
গীতবিতান ছুঁয়ে বলছি ১
সমরেশ মজুমদার
উৎসর্গ
অঞ্জন সিনহা
স্নেহাস্পদেষু
.
নিবেদন
ভারতবর্ষের আদালতে হিন্দু সাক্ষীকে গীতা স্পর্শ করে শপথ নিতে হয় যে তিনি মিথ্যে সাক্ষ্য দেবেন না। যেহেতু আমি, আরও লক্ষ লক্ষ বাঙালির মত ঘুম থেকে উঠে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত হিন্দুধর্মাচরণ না করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি এবং গীতাকে অত্যন্ত মূল্যবান গ্রন্থ মনে করেও তা নিয়মিত পাঠ করার তাগিদ অনুভব করিনা অথচ সুখে দুঃখে, সকলের সঙ্গে অথবা নিঃসঙ্গ অবস্থায় গীতবিতানের গানগুলো আমার বন্ধু হয়ে ওঠে।
আমার সমস্ত বিশ্বাসের আকর এই গ্রন্থটি ছুঁয়ে আমি অসত্য কথা বলতে পারিনা। এই রম্যরচনাটি যখন ‘প্রতিদিন’ পত্রিকায় নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছিল তখন শিরোনাম দিয়েছিলাম, ‘গীতবিতান ছুঁয়ে বলছি’ তাই এই রচনাগুলোয় কোন ভাঁওতা নেই।
সমরেশ মজুমদার
আমার গল্পের বই পড়া শুরু হয়েছিল মোহন সিরিজ দিয়ে। তখন মনে হত, শশধর দত্তের মতো বড় লেখক আর দ্বিতীয়টি নেই। ওঁর বইগুলো পড়তে হত স্কুলের বইয়ের নীচে লুকিয়ে রেখে। তেরো বছর বয়সে মোহনের প্রেমিকা রমাকে অপ্সরা বলে মনে হত। কোনও সমস্যায় পড়লেই শশধর দত্ত লিখতেন, ‘কখন কেমন করিয়া কি হইয়া গেল জানা নেই’, মোহন সমস্যার সমাধান করে ফেলত। ওইসব পড়তে পড়তে হাতে এল স্বপনকুমারের দীপক গোয়েন্দার গল্পগুলো। বেশ জমে গেলাম। এই বইগুলো সাপ্লাই দিতেন পাশের বাড়ির কমলা কাকিমা। সঙ্গে হুসিয়ারি থাকত, ‘কেউ জানতে পারলে খবরদার আমার নাম বলবি না। এসব বই তোদের পড়ার কথা নয়। তুই মাথায় লম্বা হয়ে গেছিস বলে পড়তে দিচ্ছি।’
তখন জলপাইগুড়ির একটি বইয়ের দোকানে ওইসব বই পাওয়া যেত। কমলা কাকিমা টাকা দিতেন আর আমি কিনে এনে তাঁকে দিতাম। প্রথম দিন দোকানদার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কে পড়বে এই বই? তুমি?’
‘না। কমলা কাকিমা।’
‘মিছে কথা বলছ না তো?’
কমলা কাকিমা তখনও শর্তটা শোনাননি, তাই সাহস করে বলে ফেলেছিলাম, ‘আপনি চলুন, গেলেই জানতে পারবেন।’
দোকানদার আমাকে বিশ্বাস করলেন।
কমলা কাকিমার বিয়ে হয়েছিল বছর তিনেক আগে। বাদল কাকুর সঙ্গে। বিয়ের ছয় মাসের মাথায় বাদল কাকুর মা মারা যায়। তারপর থেকে কমলা কাকিমা সারাদিন একাই বই পড়ে সময় কাটায়। বাদল কাকু কাজ থেকে ফিরে এলে ওই বাড়িতে রেডিও বাজে। ওই বয়সে আমি বুঝেছিলাম কমলা কাকিমার কোনও বান্ধবী আমাদের পাড়ায় নেই। আমি ছাড়া কেউ ওঁদের বাড়িতে যেত না। বিকেলবেলায় জানলায় দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকতেন, ‘এই, এসো, তোমার সঙ্গে গল্প করি।’
আমাদের গল্পের বিষয় ছিল দস্যু মোহনকে ঘিরে। সেইসময় মাইকে ‘আলোছায়া’ সিনেমার তরফ থেকে সারা শহরে ঘোষণা করা হল, ‘দস্যু মোহন’ নামে সিনেমা শুক্রবার থেকে দেখানো হবে। কমলা কাকিমা খুব উত্তেজিত। বললেন, প্রদীপকুমার হয়েছেন দস্যু মোহন আর সুমিত্রা দেবী রমা। কী দারুণ ব্যাপার! সিনেমাটা দেখতেই হবে।
শুনে আমার মন খারাপ হয়ে গেল। তখনও আমাকে একা সিনেমা দেখতে দেওয়া হত না। দেবদেবী বা অবতারের ছবি এলে আমাকে বড়পিসিমার পাশে রিকশায় বসে ম্যাটিনি শোতে যেতে হত। তবু খুব সাহস করে প্রস্তাবটা বড়পিসিমার কাছে পেশ করলাম। তিনি মাথা নাড়তে নাড়তে পিতামহকে জানালেন। পিতামহ গর্জে উঠলেন, ‘তুমি বন্দুকবাজ দস্যু হতে চাও? তোমার বাবা মা আমার কাছে পাঠিয়েছেন মানুষ হওয়ার জন্য। তুমি আমাদের মুখে কালি মাখাতে চাও?’ চুপসে গিয়েছিলাম।
কমলা কাকিমা ড্যাং ড্যাং করে বাদল কাকুর সঙ্গে নাইট শোতে সিনেমাটা দেখে এলেন। পরদিন বিকেলে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হ্যাঁরে, তুই কবে দেখবি। উঃ, কী ভালো, কী ভালো!’
