
অদ্ভুত লিপি
আর্থার কোনান ডয়েল
টেবিলের ওপরে একটা কাচের পাত্রে কী একটা তরল রাসায়নিক পদার্থ ফুটছিল। পদার্থটার বেজায় বিটকেল গন্ধ। হোমস সেই ফুটন্ত পদার্থটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে বসে ছিল। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম, হোমসের লম্বা শরীরটা ক্রমেই সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ছিল। ওর মাথা বুকের কাছে নেমে এসেছে। পেছন থেকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন একটা অদ্ভুত অচেনা পাখি স্থির দৃষ্টিতে কিছু একটা লক্ষ করছে। অনেকক্ষণ একই ভাবে থাকবার পর হোমস হঠাৎ বলে উঠল, “ওয়াটসন, তুমি দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবসার বাজারে টাকা লগ্নি করবে না বলেই শেষ পর্যন্ত ঠিক করলে?”
আমি চমকে উঠলাম। তাজ্জব কাণ্ড। হোমসের এই অদ্ভুত, যা নাকি প্রায় অলৌকিক ক্ষমতার কথা আমি জানি। তা সত্ত্বেও আমার মনের এই গোপন কথাটা যে ও কী ভাবে টের পেল, তা ভেবে ঠিক করে উঠতে পারলাম না।
“তুমি কী করে ব্যাপারটা জানলে?” আমি হোমসকে জিজ্ঞেস করলাম।
হোমস যে-টুলের ওপর বসে ছিল সেটা আমার দিকে ঘুরিয়ে নিল। ওর হাতে একটা টেস্টটিউব। টিউবের থেকে হুহু করে ধোঁয়া বেরোচ্ছে। খুশিতে হোমসের চোখদুটো চিকচিক করছে। বুঝলাম আমার কথায় ভারী মজা পেয়েছে।
“তা হলে ওয়াটসন স্বীকার করছ তো, যে, বেকুব বনে গেছ?”
“স্বীকার করছি।”
“আমার উচিত তুমি যে বেকুব বনে গেছ, এই কথা একটা কাগজে লিখিয়ে নিয়ে তোমাকে দিয়ে সই করিয়ে নেওয়া।”
“এ কথা বলছ কেন?”
বলছি এই জন্য যে, পাঁচ মিনিট পরেই তুমি বলবে যে ব্যাপারটা যাকে বলে জলবৎ তরল সোজা।”
“না আমি কখনওই তা বলব না।”
টেস্টটিউবটা ঠিক জায়গায় রেখে দিয়ে হোমস বলতে আরম্ভ করল। ওর হাবভাব, বলার ধরনধারণ দেখে মনে হল যেন কলেজের অধ্যাপক কেমিস্ট্রির ক্লাসে ছেলেদের সামনে বক্তৃতা করছেন। “দেখো ওয়াটসন, যে-কোনও একটা সূত্র থেকে একটা সিদ্ধান্ত করতে পারলে সেই সিদ্ধান্ত থেকে আর-একটা এবং তার থেকে আরও একটা এবং এই ভাবে পর পর অনেকগুলো সিদ্ধান্ত করাটা মোটেই কোনও শক্ত কাজ নয়। এই সিদ্ধান্তগুলোর প্রত্যেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই পর্যন্ত করে যদি প্রথম সূত্রটা আর শেষ সিদ্ধান্তটা ঠিক রেখে মধ্যের সব সিদ্ধান্তকে উড়িয়ে দেওয়া যায়, আর সেই সূত্রটি এবং শেষ সিদ্ধান্তটি কারও কাছে বলা যায় তো, সে তোক অবাক হয়ে যাবেই যাবে। এখন তোমার বাঁ হাতের তর্জনী আর বুড়োআঙুলের মাঝখানটা ভাল করে দেখলেই বুঝতে পারা যাচ্ছে যে, দক্ষিণ আফ্রিকার সোনার খনিতে তুমি তোমার জমানো অর্থ লগ্নি করতে চাও না।”
