হিজ লাস্ট বাও (শার্লক হোমস)

হিজ লাস্ট বাও (শার্লক হোমস)

আর্থার কোনান ডয়েল

হিজ লাস্ট বাও (শার্লক হোমস)

Books Pointer Iconআর্থার কোনান ডয়েল
Books Pointer Icondetective

Posted byকাব্য রচিত31-Oct-2025

Change color

উইসটেরিয়া লজের অ্যাডভেঞ্চার কাহিনি

[ দি অ্যাডভেঞ্চার অফ উইসটেরিয়া লজ ]

সূচিপত্রঃ—

১৮৯২ সালের মার্চ মাস। দিনটা বড়ো বিষণ্ণ, ঝোড়ো বাতাস বইছে একনাগাড়ে। লাঞ্চ খেতে বসে হোমস একটা টেলিগ্রাম পেয়ে তৎক্ষণাৎ তার জবাবও লিখে দিয়েছে। তারপর এ নিয়ে আর কথা বলেনি বটে, তবে আগুনের চুল্লির ধারে দাঁড়িয়ে পাইপ টানতে টানতে এক মনে তা নিয়ে ভাবছে আর মাঝে মাঝে টেলিগ্রামের বয়ানের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করছে। এক সময়ে সে আচমকা ফিরে দাঁড়াল আমার দিকে। দেখলাম, দুষ্টুমি নাচছে তার দুই চোখে। বলল, ওয়াটসন, হাজার হলেও তুমি একজন সাহিত্যিক। কিম্ভুতকিমাকার শব্দটার সংজ্ঞা কী বলতে পার?

অদ্ভুত। আশ্চর্য–বললাম আমি।

সংজ্ঞাটা পছন্দ হল না হোমসের। মাথা নেড়ে বললে, তার চাইতেও বেশি। এ-শব্দের পেছনে ছায়ার মতো যেন লেগে আছে অতি ভয়ংকর বিয়োগান্তক কিছু একটা ব্যাপার। অপরাধীর ক্ষেত্রে এই কিম্ভুতকিমাকার শব্দটা যে কতখানি গভীর তোমার লেখা আমার আগেকার কাহিনিগুলোর মধ্যে তার প্রমাণ পাবে। লালচুলো লোকদের ঘটনাটা মনে করে দেখ। প্রথম দিকে তা কিম্ভুতকিমাকার ঠেকলেও শেষের দিকে দেখা গেল বেপরোয়া ডাকাতির কেস। পাঁচটা কমলাবিচির সেই অত্যন্ত কিম্ভুতকিমাকার কেসটার কথাই ধরো না কেন। কেস শেষ হল খুনের ষড়যন্ত্রে। কিম্ভুতকিমাকার শব্দটা শুনলেই তাই সজাগ হই।

টেলিগ্রামে শব্দটা আছে বুঝি? শুধোই আমি।

হোমস তখন পড়ে শোনাল টেলিগ্রামটা : এইমাত্র একটা অবিশ্বাস্য আর কিম্ভুতকিমাকার অভিজ্ঞতা লাভ করলাম। আপনার পরামর্শ পাব কি?–স্কট ইক্লিস, পোস্ট অফিস, শেরিং ক্রস।

পুরুষ না মহিলা?

পুরুষ তো বটেই। মহিলারা কখনো রিপ্লাই-পেড টেলিগ্রাম পাঠায় না, সশরীরে হাজির হয়।

দেখা করবে তো?

ভায়া ওয়াটসন, তুমি তো জান কর্নেল ক্যারুথার্সকে খাঁচায় পোরার পর থেকে কীরকম একঘেয়ে ভাবে দিন কাটছে আমার। আমার এই মনটা হল ছুটন্ত ইঞ্জিন, যে-কাজের জন্যে সৃষ্টি সে-কাজের মধ্যে না-থাকলে নিজের মনেই ছুটতে ছুটতে ভেঙেচুরে একাকার হয়ে যায়। জীবন বড়ো মামুলি হয়ে দাঁড়িয়েছে, খবরের কাগজগুলোয় অপরাধ-জীবাণুর চিহ্নমাত্র নেই, হঠাৎ বড়ো বিশুদ্ধ হয়ে গিয়েছে। অপরাধ দুনিয়া থেকে রোমান্স আর ঔদ্ধত্য যেন হঠাৎ চিরবিদায় নিয়েছে। কাজেই যত তুচ্ছ হোক না কেন, কোনো মামলাই পায়ে ঠেলতে এখন রাজি নই। হুম, মক্কেল ভদ্রলোক এসে গেলেন মনে হচ্ছে।

