লালন ফকির জীবন ও সাধনা

লালন ফকির জীবন ও সাধনা

পৃথ্বীরাজ সেন

লালন ফকির জীবন ও সাধনা

Books Pointer Iconপৃথ্বীরাজ সেন
Books Pointer Iconmotivational

Posted bySmita Biswash17-Jul-2025

Change color

অবতরণিকা

ইদানীং দুই বাংলার বুদ্ধিজীবি মহল থেকে শুরু করে সাধারণ জনমানসে লালন ফকিরের বর্ণময় জীবন এবং সংগীত সাধনা সম্পর্কে ব্যাপক ঔৎসুক্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভাবতে ভালো লাগে, একুশ শতকের এই ইনটারনেট শাসিত সমাজে লালন আবার নতুনভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন। অনেক উন্নাসিক সমালোচক বলে থাকেন এ হল বাঙালির তাৎক্ষণিক আবেগের মাহূর্তিক বহিঃপ্রকাশ। এর অন্তরালে অনুঘটকের কাজ করেছে লালন জীবনভিত্তিক দুটি অসামান্য চলচ্চিত্র—অচিন পাখি ও মনের মানুষ।

এ কথা অনস্বীকার্য যে সেলুলয়েড মাধ্যমের গুরুত্ব অপরিসীম। সমাজের এক বৃহত্তর অংশ এই দুই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে লালনের বিতর্কিত জীবন আর তাঁর সংগীত সাধনা সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এভাবে বাংলার সাংস্কৃতিক মহলে শুরু হয়েছে লালন চর্চার নতুন অধ্যায়।

আমি এক সামান্য লেখক, লালন গবেষক হবার স্পর্ধা অথবা দুঃসাহস আমার নেই। তাই আমি হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে উৎসারিত আবেগের রঙে রাঙিয়েছি আমার ভালোবাসার মানুষটিকে। জনশ্রুতি এবং প্রতিবেদনের কাঠামোর ওপর সাজানো হয়েছে লালনের মূর্তিখানি। হয়তো কোথাও কষ্ট কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়েছে—সেইজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

এই বই-এর দ্বিতীয় পর্বে এক সাধারণ লালনপ্রেমী মানুষের মনন-দর্পণে প্রতিফলিত লালনের সাধনার ছবিখানি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। মারফতি অথবা শরিয়তী তত্ত্বের রহস্য তন্ময়তার কথা আমার জানা নেই, কিন্তু আমি মুগ্ধ বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি সেই অল্পশিক্ষিত প্রান্তিক, ব্রাত্য মানুষটির দিকে, যিনি অনায়াস দক্ষতায় উচ্চারণ করেন—

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি

কেমনে আসে যায়?

এই গানের মধ্যে বিধৃত হয়েছে বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিক সাধনার রূপরেখা।

সন্ত্রাসদীর্ণ এই পৃথিবীতে লালনের মত মুক্তমনের মানুষের বড় বেশি প্রয়োজন। এই গ্রন্থের তৃতীয় পর্বে তাই নির্মোহ দৃষ্টিতে লালনের জন্মরহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছি। লালন সারা জীবনের সাধনায় ধর্মবিহীন মানবিকতার কথা বলে গেছেন—তাঁর জাত জেনে কি লাভ?

প্রসঙ্গত উল্লেখ করি এই বইটি আমার সাহিত্য জীবনের একটি দিকচিহ্ন স্পর্শ করেছে। প্রথম বছর বইমেলায় যে সদ্য তরুণের কুন্ঠিত আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে, আজ অনেক উপলব্যথিত পথ পার হয়ে সে স্পর্শ করেছে এক হাজার বই-এর লেখকের স্বীকৃতি। এভাবেই বইমেলার সঙ্গে রচিত হয়েছে এক মহান পরম্পরা। এই শুভমুহূর্তে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি সেই সব পাঠক-পাঠিকা এবং প্রকাশক বৃন্দকে—যাঁদের ধারাবাহিক সহযোগিতা ছাড়া আমি কখনই এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারতাম না। আর ধন্যবাদ জানাই গিরিজা লাইব্রেরীর কর্ণধার শ্রীপ্রশান্ত চক্রবর্ত্তীকে, যাঁর উদ্দীপনা ছাড়া এই বই এত অল্প সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা সম্ভব হোত না।

ফিউসান আর র‌্যাপ মিউজিকের নিনাদিত মুহূর্তে ঐ শোনা যায় লালনগীতি—

আমি একদিনও না দেখলেম তারে!

আমার বাড়ির কাছে আরশীনগর

পড়শী বসত করে।

তাহলে আমরা কি আর একবার সেই চিরন্তন গানের জগতের বাসিন্দা হয়ে যাব যেখানে মাথার ওপর নির্মল নীল আকাশ আর পায়ের নীচে সবুজ ঘাসের জাজিম?