“এ দুটোর মধ্যে সম্বন্ধটা যে কী তা বুঝতে পারলাম না।”
“না বুঝতে পারাটাই স্বাভাবিক। সম্বন্ধটা আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি। মাঝখানের হারানো সূত্রগুলো বলে দিলেই বুঝতে পারবে। (১) কাল রাত্রে যখন তুমি ক্লাব থেকে ফিরে এলে তখন তোমার বাঁ হাতের বুড়োআঙুল আর তর্জনীর মধ্যে দাগ লেগে ছিল। (২) বিলিয়ার্ড খেলার সময় কিউকে সোজা রাখবার জন্যে তুমি ওইখানে চক রেখে দাও। (৩) তুমি থার্স্টন ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে বিলিয়ার্ড খেলো না। (৪) সপ্তাহ চার আগে, তুমি আমাকে বলেছিলে যে, থার্স্টন দক্ষিণ আফ্রিকার একটা সম্পত্তির মালিকানা পেতে পারে, যদি তুমি তার অংশীদার হও। (৫) তোমার চেকবইটা আমার ড্রয়ারে চাবি বন্ধ আছে। আর সে চাবি তুমি চাওনি। (৬) এই ব্যাপারে তুমি তোমার টাকা খাটাতে চাও না।”
“সব ব্যাপারটাই অত্যন্ত সহজ সরল,” আমি বললাম।
একটু বিরক্ত হয়ে হোমস বলল, “সেই কথাই তো বললাম। প্রত্যেক সমস্যাকেই বুঝিয়ে বললে অত্যন্ত সহজ সরল বলে মনে হয়। আচ্ছা, তোমাকে একটা সমস্যা দিচ্ছি। দেখো, এটার কোনও অর্থ বের করতে পারো কিনা।”
টেবিলের ওপরে একটা কাগজ ছুড়ে দিয়ে হোমস তার রাসায়নিক পরীক্ষায় মন দিল। আমি কাগজটা তুলে নিলাম। কাগজটা দেখে আমি তো থ।’ কতগুলো ছবি আঁকা। তার না আছে মাথা, না আছে মুন্ডু।”
কাগজটা দেখে আমি বললাম, “এ কোনও ছোট ছেলে নিজের খেয়ালে এঁকেছে। এর কোনও মানে নেই।”
“তুমি তাই মনে করছ?”
“হ্যাঁ, এ ছাড়া আর কী? এর কোনও মানে আছে নাকি?”
“মানে আছে কি না তা জানবার জন্যে নরফোকের রিভলিং ম্যানরের মিঃ হিলটন ক্যুবিট খুবই আগ্রহী। এই কাগজটা সকালের প্রথম ডাকে এসেছে। মিঃ ক্যুবিট পরের ট্রেনেই এসে পড়বেন। ওই শোনো, ওয়াটসন, কে যেন দরজার বেল টিপলেন। ইনিই যদি সেই মিঃ হিলটন ক্যুবিট হন তা হলে আমি মোটেই আশ্চর্য হব না।”
সিঁড়িতে ভারী পায়ের ধপ ধপ শব্দ শুনতে পেলাম। আর তার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে ঢুকলেন লম্বা-চওড়া এক ভদ্রলোক। গায়ের রং টকটকে লাল। দাড়ি-গোঁফ নিঁখুত ভাবে কামানো। নীল উজ্জ্বল চোখ। দেখলেই বুঝতে পারা যায়, ভদ্রলোক এমন জায়গায় থাকেন সেখানে বেকার স্ট্রিটের মতো ধোঁয়াশা নেই। ভদ্রলোক ঘরে ঢোকবার সঙ্গে সঙ্গে মনে হল ঘরের আবহাওয়াটাই যেন পালটে গেল। আমাদের সঙ্গে করমর্দন করে ভদ্রলোক যেই চেয়ারে বসতে গেলেন, অমনি তাঁর দৃষ্টি পড়ল টেবিলের ওপর রাখা সেই কাগজটার ওপর, যেটা আমি একটু আগেই দেখছিলাম।
