
হলদে মুখ (শার্লক হোমস)
আর্থার কোনান ডয়েল
আমার বন্ধু শার্লক হোমসের কাজকর্মের টুকরো টুকরো ঘটনাগুলো প্রকাশ করতে গিয়ে আমি সেই ঘটনাগুলোই বেছে নিয়েছি, যেগুলোর ফয়সালা সে করতে পেরেছে। অবশ্য এর একটা বড় কারণ হল যে, শার্লক হোমস যে-সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, সে সমস্যার সমাধান আর কেউই করতে পারেনি। সে সমস্যা চিরকালের জন্যে সমস্যাই রয়ে গেছে। এই ঘটনাগুলোর কোনও কোনওটা আমি তার কাছে শুনেছি, আর অনেকগুলোর সমাধানের সময় আমি তার সঙ্গে থেকেছি। তবে যেটা বরাবর লক্ষ করেছি সেটা হল, যখন শার্লক হোমস কোনও রহস্যের মোকাবিলা করতে পারছে না, তখন তার দক্ষতা, ক্ষমতা আর জেদ যেন দশ গুণ বেড়ে যায়। আবার দু’-একবার এমনও হয়েছে যে, শার্লক হোমস ভুল পথে এগিয়েও রহস্যের মোকাবিলা করে ফেলেছে। আমার ডায়েরিতে এই ধরনের গোটা-ছয়েক ঘটনার কথা লেখা আছে। তার মধ্যে দুটো ঘটনা খুবই ইন্টারেস্টিং। সেই দুটো ঘটনার একটা ঘটনা আজ লিখব বলে ঠিক করেছি।
স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য ব্যায়ামট্যায়াম করা শার্লক হোমসের ধাতে নেই। অথচ তার গায়ে জোর সাংঘাতিক। শুধু গায়ের জোরই নয়, বক্সিংয়েও তার জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু কী জানি কেন, মুগুর ডাম্বেল ভাঁজা বা ডনবৈঠক দেওয়ার ব্যাপারটাকে হোমস সময় আর ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মনে করে। তাই নেহাত তদন্তের ব্যাপার ছাড়া ঘর থেকে বেরোত না। আর যখন কোনও তদন্তের কাজে হাত দিত, তখন সে দিনরাত নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজ করত। তখন তাকে ক্লান্ত হয়ে জিরোতে দেখিনি কখনও। কী করে যে হোমস নিজেকে এমন ‘ফিট’ রাখে, সেটা সত্যি একটা আশ্চর্যের কথা। অবশ্য একটা কারণ এই হতে পারে যে, খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে হোমস খুব সাবধানী। সে খায় খুব সামান্য। আর খায়ও সাদাসাপটা। আর একটা কারণ হতে পারে যে ধূমপান ছাড়া তার অন্য কোনও নেশা নেই।
শীত শেষ হয়ে বসন্ত আসি আসি করছে। হোমস খুব খোশমেজাজে ছিল। আমাকে টেনে নিয়ে সে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ল। আমরা পার্কে ঢুকলাম। সবে গাছে গাছে কচিপাতা বেরোতে শুরু করেছে। প্রায় দু’ ঘণ্টা আমরা চুপচাপ সেখানে বেড়াতে লাগলাম। তারপর আমরা যখন বেকার স্ট্রিটে ফিরে এলাম, তখন পাঁচটা বেজে গেছে।
আমরা ফিরে আসতেই আমাদের কাজের লোকটি বলল, “একজন ভদ্রলোক আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।”
হোমস আমার দিকে ভর্ৎসনার দৃষ্টিতে তাকাল, “বিকেলে বেড়াতে যাওয়ার ফল হাতেনাতে পাওয়া গেল!” হোমস আমাকে কথা শুনিয়ে দিল। তারপর ছেলেটাকে বলল, “সে ভদ্রলোক কি চলে গেছেন?”
