সিলভার ব্লেজ (শার্লক হোমস)

সিলভার ব্লেজ (শার্লক হোমস)

আর্থার কোনান ডয়েল

সিলভার ব্লেজ (শার্লক হোমস)

Books Pointer Iconআর্থার কোনান ডয়েল
Books Pointer Icondetective

Posted byকাব্য রচিত31-Oct-2025

Change color

সূচিপত্রঃ—

সকালবেলা। আমরা চা খাচ্ছিলাম। হোমস বলল, “ওয়াটসন, আমাকে একটু বাইরে যেতে হবে।”

“বাইরে? কোথায়?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

“কিংস পাইল্যান্ড, ডার্টমুরে।”

হোমসের কথায় আমি মোটেই অবাক হলাম না। সত্যি কথা বলতে কী, এই ব্যাপারে হোমসের এত দিন ডাক পড়েনি কেন এই ভেবেই আমি মনে মনে আশ্চর্য হচ্ছিলাম। ডার্টমুরে যে কাণ্ড ঘটে গেছে, তার আলোচনায় সারা ইংল্যান্ড একেবারে সরগরম। কাল সারা দিনটা হোমস ঘরের ভেতরে তার পরিচিত ভঙ্গিতে বুকের ওপর দু’হাত রেখে মাথা নিচু করে অনবরত পায়চারি করেছে। আর একটার পর একটা পাইপে কড়া তামাক পুরে সেগুলো টেনেছে। আমি তার সঙ্গে দু’-এক বার কথা বলবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আমার কোনও কথাই তার কানে ঢোকেনি। আমাদের খবরের কাগজওয়ালা একটার পর একটা কাগজ এনে দিচ্ছিল। আর হোমস একবার চোখ বুলিয়ে নিয়েই কাগজগুলো ঘরের কোণে ছুড়ে দিচ্ছিল। হোমস চুপচাপ থাকলেও কী নিয়ে যে এমন গভীর ভাবে চিন্তা করছে, সেটা আমি টের পেয়েছিলাম। ঠিক এই মুহূর্তে সারা দেশের সামনে একটিই সমস্যা। আর সেই সমস্যার সমাধান করতে পারাটা শার্লক হোমসের সামনে একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। সমস্যাটা হল যে, ওয়েসেক্স কাপ বাজিতে যে-ঘোড়াটা জিতবে বলে সকলে ধরে নিয়েছিল, সে ঘোড়াটাই বা লোপাট হয়ে গেল কোথায়, আর তার ট্রেনারকেই বা খুন করল কে? তাই হোমস যখন হঠাৎ যেখানে ওই মারাত্মক ঘটনাটা ঘটেছে সেখানে যাওয়ার কথা বলল, তখন আমার বেশ স্ফূর্তি হল।

আমি বললাম, “তোমার যদি অসুবিধা না হয় তো আমি তোমার সঙ্গে যেতে চাই।”

“ওয়াটসন, তুমি সঙ্গে থাকলে আমার খুব সুবিধে হবে। তোমাকে এটুকু বলতে পারি যে, ওখানে গেলে তোমার সময়টা নষ্ট হবে না। এই ব্যাপারটার মধ্যে এমন কতকগুলো জিনিস আছে, যেগুলো সত্যিই খুব ভাববার। সে কথা থাক। এখনই আমাদের তৈরি হয়ে প্যাডিংটনের দিকে যেতে হয়। ট্রেনের খুব দেরি নেই। সব কথা আমি তোমাকে গাড়িতে যেতে যেতে বলব। ভাল কথা, তুমি তোমার সেই দারুণ বায়নাকুলারটা সঙ্গে নিতে ভুলো না।”

ঘণ্টাখানেক পরে ট্রেনের একটা ফার্স্টক্লাস কামরার জানলার ধারের দুটো সিট দখল করে আমরা ডার্টমুরের পথে একজিটারের দিকে ছুটে চললাম। হোমস প্যাডিংটন স্টেশনে একগাদা খবরের কাগজ কিনেছিল। সে গম্ভীর মুখে একমনে কাগজগুলো পড়তে লাগল।

