
বুড়ো আঙুলের কথা (শার্লক হোমস)
আর্থার কোনান ডয়েল
আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব হবার পর থেকে শার্লক হোমসের কাছে যে সমস্ত ‘কেস’ সমাধানের জন্যে এসেছে তার মধ্যে কেবলমাত্র দুটো কেসের সন্ধান আমি আনি। একটা হল মিঃ হেদারলির বুড়োআঙুলের সমস্যা, আর একটা হল কর্নেল ওয়ারবার্টনের পাগলামির রহস্য। কোনও রহস্যের সমাধান করতে গেলে যে-ধরনের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর প্রখর বিচারশক্তির দরকার পড়ে সেই দিক থেকে দেখলে ওয়ারর্বাটন-সমস্যা বেশ জটিল আর রহস্যময়। তবে হেদারলির কাণ্ডটা একেবারে শুরু থেকেই এমন অদ্ভুত, আর যাকে খবরের কাগজের ভাষায় বলা যেতে পারে ‘নাটকীয়’, যে ওই ব্যাপারটাই আগে লিখব বলে ঠিক করেছি। তবে ওই ব্যাপারে তদন্ত করবার সময়ে হোমস তার অসাধারণ বুদ্ধি, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আর বিশ্লেষণ শক্তির কোনওটাই খাটাবার বিশেষ কোনও সুযোগ পায়নি। হেদারলি-কাহিনী দৈনিক সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছিল। তবে সংবাদপত্রের পৃষ্ঠার মাত্র আধকলমে সমস্ত ঘটনাটা এমন জোড়াতালি দিয়ে ছাপা হয়েছিল যে, তাতে আসল ঘটনাটা যে ঠিক কী ধরনের সে কথাটা ভাল ভাবে বোঝা যায়নি। সমস্ত ঘটনাটা আস্তে আস্তে ধাপে ধাপে যেমন যেমন ঘটেছে সেটা যদি ঠিক পর পর পাঠকের চোখের সামনে ধরা যায়, মানে যেমন যেমন নতুন সূত্র পাওয়া গেছে তার সঙ্গে কী ভাবে তদন্তের ধারাটা বদলে যাচ্ছে, তা হলে মূল রহস্য আর রহস্য সমাধানের মজাটা পাঠক পুরোপুরি বুঝতে পারবে। ঘটনাটা আমাকে হতভম্ব করে দিয়েছিল। সে আজ বছর দুয়েক আগেকার কথা। কিন্তু এখনও ওই ঘটনার কথা ভাবলে আমি কিংর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যাই।
যে-ঘটনাটার কথা আজ লিখতে বসেছি সেটা আমার বিয়ের অল্প কিছু দিন পরে ঘটেছিল। ১৮৮৯ সালের গরমকাল। আমি তখন আমাদের বেকার স্ট্রিটের বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় এসে পুরোদমে প্রাইভেট প্র্যাকটিস আরম্ভ করে দিয়েছি। তবে ফুরসত পেলেই হয় পুরনো আস্তানায় আড্ডা দিতে যাই, না হয় তো হোমসকে টেনে আনি আমার নতুন বাসায়। সত্যি কথা বলতে কী, অল্প দিনের মধ্যে আমার বেশ ভাল পশার জমে গেল। আমার বাসাটা প্যাডিংটনের কাছেই। আর তার ফলে আমার রোগীদের বেশির ভাগই রেলের চাকুরে। এদের মধ্যে একজনকে আমি একবার খুব কঠিন অসুখ থেকে সারিয়ে তুলি। আর তাতে সে আমার এমন ভক্ত হয়ে গেল যে, সুযোগ পেলেই যেখানে-সেখানে আমার ঢাক পিটিয়ে বেড়াত। আর তার চেনাজানা আধাচেনা লোককে প্রায় একরকম জোর করে চিকিৎসার জন্যে আমার কাছে পাকড়ে আনত।