“হ্যাঁ।”
“তুমি কি তাঁকে ঘরে বসতে বলোনি?”
“বলেছিলাম। তিনি ঘরে বসেও ছিলেন।”
“তিনি কতক্ষণ আমাদের জন্যে অপেক্ষা করেছিলেন?”
“তা প্রায় আধঘণ্টা তো হবেই। তবে ভদ্রলোক খুব ছটফট করছিলেন। আমি তো বাইরে থেকে শুনতে পাচ্ছিলাম যে, ভদ্রলোক একবার বসছেন, একবার দাঁড়াচ্ছেন, একবার পায়চারি করছেন। তারপর এক সময় ঘর থেকে বেরিয়ে এসে উনি বললেন, ‘ভদ্রলোক ঘরে ফিরবেন না নাকি?’ ঠিক এই কথাগুলোই উনি বলেছিলেন। আমি বললাম, ‘আপনি আর একটু বসুন। উনি এক্ষুনি এসে পড়বেন।’ তখন ভদ্রলোক বললেন, ‘তা হলে আমি বরং বাইরে গিয়ে দাঁড়াই। ঘরের মধ্যে আমার হাঁফ ধরছে।’ আমার কথায় কান না দিয়ে ভদ্রলোক তড়বড় করে নেমে গেলেন।”
ঘরে ঢুকতে ঢুকতে হোমস কাজের ছেলেটিকে বলল, “না, তোমার কোনও দোষ নেই”, তারপর আমাকে বলল, “খুব বিরক্ত লাগছে। বুঝলে ওয়াটসন, মাথা খাটাবার মতো কোনও বিষয়ই আমার হাতে নেই। ভদ্রলোক যে রকম উত্তেজিত আর অধৈর্য হয়ে পড়েছিলেন, তার থেকে মনে হচ্ছে যে, তাঁর আমার কাছে আসবার কারণটা বেশ জরুরি।…আরে আরে, টেবিলের ওপর ওই পাইপটা তো তোমার নয়। নিশ্চয়ই সেই ভদ্রলোকই এই পাইপটা ফেলে গেছেন। দেখি তো। বেশ পুরনো ব্রায়ার পাইপ। বাজারে এগুলোকে বলে অ্যাম্বার। এ ধরনের খাঁটি অ্যাম্বার লন্ডন শহরে খুব বেশি আছে বলে আমার মনে হয় না। লোকে বলে খাঁটি অ্যাম্বারের মধ্যে একটা দাগ থাকে। নকল দাগ দিয়ে জাল অ্যাম্বার তৈরি করাটা একটা বড় ব্যবসা। যে-কোনও কারণেই হোক ভদ্রলোক মনে মনে এতই বিচলিত হয়ে পড়েছেন যে, তাঁর এই প্রিয় পাইপটা এখানে ফেলে গেছেন।”
আমি বললাম, “পাইপটা যে ভদ্রলোকের প্রিয়, একথাটা তুমি জানলে কেমন করে?”
“দেখো ওয়াটসন, এই পাইপটার দাম হবে বড়জোর সাড়ে সাত শিলিং। আচ্ছা এইবার দেখো, পাইপটাকে দু’বার মেরামত করা হয়েছে। একবার নলটা সারানো হয়েছে, আর একবার মুন্ডিটা সারানো হয়েছে। দু’জায়গাতেই রুপোর পাত মেরে দেওয়া হয়েছে। এই এক-একটা রুপোর পাতের দাম পাইপটার দামের চাইতে বেশি। ভদ্রলোক এত খরচ করে দু-দু’বার পাইপটা কখনও সারাতেন না, যদি এটার ওপর তাঁর বিশেষ টান না থাকত। এর চাইতে ঢের কম পয়সায় তিনি একটা নতুন পাইপ কিনে নিতে পারতেন।”
লক্ষ করলাম, হোমস পাইপটাকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখছে। তাই আমি বললাম, “এ ছাড়া আর কিছু বলতে পারো!”