সিঁড়ির ওপর হিসেবি পায়ের আওয়াজ শুনলাম। তারপরেই হৃষ্টপুষ্ট দীর্ঘকায় এক ব্যক্তি ঘরে ঢুকলেন। গালপাট্টায় পাক ধরেছে, চেহারার মধ্যে অভিজ্ঞতা মাখানো। ভারী মুখ আর জাঁকালো আচরণের মধ্যেই ফুটে উঠেছে জীবনের ইতিহাস। গোড়ালি ঢাকা কাপড় থেকে আরম্ভ করে সোনার চশমা পর্যন্ত সর্বত্র লেখা একই কাহিনি : ভদ্রলোক সনাতনী, গির্জেভক্ত, সংরক্ষণশীল, গোঁড়া এবং আদর্শ নাগরিক। কিন্তু আশ্চর্য কোনো অভিজ্ঞতার আক্রমণে বেশ বিপর্যস্ত। মনের ওপর দিয়ে যেন একটা ঝড় বয়ে গেছে। চুল খাড়া, মুখ লাল, সাধারণ হাবভাব উত্তেজিত। ঘরে ঢুকেই ঝটপট শুরু করে দিলেন কাজের কথাবার্তা। রাগে ফুলতে ফুলতে বললেন, মি. হোমস, জীবনে এ-রকম পরিস্থিতিতে পড়িনি। অভিজ্ঞতাটা যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি আশ্চর্য। অত্যন্ত অন্যায়, অত্যন্ত যাচ্ছেতাই। এ কী উৎপাত বলুন তো। আমি এর মানে জানতে চাই।

স্নিগ্ধকণ্ঠে হোমস বললে, মশাই, আগে বসুন। তারপর বলুন প্রথমেই আমাকে স্মরণ করলেন কেন?

আরে মশাই, এ-কেস পুলিশের আওতায় আসে বলে মনে হয় না আমার। সব ঘটনা শুনলে আপনিও বুঝবেন। এমনিও ফেলে রাখা যায় না, কিছু একটা করা দরকার। যদিও প্রাইভেট ডিটেকটিভদের ওপর বিন্দুমাত্র সহানুভূতি আমার নেই, কিন্তু আপনার নাম শোনবার পর…

বেশ, বেশ। এবার বলুন তো সঙ্গেসঙ্গে এলেন না কেন?

কী বলতে চান?

ঘড়ি দেখল হোমস। বলল, এখন সোয়া দুটো। একটা নাগাদ পাঠিয়েছিলেন টেলিগ্রাম। কিন্তু আপনার প্রসাধন আর পরিচ্ছদের অবস্থা দেখে একমাত্র অন্ধ ছাড়া প্রত্যেকেই বলবে, ঘুম ভাঙার পর থেকেই ঝাটে পড়েছেন আপনি।

হাত দিয়ে অবিন্যস্ত চুল সমান করে নিয়ে না-কামানো গালে হাত বোলালেন ভদ্রলোক। তারপর বললেন, বলেছেন ঠিক, মি. হোমস। প্রসাধন-পারিপাট্য নিয়ে ভাববার মতো মনের অবস্থা আমার ছিল না। আমি তখন ওইরকম একখানা বাড়ি থেকে বেরোতে পারলে বাঁচি। তারপর থেকে আপনার কাছে আসা পর্যন্ত ক্রমাগত দৌড়োচ্ছি নানান তত্ত্ব তল্লাশি নিয়ে। হাউস এজেন্টের কাছে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, মি. গারসিয়াকে বাড়িভাড়া দেওয়াই আছে, উইসটেরিয়া লজের ব্যাপারে কোনোরকম লটঘট নেই।