হোমস যখন খবরের কাগজ পড়া শেষ করল, তখন আমরা রেডিং স্টেশন ছাড়িয়ে চলে গেছি। কাগজগুলো বেশ ভাল করে ভাঁজ করে একপাশে সরিয়ে রেখে হোমস নিজের সিগার কেসটা আমার দিকে এগিয়ে দিল।

হোমস জানলা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছিল। একবার হাতঘড়িটা দেখে নিয়ে বলল, “গাড়িটা বেশ ভালই যাচ্ছে। আমরা এখন ঘণ্টায় সাড়ে তিপ্পান্ন মাইল বেগে যাচ্ছি।”

“এ দিকে বুঝি সিকি মাইল অন্তর পোস্ট আছে। একদম খেয়াল করিনি তো,” আমি বললাম।

“না, আমিও দেখতে পাইনি। তবে লক্ষ করলে দেখবে, লাইনের ধারে টেলিগ্রাফের খুঁটিগুলো ষাট গজ পর পর বসানো। তার থেকে গাড়িটা কত মাইল স্পিডে যাচ্ছে, সেটা কষে বের করে নেওয়া মোটেই শক্ত নয়। সে কথা থাক। জন স্ট্রেকার লোকটির খুন হওয়া আর সিলভার ব্লেজ নামে ঘোড়াটার লোপাট হওয়ার খবরটা তুমি নিশ্চয়ই মোটামুটি জানো?”

আমি বললাম, “হ্যাঁ, ‘টেলিগ্রাফ’ আর ‘ক্রনিকল’ পত্রিকায় যতটুকু বেরিয়েছে, ততটুকুই জানি।”

“এই রহস্যের মামলাটা একটু অন্য ধরনের। এই ধরনের রহস্যের জট খুলতে গেলে গোয়েন্দার প্রথম কাজ হল, ঘটনাগুলো পর পর যেমন যেমন ঘটেছে সেই ভাবে সাজিয়ে নেওয়া। নতুন কোনও তথ্য বা সূত্রের সন্ধান পরেও করা যেতে পারে। এই ব্যাপারটা এমনই অদ্ভুত, এমনই আটঘাট বেঁধে ভেবেচিন্তে করা যে, তার ফলে আমাদের সামনে নানান মত, উদ্ভট কল্পনা, মিথ্যে গালগল্পের পাহাড় জমে উঠেছে। তাই সব চাইতে গোড়ার কাজ যেটা, সেটা হল এই সব আবোলতাবোল মিথ্যে গালগল্পের মধ্য থেকে সত্য ঘটনাকে ঝেড়েবেছে নিয়ে রহস্যের কাঠামোটা ঠিক করা। সেটা করে নিয়ে প্রত্যেকটা ঘটনাকে আলাদা আলাদা করে বিশ্লেষণ করতে হবে। সেই বিশ্লেষণ থেকে কতগুলো অনুমান করা যাবে। সেই অনুমানগুলোকে বিচার করলে বোঝা যাবে, কোন পথে গেলে রহস্যের জট খোলা যাবে। মঙ্গলবার সন্ধেবেলায় আমি দুটো টেলিগ্রাম পেয়েছি। একটা তার পাঠিয়েছেন সিলভার ব্লেজ ঘোড়ার মালিক, কর্নেল রস। আর একটি তার পাঠিয়েছেন ইন্সপেক্টর গ্রেগরি, যিনি এই রহস্যের অনুসন্ধান করেছেন। গ্রেগরি আমার সাহায্য চেয়েছেন।”

আমি একটু রেগেই বলে উঠলাম, “টেলিগ্রাম পেয়েছ মঙ্গলবার, আর আজ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। তুমি গতকালই গেলে না কেন?”