ভদ্রলোক হোমসকে জিজ্ঞেস করলেন, “মিঃ হোমস, এটার কোনও মানে বের করতে পারলেন কি? আমি শুনেছি আপনি যত উদ্ভট রহস্যের খোঁজ করে বেড়ান। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এ রকম উদ্ভট রহস্যের সন্ধান আপনিও খুব বেশি পাননি। আমি কাগজখানা আগেই পাঠিয়ে দিয়েছিলাম, যাতে করে আপনি এর একটা হদিস করতে পারেন।”
হোমস বলল, “হ্যাঁ, ব্যাপারটা যে একটু অদ্ভুত ধরনের তাতে কোনও সন্দেহই নেই। প্রথম বার দেখলে মনে হয়, কোনও ছোট ছেলে তার মনের খেয়ালে কাগজের ওপর এই নাচুনে লোকগুলোর ছবি এঁকেছে। সাধারণ ভাবে এই কাঁচা হাতের আঁকা ছবিগুলোর কোনও মানে আছে বলে মনে হয় না।…প্রশ্ন হচ্ছে যে, এই কাগজটার ওপর আপনি এত গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন?”
“মিঃ হোমস, আমি কোনও গুরুত্ব দিতাম না। কিন্তু আমার স্ত্রী দিচ্ছেন। এইটে পাবার পর থেকে তিনি ভয়ে একেবারে আধমরা হয়ে গেছেন। মুখে কিছু বলছেন না বটে, তবে তাঁর চোখ-মুখ দেখে আমি বুঝতে পারছি যে, তিনি ভয় পেয়েছেন। আর সেই জন্যই আমি এই ব্যাপারে ফয়সালা করতে চাই।”
হোমস সূর্যের আলোর সামনে কাগজটা তুলে ধরল। কাগজটা খাতা থেকে ছিঁড়ে নেওয়া একটা পাতা। পেনসিলে আঁকা ছবিগুলো এমনি ভাবে সাজানো:
হোমস অনেকক্ষণ ছবিগুলোর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর কাগজটা যত্ন করে তার পকেট-বইয়ের ভেতর মুড়ে রেখে দিল।
“মনে হচ্ছে, এই রহস্যটা সব দিক দিয়েই বেশ অভিনব আর চিত্তাকর্ষক তদন্ত হয়ে উঠবে। মিঃ ক্যুবিট, আপনার চিঠিতে আপনি আমাকে কিছু কিছু খবর দিয়েছেন। কিন্তু আমার এই বন্ধু ডঃ ওয়াটসন কিছুই জানেন না। আপনার সব কথা আপনি এঁর সামনে আবার বলেন যদি তো খুব ভাল হয়।”
হোমসের কথায় আমাদের অতিথি বেশ ঘাবড়ে গেলেন। তিনি হাত কচলাতে কচলাতে বললেন, “আমি মোটেই ভাল বক্তা নই। আমার কথা শুনতে শুনতে যদি আপনাদের মনে কোনও খটকা লাগে তো বলবেন। আমি যথাসম্ভব গুছিয়ে বলারই চেষ্টা করব।…গত বছর আমার বিয়ে হয়েছে। আমি সেই ঘটনা দিয়েই আমার কথা বলতে শুরু করি। তবে গোড়ায় একটা কথা পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই। আমি যাকে বলে ধনী লোক, তা নই, তবে রিডলিং থর্পে আমরা পাঁচশো বছর টানা বাস করে আসছি। ওই অঞ্চলে আমাদের চেয়ে মানী লোক আর কেউ নেই। বলতে গেলে গোটা নরফোকেই আমাদের নাম সকলে