গোগোল অমনিবাস

গোগোল অমনিবাস

সমরেশ বসু

গোগোল অমনিবাস

Books Pointer Iconসমরেশ বসু
Books Pointer Iconjuvenile literature

Change color

ইঁদুরের খুট খুট


অনেককাল ধরে বড়োদে র গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে, আমি নিজেও যেন কেমন হাঁপিয়ে পড়েছি। অথচ যাদের সঙ্গে গল্প করতে পেলে আমার মন খুশিতে ভরে ওঠে, তাদের একটা গল্প নিজে থেকে শোনাতে পারি না। শোনাবার খুব সাধ। কিন্তু সাধ থাকলেই তো আর সাধ্যে কুলায় না। বড়োদের গল্প শুনিয়ে শুনিয়ে মনটা কেমন যেন মরচে ধরে গিয়েছে। মনের সেই তাজা টাটকা ভাবটা যেন হারিয়েই ফেলেছি, যা না থাকলে, তোমাদের আসরে এসে বসবার কোনো মানেই হয় না।


এসব কথা বলতে হলো, কারণ, আজ ঠিক করেছি, তোমাদের আমি একটি গল্প শোনাবো। সম্প্রতি আমি এক বিশিষ্ট বিজ্ঞানীর লেখা, পড়ছিলাম। তিনি একটা অদ্ভুত কথা শুনিয়েছেন। তিনি মানুষের মন, নিয়ে অনেক গবেষণা করে, আবিষ্কার করেছেন, মাত্র ছবছর বয়সের মধ্যে, শিশুদের মনে যে-সব ভাবনা-চিন্তা কল্পনা এবং জ্ঞান বুদ্ধির প্রসার ঘটে, পরবর্তীকালে–অর্থাৎ ভবিষ্যতে মানুষ যত বুড়ো হয়, সেই ছবছরের ভাবনাচিন্তা কল্পনা জ্ঞান বুদ্ধিই নানা রূপে, নানা ভাবে বিকাশলাভ করে। তার মানে হলো, সেই বিজ্ঞানী এ কথাই বলতে চেয়েছেন, ছবছর বয়স পর্যন্তই মানুষের যা কিছু অনুভূতির পূর্ণতা ঘটে, পরে তা নানা রূপে বিকাশ লাভ করে। তা তিনি বিজ্ঞানী হোন, কবি বা সাহিত্যিক হোন, রাজনৈতিক নেতা বা ডাক্তার হোন।


আমি অবিশ্যি তোমাদের সেই বিজ্ঞানীর কথা শোনাতে বসি নি। তাঁর গবেষণায় যথেষ্ট যুক্তি আছে বটে, অনেক তর্কও আছে। সেসব নিয়ে আমাদের আপাততঃ মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই। আমি যার বিষয় নিয়ে, তোমাদের একটি আশ্চর্য অথচ ভয়ঙ্কর গল্প শোনাতে যাচ্ছি, তার বয়স মাত্র ছ। নাম গোগোল। গোগোল নামটা ওর বাবা রেখেছিলেন। রাশিয়ার এক বিখ্যাত সাহিত্যিকের নাম ছিল গোগোল, আর আমাদের গোগোলের বাবা সেই রাশিয়ার সাহিত্যিক গোগোলের ভারি ভক্ত। সেই জন্যই ছেলেব নাম রেখেছেন গোগোল।


গোগোলের কথা শুনলেই তোমাদের মনে হবে, সে জানে না, এমন বিষয় নেই। আসলে সে হয়তো অনেক কিছুই এখনো জানে না, জানা সম্ভবও না। কিন্তু তার ভাব ভঙ্গি, স্পষ্ট উচ্চারণের কথাবার্তা শুনলে, একটু যেন থমকেই যেতে হয়। এই যেমন ধরো, গোগোলের বাবাকে কোনো ভদ্রলোক ডাকতে এলেন, বাড়ির চাকর এগিয়ে যাবার আগেই, গোগোল তার ঝকঝকে কালো চোখে, ভদ্রলোকের আপাদমস্তক একবার দেখবে। কপালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া চুলের নীচেই ওর সরু টানা ভুরু কুঁচকে উঠবে। জিজ্ঞেস করবে, জানতে পারি, আপনি কাকে চান?