মি, স্কট ইক্লিস, আপনি দেখছি আমার বন্ধু ডক্টর ওয়াটসনের মতো উলটোভাবে গল্প শুরু করেন, শেষের কাহিনি আগে বলে দেন। বড়ো বাজে অভ্যেস। ভাবনাচিন্তাগুলো আগে মনে মনে সাজিয়ে নিন। তারপর পর পর যেভাবে যা-যা ঘটেছিল সব বলে যান। বলুন কেন চুল না-আঁচড়ে দাড়ি না-কামিয়ে, বুট আর ওয়েস্টকোটের বোম পর্যন্ত ঠিকমতো না-লাগিয়ে উধ্বশ্বাসে দৌড়ে এসেছেন আমার পরামর্শ আর সাহায্য নিতে।

মক্কেল ভদ্রলোক হতাশ মুখভঙ্গি করে তাকালেন নিজের বিপর্যস্ত চেহারার দিকে। বললেন, কী করব বলুন, জীবনে এ-রকম ঝামেলায় পড়িনি। খুবই অদ্ভুত ব্যাপার। গোড়া থেকে বলছি শুনুন। শোনবার পর বুঝবেন কেন এইভাবে আপনার সামনে–

ভদ্রলোকের কথা শেষ হল না, বাইরে একটা হুড়মুড় আওয়াজ, মিসেস হাডসনের ঝটিতি দ্বার উন্মোচন এবং ঝড়ের মতো রঙ্গস্থলে গাঁট্টাগোট্টা দুই পুলিশ অফিসারের প্রবেশ। এদের একজনকে আমি চিনি–স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের ইনস্পেকটর গ্রেগসন। অত্যুৎসাহী, সাহসী কিন্তু বুদ্ধিমত্তার দৌড় সীমিত। শার্লক হোমসের সঙ্গে সঙ্গী অফিসারের পরিচয় করিয়ে দিল গ্রেগসন। সারে কন্সট্যাবুলাবির ইনস্পেকটর বেলেজ।

তারপর বললে, মি. হোমস, শিকারের পিছু নিয়ে ছুটে এসেছি এখানে। অতঃপর তার ডালকুত্তা-চক্ষু নিবদ্ধ হল দর্শনার্থীর ওপর আপনার নাম মি. জন স্কট ইক্লিস, নিবাস লী-এর পপহ্যাম হাউসে, কেমন?

অবশ্যই।

সকাল থেকে আপনাকে ফলো করছি আমরা।

টেলিগ্রামটা দেখে বুঝলেন যে, এখানে এসেছেন উনি? বললে হোমস।

ঠিক ধরেছেন। শেরিং ক্রস পোস্ট অফিসে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানলাম কার দরজা মাড়িয়েছেন। তারপর সোজা চলে এলাম।

কিন্তু ফলো করছেন কেন? কী চান? দর্শনার্থীর প্রশ্ন।

আপনার জবানবন্দি। উইসটেরিয়া লজ নিবাসী মি. অ্যালয়সিয়াস গারসিয়া কাল রাতে মারা গেছেন কীভাবে, সেই সম্পর্কে আপনার বক্তব্য শুনতে চাই।

বিস্ফারিত চোখে সোজা হয়ে বসলেন মক্কেল ভদ্রলোক। বিস্মিত মখ থেকে তিরোহিত হল যাবতীয় বর্ণ। অস্ফুটে উচ্চারণ করলেন, মারা গেছেন? বলছেন কী? মারা গেছেন?

হ্যাঁ, হ্যাঁ, মারা গেছেন।

কিন্তু কীভাবে? অ্যাক্সিডেন্ট নাকি?

খুন হয়েছেন।

ও গড! কী সাংঘাতিক! আপনি… আপনি কি তাহলে আমাকে সন্দেহ করছেন?

নিহত ব্যক্তির পকেটে আপনার লেখা চিঠি পাওয়া গেছে। আপনি লিখেছিলেন, কাল রাতটা তার বাড়িতে থাকবেন।

হ্যাঁ লিখেছিলাম।

আচ্ছা! লিখেছিলেন তাহলে!

ফস করে বেরিয়ে পড়ল পুলিশ নোটবই। এক সেকেন্ড, গ্রেগসন। বাধা দিল শার্লক হোমস, তুমি চাও সাদাসিধে একটা জবানবন্দি, কেমন?

