর, বাবা-মা মারা যাবার পর আর খুলিনি । মায়ের চব্বিশ ঘন্টা কাজের বই সেলিমা বেওয়াকেও ছাড়িয়ে দিয়েছি , কেননা একা একজন যুবতীর সঙ্গে, সে কাজের মেয়ে হলেও, একই বাড়িতে থাকা যায় না । বস্তুত কেউ নেই বলেই চাকরি করি । নয়তো চাকরি করার দরকার ছিল না । মায়া পালকে বললুম, আমি অসৎ, জোচ্চোর, বিশ্বাসঘাতক, দুশ্চরিত্র, ফেরেববাজ, বেপাড়ার যাত্রী কিনা তা তো আপনি জানেন না ।
তরুণী হাসির মৃদু ঝিলিক খেলালেন, ঠোঁট সামান্য খুলে, বললেন, অ্যাডাম আর ইভের গল্প জানেন ? তাদের নাভি ছিল না । আমাদেরও অতীত ঠিক এই মুহূর্ত থেকে আর নেই । আমরা এক্ষুনি স্বর্গোদ্যানে নেমেছি । আপনি অ্যাডাম, আপনি নিষ্পাপ । আমরা তাদের মতনই শাকাহারী । এসব কথা বলার জন্যে তো সারাজীবন পড়ে রইলো । এখন চলুন, যেদিকে পথ নিয়ে যায়, সেইদিকে ।
জানি না কে কাকে সন্মোহিত করেছিল । আমরা নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে যত বেশি সম্ভব টাকা তুলে, দমদম বিমান বন্দরে পৌঁছে, প্রথম ফ্লাইটের খোঁজ করে, চেন্নাইয়ের বিমানে দুটো সিট পেলুম । টিকিট মায়াই কেটেছিল, মিসেস মায়া পাল আর নিরঞ্জন পালের নামে । বিমানে বসে, মায়া চুপচাপ, হয়তো নিজের ফেলে আসা অতীতকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলার চেষ্টায় একাগ্র । মেয়েদের অতীত পুরুষদের চেয়ে ভিন্ন হয় বলে আমার অনুমান । আমি অপেক্ষা করছিলুম ওর কথার, কথা বলার, কেননা নুরুদ্দেশে যাবার আকস্মিক পরিকল্পনাটা ওরই , আমি তো তাতে সঙ্গদান করছি মাত্র । আমার দিকে না তাকিয়েই মায়া বলেছিল, আমরা সারা জীবন নিজেদের সম্পর্ক আপনি-আজ্ঞের পবিত্র গভীরতায় রাখব । তুমি-তুমি ওগো-হ্যাঁগোর ছেঁদো নোংরা রুটিনে বাঁধা পড়ব না
বলেছিলুম, পবিত্র ? এই ধরণের অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করবেন না প্লিজ ।
মায়া বলেছিল, ঠিক বলেছেন, এবার থেকে করব না ; এই রকম শব্দও তো অতীতকে ধরে রাখার ষড়যন্ত্র ।
মায়ার পাশে বসে একই ভাবনা ঘুরছিল আমার মগজে, যা বহুকাল থেকে বাসা বেঁধে আছে । তা এই যে, আমি একজন কুকুর । যে মালকিনির হাতে পড়েছি, সে যেরকম চেয়েছে, যেরকম গড়েছে, তা-ই হয়েছি : প্রেমের কুকুর, কাজের কুকুর, সেবার কুকুর, গুপ্তচর কুকুর, ধাঙড় কুকুর, কুরিয়ার কুকুর, প্রেডাটার কুকুর , পাহারাদার কুকুর, মানসিক থেরাপির কুকুর, অনধের কুকুর, শোনার কুকুর, শোঁকার কুকুর, চাটার কুকুর, রক্ষক কুকুর, গাড়িটানার কুকুর, আদরের কুকুর, এই কুকুর, ওই কুকুর ইত্যাদি । কিন্তু আমার লেজটা জন্মের সময়ে যেমন আকাশমুখো ছিল, আজও তেমনই আছে । থাকবে । এখন টাইপ করতে বসেও জানি, লেজটা অমনই রয়েছে ।
কুকুরের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আমার । টাকা ফুরোলে তো ফিরতেই হবে আরামের শহুরে জীবনে । না ফেরা পর্যন্ত নিরঞ্জন পাল হয়েই থাকা যাক । মায়া হয়তো সংসারের বেড়ি-শেকল থেকে কিছুদিনের জন্যে মুক্তি চাইছে । চেন্নাইতে নেমে, আমার প্রস্তাবমত, দুটো সস্তা ক্যারিব্যাগ, মোটা চাদর, ফোলাবার দুটো বালিশ, মশারি, দক্ষিণ ভারতীয় সস্তা শাড়ি, স্হানীয়দের মতৌ শাদা আর চাককাটা লুঙ্গি কিনে, স্টেশানের কাছে হোটেলে উঠলুম । মিসেস মায়া বণিক আর নিরঞ্জন বণিক নামে । মায়া কারণ বলেনি এই নতুন পদবির । আমি অনুমান করলুম, পেছনের যাবতীয় ছাপ মুছে ফেলতে চাইছে, প্রতিটি পদক্ষেপের, যাতে কেউ খুঁজে না পায় আমাদের । দক্ষিণ ভারতীয় সাপড়া, মানে ভাত সাম্বর রসম পাঁপড় পাতলা দই খেয়ে মায়া দিব্বি ঘুমোলো সারারাত । কোনো তরুণির পাশে শুয়ে ঘুমোনো , আমার মতন জার্মান শেপার্ড বা কুন হাউন্ডের পক্ষে অসম্ভব ছিল । জেগে রইলুম সারারাত । লক্ষ করলুম, মায়ার কানের হীরের টপ, আর হাতের মোটা চুড়িটা নেই । মায়ার পারফিউমের মায়াবিনী সুগন্ধের স্বপ্নিল পরিমণ্ডলে শুয়ে-শুয়ে সেদিন ভেবেছিলুম, এ কিরকম সম্পর্ক ! এ তো প্রেম নয়, কয়েক ঘন্টার জন্যে কেনা মেয়েমানুষের সঙ্গে শোয়া নয় ল সম্পূর্ণ অচেনা একজন মহিলার পাশে শুয়ে আছি , কেন তার কারণ নিজেই জানি না । মগজে ঘুরঘুর করছে ভাবনার ধোঁয়া ।
কে এই মহিলা ? কী চায় ? ধর্মের ঘেরাটোপে পাগল রমণী ?
পাল যখন তখন বৈষ্ণব নয় বলেই তো মনে হচ্ছে যে গোপন বৈরাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়ল ? ফেডেড জিন্স পরে !
একজন প্রায় অচেনা পুরুষের পাশে শুয়ে নিশ্চিন্তে কী করে ঘুমোতে পারে একজন যুবতী , যে দেখতেও ভাল, এমনকি আকর্ষক ?
জীবন থেকে কিছু চাই ? চাইলে আমার তো তাতে কোনো ভূমিকা থাকার কথা নয় ?
হয়তো আমার ভূমিকা ছকে রাখা আছে, ক্রমশ প্রকাশ্য । দেখাই যাক । একটা উদ্দেশ্য তো হল । বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য !
আমি একজন যধবতীর পাশে শুয়ে আছি , অথচ আমার শরী