স্বভাবতঃই অচেনা ভদ্রলোক হলে একটু হকচকিয়ে যাবেন, অবাক চোখে গোগোলের ফরসা মুখ আর টুকটুকে লাল ঠোঁটেব দিকে, ওর রঙচঙে জামা আর প্যান্টের দিকে দেখবেন, এবং গোগোলের বাবার নামটা বলবেন। তখন গোগোল গম্ভীর মুখে জিজ্ঞেস করবে, আপনার নামটা জানতে পারি?


ওর জিজ্ঞেস করবার ভঙ্গিটাই এমন, ভদ্রলোককে তার নামটি বলতেই হবে। সঙ্গে সঙ্গে গোগোলের পরের জিজ্ঞাসা, কোথা থেকে আসছেন, কী দরকার?


ভদ্রলোকের তখন মনে হতে পারে, গোগোল একটি ডেপো ছেলে। তখন ওর পাশে দাড়িয়ে হয়তো বাড়ির ভৃত্য সেসব কথা শুনছে আর মিটিমিটি হাসছে। সেও একই কথা, অন্যরকম ভাবে জিজ্ঞেস করবে, বাবু আপনি কোথা থেকে আসছেন, বাবুকে কী বলব?


গোগোল তখন ভৃত্যকে ধমক দিয়ে বলবে, আহ, তোমাকে কে কথা বলতে বলেছে, দেখছে আমি কথা বলছি।


বলে সেই ভদ্রলোককেই গোগোল বলবে, দেখছেন তোত কী রকম দুষ্টু ছেলে, কিছু মনে করবেন না। আপনি আসুন, বাইরের ঘরে বসুন, আমি বাবাকে ডেকে দিচ্ছি।


ভদ্রলোককে বাইরের ঘরে বসিয়ে, সে কিন্তু বাবাকে ডাকতে যাবে না। জানে, বাবার কাছে খবর চলে গিয়েছে। বরং ও নিজে বাইরের ঘরে চেয়ারে লাফ দিয়ে উঠে বসবে। জিজ্ঞেস করবে, আপনি সিগারেট খাচ্ছেন কেন?


ভদ্রলোক অবাক হয়ে বলবেন, আমি তত সিগারেট খাই না?


গোগোল বলবে: আমার বাবা খায়। বাবাকে ডাক্তারবাবু সিগারেট কম খেতে বলেছেন। আমিও খুব কম খাই।।


ভদ্রলোক চমকে উঠে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি সিগারেট খাও নাকি?


গোগোল গম্ভীর মুখে বলবে, হ্যাঁ, যখন আমি কাজ করি। পড়ার সময়। আর আমার সিগারেটগুলো আমি নিজেই বানিয়ে নিই। মায়ের চিঠি লেখার কাগজ দিয়ে বানাই। আচ্ছা ও কথা যাক, আপনি কি সেই বাঘের গল্পটা জানেন, যে ছাগলছানার গা চেটে দিয়েছিল?