হোমস পাইপটা তুলে ধরল। তারপর মেডিকেল কলেজে অধ্যাপকমশাইরা যেমন একটা হাড়ের টুকরোর ওপর আঙুল দিয়ে দাগ টানতে টানতে বক্তৃতা দেন, সেই রকম ভাবে বলতে লাগল, “পাইপ থেকে একটি মানুষ সম্বন্ধে অনেক কথা জানতে পারা যায়। ঘড়ি আর জুতোর ফিতের পরে পাইপই হচ্ছে একমাত্র জিনিস, যেটাকে খুঁটিয়ে দেখলে সেই মানুষটির স্বভাবচরিত্র সম্বন্ধে প্রায় সব কথাই জানা যায়। কিন্তু এই পাইপটায় সে রকম কোনও বিশেষত্ব চোখে পড়ছে না। এই পাইপের মালিকের স্বাস্থ্য বেশ ভাল। ভদ্রলোক ন্যাটা। তাঁর দাঁত খুব ভাল। স্বভাব অগোছালো। অবস্থা ভাল, হিসেব করে চলতে হয় না।”
হোমস কথাগুলো তরতর করে বলে গেল। তারপর আমার মুখের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। আমি বুঝতে পারলাম, সে জানতে চাইছে যে, কোন তথ্যের ওপর নির্ভর করে সে এই কথাগুলো বলেছে তা আমি বুঝতে পেরেছি কিনা।
“লোকটি সাড়ে সাত শিলিং দামের পাইপ ব্যবহার করছে বলে তুমি ধরে নিচ্ছ যে, তার অবস্থা ভাল,” আমি বললাম।
পাইপটা থেকে ঠুকে ঠুকে তামাক হাতের চেটোয় বের করে হোমস বলল, “এই তামাকের নাম গ্রোভনার মিক্সচার। এক আউন্সের দাম আট পেন্স। এর অর্ধেক দামে ভাল ভাল তামাক পাওয়া যায়। তা সত্ত্বেও যখন উনি এই তামাকই ব্যবহার করেন, তখন বোঝা যাচ্ছে যে, ওঁর পয়সার টানাটানি নেই।”
“কিন্তু আর সব কথা তুমি জানলে কী ভাবে?”
“গ্যাস থেকে পাইপ ধরানো ভদ্রলোকের অভ্যেস। দেখো, পাইপের মুন্ডির পাশটা পুড়ে গেছে। দেশলাই দিয়ে পাইপ ধরালে এ ভাবে পুড়ত না। দেশলাইটা লোকে তামাকের ওপরে ধরে, পাইপের ধারে নয়। ধারটা পুড়তে পারে আগুনের ওপর ধরলে। তারপর দেখো, পাইপের ডানদিকটাই বেশি পুড়েছে। এর কারণ হচ্ছে, ভদ্রলোক ন্যাটা। তুমি যদি তোমার পাইপটা ওই ভাবে ধরাও তো দেখবে, বাঁ দিকটা পুড়বে। কেন না তুমি ন্যাটা নও। এক-আধ বার তোমার ডান দিকটা পুড়তে পারে। তবে বেশি পুড়বে বাঁ দিকটা। তারপর দেখো, অ্যাম্বারের ওপর ভদ্রলোকের সঁতের দাগ বসে গেছে। পাইপকে এই ভাবে কামড়ে ধরতে পারে সেই লোকই যার গায়ে বেশ তাগত আছে, আর যার দাঁতও বেশ মজবুত। তবে আমার যদি ভুল না হয়ে থাকে তো ওই বোধহয় সিঁড়িতে ভদ্রলোকের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। আর, তা হলে পাইপ নয়, পাইপের মালিককেই আমরা দেখতে পাব।”
