যে দেশে বহু ধর্ম বহু ভাষা

যে দেশে বহু ধর্ম বহু ভাষা

অন্নদাশঙ্কর রায়

যে দেশে বহু ধর্ম বহু ভাষা

Books Pointer Iconঅন্নদাশঙ্কর রায়
Books Pointer Iconarticles

Posted byবেলা 26-May-2025

Change color

যে-দেশে বহু ধর্ম সেদেশের মূলনীতি কী হওয়া উচিত? এ প্রশ্নের উত্তর পাকিস্তান একভাবে দিয়েছে। ভারত দিয়েছে অন্যভাবে। পাকিস্তানের অধিকাংশের ইচ্ছা অনুসারে স্থির হয়ে গেছে পাকিস্তান হচ্ছে ইসলামি রাষ্ট্র।

সেই যুক্তি অনুসরণ করলে ভারত হতে পারত হিন্দু রাষ্ট্র। কিন্তু ভারত করল অপর একটি যুক্তি অবলম্বন। ভারতের মতে সব ধর্মই সমান, সব ধর্মই সত্য, সংখ্যাগুরুর মুখ চেয়ে একটি ধর্মকেই রাষ্ট্রধর্মে পরিণত করলে আর-সব ধর্মের ওপর অবিচার করা হবে, সুতরাং সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নির্বিশেষে সর্বোদয়ের বিচারে সকলের প্রতি সমদর্শিতার খাতিরে ভারতকে হতে হবে সেকুলার স্টেট। যে রাষ্ট্র ধর্মের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ।


এই যুক্তি বর্মাও অবলম্বন করেছিল। কিন্তু কী যে দুর্বুদ্ধি হল উ নু এবং তার দলের, তাঁরা সাধারণ নির্বাচনে জিতেই আইন পাশ করিয়ে নিলেন যে বর্মা হবে বৌদ্ধ রাষ্ট্র। অধিকাংশের ইচ্ছায় কর্ম, কে বাধা দেবে? কিন্তু এর পরিণাম হল অশুভ। শান, কারেন প্রভৃতি পার্বত্য জাতির তরফ থেকে দাবি উঠল আংশিক স্বাতন্ত্র্যের। শেষে প্রধান সেনাপতি রাষ্ট্রীয়ক্ষমতা আত্মসাৎ করে শাসনতান্ত্রিক সরকার ধ্বংস করলেন। পাকিস্তানেও তাই হয়েছে। তবে ইসলামি রাষ্ট্র এখনও লোপ পায়নি, যেমন লোপ পেয়েছে বৌদ্ধ রাষ্ট্র। পাকিস্তানি জনগণ যদি কোনো গণতন্ত্রের মর্যাদা বোঝে তাহলে সেইসঙ্গে সেকুলার স্টেটের মর্যাদাও বুঝবে। যেখানে সেকুলার স্টেট নেই সেখানে গণতন্ত্র কেবলমাত্র অধিকাংশের ইচ্ছাসাপেক্ষ নয়, সর্বজনের ইচ্ছানির্ভর। গণতন্ত্রে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক থাকতে পারে না। যারা প্রতিবেশীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পর্যবসিত করে তারা ডিক্টেটরের পদানত হবেই। তারা আত্মকর্তৃত্বের যোগ্য নয়। কারণ তারা অপরের সমান অধিকার মানে না।



ভারত সেকুলার স্টেট হয়ে বর্মা ও পাকিস্তানের দশা এড়িয়েছে। সেকুলার স্টেট যতই দৃঢ় হবে গণতন্ত্রও ততই দৃঢ় হবে। অনেকেই এটা হৃদয়ঙ্গম করেছেন, কিন্তু সকলে এখনও করেননি। তাঁরা চান হিন্দু রাষ্ট্র, হলই-বা সেটা ফ্যাসিস্টশাসিত। ইতিহাস এঁদের বাসনা পূর্ণ করলে ভারতেরও দশা হবে পাকিস্তান বা বর্মার মতোই।


এ গেল ধর্মের কথা। ইতিমধ্যে ভাষার প্রশ্ন প্রবল হয়েছে। যেদেশে বহু ভাষা সেদেশের মূলনীতি কী হওয়া উচিত? এর উত্তর বেলজিয়াম ও সুইটজারল্যাণ্ড একভাবে দিয়েছে। ভারত দিয়েছে অন্যভাবে। কার উত্তরটা ঠিক? কারটা বেঠিক?