ভদ্রলোক বলবেন, না তো।


গোগোল চোখ বড়ো বড়ো করে বলবে, সে কি, আপনি জিম্ করবেটের নাম শোনেন নি? তিনিই তো লিখেছেন। আচ্ছা, আপনাকে আমিই গল্পটা বলছি। একদিন বিকালবেলা জিম্ করবেট একটা গাছে মাচা—মাচা মানে জানেন তো? মাচা হলে, গাছের ডালে বসবার জায়গা, সেখান থেকে বাঘকে গুলি করে মারা হয়। তা একদিন বিকেলে জিম্ করবেট একটা গাছের ওপরে মাচায় বসে আছেন, তখন কিন্তু আকাশটা লাল ছিল। উনি দেখলেন, কাছেই যে গ্রাম আছে না, সেই গ্রামের একটা ছাগলছানা বাড়ির পথ ভুলে, জঙ্গলের কাছে এসে পড়েছে। উনি ভাবলেন, ছাগলছানাটা বাঘের পেটে যাবে। ঠিক সেই সময়েই দেখা গেল, প্রকাণ্ড বড় একটা বাঘ একটা উঁচু ঢিবিতে এসে দাঁড়ালো। সেই বাঘটা অনেকগুলো মানুষ খেয়ে ফেলেছে, ওকে মারবার জন্যই উনি মাচায় বন্দুক নিয়ে বসেছিলেন। উনি বন্দুক তোলবার আগেই দেখলেন, ছাগলছানাটা ম্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ ম্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ করতে করতে একেবারে বাঘটার মুখের কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। কেন বলুন তো?


ভদ্রলোক হয় তো সত্যি জানেন না, তাই বললেন, জানি না তো?


গোগোল হাত নেড়ে নিজেই খুব অবাক হয়ে বলবে, ছাগলছানাটা তত কোনদিন বাঘ দেখে নি। ও তো শিশু, তাই বাঘ যে কী ভীষণ জানোয়ার, ও তার কিছুই জানে না। ভেবেছিল, ওটাই বুঝি ওর মা, তাই বাঘের মুখের কাছ থেকে, একেবারে তার পেটের নীচে চলে গেল। জিম্ করবেট তখন ভাবলেন, বাঘটা এবার ছাগলছানাটাকে এক গরাসে খেয়ে ফেলবে। কিন্তু বাঘটা কী করলে বলুন তো?


ভদ্রলোক বললেন, জানি না তো?


গোগোল বলবে, বাঘটা ওকে খেল না। একটু যেন বিরক্ত হলো, একবার ছাগলছানাটাকে শুকে, আস্তে আস্তে ঠ্যাং তুলে ছাগলছানাটাকে সরিয়ে দিল, তারপরে ঢিবির নীচে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়লো। ব্যাপার দেখে, জিম্ করবেট বাঘটাকে মারবার কথাই ভুলে গেলেন। তার মনে হলো, জীবনে এমন ঘটনা মানুষ আর কখনো হয়তো দেখবে না। এটা নিশ্চয় ভগবানের কোনো লীলা। কিন্তু বাঘটা কেন ছাগলছানাটাকে খেলো না, বলুন তো?


ভদ্রলোক বললেন, জানি না তো?


গোগোল ঘাড় বাঁকিয়ে, চোখ ঘুরিয়ে বললে, আসলে বাঘেরা খিদে না পেলে, কারোকে মারে না। আমাদের যেমন দুষ্টু খিদে আছে না, খিদে না পেলেও খাবার জন্য বায়না করি, ওবা সেরকম না।


ভদ্রলোক তখন জিজ্ঞেস করবেন, তোমার বুঝি দুষ্টু খিদে পায়?


গোগোলের চোখে হাসি ঝিলিক দিয়ে উঠবে। বলবে, একটু একটু। আচ্ছা আপনি কি সেই বাহাদুরের কথা জানেন?


ভদ্রলোক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবেন, কোন্ বাহাদুর?


গোগোলও ভদ্রলোকের এত কম জানা আছে দেখে, খুব অবাক হয়ে বলবে, যুথপতি বাহাদুর?


ভদ্রলোক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করবেন, যুথপতিটা কী?


গোগোল এবার ঠোঁট আর জিভ দিয়ে একটা শব্দ করবে, যেন ও ভদ্রলোককে করুণা করছে। বলবে, যুথপতি জানেন না? জঙ্গলে হাতীদের যে দল থাকে, তার যে সদাব থাকে, তাকে বলে যুথপতি।


ভদ্রলোক অবাক হয়ে বলবেন, ও, তাই নাকি? তা সেসব বই কি তুমি পড়েছ নাকি?