আমার দেখা হবে না শুনে তিনি একটুও দুঃখিত হলেন না। বললেন, ‘তাতে কী হয়েছে? আমি তোকে সিনেমার গল্পটা সুন্দর করে বলব। তুই চোখ বন্ধ করে শুনিস, দেখবি সিনেমাটা দেখা হয়ে যাবে।’
ওই প্রথম কমলা কাকিমাকে আমার অপছন্দ হল।
দুদিন পরে স্বপনকুমারের নতুন বই কিনে আনতে পাঠালেন কমলা কাকিমা। তখনও তিনি সিনেমার গল্পটা আমাকে বলেননি। উল্টে একটা নতুন শাড়ি দেখিয়ে বলেছেন, ‘এই শাড়িটা কিনলাম। রমা পরেছিল। কী সুন্দর!’ শুনে মেজাজ খারাপ হলেও বই কিনতে গিয়েছিলাম।
দোকানে ভিড় ছিল। খানিকটা অপেক্ষা করার পর বইয়ের নাম বললে দোকানদার মাথা নাড়লেন, ‘না। এখন নেই। সামনের সপ্তাহে এসো, পেয়ে যাবে।’
‘এম্মা! তুই স্বপনকুমার পড়িস নাকি?’
পিছন থেকে যে কণ্ঠস্বর ভেসে এল সেটা ঝুমুরদির। আমাদের পাড়ায় বাড়ি, কলেজে ঢুকেছে সে-বছর।
দোকানদার হাসল, ‘ও মোহন সিরিজ আর স্বপনকুমার কিনে নিয়ে যায় মাঝে মাঝে—বলে কোনও এক কাকিমা কিনতে পাঠিয়েছেন। নিজে পড়ে কিনা কে জানে!
ঝুমুরদি নাক সিটকালো, ‘ছিঃ। তোর টেস্ট এত খারাপ?’
‘খারাপ বলছ কেন? গোয়েন্দা দীপক তো দারুণ।’
‘ছাই। গোয়েন্দা গল্প পড়তে হলে কিরীটি রায় পড়বি।’
‘সে আবার কে?’ আমি অবাক।
‘চল আমার সঙ্গে।’
ঝুমুরদি গম্ভীর মুখে পুরোটা পথ এল। বাড়ির দরজায় আমাকে দাঁড় করিয়ে রেখে ভেতর থেকে একটা বই নিয়ে এসে বলল, ‘ঠিক দুদিন সময় দিচ্ছি, তার মধ্যে পড়ে নিয়ে আমাকে ফেরত দিয়ে যাবি। ছি ছি ছি, তুই ওসব পড়ে নিজের চরিত্র নষ্ট করছিস?’
‘এমন করে বলছ কেন? মোহনকে নিয়ে সিনেমা হয়েছে তো!’
‘গাঁজা, স্রেফ গাঁজা, যা।’ ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল ঝুমুরদি।
বইটি দেখলাম। লেখকের নাম নীহাররঞ্জন গুপ্ত। বইয়ের নাম কালো ভ্রমর। ফেরার পথে কমলা কাকিমাকে জানিয়ে এলাম, বইটি পাওয়া যায়নি। কমলা কাকিমা বললেন, ‘ইস!’ তারপরই আমার হাতের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তোর হাতে ওটা কি বই?’