“না, যাইনি। আমি ভুল করেছি। ওয়াটসন, তোমার লেখা পড়ে সাধারণ লোকের মনে আমার সম্বন্ধে যে-ধারণা গড়ে উঠেছে সেটা ঠিক নয়। সকলে ভাবে আমার ভুল হয় না। তা নয়, আমারও ভুল হয়। আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে, এমন কাণ্ড ঘটতে পারে এ কথা আমি বিশ্বাস করতেই পারিনি। ডার্টমুর এমনিতেই খুব নির্জন জায়গা। লোকজনের বসতি কম। সিলভার ব্লেজের মতো নামডাকওয়ালা ঘোড়াকে, যাকে লোকে দেখলেই চিনতে পারবে, কেউ লুকিয়ে রাখতে পারবে বলে আমার মনে হয়নি। কাল সারা দিন আমি আশা করেছি। সিলভার ব্লেজকে ফিরে পাওয়ার আর স্ট্রেকারের আততায়ীর গ্রেফতারের খবর পাওয়ার জন্যে আমি সকাল থেকে উদ্‌গ্রীব হয়ে বসে থেকেছি। কিন্তু আজ সকালে খবরের কাগজ পড়ে যখন জানতে পারলাম, পুলিশ ফিটস রয় সিমসনকে গ্রেফতার করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি তখনই ঠিক করে ফেললাম, এ ভাবে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকার কোনও মানে হয় না। তবে কালকের দিনটা একদম বৃথাই যায়নি।”

“ও, তুমি তা হলে একটা হদিস পেয়েছ?”

“না, তা ঠিক নয়। তবে মূল ঘটনাটা যে কী, তা জানতে পেরেছি। তোমাকে সব খুলে বলছি, মন দিয়ে শোনো। সব কথা না জানলে তোমার পক্ষে আমাকে সাহায্য করা সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় কথা, তোমাকে ব্যাপারটা বললে সবকিছু আমার নিজের কাছেও স্পষ্ট হবে।”

একটা সিগার ধরিয়ে গদিতে হেলান দিয়ে আমি বেশ জুত করে বসলাম। হোমস সামনের দিকে সামান্য একটু ঝুঁকে পড়ে ডান হাতের আঙুল দিয়ে বাঁ হাতের চেটোয় দাগ টানতে টানতে কথা বলতে শুরু করল।

“সিলভার ব্লেজ ইসোনমি বংশের ঘোড়া। খুব ভাল ঘোড়া। মাত্র পাঁচ বছর বয়স। এর মধ্যেই ঘোড়াটা যত নামকরা বাজি আর দৌড় আছে, সব ক’টায় জিতেছে। সেদিক দিয়ে সিলভার ব্লেজের মালিক কর্নেল রসকে বেশ ভাগ্যবান বলতে হয়। সকলেই ধরে নিয়েছে যে, ওয়েসেক্স কাপ দৌড়েও সিলভার ব্লেজই ফার্স্ট হবে। তা হলে বুঝতেই পারছ যে, ঘোড়াটাকে লোপাট করে দিতে পারলে অনেক লোকেরই সুবিধে হবে।