সেদিন সকালে আমার ঘরের কাজের লোকটি শোবার ঘরের দরজায় টুকটুক করে টোকা দিতেই ঘুমটা ভেঙে গেল। কী ব্যাপার জিজ্ঞেস করাতে সে বলল যে, প্যাডিংটন থেকে দু’জন লোক দেখা করতে এসেছে। তারা চেম্বারে বসে আছে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম সাতটা তখনও বাজেনি। রেলের কর্মচারী যখন ডাক্তার দেখাতে আসে তখন বুঝতে হবে ব্যাপারটা বেশ গুরুতর। তাই তাড়াতাড়ি পোশাক পরে নীচে নেমে এলাম। নীচে নামতেই আমার পুরনো মক্কেলকে দেখতে পেলাম। দরজার সামনে সে পাহারাওলার মতো দাঁড়িয়ে আছে। লক্ষ করলাম চেম্বারের দরজা বন্ধ। সে তার ডান হাতের বুড়োআঙুল দিয়ে আমার চেম্বারটা দেখিয়ে দিয়ে আমাকে চুপি চুপি বলল, “আমিই ওকে এখানে নিয়ে এসেছি। এমনিতে লোকটাকে খারাপ বলে মনে হল না।”
“ব্যাপারটা কী?” আমি কৌতূহলী হয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম। ওর হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল যে, সাধারণ মানুষ নয়, কোনও অদ্ভুত বিকটাকৃতি জন্তুকে ও কায়দা করে আমার চেম্বারে বন্দি করে ফেলেছে।
“একজন নতুন রুগি। আমি ভাবলাম ওকে সঙ্গে করে নিয়ে আসাই ভাল। না হলে ও হয়তো আপনার কাছে না এসে অন্য কোনও ডাক্তারের কাছে চলে যাবে। যাই হোক ওকে ভালয় ভালয় এখানে হাজির করা গেছে।…আচ্ছা ডাক্তারবাবু আমি এখন চললাম। এখনই আবার ডিউটি শুরু হয়ে যাবে।”
আমি তাকে কোনও কথা বলবার আগেই আমার ভক্ত দালালটি ঝড়ের বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
দরজা ঠেলে আমার চেম্বারে ঢুকলাম। একজন ভদ্রলোক টেবিলের উলটো দিকের চেয়ারে বসে রয়েছেন। ভদ্রলোক ভাল হেদার টুইডের পোশাক পরে আছেন। তাঁর কাপড়ের টুপিটা আমার বইয়ের র্যাকের ওপর রাখা। ভদ্রলোকের একটা হাত রুমালে জড়ানো। রুমালে রক্তের দাগ। ভদ্রলোকের বয়স কম। আমার মনে হল এঁর বয়স খুব বেশি হলে গোটা পঁচিশ হবে। চেহারাটি বেশ শক্ত সমর্থ। তবে তাঁর মুখটা দেখে মনে হল কেমন যেন ফ্যাকাশে, ম্লান। ভদ্রলোককে দেখে আমার মনে হল, যে-কোনও কারণেই তোক তিনি ভেতরে ভেতরে বেশ উত্তেজিত। জোর করে মনের সে ভাবকে চেপে রাখছেন।