‘নীহাররঞ্জন গুপ্তের কালো ভ্রমর।’ ওঁকে স্বপনকুমার কেনার জন্য যে টাকা দিয়েছিলেন তা ফেরত দিয়ে দিলাম। ভালো ছেলের মতো বললাম, ‘তুমি কি এই বই পড়তে চাও?’
‘ভ্যাট! আমি ওই ভ্রমরটোমর পড়ি না।’
.
রাত সাড়ে সাতটায় পড়ার বইয়ের নীচে রেখে কালো ভ্রমরের পাতা খুললাম। বড় পিসিমার চিৎকার কানে ঢুকতেই দেখলাম পৌনে ন’টা বাজে। তাড়াতাড়ি বইটা লুকিয়ে রেখে রাতের খাবার খেতে গেলাম। পিতামহ বললেন, ‘খুব মেঘ করেছে বৃষ্টি হবে। খেয়ে দেয়ে শুয়ে পড়ো। ভোরে বৃষ্টি না হলে হাঁটতে বের হব।’
ওই বয়সে আমি রোজ প্রার্থনা করতাম যাতে ভোরবেলায় বৃষ্টি হয়। না হলে ভোর সাড়ে চারটের সময় পিতামহ আমাকে বিছানা থেকে তুলে হাঁটতে নিয়ে যেতেন। বললাম, ‘আমাকে একটা হোমওয়ার্ক শেষ করতেই হবে। তারপর শুয়ে পড়ব।’
আমাকে সেসময় আলাদা ঘর দিয়েছিলেন পিতামহ। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করতে পারতাম। ঘরে ফিরে দরজা বন্ধ করেই কালো ভ্রমর টেনে নিলাম। প্রায় গোগ্রাসে গিলে ফেলে বসে রইলাম রোমাঞ্চিত হয়ে। ঝুমুরদির কথা খুব সত্যি। এর কাছে দস্যু মোহন বা স্বপনকুমার একেবারেই পানসে। কমলা কাকিমা ওই পড়ে বুঁদ হয়ে আছে, আমাকেও দলে টেনেছিল। ঠিক করলাম এখন থেকে শুধু নীহাররঞ্জন গুপ্তই পড়ব। ঠিক তখনই বন্ধ দরজার বাইরে থেকে পিতামহের গলা ভেসে এল, ‘হোমওয়ার্ক হয়েছে?’
চমকে সোজা হয়ে বসে বললাম, ‘হ্যাঁ। হয়েছে।’
‘তাহলে শুয়ে পড়ো।’
তখন থেকে ঝুমুরদি আমার প্রিয় মানুষ। কমলা কাকিমার বাড়িতে আর যাই না। কয়েকবার জানলায় দাঁড়িয়ে হাতছানি দিয়েছেন। ব্যস্ততার ভান করে এড়িয়ে গিয়েছি। সেসময় ঝুমুরদিই আমার ভরসা। কিন্তু আরও একটা বই দেওয়ার পর ঝুমুরদি বলল, ‘তুই বাবুপাড়া পাঠাগারে ভর্তি হয়ে যা। কিরীটি রায়ের সব বই ওখানে পেয়ে যাবি।’
ঝুমুরদি আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়ে লাইব্রেরিয়ান সুনীল পাত্রের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল। তিনি বললেন, ‘তুমি তো মাইনর, তিরিশ টাকা দামের মধ্যে বই নিতে পারবে। এই ফর্মটা ভর্তি করে অভিভাবককে দিয়ে সই করিয়ে নিয়ে এসো। তিরিশ টাকা জমা রাখতে হবে। মাসিক চাঁদা এক টাকা।’ অনেক ঘ্যানর ঘ্যানর করে বড় পিসিমার কাছ থেকে টাকা আর সই আদায় করতে পেরেছিলাম এই শর্তে যে, পরীক্ষার ফল যেন খারাপ না হয়।
আমাকে তখন কে পায়। লাইব্রেরি ভর্তি হাজার হাজার বই। আমি কোনও বইয়ের দিকে না তাকিয়ে নীহাররঞ্জন পড়ে চলেছি। বঙ্কিম- রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্র দেখলেই মুখ ঘুরিয়ে নিই। স্কুলের বইতে যাঁদের রচনা থাকে তাঁদের বই খুব কঠিন হয় বলে বিশ্বাস ছিল।
একদিন সুনীলদা বললেন, ‘তুমি তো ডিটেক্টিভ গল্প পড়তে পছন্দ করো, তাহলে এঁদের বই তোমার পড়া উচিত। দীনেন্দ্রকুমার রায় এবং শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়।’ বাধ্য ছেলের মতো আমি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই বাড়িতে নিয়ে এসেছিলাম এই ভেবে যে পরদিনই ফেরত দিয়ে দেব। তাতে সুনীলদার কথা রাখা যাবে। পরদিন ফেরত দিতে হয়েছিল কারণ রাত জেগে মোমবাতি জ্বালিয়ে ব্যোমকেশ পড়েছি মুগ্ধ হয়ে। পরের বইটি চাই।
তখন নীহাররঞ্জন গুপ্তকে আর আগের মতো আকর্ষণীয় মনে হচ্ছিল না। ব্যোমকেশের পাশে কিরীটিকে তেমন স্বাভাবিক মানুষ বলে মনে হত না।
সেসময় লাইব্রেরিতে একটি মেয়েকে দেখতাম। আমি তখন চৌদ্দ, তার বয়সও আমার কাছাকাছি। তার গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ হলেও মুখের গড়ন ছিল অপূর্ব সুন্দর। লম্বা মোটা বেণী হাঁটু ছুঁয়ে যেত, এখনও তার চোখদুটো মনে পড়ে। চৌদ্দ বছর বয়সে তাকে বর্ণনা করার কোনও ভাষা খুঁজে পাইনি।
একদিন লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখলাম সুনীলদা মেয়েটিকে বলছেন, ‘তুমি সাতদিনেও বইটি পড়ে শেষ করতে পারোনি, আবার রিনিউ করতে চাইছ?’