“আর এ কথা কিংস পাইল্যান্ডে, যেটা কর্নেল রসের আস্তাবল, সকলেই জানে। আর সেই কারণে সিলভার ব্লেজকে সর্বদাই কড়া পাহারায় চোখে চোখে রাখা হত। সিলভার ব্লেজকে দেখাশোনার ভার, তাকে দৌড়ের জন্যে ঠিকঠাক রাখার ভার ছিল ওই জন স্ট্রেকারের ওপর। স্ট্রেকার প্রথমে ছিলেন ‘জকি। প্রায় বছর পাঁচেক তিনি কর্নেল রসের জকি ছিলেন। ইদানীং তিনি এত বেশি মোটা হয়ে গেছেন যে জকি হতে পারেন না। গত সাত বছর উনি কর্নেল রসের ঘোড়ার তদারকি করেন। আজ পর্যন্ত তাঁর কাজে কোনও গাফিলতি ধরা পড়েনি। স্ট্রেকারকে সাহায্য করবার জন্যে আরও তিন জন ছোকরা আছে। কর্নেল রসের আস্তাবলটাও খুব বড় নয়। মোটে চারটে ঘোড়া আছে। আস্তাবলে কাজের জন্যে যে-ছেলেগুলি আছে, তারা এক এক জন পালা করে সারা রাত্তির পাহারা দেয়। আর বাকি দু’জন আস্তাবলের উপরে যে-মাচা আছে, সেখানে ঘুমোয়। ওই ছেলেগুলির স্বভাবচরিত্র খুবই ভাল। জন স্ট্রেকারের স্ত্রী আছে। আস্তাবল থেকে আন্দাজ পাচশো গজ দূরে একটা ছোট বাংলো ধরনের বাড়িতে ওঁরা থাকেন। ওঁদের ছেলেপিলে নেই। ঘর সংসারের কাজ করবার জন্যে একটা মেয়ে আছে। সে ওই বাড়িতেই থাকে। স্ট্রেকারের অবস্থা বেশ ভাল। ওঁরা যেখানে থাকেন, সেখানটা ফাঁকা ফাঁকা। লোকজন প্রায় নেই বললেই চলে। আস্তাবল আর স্ট্রেকারের বাড়ির কাছাকাছি জনবসতি বলতে কতকগুলো ছোট বাড়ি। ট্যাভিস্টকের এক কন্ট্রাক্টর ভদ্রলোক এই বাড়িগুলো তৈরি করিয়ে দেন। যাঁরা শরীর সারাবার জন্যে ‘চেঞ্জে’ আসেন তাঁরা ওই সব বাড়িতে ভাড়া দিয়ে থাকেন। এই বাড়িগুলো স্ট্রেকারের বাড়ি আর আস্তাবলের খাড়া উত্তরে আধমাইলটাক দূরে। এখান থেকে পশ্চিমে ট্যাভিস্টক, মাইল দুয়েক দূরে। কর্নেল রসের আস্তাবল থেকে দু’-আড়াই মাইল দূরে ঠিক মাঠের উলটো দিকে লর্ড ব্যাকওয়াটারের আস্তাবল কেপলটন। সাইলাস ব্রাউন হচ্ছে এই আস্তাবলের কর্তা। এ ছাড়া চার দিকে ধুধু করছে তেপান্তরের মাঠ। মাঝে মাঝে জিপসিদের এই মাঠে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। এই রকম অবস্থায় গত সোমবার রাত্তিরে দুর্ঘটনাটি ঘটল।

“সে দিনও সন্ধেবেলায় ঘোড়াগুলোকে নিয়মমতো ছুটিয়ে আনা হয়। তারপর জল দিয়ে ঘোড়াগুলোর গা ধুইয়ে, ভালমতন দলাইমলাই করে ঠিক রাত ন’টার সময় আস্তাবলের দরজায় তালা-চাবি দিয়ে দেওয়া হয়। দু’জন ছোকরা রাতের খাওয়া সেরে নিতে স্ট্রেকারের বাড়ি যায়। আর একজন, তার নাম নেড হান্টার, আস্তাবল-বাড়ির পাহারা দেবার জন্যে থেকে যায়। ন’টা বাজবার কিছুক্ষণ পরেই স্ট্রেকারের বাড়ির কাজের মেয়েটি, নাম এডিথ বাক্সটার, নেডের খাবার নিয়ে আস্তাবলের দিকে আসছিল। খাবার বলতে মাটনকারি। জলের ব্যবস্থা আস্তাবলেই আছে। যে-রাতে যার উপর আস্তাবল পাহারার ভার থাকে, তাকে সে রাতে জল ছাড়া অন্য কোনও পানীয় দেওয়া হয় না। একে তো কৃষ্ণপক্ষের ঘুটঘুটে অন্ধকার, তার ওপর রাস্তাটা গেছে ফাঁকা মাঠের মধ্যে দিয়ে। তাই আস্তাবলে আসবার সময় এডিথ একটা লণ্ঠন নিয়ে বেরিয়েছিল।