আমাকে দেখে ভদ্রলোকটি বললেন, “ডাক্তারবাবু সাতসকালে আপনাকে ঘুম থেকে তুললাম বলে মাপ চাইছি। কাল রাত্তিরে আমার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। আমি আজ ভোরের ট্রেনে ফিরেছি। প্যাডিংটন স্টেশনে নেমে একজন ডাক্তারের খোঁজ করায় একটি লোকে আমাকে আপনার কাছে নিয়ে এল। আপনার কাজের লোকটির হাতে আমার একটা ‘কার্ড’ দিয়েছিলাম। কিন্তু দেখছি যে, সে কার্ডটা এখানে টেবিলেই রেখে গেছে, আপনাকে দেয়নি।”
কার্ডটা তুলে নিয়ে চোখ বুলোলাম। লেখা রয়েছে: মিস্টার ভিক্টর হেদারলি। হাইড্রলিক ইঞ্জিনিয়ার। ১৬এ ভিক্টোরিয়া স্ট্রিট (চার তলা)। আমার সত্যিকারের সাতসকালের মক্কেলের পরিচয় পেলাম। নিজের চেয়ারটায় বসতে বসতে বললাম, “আপনাকে বসিয়ে রেখেছি বলে খারাপ লাগছে। আপনি সারারাত ট্রেন জার্নি করেছেন। বুঝতে পারছি বেশ কাহিল বোধ করছেন। তার ওপর রাত্তিরে ট্রেন জার্নি করার মতো বিচ্ছিরি ব্যাপার আর কিছু নেই।”
“না, কালকের রাতটা আমার মোটেই একঘেয়ে বা বৈচিত্র্যহীন ভাবে কাটেনি।” কথা শেষ করেই ভদ্রলোক হাসতে শুরু করলেন। প্রথমটায় আমার মনে হল যে, ভদ্রলোকের হাসিটা বেশ দিলখোলা ধরনের। কিন্তু একটু পরেই বুঝলাম যে, হাসিটা মোটেই স্বাভাবিক নয়। ভদ্রলোক টেনে টেনে হাসতে লাগলেন। তিনি চেয়ারের ওপর এমন সাংঘাতিক ভাবে দুলতে লাগলেন যে, আমার ভয় হল উনি হয়তো গড়িয়ে পড়েই যাবেন। ব্যাপারটা বুঝতে আমার দেরি হল না।
“চুপ করুন,” বেশ কড়া ভাবে ধমক লাগিয়ে বললাম, “একদম চুপ করুন!” তারপর আমি সোরাই থেকে এক গ্লাস জল গড়ালাম। আমার ধমকে কোনও কাজ হল না। ভদ্রলোক তখনও পাগলের মতো হেসেই চলেছেন। কোনও বিশেষ কারণে মন যদি খুব চঞ্চল বা উত্তেজিত হয় তখন নিজের মনকে শান্ত করতে গিয়ে অনেকে এই রকম পাগলের মতো কাণ্ড করেন। ডাক্তারি ভাষায় একেই বলে হিস্টিরিয়া। যাই হোক খানিক পরে ভদ্রলোক নিজে থেকেই চুপ করলেন। তাকিয়ে দেখলাম ভদ্রলোক নিজের এই আচরণে খুবই লজ্জা পেয়েছেন। আরও লক্ষ করলাম যে, তাঁর মুখে অসম্ভব ক্লান্তির ছাপ।
ভদ্রলোক আস্তে আস্তে বললেন, “আমি নেহাতই পাগলামি করে ফেলেছি।”
আমি জবাব দিলাম, “না, না। আপনি এটা খেয়ে ফেলুন। ভাল লাগবে।” ভদ্রলোকের দিকে জলমেশানো ব্র্যান্ডির গ্লাসটা এগিয়ে দিলাম। ভদ্রলোক সেটা এক চুমুকে শেষ করে ফেললেন। তাঁর মুখ-চোখ অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে উঠল।
“আহ্৷” ভদ্রলোক একটা আরামের নিশ্বাস ছাড়লেন। তারপর বললেন, “ডাক্তারবাবু, আমার বুড়োআঙুলটা মানে যে জায়গায় আমার বুড়োআঙুলটা ছিল সেটার অবস্থাটা দেখবেন কি?”