হোমসের কথা শেষ হতে-না-হতেই এক ভদ্রলোক ঘরে ঢুকলেন। ভদ্রলোক বেশ লম্বা। বয়স কম। তাঁর জামাকাপড় দামি, তবে সাধাসিধে। তার বাঁ হাতে একটা তামাটে রঙের ফেল্ট হ্যাট। আমার মনে হয়েছিল ভদ্রলোকের বয়েস তিরিশের কমই হবে। পরে জানতে পেরেছিলাম যে, ভদ্রলোকের বয়স তিরিশের ঢের বেশি।
ঘরে পা দিয়েই ভদ্রলোক বেশ লজ্জিত ভাবে বললেন, “আমাকে ক্ষমা করবেন। আমি না-বলে-কয়েই ঘরে ঢুকে পড়েছি। আমার উচিত ছিল দরজায় টোকা দিয়ে আপনাদের জানিয়ে ঘরে ঢোকা। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমার মাথার ঠিক নেই। আর তাই আমি এ রকম অসভ্যের মতো ঢুকে পড়েছি।” তারপর ভদ্রলোক কপাল চাপড়াতে চাপড়াতে চেয়ারে বসে পড়লেন। লিখছি বটে বসলেন, তবে আমার মনে হল তিনি যেন চেয়ারের ওপর ধপ করে পড়ে গেলেন।
হোমস তার স্বভাবসুলভ সহজ ভঙ্গিতে বলল, “বুঝতে পারছি আপনি দু’-এক রাত জেগেই কাটিয়েছেন। রাত্তিরে ঘুম না হলে আমাদের শরীরে যত ধকল হয় তা বেশি খাটাখাটনি করলে বা হইহুল্লোড় করে মাতামাতি করলেও হয় না। বলুন তো, আমি কী ভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি।”
“আমি আপনার পরামর্শ চাই। কী যে করব কিছুই ঠিক করতে পারছি না। মনে হচ্ছে আমার বোধহয় সব শেষ হয়ে গেল।”
“আপনি কি চান যে, আমি একজন গোয়েন্দা হিসেবেই আপনাকে পরামর্শ দিই?”
“না, না, তা নয়। একজন বিবেচক মানুষ হিসেবে আপনার মত জানতে চাইছি। কী করব আমি। আপনি আমাকে বলে দিন আমার কী করা উচিত। ঠিক পথের হদিস পাব বলেই আপনার কাছে ছুটে এসেছি।”
ভদ্রলোকের কথা বলার ধরনটা লক্ষ করছিলাম। খানিকক্ষণ কথা বলেই তিনি চুপ করে যাচ্ছিলেন। আবার দু’-একটা কথা বলে ফের চুপ করছিলেন। আমি বুঝতে পারছিলাম যে, খুব দুঃখের সঙ্গেই তিনি কথাগুলো বলছিলেন। আর কথাগুলো বলতে তাঁর মোটেই ইচ্ছে করছিল না।
ভদ্রলোক বলছিলেন, “ব্যাপারটা মানে খুবই ইয়ে আর কি। ঘরের কথা বাইরে কে বলতে চায় বলুন? দেখুন না, আপনাদের সঙ্গে আমার আজই পরিচয় হল। আপনাদের কাছে বাড়ির লোকের কাণ্ডকারখানা বলাটা আমার পক্ষে কতখানি দুঃখের।…কিন্তু আমি যে আর পারছি না। আমি আমার ধৈর্যের শেষ সীমায় এসে পৌঁছেছি। আমাকে কারও পরামর্শ নিতেই হবে।”
ভদ্রলোককে বাধা দিয়ে হোমস বলল, “মিঃ গ্রান্ট মনরো…”
ভদ্রলোক তড়াক করে চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠলেন, “আপনি আমাকে চিনলেন কী করে?”