গোগোল বলবে, আমি এখনো এভোটা ভালো করে পড়তে শিখিনি। মা আমাকে পড়ে শোনায়, আমার সব মনে থাকে। অবিশ্যি আমারও একটা গল্প লেখার খাতা আছে, তাতে অনেক গল্পই লিখি। তবে বানান একটু ভুল হয়, মা ঠিক করে দেয়। তারপরে শুনুন, বাহাদুর নামে একজন যুথপতি ছিল, ছোটনাগপুরের জঙ্গলে–


এ সময়েই হয়তো গোগোলর বাবা এসে পড়বেন, এবং ভলোকের সঙ্গে কথা আরম্ভ করবেন, ওহহ, আপনি এসেছেন? আমায় একটু দেরি হয়ে গেল।


গোগোল তাড়াতাড়ি বলবে, বাবা, আমি আগে বাহাদুরের গল্পটা বলে নিই।


গোগোলের বাবা বললেন, না গোগোল, লক্ষ্মী বাবা, এর সঙ্গে আমার অনেক জরুরী দরকারী কথা আছে। তুমি এখন ভেতরে যাও।


গোগোল চেয়ার থেকে লাফিয়ে নামবে, হতাশ মুখখানি ভারী করে বলবে, তোমাদের খালি দরকারী আর জরুরী কথা। • বাহাদুরের গল্পটা বুঝি কিছু না?


ভদ্রলোক তখন বলবেন, দরকারী কথা সেরেই, আমি তোমার বাহাদুরের গল্প না শুনে যাচ্ছি না।


গোগোল একটু চোখ পাকাবার ভঙ্গি করে বলবে, ঠিক তত? মিথ্যা কথা বলবেন না, পাপ লাগবে।


গোগোলের বাবা বলবেন, হা হা, কেউ তোমাকে মিথ্যা কথা বলছেন না। তুমি এখন ভেতরে যাও তো।


গোগোল তখন চলে যাবে।



আসলে ব্যাপারটা হয়েছে কি, বাড়িতে গোগোল ভারী নিঃসঙ্গ। মা রান্নাবান্না আরো দশ রকম কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। চাকরও তা-ই। ও ইস্কুলে যায় বটে। তারপর যে ওর আর সময় কাটতে চায় না। সেই দুপুরে মা কখন একটু গল্প পড়ে শোনাবেন। তারপরেও বিকেল আছে, সন্ধ্যে আছে। রোজ রোজ ওকে বেড়াতে নিয়েও যাওয়া যায় না। বাবা থাকেন বাড়ির বাইরে কাজে। সে জন্যই ও কারোকে পেলে ছাড়তে চায় না। আর সত্যি সত্যি ও চমৎকার গল্প বলতে পারে। লেখে। লেখাগুলো অবিশ্যি মায়ের কাছে শোনা গল্পগুলোরই মধ্যে প্রায়, একটু এদিক ওদিক থাকে। সেটা ওর নিজের বানানো।


তাছাড়া গোগোল প্লাস্টার দিয়ে নানারকম মূর্তি তৈরি করে। বাড়ির যাবতীয় ফেলে দেওয়া ইলেকট্রিকের তার, নষ্ট হয়ে যাওয়া সুইচ, সেসব দিয়েও সে অনেক কিছু তৈরি করে, জিজ্ঞেস করলে বলে, মাইক তৈরি করা হচ্ছে। আলো জ্বলছে না, সুইচ ঠিক করা হচ্ছে।


মোটের ওপর, গোগোল একদিকে যেমন নিঃসঙ্গ, অন্যদিকে আবার তেমনিই ব্যস্ত। তখন ওকে দশবার ডেকেও চান করানো খাওয়ানো যাবে না।