ভদ্রলোক রুমালটা খুলে নিয়ে হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। ডাক্তার হিসেবে আমি অনেক বীভৎস কাটা-ছেঁড়া দেখেছি। কিন্তু এখন যা দেখলাম তাতে আমি রীতিমতো চমকে গেলাম। হাতের চেটো থেকে চারটে আঙুল বেরিয়ে আছে। বুড়োআঙুলটা নেই। বুড়োআঙুলের জায়গায় খানিকটা রক্ত জমে ডেলা পাকিয়ে গেছে। আমার মনে হল বুড়োআঙুলটা কোনও ভাবে গোড়া থেকে উপড়ে গেছে।
“কী কাণ্ড! এ তো মারাত্মক জখম হয়েছে দেখছি। খুব রক্ত পড়েছে,” আমি বললাম।।
“হ্যাঁ, রক্ত খুব পড়েছে। ঘটনাটা যখন ঘটে তখন আমি অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম। আমার মনে হয় বেশ কিছু সময় আমি অজ্ঞান অবস্থাতেই ছিলাম। জ্ঞান হলে দেখলাম যে, তখনও রক্ত পড়ছে। আর কিছু না করতে পেরে রক্ত বন্ধ করবার জন্যে পকেটের রুমাল বেশ করে ওই কাটা জায়গাটায় জড়িয়ে নিয়ে রুমালটা একটা কাঠের টুকরো দিয়ে বেশ শক্ত করে পেঁচিয়ে নিয়ে কবজির সঙ্গে বেঁধে নিলাম।”
“খুব ভাল করেছেন। আপনার তো মশাই ডাক্তার মানে সার্জেন হওয়া উচিত ছিল।”
“এটা আপনি বাড়িয়ে বলছেন। তবে এটাও তো একধরনের হাইড্রলিকসের ব্যাপার, আর সেটা আমার আওতায় পড়ে।”
কাটা জায়গাটা ভাল করে দেখে আমি বললাম, “মনে হচ্ছে খুব ভারী অথচ ধারালো কোনও কিছুর আঘাতে আপনার আঙুলটা এই ভাবে কেটে গেছে।”
“ভারী রামদা জাতের জিনিসের দ্বারা হয়েছে।”
“তা এ রকম সাংঘাতিক দুর্ঘটনা ঘটল কী করে?”
“এটা তো কোনও অ্যাক্সিডেন্ট নয়!’
“তবে আপনি কি বলছেন যে আপনাকে কেউ মারতে এসেছিল ?”
“হ্যাঁ।”
“আপনার কথায় আমার তো বেশ চিন্তা আর ভয় হচ্ছে।” এই কথা বলে আমি ভদ্রলোকের ক্ষতস্থানটা ধুয়ে ওষুধ লাগিয়ে বেশ ভাল করে ব্যান্ডেজ করে দিলাম। ভদ্রলোক চুপ করে বসে রইলেন। তবে তার যে যন্ত্রণা হচ্ছে তা বুঝতে পারছিলাম। কেন না এক একবার তিনি দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ধরছিলেন। ব্যান্ডেজ করা হয়ে গেলে আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কী, এখন কেমন লাগছে?”