সেইসঙ্গে মি. স্কট ইক্লিসকে হুঁশিয়ারও করে দিতে চাই–জবানবন্দি তার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হতে পারে।

তুমি ঘরে ঢোকার পূর্বমুহূর্তে সব কথাই বলতে যাচ্ছিলেন মি. ইক্লিস। ওয়াটসন, একটু ব্র্যান্ডি আর সোডা দাও ওঁকে। মি. ইক্লিস, এবার যা বলতে যাচ্ছিলেন। ঘরে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। ঠিক যেভাবে শুরু করছিলেন, ওইভাবে চালিয়ে যান।

কোঁত করে ব্র্যান্ডি-সোডা গিলে নিলেন দর্শনার্থী। রং ফিরে এল মুখে। সন্দিগ্ধ চোখে ইনস্পেকটরের নোটবইয়ের দিকে তাকিয়ে শুরু করলেন অসাধারণ জবানবন্দি।

আমি বিয়ে করিনি। মিশুকে বলে এন্তার বন্ধুবান্ধব। এদের মধ্যে একটি ফ্যামিলির নাম মেলভিল। এককালে এদের ড্রিঙ্কসের কারবার ছিল, এখন রিটায়ার করেছে। থাকে কেনসিংটনের অ্যালবামারলে ম্যানসনে। কয়েক হপ্তা আগে এর বাড়িতেই টেবিলে আলাপ হল একজন ইয়ংম্যানের সঙ্গে, নাম তার গারসিয়া। শুনলাম, জন্মসূত্রে সে স্পেনের মানুষ। দূতাবাসের সঙ্গেও কীরকম একটা যোগসূত্র আছে। চমৎকার ইংরেজি বলে, ব্যবহার বড়ো মধুর, দেখতেও বড়ো মিষ্টি। এমন অপূর্ব চেহারা জীবনে দেখিনি।

বন্ধুত্ব নিবিড় হল ইয়ংম্যানের সঙ্গে। বেশ লাগত গারসিয়াকে। আমার লীয়ের বাড়িতে এল আলাপ যেদিন হল সেইদিনই। তারপর আমাকে নেমন্তন্ন করল ওর বাড়ি উইসটেরিয়া লজে দিন কয়েক কাটিয়ে আসার জন্যে। বাড়িটা এশার আর অক্সশটের মাঝামাঝি জায়গায়। গতকাল সন্ধ্যায় এশার গেলাম কথামতো।

বাড়ির খবর আগেই শুনেছিলাম গারসিয়ার মুখে। দেশোয়ালি একটি চাকরের সঙ্গে থাকে গারসিয়া। খুব বিশ্বাসী লোক। গারসিয়ার যাবতীয় কাজকর্ম সে করে। ইংরিজিটা বলে ভালো, সংসার ঠেলে নিজের হাতে। এ ছাড়া আছে একজন পাঁচক–দেশে দেশে বেড়াতে গিয়ে পথে কুড়িয়ে পাওয়া বলতে পারেন–শিক্ষাদীক্ষা খুব একটা নেই, কিন্তু রাঁধে চমৎকার। কথার ফাঁকেই জেনেছিলাম এসব। গারসিয়া আরও বলেছিল, সারে-র বুকে অদ্ভুত এই গেরস্থালির মধ্যে থাকতে হয় তাকে। গেরস্থালিটা যা শুনেছিলাম তার চাইতে যে ঢের বেশি অদ্ভুত, সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেলাম পরে।

এশারের মাইল দুয়েক দক্ষিণাঞ্চলে গাড়ি হাঁকিয়ে গেলাম আমি। মাঝারি সাইজের বাড়ি, রাস্তা থেকে বেশ ভেতরে, বাড়ির সামনের পথটার দু-পাশে উঁচু উঁচু চির সবুজ গাছের সারি। বেশ সেকেলে বাড়ি, জরাজীর্ণ অবস্থা, মেরামত হয়নি অনেকদিন। ঘাসছাওয়া পথ মাড়িয়ে ঘোড়ার গাড়ি এসে দাঁড়াল ছাতলা পড়া রোদ আর বৃষ্টিতে বিবর্ণ দরজার সামনে। গারসিয়া নিজে দরজা খুলে বেশ খাতির করে আমাকে নিয়ে গেল ভেতরে। মালপত্র বয়ে নিয়ে গেল চাকরটা। দেখলুম কীরকম যেন মিইয়ে পড়া বিমর্ষ চেহারা তার। গারসিয়া আগে দেখাল আমার শোবার ঘর। পুরো বাড়িটাই যেন বুকের ওপর চেপে বসে, মন যেন দমে যায়। খেতে বসে গারসিয়া সমানে বকে চললেও লক্ষ করলাম, কথার মধ্যে সংগতি নেই। ঝাঁপসা আবোল-তাবোল বকুনির মাথামুণ্ডু বুঝতে পারলাম না। এক নাগাড়ে টেবিলে আঙুলের টরে টক্কা বাদ্যি বাজিয়ে, কখনো নখ কামড়ে নানারকমভাবে গারসিয়া বুঝিয়ে দিলে, ভেতরে ভেতরে ও যেন দারুণ ঘাবড়ে গিয়েছে। খাবার-টাবারও খুব ভালো রান্না হয়নি, পরিবেশনের মধ্যেও খুঁত রয়েছে। বিষণ্ণ আর কাঠখোট্টা চাকরটা হাজির থাকায় খাওয়ার আনন্দটাও যেন মাঠে মারা গেল। বেশ কয়েকবার ভাবলাম, ছুতোনাতা করে সরে পড়ি, ফিরে যাই লীতে।