যাই হোক, যে অদ্ভুত আর ভয়ঙ্কর গল্পটা বলতে যাচ্ছি, এবার সেটাই বলি।


জুন মাসে গোগোল বাবা মায়ের সঙ্গে কাশ্মীরে বেড়াতে গেল। মনে মনে তার যত আনন্দ, তত উত্তেজনা। ও ওর বাবার কাছে আগেই শুনে নিয়েছে, হিমালয়ের অভ্যন্তরে, চল্লিশ মাইল চওড়া, আশি মাইল লম্বা এক অপূর্ব সুন্দর উপত্যকা আছে। সেই উপত্যকা ভূমিই হল কাশ্মীর।


গোগোলের সকালবেলা যখন পাঠানকোটে এসে পৌঁছুলো, দেখা গেল, সেখানে বেশ একটা উত্তেজনা আর পুলিশ মিলিটারী টহল দিচ্ছে। লোকজনকে ডেকে নানারকম জিজ্ঞাসাবাদ করছে, সে কোথা থেকে এসেছে, কোথায় যাবে। সন্দেহবশত অনেকের ট্রাঙ্ক সুটকেশ খুলেও দেখছে। এমন কি গোগোলের বাবাকেও একজন পুলিশ অফিসার ইংরেজীতে কী সব কথাবার্তা জিজ্ঞেস করলেন। বাবা পকেট থেকে রেলের টিকেট, তার অফিসের কার্ড, সবই দেখালেন। মাকে আর গোগোলকেও দেখিয়ে পরিচয় দিলেন।


পাঠানকোট স্টেশনের ক্যাটারিং-এর খাবার ঘবে, সকালের খাবার খেতে খেতে গোগোল বাবার মুখে সব ঘটনাটা শুনলো। গতকাল পাঞ্জাবে চণ্ডীগড়ে একটা সাংঘাতিক ব্যাঙ্ক ডাকাতি হয়ে গিয়েছে। ডাকাতেরা তিন জন লোককে গুলি করে মেরে ফেলেছে। এক ধরনের লোহার কে আছে, যার মধ্যে কোটি কোটি টাকা থাকে। এই কেগুলো যে-সে খুলতে পারে না। প্রত্যেকটা কেসের আলাদা আলাদা ধরনের চাবি আছে, আর চাবিগুলো, বাঁ দিকে বা ডান দিকে কতবার কীভাবে পাক দিতে হবে, তা জানা আছে শুধু একজনের। তিনি হলেন ব্যাঙ্কের ম্যানেজার। চাবিও তার কাছেই থাকে।


যেখানে নোট ছাপানো হয়, তাকে বলে মিন্ট। মিন্ট থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে টাকা যায়। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে, সেই রকম কয়েকটি কেস ভরতি টাকা নিয়ে যখন একটা গাড়ি চণ্ডীগড় স্টেট ব্যাঙ্কের দিকে যাচ্ছিল, তখনই একটা নির্জন জায়গায়, ডাকাতরা সেই গাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গাড়িতে। ড্রাইভার নিয়ে সব শুদ্ধ চারজন লোক ছিল। তিন জনের কাছে বন্দুক ছিল। কিন্তু ডাকাতরা এমনই দুর্ধর্ষ, তারা তিনজনকে মেরে ফেলেছে, একজন এখন হাসপাতালে আছে, বাঁচবে কি না সন্দেহ। তার মানে, ডাকাতরা প্রায় পনর কুড়ি কোটি টাকার কে নিয়ে পালিয়েছে। চার দিকেই সেই ডাকাত দলের সন্ধান চলেছে। কেউ কেউ অনুমান করছে, ডাকাতদল হয়তো কাশ্মীরে ঢুকে, ভারতবর্ষের সীমানা পেরিয়ে, পাকিস্তান পালিয়ে যাবে।


সেই জন্য সমস্ত লরি ট্রাক প্রাইভেট গাড়ি বাস পুলিস আর মিলিটারি

**********