বইমেলার শুভেচ্ছায়

পৃথ্বীরাজ সেন

কলকাতা বইমেলা,

২০১১


লালন ফকির : জীবন


এক


নিশান্তিকার মায়াবী আলোর ওড়না ঢাকা শেষ তারাটি এবার বোধহয় বিদায়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে।


এখনও প্রভাত সূর্যের আগমনবার্তা ধ্বনিত হয়নি। পাখিরা সবেমাত্র ডাকাডাকি করেছে। এক অলৌকিক সকালের জন্ম হচ্ছে এই বিস্তৃত বিপন্ন জলরাশির ওপর।


ঘুম অথবা ঘুম-ঘুম আচ্ছন্নতা জড়িয়ে রেখেছিল লালনকে। এইমাত্র অতিকষ্টে চোখ মেলে তাকাল সে। পরিব্যাপ্ত পরিমণ্ডলের অনুপম নিসর্গ শোভা তাকে বিন্দুমাত্র আলোড়িত করতে পারল না। পারবে কী করে? সে বড়ো ক্লান্ত, উজান বেয়ে অনেকটা পথ পার হয়েছে। বাঁশের তৈরি ভেলায়। কী আশ্চর্য! কী বিপুল তার প্রাণশক্তি। ঈশ্বরের অনুগ্রহে অথবা আল্লার দোয়ায় এখনও বেঁচে আছে সে!


অথচ এমনটি হবার কথা ছিল না। চোখ বন্ধ করল লালন। অস্ফূট আর্তনাদের মতো কয়েকটি শব্দ বেরিয়ে এল তার শুকনো ঠোঁটের কোণ থেকে—মা, বড়ো খিদে।


কেউ কি ছিল সেখানে? কোনো এক স্নেহময়ী জননী? যার অন্তরের অন্তঃস্থলে প্রবেশ করেছিল এই অস্ফূট আর্তধ্বনি। ছুটে এসেছিল সে। সে কোন জাতের, আমরা জানি না। তার ধর্ম পরিচয় কী, আমাদের অজানা। আমরা জানি সে এক মাতৃস্বরূপিনী। তার চোখে ভাসছে অনাগত ভবিষ্যতের ছায়া। সে জানে না এই নামগোত্রহীন মানুষটিকে নিয়ে সে কী করবে!


তার নাম আমিনা। মধ্যবয়সিনী/বন্ধ্যা বলে সংসারের সকলে তার দিকে অভিশাপের আঙুল তোলে। বেচারী আমিনা, সন্তানবতী হওয়ার স্বপ্ন তার অনেকদিনের। সে কবেকার কথা। কৈশোর সমাগত সেই দিনগুলি-তে আপন মনে পুতুল খেলায় অংশ নিত সে। দারিদ্রের সংসার। তাতে কী? মনের খুশি কেউ কি কাড়তে পারে? নিদারুণ দুঃখকষ্টের চাবুক মেরে কেউ কি দমিয়ে রাখতে পারে উচ্ছাস উদ্দীপনা?


সেই আমিনা, গফুর জোলার স্ত্রী, ভাগ্য ভালো, সতীন নিয়ে ঘর করতে হয় না তাকে। গফুর জোলা সৎ চরিত্রের মানুষ। ধর্মে মতি আছে। রোজ নিয়ম করে নামাজ পাঠ করে। গফুর জানে এই জগৎ-সংসারের সবকিছু আল্লাহর অবদান।


রোজ সকালে পানি আনতে যাওয়া আমিনার অনেকদিনের অভ্যেস। নিজের হাতে ঘরদুয়ার পরিষ্কার করে সে। উঠোন নিকোয়। বারান্দায় নতুন করে কাদামাটি লেপে দেয়। সংসারের সকলের প্রতি তার অসীম ভালোবাসা। সে আর গফুর জোলা—এছাড়া আছে একপাল হাঁস, ভোর না হতেই তাদের প্যাঁক প্যাঁকানি শুরু হয়ে যায়। দুটি দুবেলা গাই এবং কী আশ্চর্য, একটা লেজকাটা নেড়ি কুকুর। আদর করে আমিনা তার নাম রেখেছে ভোলা। এদের নিয়েই ভরভরন্ত সংসার গফুর আর আমিনা বিবির।


দিন আনি দিন খাই অবস্থা। গ্রাম বাংলার সামান্য জোলা, তাঁত বুনে কি আর সংসার চালানো যায়? তবু কী আশ্চর্য, অবাধ খুশির ঝলক তাদের ঠোঁটের কোণে। কেউ কখনো গফুর আর আমিনাকে ঝগড়া করতে দেখেনি। সত্যি সে এক অবাক করা ব্যাপার!