জানে। গত বছর জয়ন্তী উৎসব দেখবার জন্যে আমি লন্ডনে এসেছিলাম। আমি রাসেল স্কোয়ারে একটা বোর্ডিং হাউসে উঠেছিলাম। ওখানে উঠেছিলাম, কেন না আমাদের অঞ্চলের ভিকার পার্কার ওখানে ছিল। ওই বোর্ডিং হাউসে প্যাট্রিক, এলসি প্যাট্রিক নামে এক আমেরিকান তরুণীও ছিলেন। আমার সঙ্গে ওই তরুণীর আলাপ পরিচয় হয়। তারপর লন্ডনে থাকতে থাকতেই আমি ওকে বিয়ে করি। লন্ডন থেকে যখন আমি নরফোকে ফিরে এলাম, তখন আমি একজন রীতিমতো বিবাহিত ভদ্রলোক। আপনি হয়তো ভাবছেন যে, এই ভাবে বিয়ে করাটা আমার পক্ষে ঠিক হয়নি। আমার বংশগৌরবের কথা সকলেই জানে, আর এই তরুণী তো যাকে বলে অজ্ঞাতকুলশীলা। কিন্তু যদি এলসির সঙ্গে আপনার কখনও সাক্ষাৎ হয়, তো আপনি বুঝতে পারবেন কেন আমি তাকে বিয়ে করেছি।
“এ ব্যাপারে এলসিও আমার সঙ্গে খোলাখুলি ব্যবহার করেছে। সে আমাকে বার বার সবকিছু বিচার বিবেচনা করে দেখতে বলেছিল। সে আমাকে বলেছিল, ‘এক সময় আমার জীবনে এমন কিছু লোকের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটেছিল, যারা মোটেই ভাল লোক নয়। তাদের কথা আমি একদম ভুলে যেতে চাই। সত্যি কথা বলতে কী আমি আমার অতীত জীবনের সবকিছুই ভুলে যেতে চাই। পুরনো দিনের কথা মনে করলে আমার খুব কষ্ট হয়। তুমি যদি আমাকে বিয়ে করো তো এ কথা বলতে পারি যে, আমার জন্যে তোমাকে কখনও লজ্জা পেতে হবে না। তবে আমার অতীত-জীবন সম্বন্ধে তুমি কোনও দিন কোনও কথা জানতে চেয়ো না। যদি আমার কথা মেনে নেওয়া তোমার পক্ষে সম্ভব না হয়, তো তুমি একাই নরফোকে ফিরে যাও। আমি যেমন একলা আছি তেমনই একলাই থাকব।’…বুঝলেন, আমাদের বিয়ের ঠিক আগের দিন এলসি আমাকে এই সব কথা বলল। আমি বললাম যে, আমি তার সব কথায় রাজি আছি। আজ পর্যন্ত আমি আমার কথার খেলাপ করিনি।
“আমাদের প্রায় এক বছর হল বিয়ে হয়েছে। আমরা বেশ সুখে শান্তিতেই আছি। কিন্তু মাসখানেক আগে, জুন মাসের শেষাশেষি, প্রথম গোলমালের সূত্রপাত হল। একদিন আমেরিকা থেকে আমার স্ত্রী’র নামে একটা চিঠি এল। আমি আমেরিকার ডাকটিকিট নিজে দেখেছি। চিঠিটা পেয়েই আমার স্ত্রী একদম ভয়ে কাঠ। চিঠিটা পড়েই সে ফায়ারপ্লেসের আগুনে ছুড়ে ফেলে দিল। এ বিষয়ে সে আমাকে কোনও কথা বলেনি। আমিও কোনও প্রশ্ন তাকে করিনি। কথা যখন দিয়েছি, সেটা রাখতেই হবে। কিন্তু তারপর থেকে সে সব সময়ই কেমন যেন ভয়ে ভয়ে আছে। ওর চোখ-মুখে সব সময়েই একটা আশঙ্কার ভাব। যেন সাঙঘাতিক কিছু একটা ঘটে গেল বুঝি। সব-সময়েই যেন মনে মনে সে বিপদের জন্যে তৈরি হয়ে আছে। আমাকে বিশ্বাস