“এডিথ যখন আস্তাবলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, তখন অন্ধকার ফুঁড়ে একটি লোক তার সামনে হাজির হল। এডিথ বেশ আশ্চর্য হয়ে পড়েছিল। তাই লোকটি তাকে দাঁড়াতে বললে সে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। লোকটি যেখানে দাঁড়িয়েছিল, সেখানে এডিথের হাতের লণ্ঠনের আলো পড়ছিল। লণ্ঠনের আলোয় এডিথ দেখল যে, লোকটির চেহারা এবং বেশবাস ভদ্রলোকের মতো। তাঁর মাথায় ছিল কাপড়ের টুপি আর গায়ে ছাই রঙের কোট-প্যান্ট। ভদ্রলোকের হাতে একটা খুব মোটা লাঠি। আর লাঠির হাতলটাও বেশ মজবুত। ভদ্রলোককে দেখে এডিথের চোখে যে-জিনিসটা সবচেয়ে বেশি করে পড়েছিল, সেটা হল ভদ্রলোকের অস্বাভাবিক সাদাটে মুখ-চোখ আর একটা গোরুচোর গোরুচোর ভাব। এডিথের মনে হয়েছিল ওঁর বয়স তিরিশের বেশি, কম কিছুতেই নয়।

“এডিথকে ডেকে ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করেন, ‘আচ্ছা, আমি ঠিক কোথায় এসে পড়েছি বলতে পারেন? ভাবছিলাম আজকের রাতটা বুঝি এই ফাঁকা মাঠেই কাটাতে হবে। এমন সময় হঠাৎ আপনার লণ্ঠনের আলোটা চোখে পড়ল।’

‘“এটা হল কিংস পাইল্যান্ড আস্তাবলের কাছাকাছি।’

‘“তাই নাকি! খুব জোর বরাত বলতে হবে’, ভদ্রলোক বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠলেন। ‘শুনেছি আস্তাবলে রাত্তিরে পাহারা দেবার জন্যে একটি ছেলে থাকে। আপনি বোধহয় তার খাবার নিয়ে যাচ্ছেন। আচ্ছা, আমি যদি আপনাকে একটা নতুন পোশাকের দাম উপহার দিতে চাই, আপনি কি তা হলে রেগে যাবেন?’ এরপর ভদ্রলোক তাঁর ওয়েস্টকোটের পকেট থেকে ভাঁজ-করা একটা কাগজ এডিথের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘এই কাগজটা যদি এক্ষুনি আস্তাবলের পাহারাওলা ছেলেটিকে পৌঁছে দিতে পারেন তো, সব চাইতে দামি পোশাকটি আমি আপনাকে কিনে দেব।’

“ভদ্রলোক এমন গম্ভীর ভাবে কথাগুলো বললেন যে, এডিথের ভয় হয়ে গেল। সে আর সেখানে এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে ভদ্রলোককে কোনও রকমে পাশ কাটিয়ে আস্তাবলের দিকে দৌড় লাগাল। খাবারদাবার দেবার জন্যে আস্তাবলে একটা ঘুলঘুলির মতো জানলা আছে। জানলাটা খোলাই ছিল। আস্তাবলের ভেতরে জানলার কাছে হান্টার একটা টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসেছিল। এডিথ হান্টারকে যখন সব কথা বলছে, তখন সেই ভদ্রলোক সেখানে গিয়ে হাজির।

‘“গুড ইভনিং’, জানলার কাছে এসে এডিথের পাশে দাঁড়িয়ে ভদ্রলোকটি হান্টারের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি তোমাকে দু’-একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।’ এডিথ পুলিশকে বলেছে যে ভদ্রলোকটি যখন হান্টারের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর হাতে সে একটা মোড়ক-করা কাগজ দেখেছিল।

‘“এখানে আপনার কী দরকার?’ হান্টার বেশ বিরক্ত হয়ে লোকটিকে প্রশ্ন করেছিল।

‘“আমার একটু দরকার আছে বই কী। আর সেই দরকার থেকে তোমারও দু’-চার পয়সা র

**********