বেলজিয়াম বলে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৩০ সালে। তার রাষ্ট্রভাষা হয় ফরাসি। দশটা বছর যেতে-না-যেতেই ফ্লেমিশদের দিক থেকে প্রতিবাদ ওঠে। তারাও তো বেলজিয়ান। তবে তাদের ভাষা কেন ফরাসির সমান মর্যাদা পাবে না? দীর্ঘকাল আন্দোলন চালানোর ফলে ১৮৯৮ সালে আইন করে ফরাসি ও ফ্লেমিশ উভয় ভাষাকেই বেলজিয়ামের ন্যাশনাল ভাষারূপে সমান স্থান দেওয়া হয়। এখন সেদেশের রাষ্ট্রভাষা এক নয়, দুই। সরকারি কাজকর্ম দুই ভাষায় চলে।


তেমনি সুইটজারল্যাণ্ডে ১৮৭৪ সালের শাসনতন্ত্রে মেনে নেওয়া হয় যে, তাদের ন্যাশনাল ভাষা হবে জার্মান, ফরাসি ও ইটালিয়ান। বলা বাহুল্য এ তিনটি ভাষা শুধু উপরের দিকের কাজকর্মের ভাষা। নীচের দিকের কাজকর্ম জেলা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় চলে। জেলা স্তরে আরও দুটি ভাষারও অস্তিত্ব আছে। এ ছাড়া সর্বত্র ইংরেজির প্রচলন। সেটা অবশ্য বেসরকারিভাবে। সুইসরা একাধিক ভাষা শিখতে অভ্যস্ত।



একটা দেশের একটাই রাষ্ট্রধর্ম হবে এ ধারণা ইউরোপেও ছিল। তার দরুন প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। সংখ্যাগুরুরা সংখ্যালঘুদের জ্বালিয়েছে। আজকাল আর সে-ধারণা নেই। কিন্তু একটা দেশের একটাই রাষ্ট্রভাষা হবে, এ ধারণা অত্যন্ত ব্যাপক। এর ফলে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলিতে যথেষ্ট অত্যাচার হয়েছে। আলসাস-লোরেনের লোক একবার জার্মানদের হাতে মার খেয়েছে, একবার ফরাসিদের হাতে।


এখন ভারতের কথা বলি। একটা দেশের একটাই রাষ্ট্রধর্ম হবে, এ ধারণা যাঁদের মধ্যে নেই তাঁরাও বিশ্বাস করেন যে, একটা দেশের একটাই রাষ্ট্রভাষা হবে। বেলজিয়ামের চেয়ে, সুইটজারল্যাণ্ডের চেয়ে বহুগুণ বৃহৎ যে-দেশ, যার ভাষাসংখ্যা খুব কম করে ধরলেও চোদ্দো-পনেরোটি, সে দেশ যখন পরাধীন ছিল তখন একটি মাত্র বিদেশি ভাষার দ্বারা একসূত্রে গাঁথা ছিল। তার থেকে একটা সংস্কার জন্মেছে যে রাষ্ট্রভাষা একাধিক হতে পারে না। আমি কিন্তু এই সংস্কারের স্বতঃসিদ্ধতা স্বীকার করিনি। এটার সত্যতা নির্ভর করছে সকলের সম্মতির ওপরে, সুবিধার ওপরে, ন্যায়বোধের ওপরে। অধিকাংশের ভোটের জোরে কোনো একটি ভারতীয় ভাষাকে আর সকলের ওপর চাপালে পাকিস্তানের ইসলামি রাষ্ট্রের মতো একটা অপরিণামদর্শী সমাধান হয়। সেরকম একটা সমাধান যখন বেলজিয়ামে বা সুইটজারল্যাণ্ডে টিকল না তখন ভারতেও টিকতে পারে না। ইতিমধ্যেই তামিলদের জন্যে স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের প্রস্তাব উঠেছে। মাত্র পনেরো বছর যেতে-না-যেতেই এই। এখনও তো অর্ধশতাব্দী কাটেনি। ভারত যদি ছত্রভঙ্গ হয় তবে ভাষার ইসুতেই হবে।