করে সব কথা খুলে বললে ও ভালই করত। আমার চাইতে বড় বন্ধু তার আর কেউ নেই। কিন্তু এলসি নিজের থেকে কিছু না বললে আমিও কিছু বলতে পারি না। তবে একটা কথা হলফ করে বলতে পারি, এলসি অত্যন্ত সত্যবাদী ও সৎ মহিলা। ওর অতীত জীবনে যে-ঘটনাই ঘটে থাকুক না কেন, তার জন্যে ও কোনও মতেই দায়ী নয়। আমি নরফোকের একজন অতি সাধারণ গেঁয়ো লোক। তবে আমার বংশের মর্যাদাকে আমি যে ভাবে রক্ষা করতে জানি, তা সারা ইংল্যান্ডে খুব বেশি লোক জানে বলে আমার মনে হয় না। আর এ কথাটা এলসি খুব ভাল করেই জানে। আমাকে বিয়ে করবার আগেই সে আমার মনের ভাব জানত। আমার খুব বিশ্বাস যে, এলসি এমন কোনও কাজ কখনওই করবে না, যা আমার বংশগৌরবের ক্ষতি করতে পারে।
“যাকগে, এইবার আসল ঘটনায় আসি। সপ্তাহখানেক আগে, গত মঙ্গলবার, আমি লক্ষ করলাম যে, একটা জানলার কাচে এই রকম কতগুলো নাচওলা ছবি আঁকা রয়েছে। ছবিগুলো খড়িতে আঁকা। আমার মনে হল, আস্তাবলের দেখাশোনা যে করে সেই ছোকরাই এই ছবিগুলো এঁকেছে। তাকে ডেকে পাঠালাম। সে দিব্যি করে বলল যে, এ ব্যাপারের আদ্যন্ত সে কিছুই জানে না। এটা যে রাত্রিবেলায় এসে কেউ এঁকে দিয়ে গেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। যাই হোক আমি সেই ছবিগুলো মুছে দিতে বললাম। পরে আমি এই ঘটনার কথা এলসিকে বলি। আমার কথা শুনে এলসি ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়ল। সে আমাকে কাকুতিমিনতি করে বলল যে, এ রকম ছবি আমার নজরে পড়লে আমি যেন অবশ্যই তাকে দেখাই। সত্যি কথা বলতে কী, এলসির ভাবগতিক দেখে আমি নিজেই থ হয়ে গেলাম। এরপর সপ্তাহখানেক আর কোনও ঘটনা ঘটেনি। ছবি আঁকা কোনও কাগজও আসেনি। গত কাল সকালে বাগানে যে-সূর্য ঘড়ি আছে তার কাছে এই কাগজটা পড়ে ছিল। কাগজটা আমিই দেখতে পাই। আমি কাগজটা এনে এলসিকে দেখাই। কাগজটা দেখেই এলসি অজ্ঞান হয়ে গেল। তারপর থেকে এলসি কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে রয়েছে। কেমন একটা আচ্ছন্ন ভাব। চোখে-মুখে তার ভয়ের ছাপ। আর তখনই আমি আপনাকে চিঠি লিখি আর চিঠির সঙ্গে ওই কাগজটা পাঠিয়ে দিই। এ এমনই একটা আজগুবি ব্যাপার যে, আমার পক্ষে পুলিশের কাছে যাওয়া সম্ভব নয়। পুলিশ হেসেই সব ব্যাপারটা উড়িয়ে দেবে। তাই আমি আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। আমি আগেই আপনাকে বলেছি যে, আমি ধনী লোক নই, তবে আমার স্ত্রী’র যদি কোনও বিপদ হয় তো সেই বিপদ থেকে তাকে বাঁচাবার জন্যে আমি আমার শেষ কপর্দকটি পর্যন্ত খরচা করতে রাজি আছি।