ধীরে ধীরে সূর্যের আলো পরিব্যাপ্ত করল চারপাশ। কুয়াশার যেটুকু অন্ধকার ছিল, সবকিছু কেটে গেল। তখন হেমন্তকাল। শীতের কামড় শুরু হয়ে গেছে। বৃষ্টিবিহীন নীল আকাশ। উজ্জ্বল রৌদ্রালোক। গ্রামবাংলা অপরূপা সাজে সাজিয়েছে নিজেকে।


ফিসফিসানি শুরু হয়ে গেছে। গাঙের ধারে আমিনা বিবি করছে কী? প্রত্যেক গ্রামে কিছু মানুষ থাকে—ঘরের খেয়ে পরের মোষ চরানো যাদের একমাত্র কাজ, তারাই এগিয়ে এল। ষণ্ডা মার্কা দু-একজন বারণ করল তাকে। জাত-কূল জানা নেই, হিঁদুর ঘরের ছেলে বলেই মনে হচ্ছে, তাকে নিয়ে এত আদিখ্যেতার কী আছে?


গফুর জোলা ভালো মানুষ। সাতে পাঁচে থাকে না, নিজের কাজে ব্যস্ত। নেশাভাঙ করে না বেচারী, কী করে রুখে দাঁড়াবে এই সব অব্যবস্থার বিরুদ্ধে? সে-ও ভাবল পরের ঘরের একটা ছেলেকে নিয়ে এত সব হ্যাপা পোহানোর কী দরকার? একেই তো মাথায় হাজার সমস্যার পাহাড়। নতুন করে একটা সমস্যা ডেকে না আনলে কি চলছিল না?


লালন চোখ বন্ধ করল। আবার সেই ঘুম-ঘুম আঁধার। অবচেতনার অন্ধকার। চারপাশ থেকে ভেসে এলো অসংখ্য মুখের মিছিল। আমি কে? চিরন্তন প্রশ্ন। আমি কোথায় এসেছি? কেন এসেছি? প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে তার মাথার মধ্যে। কী অবাক! এসব প্রশ্নের উত্তর সে জানে না। তার কেবলই মনে হচ্ছে অনাদি অনন্তকাল সে এভাবেই এক অচেনা অজানা মায়ের কোলে শুয়ে আছে। ওই বিরাট গাঙের জল তাকে পরিতুষ্ট করেছে। আকাশ থেকে ঝরে পড়েছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ। বসন্ত বাতাস তার মনকে করেছে উতলা। তবু মনে পরে দূর্গা-প্রতিমার মতো একটি মুখ, টানা টানা দুটি চোখ, কপালে সিঁদুরের টিপ, পরণে নেহাত আটপৌড়ে শাড়ি, পায়ে ঝুমুর ঝুমুর মল বেজে যায়। রথের মেলায় শখ করে কিনেছিল লালন। পয়সা ছিল না, টিনের পাত দিয়ে মোড়া। সব ছবি আসে আর চলে যায়। লালনের সমস্ত শরীরে এক অদ্ভুত ছটফটানি। কী যেন বলার চেষ্টা করে সে, পারে না, বেচারী আবার তলিয়ে যায় নিদ্রার অতল জলে।


রুখে দাঁড়াল আমিনা। সে জানে, তার মতো এক দরিদ্র নারীর মনের ভেতর একটুকরো আগুন আছে! সে বলল—জাত-কূল আমি মানি না। হিঁদু কী ঘেরেস্তান জানি না। একটা মানুষ মরতে বসেছে, সারা গায়ে মায়ের দয়া, আর তাকে আমি এভাবে ফেলে যাব? না, তা আমি পারব না। তোমরা যতই আমাকে বকাঝকা করো, একঘরে করো, অন্নজল বন্ধ করো, আমি এই ছেলেটাকে আমার কাছে রাখব। তোমরা কেউ রুখতে পারাবে না।


পিছিয়ে গেল মোল্লা মৌলবীদের দল। এতকাল তারা আল্লাহর নামে শুধুই অত্যাচার করেছে, সাধারণ মানুষের বুকে পা তুলে দাঁড়িয়েছে, তাদের কন্ঠ রোধ করেছে। কী এক অদ্ভুত সাহস লুকিয়ে ছিল আমিনার আপাত নিরীহ কন্ঠস্বরে। শব্দগুলো যেন তীক্ষ্নবাণ হয়ে ঝরে পড়ছিল। তবুও কেউ কেউ সহজে হার মানবে না, এমন একগুঁয়ে মনোভাবের, গফুরকে বলল—শোন গফুর, তোর বিবির বড় বাড় বেড়েছে। এমনটি করলে, কিন্তু এ পাড়ায় অন্ন-জল উঠবে, বলে দিচ্ছি। আমি সামসুদ্দীন গাজী, আমার কথায় সকলে ওঠবোস করে, আর তোর বিবি কিনা….


