

ক্ষিতিমোহন সেন
Author
ক্ষিতিমোহন সেন: সংক্ষিপ্ত জীবনী
**ক্ষিতিমোহন সেন** (৩০ নভেম্বর ১৮৮০ – ১২ মার্চ ১৯৬০) ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, গবেষক এবং সংস্কৃতজ্ঞ। তিনি তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার **ঢাকা জেলার বিক্রমপুর** অঞ্চে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন আশুতোষ সেন। শৈশব থেকেই তিনি সংস্কৃত, পালি, প্রাকৃত এবং ভারতীয় দর্শনের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। তিনি কাশীর **কুইন্স কলেজ** থেকে সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং ভারতীয় ধর্ম, দর্শন ও মধ্যযুগীয় ভক্তি সাহিত্য নিয়ে বিশেষ গবেষণা করেন।
১৯০৮ সালে **রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর** তাঁকে শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্যাশ্রমে শিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানান। পরবর্তীকালে তিনি বিশ্বভারতী-এর অধ্যাপক, আচার্য এবং ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাউলধারা, বৈষ্ণব সাহিত্য, কবীর, দাদু, ভারতীয় ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং লোকসংস্কৃতি বিষয়ে তাঁর গবেষণা বাংলা ও ভারতীয় জ্ঞানচর্চায় বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। তাঁর গবেষণাকর্ম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
ক্ষিতিমোহন সেনের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে **‘বাংলার বাউল’**, **‘ভারতের সংস্কৃতি’**, **‘ভারতীয় মধ্যযুগের সাধনার ধারা’**, **‘কবীর’**, **‘দাদু’**, **‘হিন্দুধর্ম’**, **‘চিন্ময় বঙ্গ’** এবং **‘জাতিভেদ’**। তাঁর গবেষণায় ভারতীয় সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবতাবাদ এবং আধ্যাত্মিক ঐক্যের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষাতেই তিনি বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন।
ভারতীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন জাতীয় সম্মান লাভ করেন। ১৯৫৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে **পদ্মভূষণ** উপাধিতে ভূষিত করে। ১২ মার্চ ১৯৬০ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন। ভারতীয় ধর্ম, দর্শন ও লোকসংস্কৃতি গবেষণায় তাঁর অবদান আজও সমানভাবে সমাদৃত।
## তথ্যসূত্র
১. বাংলা উইকিপিডিয়া – **ক্ষিতিমোহন সেন**: https://bn.wikipedia.org/wiki/ক্ষিতিমোহন_সেন
২. বাংলাপিডিয়া – **ক্ষিতিমোহন সেন** নিবন্ধ।
৩. বিশ্বভারতী – শিক্ষক ও গবেষক পরিচিতি।
৪. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান।
Reader favourites
Popular books
Collections
জাতিভেদ
ভারতীয় মধ্যযুগে সাধনার ধারা
ভারতের সংস্কৃতি
কবীর