আপনারা দুজনে যে-ব্যাপারে তদন্ত করতে নেমেছেন, একটা ঘটনা শুনলে সে-ব্যাপারে কিছুটা আলোকপাত ঘটতে পারে। তখন অবশ্য এ নিয়ে একদম ভাবিনি। খাওয়া যখন শেষ হতে চলেছে, একটা চিরকুট এনে দিলে চাকরটা। লক্ষ করলাম, চিরকুটটা পড়েই যেন আগের চাইতে উন্মনা আর বিচিত্র হয়ে গেল গারসিয়া। এতক্ষণ জোর করে কথা বলে অতিথি আপ্যায়নের চেষ্টা করছিল। চিরকুট পাওয়ার পর সে-চেষ্টাও আর করল না। একটার পর একটা সিগারেট টানতে টানতে গুম হয়ে বসে রইল। চিরকুটে কী লেখা আছে, সে-সম্পর্কেও কিছু বলল না। এগারোটা নাগাদ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম শোবার ঘরে গিয়ে। কিছুক্ষণ পর দরজায় এসে দাঁড়াল গারসিয়া। ঘর তখন অন্ধকার। জিজ্ঞেস করল আমি ঘন্টা বাজিয়ে চাকরকে তলব করেছি কি না। করিনি বললাম। এত রাতে বিরক্ত করার জন্য ক্ষমা চাইল গারসিয়া। ওর মুখেই জানলাম, রাত কম হয়নি প্রায় একটা। এর পরেই ঘুমিয়ে পড়লাম। এক ঘুমেই রাত কাবার।

এবার আসছি আমার কাহিনির সবচেয়ে অদ্ভুত জায়গায়। ঘুম যখন ভাঙল, রোদ তখন বেশ চড়চড়ে। ঘড়ি দেখলাম, প্রায় ন-টা বাজে। বলে রেখেছিলাম, আটটায় যেন তুলে দেওয়া হয় আমাকে। ডাকেনি দেখে অবাক হলাম। ঘন্টা বাজিয়ে ডাকলাম চাকরকে। সাড়া পেলাম না। ঘণ্টা বিগডোয়নি তো? ধড়ফড় করে কোনোমতে জামাকাপড় পরে নিয়ে হুড়মুড় করে নীচে নেমে এলাম গরম জল চাইতে। কাকপক্ষীকেও দেখতে পেলাম না। হল ঘরে গিয়ে ডাকাডাকি করলাম। কেউ জবাব দিল না। ঘরে ঘরে দৌড়োলাম। সব ঘরই ফাঁকা। আগের রাতে গারসিয়া দেখিয়েছেন কোন ঘরে শোয়। সেই ঘরে গিয়ে পাল্লা খুলে ঢুকলাম ভেতরে। ঘর খালি, বিছানায় কেউ শোয়নি–চাদর নিভঁজ! চাকরবাকর সমেত গৃহস্বামীও সটকেছে বুঝলাম। একরাতেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে পরদেশি রাঁধুনি, বিদেশি চাকর এবং ভিনদেশি গৃহস্বামী! উইসটেরিয়া লজে এর পর আর কেউ থাকে।

দু-হাত ঘষতে ঘষতে আপনমনে খুকখুক করে হাসতে হাসতে বিচিত্র কাহিনি শ্রবণ করল শার্

**********