কথাগুলো শেষ করেনি সামসুদ্দীন গাজী। পিক লাগানো হলদে কুতকুতে দাঁতের সারি, পিরিচ করে খানিকটা পিক ফেলে দিল পথের ওপর। তারপর কটমট চোখে তাকাল আমিনা আর গফুরের দিকে। সবাই জানে সামসুদ্দীন একটা শয়তান। তবু তার মুখের ওপর কথা বলে এমন বুকের পাটা কার আছে? আছে হয়তো ছিল হয়তো আমিনার। আপাতত জিতে গেছে সে এই লড়াইতে। ঠিক হয়েছে অন্তত কয়েকদিন এই জাত-কুলহীন ছেলেটাকে নিজের ঘরেই রাখবে আমিনা। তারপর? তারপর কী হবে, আমিনা জানে না।


সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে সন্ধ্যে নামে। আসে রাতের ঘুটঘুট্টি অন্ধকার। আশ্চর্য, পিদিম জ্বেলে তাঁতঘরের পাশে শুয়ে থাকা লালনের শিয়রে বসে আছে আমিনা। সমস্ত রাত দুচোখের পাতা এক করতে পারছে না সে। স্বামী গফুর অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার স্ত্রী আমিনার দিকে। কত কথাই মনে পড়ে যায় তার। কত বছর হয়ে গেল, সেই নিকাহ করার মুহূর্ত, তখন আমিনার বয়স কতই না হবে? নয় পার হয়ে সবেমাত্র দশে পা রেখেছে। নেহাতই এক বালিকা। তারপর? দেখতে দেখতে কতগুলো বছর কেটে গেল। সেই আমিনা আজ মধ্যবয়সিনী। মা হবার বড়ো শখ ছিল তার। বাঁজা মেয়েছেলে বলে গ্রামবাসীরা কটু মন্তব্য করে। তার ছায়া মাড়ালে নাকি পাপ হয়— এমন কত কথাই বলে। আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেছে গফুর, পীর সাহেবের মাজারে গিয়ে বাতি জ্বালিয়েছে, মৌলবীর পায়ে মাথা রেখেছে—না, কিছুতেই কিছু হয়নি। সেই আমিনার মধ্যে এমন একটা মাতৃশক্তি লুকিয়ে ছিল—আড়াল থেকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে গফুর। তার শুকনো চোখ থেকে জল বেরিয়ে আসে। কিন্তু গফুরের মনের ভেতর সংশয়ের আগুন ধিকিধিকি জ্বলে উঠছে। গ্রামবাসীরা ক্ষেপে গেছে। আর বেশি দিন ওরা এসব অন্যায়-অত্যাচার সহ্য করবে না। তাহলে আমিনার কী হবে? আমিনা যে একেবারে প্রাণমন সঁপে দিয়ে ছেলেটার সেবা করছে, তার বুক থেকে ছেলেটাকে কেড়ে নেওয়া ঠিক হবে কি?


অসহায় আর্তনাদ করে ওঠে গফুর মিঞা। খোদার উদ্দেশ্যে মিনতি জানায়। বলে—হে ঈশ্বর, দেখো, আমার বউটা চিরদুখিনী। তুমি তার বুক খালি করে দিও না।


আমরা জানি না, বিশ্ব চরাচরের কোথায় আল্লাহর অবস্থান। আমরা জানি, সর্বত্র তিনি বিদ্যমান। স্থলে-জলে-অন্তরীক্ষে। গফুর মিঞার বুক ফাটা আর্তনাদ কি তাঁর কানে পৌঁছেছে? নাকি তিনি সবকিছুর দিকে তাকিয়ে আছেন এক নির্মোহ দৃষ্টিতে? এই জগতে ঘটে যাওয়া ঘটনার ওপর বিন্দুমাত্রা প্রভাব ফেলতে চান না তিনি হয়তো।


চোখ মেলল লালন, তখন মধ্যরাত, সুসুপ্তির আঁধার ঢাকা পৃথিবী। গাঙের জলে ঢেউ লেগেছে—ছল্-ছল্-ছল্-ছলাৎ শব্দ শোনা যাচ্ছে। আকাশের এক কোণে মরা চাঁদ। আজ কী তিথি, লালন জানে না। আবার সেই স্মৃতির উচাটন, পরিচিত প্রিয় মুখ, নথপরা ভাসা ভাসা দুটি চোখ, ডাগর চোখের তারা, কী যেন বলতে চায়, অথচ বলতে পারে না। আবার অন্ধকার, তারপর অমানিশা—মা, বড়ো তেষ্টা, একটু জল দেবে?


এই প্রথম জল শব্দটা শুনে চমকে উঠল আমিনা। তার মানে? সামসুদ্দীন গাজী কি ঠিকই বলেছে? হিঁদুর ঘরের ছেলে? তার মানে? আমি তো এ

**********