“দারুণ। আপনার ব্র্যান্ডির গুণে আর ব্যান্ডেজের কায়দায় আমি যেন অন্য মানুষ হয়ে গেছি। বিশ্বাস করুন, যে রকম সাংঘাতিক কাণ্ড ঘটেছিল তাতে আমি ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ি…”
ওঁকে থামিয়ে দিয়ে আমি বললাম, “দেখুন, এখন ওসব কথা আলোচনা না করাই ভাল। আপনার শরীর খারাপ হতে পারে।”
“না, আমার শরীর খারাপ হবে না। তা ছাড়া সব কথা এক্ষুনি পুলিশকে জানাতে হবে। সত্যি কথা বলতে কী, আমার বুড়োআঙুলটা উড়ে না গেলে পুলিশ বিশ্বাস করা তত দূরে থাক, আমার সব কথা ডাহা গাঁজাখুরি বলে উড়িয়ে দিত। কেন না আগাগোড়া ব্যাপারটা এমন অদ্ভুত যে, আজগুবি বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। সবচেয়ে বড় কথা যাকে প্রমাণ বলে সে রকম কোনও কিছু আমার হাতে নেই। আসল সমস্যাটা কী জানেন, পুলিশ যদি আমার কথা বিশ্বাসও করে তা হলে আমার কাছ থেকে যতটুকু তারা জানতে পারবে তা এতই কম আর ভাসা ভাসা যে, সেই সংবাদের উপর নির্ভর করে ব্যাপারটার ফয়সালা করা যাবে বলে মনে হয় না।”
আমি বললাম, “হুঁ। যদি আপনার এই সাংঘাতিক দুর্ঘটনার সঙ্গে কোনও রহস্যের গন্ধ থাকে আর সেই রহস্যের সমাধান যদি সত্যি সত্যি করতে চান তা হলে পুলিশের কাছে যাবার আগে আমার বন্ধু শার্লক হোমসের কাছে আপনার যাওয়া উচিত।”
ভদ্রলোক বললেন, “হ্যাঁ, ওঁর নাম শুনেছি। উনি যদি আমার এ ব্যাপারে তদন্ত করতে রাজি হন তো আমি খুবই খুশি হব। তবে কী জানেন, পুলিশকে সব কথা বলব বলে আমি মনে মনে ঠিক করেছি। আপনি যদি মিঃ হোমসকে একটা চিঠি লিখে দেন তো সেটা নিয়ে আমি দেখা করতে পারি।”
“না চিঠি দেব না। আপনাকে সঙ্গে করে নিয়ে যাব।”
“তা হলে আমি আপনার কাছে চিরকালের জন্যে ঋণী হয়ে থাকব।”
“বেশ। একটা গাড়ি ডাকাই। একসঙ্গে বেরোনো যাবে। আশা করি আমরা ঠিক চায়ের সময়ে গিয়ে হাজির হতে পারব। কিন্তু আপনি কি যাতায়াতের ধকল সহ্য করতে পারবেন ?”
“খুব পারব। আর তা ছাড়া সব কথা খুলে না বলতে পারলে আমার স্বস্তি হবে না।”
“ঠিক আছে। আমি গাড়ি ডাকতে লোক পাঠাচ্ছি। আপনি এই ঘরে একটু বসুন। আমি একবার ভেতর থেকে আসছি।” আমি ওপরে গিয়ে আমার স্ত্রীকে সব কথা খুলে বললাম। তারপর পাঁচ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে গাড়ি ডাকিয়ে ভদ্রলোককে নিয়ে বেকার স্ট্রিটের দিকে রওনা হলাম।
শার্লক হোমস এই সময় কী করে আমার জানা ছিল। দেখলাম ঠিক তাই। হোমস আরামকেদারায় বসে পাইপ টানছিল আর ‘টাইমস’ পত্রিকার ব্যক্তিগত বিভাগের বিজ্ঞাপনগুলো মন দিয়ে পড়ছিল। আমাদের দেখে হোমস খুব খুশি হয়েছে বলে মনে হল। সঙ্গে সঙ্গে সে আমাদের জন্যে টোস্ট, ডিম আর চা আনাল। আমরা বেশ জমিয়ে প্রাতরাশ সারলাম। চা খাওয়া শেষ হলে হোমস খুব যত্ন করে আমাদের সদ্য-পরিচিত বন্ধুটিকে একটা আরামকেদারায় বসিয়ে দিল। তারপর তার মাথার কাছে একটা বালিশ গুঁজে দিল, যাতে তার বসে থাকতে কষ্ট না হয়। হোমস ভদ্রলোকের হাতের কাছে একটা তেপায়া ছোট টেবিলে জল আর ব্র্যান্ডি এনে রাখল।
“বুঝতে পারছি মিঃ হেদারলি, আপনার ওপর দিয়ে খুব বড় রকমের ঝড়ঝাপটা গেছে