মেয়েটি হাসল, ‘আমি দুবার পড়েছি, আরও একবার পড়ব।’ সুনীলদা বললেন, ‘খুব খুশি হলাম নীপা।’
শুনে আমি অবাক হলাম। এমন কী বই যা দুবার পড়ার পরেও আরও একবার পড়বে নীপা নামের মেয়েটি? শরদিন্দুর বই নিয়ে সোজা মেয়েটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘তুমি কি শরদিন্দুর কোনও বই পড়ছ?’
‘না তো!’ মেয়েটি বিস্মিত হল।’
‘ও!’ আমি থিতিয়ে গেলাম।
‘কেন এই প্রশ্ন?’ সে বড় চোখে তাকাল।
‘আমি এখন শরদিন্দুর বই পড়ি তো, তাই।’
‘ওঃ। ওসব বই কি দুবার পড়া যায়?’ নীপা হাসল। এবার ওর গজদাঁত দেখতে পেলাম, ‘রহস্য জানা হয়ে গেলে সব শেষ হয়ে যায়।’
‘তোমার বইটির নাম কি?’
‘শেষের কবিতা?’
‘কবিতার বই?’
‘ও ভগবান! শেষের কবিতার নাম শোননি? রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত উপন্যাস। এই বইয়ের অনেক লাইন আমি ডায়েরিতে লিখে রেখেছি।’
নীপা চলে গেল। আমি ফাঁপড়ে পড়লাম।
সাতদিন পরে নীপা লাইব্রেরিতে বইটি ফেরত দিলে আমি পড়ার সুযোগ পেলাম। এ কীরকম বই? কীরকম ভাষা? পড়ে বুঝতে পারছি না আবার না পড়েও পারছি না। একটা লাইনের মানে অনেকরকম হয়ে যাচ্ছে। অমিতকে পছন্দ হচ্ছে না কিন্তু লাবণ্যকে খুব ভালো লাগছে। একবার পড়ার পর মনে হল আর একবার পড়া উচিত। আর পড়তে পড়তে আমি হাবুডুবু খেতে লাগলাম।
আমার জীবনে কমলা কাকিমা, ঝুমুরদি এবং নীপা তিনরকম ভূমিকা নিয়েছিল, সন্দেহ নেই যে যার মতো। কিন্তু নীপা আমাকে সমুদ্রের সন্ধান দিয়েছিল, তার কাছে এই জন্মে ঋণী হয়ে আছি।
.
আমার বন্ধু নিশীথ গল্প-উপন্যাস পড়ার ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীনতা পেত। ওর মা মনে করতেন সাহিত্য পড়লে কেউ নষ্ট হয়ে যায় না। সত্যি কথা বলতে কি, সাহিত্য শব্দটি আমি প্রথম শুনেছিলাম মাসিমার মুখ থেকে। অসম্ভব সুন্দরী মহিলা ছিলেন। স্কুলে পড়াতেন। নিশীথের বাবাকে সবসময় অসুস্থ চেহারায় দেখেছি। তিনি নিজের মতো থাকতেন। মাসিমা খুবই হাসিখুশি। বলতেন, ‘বাংলা বই পড়তে হলে তোকে বঙ্কিম দিয়ে শুরু করতে হবে। এক লাফে শেষের কবিতা পড়লে বুঝবি কি করে? তাছাড়া শেষের কবিতার অমিত