হিন্দির পিছনে সকলের সম্মতি নেই। সকলের তাতে সুবিধা হবে না। সকলের ন্যায়বোধ তার দ্বারা চরিতার্থ হবার নয়। তার পক্ষে একটি মাত্র যুক্তি—অধিকাংশ লোক হিন্দি চায়। অর্থাৎ অধিকাংশের ইচ্ছাই চূড়ান্ত। পাকিস্তানে যেমন ধর্মের ব্যাপারে অধিকাংশের ইচ্ছাই চূড়ান্ত, ভারতে তেমনি ভাষার ব্যাপারে অধিকাংশের ইচ্ছাই চূড়ান্ত। এরূপ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকত্বের আশঙ্কা জাগে। এমন কয়েকটি বিষয় আছে যা গায়ের জোরে বা ভোটের জোরে নিষ্পত্তি করা যায় না। ধর্ম তার একটি। ভাষা তার আরেকটি। ধর্মের বেলা আমরা বিজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছি। ভাষার বেলায়ও কি দিতে পারিনে?


তর্কটা হিন্দি বনাম ইংরেজি নয়। ইংরেজিকে সরানোর পরে ঘোরতর বিবাদ বেঁধে যাবে। তামিলরা হিন্দিকে মানবে না, নাগারা মানবে না, কাশ্মীরিরা মানবে না। বাঙালিরাও মানবে না। এমনই না মানার লক্ষণ চারদিকে। কংগ্রেস থাকতেই এই। কংগ্রেস কি চিরস্থায়ী? পরে যে দলটার হাতে ক্ষমতা পড়বে সে-দল যদি সব ক-টা রাজ্যের আস্থা না পায় তখন হিন্দির প্রতি বিরাগ হবে মানুষকে খেপিয়ে তোলার একটা উপায়। যেমন হিন্দুর ওপর বিরাগ হয়েছিল মুসলমানকে বিভ্রান্ত করার অব্যর্থ উপায়। সেইজন্যে তর্কটা হিন্দি বনাম ইংরেজি নয়। তর্কটা আসলে হচ্ছে হিন্দি বনাম তামিল-বাংলা-পাঞ্জাবি ইত্যাদি। হিন্দি হবে কেন্দ্রীয় সরকারের একমাত্র ভাষা, এর মানে হিন্দি হবে সারা ভারতের একচ্ছত্র ভাষা। যাদের মাতৃভাষা হিন্দি নয় তারা হিন্দি শিখতে গিয়ে দেখবে যে, প্রত্যেকটি হিন্দিভাষী শিশু জন্মত স্টার্ট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে। যেমন জন্মত স্টার্ট পেয়ে এগিয়ে থাকত প্রত্যেকটি ইংরেজ শিশু। ইংরেজিকে যারা বিদায় করবে তারা কি ইংরেজির একমাত্র উত্তরাধিকারীকেও একদিন ঘাড় থেকে নামাতে চাইবে না?



