
মণীন্দ্র গুপ্ত
Author
মণীন্দ্র গুপ্ত: সংক্ষিপ্ত জীবনী
মণীন্দ্র গুপ্ত (২৪ সেপ্টেম্বর ১৯২৬ – ৩১ জানুয়ারি ২০১৮) ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক এবং চিত্রশিল্পী। স্বাধীনোত্তর বাংলা সাহিত্যে তিনি অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রকৃতিচেতনা, স্মৃতি এবং পরিচয়ের অনুসন্ধান গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০১১ সালে তিনি তাঁর কাব্যগ্রন্থ 'বনে আজ কনচের্তো'-র জন্য মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। এর আগে ২০১০ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে 'টুং টাং শব্দ নিঃশব্দ' কাব্যগ্রন্থের জন্য সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান রবীন্দ্র পুরস্কার-এ ভূষিত করে।
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন
মণীন্দ্র গুপ্তের জন্ম ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলার বরিশাল জেলার (বর্তমানে বাংলাদেশ) গৈলা গ্রামে। তাঁর পিতা ছিলেন প্রখ্যাত আয়ুর্বেদ চিকিৎসক নগেন্দ্রনাথ দাসগুপ্ত। মাত্র দশ মাস বয়সে মাতৃহীন হন তিনি। ১৯৩৩ সালে পিতামহ ও পিতামহীর মৃত্যুর পর তিনি পিতৃহীনও হন এবং তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে আসামের বরাক উপত্যকার শিলচরে মামার বাড়িতে। সেখানেই ১৯৪১ সালে তিনি বিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করেন। পরে কলকাতায় চলে আসেন এবং ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রশিক্ষণের পর তিনি লাহোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত ছিলেন। ১৯৪৬ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি শেষ হলে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৬ সালে স্নাতক হন। এরপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিল্প দপ্তরে চাকরি করেন এবং ১৯৮৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
সাহিত্যজীবন ও রচনাবলি
মণীন্দ্র গুপ্ত ১৯৪০-এর দশক থেকেই কবিতা লেখা এবং চিত্রাঙ্কন শুরু করেন, যদিও তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'নীল পাথরের আকাশ' প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। তিনি 'পরমা' নামক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনাও করেছেন। তাঁর রচনাশৈলী সমসাময়িক প্রবণতার বিপরীতে অবস্থান করত, যা পাঠকদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
কাব্যগ্রন্থ: 'মৌপোকাদের গ্রাম' (১৯৭৪), 'লাল স্কুলবাড়ি' (১৯৭৮), 'ছত্রপলাশ চৈত্যে দিনশেষে' (১৯৮৬), 'শরৎমেঘ ও কাশফুলের বন্ধু' (১৯৯২), 'নমেরু মানে রুদ্রাক্ষ' (২০০০), 'টুং টাং শব্দ নিঃশব্দ' (২০০৫), 'বনে আজ কনচের্তো' (২০০৯), 'বাড়ির কপালে চাঁদ' (২০১৪)।
প্রবন্ধ: 'চাঁদের ওপিঠ' (১৯৯১), 'তাহারা অদ্ভুত লোক' (১৯৯২), 'জনমানুষ ও বনমানুষ' (২০০৫), 'উল্টো কথা' (২০১১)।
উপন্যাস: 'প্রেম মৃত্যু কি নক্ষত্র' (২০০৫), 'নুড়ি বঁাদর' (২০১৫)।
আত্মজীবনী: তাঁর তিন খণ্ডের আত্মজীবনীমূলক রচনা 'অক্ষয় মালবেরি' (১৯৮১, ১৯৯৮, ২০০৪) সমালোচকদের দ্বারা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে, যেখানে তিনি নিজেই চিত্রাঙ্কণ করেছেন। এছাড়াও তিনি 'রঙ কাঁকর রামকিঙ্কর' (২০১৪) শিরোনামে শিল্পী রামকিঙ্কর বেইজের ওপর একটি জীবনীগ্রন্থ রচনা করেন।
পুরস্কার ও সম্মাননা
তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ মণীন্দ্র গুপ্ত একাধিক পুরস্কার লাভ করেন:
বিষ্ণু দে স্মৃতি পুরস্কার (২০০৫)
রবীন্দ্র পুরস্কার (২০১০) - 'টুং টাং শব্দ নিঃশব্দ' কাব্যগ্রন্থের জন্য।
সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (২০১১) - 'বনে আজ কনচের্তো' কাব্যগ্রন্থের জন্য।
ব্যক্তিগত জীবন ও মৃত্যু
মণীন্দ্র গুপ্ত ১৯৭৫ সালে কবি দেবরতি মিত্রকে বিয়ে করেন (তাঁর প্রথম বিবাহ ব্যর্থ হয়েছিল)। তিনি ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি কলকাতায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন।
তথ্যসূত্রঃ বাংলা ও ইংরেজি উইকিপিডিয়া
Reader favourites
Popular books
Collections
শত শরদ মানুষের আয়ু
জলযান
অক্ষয় মালবেরি
কালপ্রবাহ