হোমস মুচকি হেসে বলল, “আপনি যদি নিজের নামধাম গোপন রেখে কোনও কাজ করতে চান তো টুপির পট্টিতে নিজের নাম লিখে রাখবেন না। আর নয় তো এমন ভাবে বসে কথা বলবেন যে, যার সঙ্গে কথা বলছেন, সে যেন আপনার চাঁদি ছাড়া আর মাথার অন্য কোনও দিক দেখতে না পায়। সে কথা থাক। আমি আপনাকে যা বলছিলাম তা হল এই যে, এই ঘরে অনেক লোক এসে তাদের মনের দুঃখের কথা আমাদের বলেছে। ভগবানের দয়ায় তাদের অনেকের মনের কষ্ট আমরা দূর করতে পেরেছি। আমি আশা করি, আপনার মনের কষ্টও আমরা দূর করতে পারব। আর সেইজন্য আমি আপনাকে বলছি যে, আর কথা না বাড়িয়ে আপনার সমস্যার সবকিছু আমাকে খুলে বলুন। সব কথা কিন্তু আমার জানা দরকার।”
আমাদের মক্কেল বেশ কিছুক্ষণ দু’হাতে মুখ ঢেকে চুপচাপ বসে রইলেন। ভদ্রলোকের হাবভাব দেখে আমার মনে হল যে, ইনি খুবই মুখচোরা ধরনের লোক, আড়ালে আড়ালে থাকতেই ভালবাসেন। নিজের কথা কাউকে বলতে চান না। এখন বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে বলে মুশকিলে পড়েছেন। এই ভাবে বেশ খানিকক্ষণ বসে থেকে এক সময় তিনি বলতে লাগলেন, “ব্যাপারটা হচ্ছে এই। বছর তিনেক আগে আমার বিয়ে হয়েছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী বেশ সুখে স্বচ্ছন্দেই ছিলাম। আমাদের মধ্যে কোনও ব্যাপারে কথা কাটাকাটি বা ঝগড়াঝাঁটি হয়নি। হঠাৎ গত সোমবার থেকে আমার স্ত্রী, এফির কী যে হয়েছে বলতে পারি না, একদম বদলে গেছেন। তাঁর হাবভাব, আচার-আচরণ আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। এ যেন একজন সম্পূর্ণ আলাদা মানুষ। আর কেন যে তিনি হঠাৎ এ রকম পালটে গেলেন তা আমি কিছুতেই ধরতে পারছি না।
“তবে একটা কথা গোড়াতেই আপনাকে পরিষ্কার করে বলা ভাল। এফি অত্যন্ত ভদ্র, নম্র, স্নেহপ্রবণ, সুশীল প্রকৃতির মেয়ে। তাঁর মতো স্বভাবচরিত্রের মেয়ে আমি আর দ্বিতীয়টি দেখিনি। সবচেয়ে বড় কথা যে, তাঁর শারীরিক বা মানসিক কোনও অসুখই নেই। এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস…”
ভদ্রলোক হয়তো আরও কিছু বলতেন, কিন্তু তাঁকে থামিয়ে দিয়ে শার্লক হোমস বলল, “আপনার বিশ্বাসের কথা পরে শুনব। আগে ফ্যাক্টস, মানে যা যা ঘটেছে, সেগুলো আমাকে বলুন।”
“আচ্ছা, তা হলে আগে এফির কথাই আপনাকে বলি। এফির সঙ্গে আমার যখন আলাপ হয়, তখন তাঁর নাম ছিল মিসেস একি হেব্রোন। খুব অল্প বয়সে আমেরিকান আইনজীবী মিঃ হেব্রোনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তিনি আমেরিকায় ওকালতি করতেন। পসারও ছিল খুব। আটলান্টা শহরে ওঁরা থাকতেন। ওঁদের একটি ছেলেও হয়েছিল। হঠাৎ আটলান্টা শহরে ‘ইয়েলো ফিভার’ দেখা দেয়। আর অল্প দিনের মধ্যেই সেটা মহামারীর আকার নেয়। ইয়