হিন্দি যে ইংরেজির একমাত্র উত্তরাধিকারী হবার স্বপ্ন দেখছে, হিন্দি কি বুঝতে পারছে না যে আর সকলের সঙ্গে ভাগ না করে ভোগ করা যায় না? ভাগ করার নমুনা কি এই যে, হিন্দিই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ও আর সব আঞ্চলিক ভাষা? সব ক-টা ভাষাকেই রাষ্ট্রভাষা করা চাই। সেটা যদি কাজের কথা না হয় তবে এমন একটি ভাষাকে হিন্দির সঙ্গে বন্ধনীভুক্ত করা চাই যার দ্বারা আর সকলের ন্যায়বোধ চরিতার্থ হবে। প্রতিযোগিতার বা পরীক্ষার ভাষা যদি হয় ইংরেজি, তাহলে আমাদের ন্যায়বোধ যতখানি চরিতার্থ হয় হিন্দি হলে ততখানি হয় না। বিদেশি ভাষা বলে ইংরেজিকে হটাতে চাও? বেশ। তার বদলে এমন একটি ভাষাকে হিন্দির সঙ্গে বন্ধনীভুক্ত করো, যে ভাষা আমাদের ন্যায়বোধকে পীড়া দেবে না। সে-ভাষাটি যে কোন ভাষা, অহিন্দিভাষীদের দ্বারাই সেটি স্থির হোক।


আর কোনো ভাষা ভারতের সকল প্রান্তে ইংরেজির মতো ব্যাপকভাবে প্রচলিত নয়, এটা একটা প্রত্যক্ষ সত্য। যেখানে হিন্দি চলে না সেখানেও ইংরেজি চলে। ইংরেজির অধিকারে না থাকলে সেসব অঞ্চল হিন্দির অধিকারেও আসত না। ইংরেজি নামক সত্যটির উৎপত্তিস্থল ইংল্যাণ্ড। তেমনি আরও অনেকগুলি সত্যেরও উৎপত্তি ইংল্যাণ্ডে বা ইউরোপে। আমাদের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, আইন-আদালত, পার্লামেন্ট, আর্মি, নেভি, পুলিশ, স্কুল-কলেজ, ল্যাবরেটরি, রেল, স্টিমার, ডাকঘর, ডাক্তারখানা, ব্যাঙ্ক, স্টক এক্সচেঞ্জ, ছাপাখানা, খবরের কাগজ, থিয়েটার, সিনেমা, রেডিয়ো, ট্রাম, বাস, মোটর—কোনোটিই-বা বিদেশাগত নয়? এমনকী কংগ্রেসও তো বিদেশি। হিন্দ, হিন্দু, হিন্দি এসবও তো বিদেশি ভাষার শব্দ। আজকাল স্বদেশি পারিভাষিক শব্দ দিয়ে শোধন করে নেওয়া চলেছে। ‘রাজভবন’ বললে স্বদেশিয়ানার একটা বিভ্রম সৃষ্টি হয়। কিন্তু যে বস্তুর নাম পালটে দেওয়া হয় তার বস্তুসত্তা অবিকল তেমনি রয়ে যায়। টেলিফোনকে কী-একটা বিকট হিন্দি নাম দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও সেটা টেলিফোন নামক বিদেশি একটা যন্ত্রই। বিদেশি বলেই সেটা বর্জনীয় নয়।



তেমনি ইংরেজি। তার সঙ্গে পরাধীনতার সম্পর্ক একদা ছিল, এখন তো নেই। ভবিষ্যতেও সে-সম্পর্ক ফিরবে না। ইতিমধ্যেই স্থির হয়ে গেছে যে, সব ছাত্রকেই একটা স্তরে ইংরেজি শিখতে হবে। অবশ্যশিক্ষণীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিতে কারও আপত্তি নেই। তাই যদি হল তবে শিক্ষার শেষ ধাপে পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ইংরেজি হলে আপত্তির কী কারণ থাকতে পারে? তামিলরা ও বাঙালিরা জিতে যাবে, হিন্দিভাষীরা তাদের সঙ্গে পেরে উঠবে না, এই কারণ নয় তো? উপরের দিকে পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যম ইংরেজি যেমন ছিল তেমনি থাকাই রাষ্ট্রের স্বার্থ। সেইভাবেই রাষ্ট্র যোগ্যতম প্রার্থী বেছে নিতে পারে। করদাতার অর্থ সেইভাবেই সৎপাত্রে পড়বে। নিকট ভবিষ্যতে আমি এই ব্যবস্থার রদবদলের পক্ষপাতী নই। প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়াই যদি নীতি হয় তবে প্রতিযোগিতার মাধ্যম ইংরেজিই থাকবে, ইংরেজি ভিন্ন আর কোনো ভাষা হবে না। যদি হিন্দিকেও অন্যতম মাধ্যমে করো তবে বাংলাকেও করতে হবে, তামিল, তেলেগু, কন্নাডিগ, মালয়ালমকেও করতে হবে।


জাতীয় মর্যাদার খাতিরে হিন্দি ভারত রাষ্ট্রের সরকারি ভাষা হোক, কিন্তু আভ্যন্তরিক ন্যায়ের খাতিরে ইংরেজিই পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমরূপে থাকুক। ইংরেজি মাধ্যম না থাকলে পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার মাধ্যম হোক বাংলা, উর্দু, মারাঠি, গুজরাতি ইত্যাদি চোদ্দো-পনেরোটি ভাষা—শুধু হিন্দি নয়। যেখানে হিন্দিকে বসালে অহিন্দিভাষীদের ক্ষতি সেখানে ইংরেজিকে রাখাই সমীচীন। বিদেশি বলে তাকে খেদিয়ে দিলে স্বদেশি বলে শুধু হিন্দিকে নয়, বাংলাকে, পাঞ্জাবিকে, তামিলকেও বসাতে হবে। যেখানে কারুর কোনো ক্ষতি নেই সেখানে হিন্দি আরাম করে বসুক। কিন্তু অপরের ক্ষতি যেখানে, সেখানে হিন্দির আরাম করে বসার অধিকার নেই। জাতীয়তার জন্যে তাকেও ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।



একটা দেশের একটাই রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত। এটা একভাষী দেশের বেলাই খাটে। ভারতের মতো বহুভাষী দেশে এটাকে খাটাতে যাঁরা চাইছেন তাঁরা মনে মনে ইংরেজিরই নজির অনুসরণ করছেন। ইংরেজি যেমন একচ্ছত্র ছিল তেমনি একচ্ছত্র হবে অন্য একটা ভাষা, অন্য একটি মাত্র ভাষা। সেই বিদেশি লজিকের জোরে হিন্দিকেও একচ্ছত্র করতে হবে। কিন্তু বিদেশি ভাষা বলে ইংরেজি যদি বিদায় হয় তবে তার নজিরটাকেই-বা মানতে যাব কেন? জাতীয় ঐক্য কি সুইসদেরও নেই? বেলজিয়ানদেরও নেই? একাধিক রাষ্ট্রভাষা কি তাদের ঐক্যহানি ঘটিয়েছে?


শেষপর্যন্ত তর্কটা দাঁড়ায় ইংরেজি হল বিদেশির ভাষা, বিজেতার ভাষা। তাকে বিদায় না দিলে স্বাধীনতা সম্পূর্ণ হবে না। বেশ, তাই হোক। তাহলে ইংরেজির নজিরটাকেও মন থেকে ঝেড়ে ফেলা যাক। ভারতের সব ক-টা ভাষাকেই হিন্দির সঙ্গে সমান মর্যাদা দিয়ে ভারতীয় ইউনিয়নের সরকারি ভাষা করা হোক। সেটা কাজের কথা নয় এ যুক্তি আর আমরা শুনতে চাইনে। একটা বহুভাষী দেশের রাষ্ট্রভাষা একটাই হবে এটাও কি কাজের কথা? ইংরেজরা তাদের নিজেদের সুবিধের জন্যে ওরকম করেছিল। মুষ্টিমেয় শিক্ষিত ভারতীয়েরও ওতে কিছু সুবিধে হয়েছিল। কিন্তু জনগণের দিক থেকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা—হিন্দি হলেও—কাজের কথা নয়। যতগুলি ভাষা ততগুলি রাষ্ট্রভাষা এইটেই কাজের কথা। আমরা যদি এই সত্যকে স্বীকার না করি, এই সত্যের সঙ্গে আপোশ রফা না করি তবে অমীমাংসিত

**********